Profile Photo

Abul Hasan TuhenOffline

  • abulhasantuhen
  • Profile picture of Abul Hasan Tuhen

    Abul Hasan Tuhen

    1 month, 2 weeks ago

    নাটক: মেঘ রোদ্দুর ( ২য় পর্ব)
    রচনা: আবুল হাসান তুহিন
    (পূর্ব প্রকাশিতের পর)

    দৃশ্য ।। ১৫।। দিন ।। কিচেন ।। ইনডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি, মিলি
    [ ফ্রেমে দেখা যায় রুবি রান্নাঘরে কাজে সাহায্য করতে চায়, শাশুড়ি মিলি তাকে থামিয়ে দেয়]
    রুবি : মা আপনি বিশ্রাম নিন। আমি রান্না যা বাকি আছে আমি করছি।
    মিলি : তুমি কিচেনে কেন এসেছো ? তুমি তো বই পড়া মেয়ে, রান্না-ঘর তোমার জন্য নয়। এসব আমাদের মতো মেয়েদের কাজ।( উপহাস করে)
    রুবি ‌ : না মা । রান্নার কাজে আমিতো আপনাকে সাহায্য করতে পারি। লেখাপড়ার সাথে রান্নাবান্নার কোন সম্পর্ক নেই।
    মিলি : এ্যাঁ যতসব নেকামো , যাও বইয়ের মধ্যে ডুবে থাক, রিক্সাওয়ালার মেয়ে হয়ে ডাক্তার হতে চাও? এই বাড়িতে এসব স্বপ্নের জায়গা নেই! যাও
    (ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে রুবি সামলে নিয়ে নিজের ঘরের দিকে যাবে)
    রুবি : (স্বগত) নতুন জীবনে পা রেখেছি কিন্তু শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ আমার জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। আমার অতীত ও স্বপ্নকে কেন্দ্র করে শুরু করছে অবহেল। না এভাবে মুখ বুজে সহ্য করা ঠিক হবে না। Cut to

    দৃশ্য ।। ১৬।। রাত ।। রাফির রুম ।। ইনডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি,
    [ ফ্রেমে দেখা যায় চিন্তা মগ্ন ভাবে রুবি বসে আছে রাফি রুমে ঢুকে কথা বলবে]
    রুবি 🙁 একা ঘরে বসে, চোখে জল,) আব্বা তুমি বলেছিলে স্বপ্নকে না হারাতে কিন্তু এখানে তো স্বপ্নই অপরাধ…।
    রাফি : (রাফি চুপচাপ দাঁড়িয়ে, কিছু বলার সাহস নেই।)
    রুবি :(স্বগত)আমি চেষ্টা করছি মানিয়ে নিতে। কিন্তু সবাই যেন আমাকে দূরে সরিয়ে রাখছে।(রুবি সামনে বই মেলে ধরে আছে, দু’চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে) Cut to

    দৃশ্য ।। ১৬।। রাত ।। রুবিদের বাড়ি ।। ইনডোর
    চরিত্র: রুবি, মহিউদ্দিন, মিলি
    [ ফ্রেমে দেখা যায় মহিউদ্দিন বসে আছে মিলি কলেজে যাওয়ার জন্য সামনের দিকে আসে]
    মহিউদ্দিন : কোথায় চললে?
    রুবি : আব্বা কলেজে যাচ্ছি।
    মহিউদ্দিন : নিজেরা বিয়ে করেছো, কিছু বলিনি, তোমার ফ্যামিলির সামনে পিছনে খোঁজ খবর না নিয়ে ঘরে তুলেছি। এখন ইচ্ছে হলো বাইরে গেলাম ইচ্ছে হলো ভিতরে আসলাম এটা চলবে না।
    রুবি : না মানে আব্বা, আমি তো ওভাবে বাইরে যাচ্ছি না আমি তো কলেজে যাচ্ছি।
    মহিউদ্দিন : যে অছিলায় বাইরে যাওনা কেন একই কথা। প্রতিটা ফ্যামিলির কিছু নিয়মকানুন আছে সেটা মেনে তোমাকে চলতে হবে।
    রুবি : আমি তো নিয়মের বাইরে কোন কাজ করছি না!
    মহিউদ্দিন : রাফির মা, রাফির মা এদিকে এসো?
    দেখো ওই মেয়েটা মুখে মুখে তর্ক করছে। (মিলি এগিয়ে আসে)
    মিলি : কি ব্যাপার এত চিৎকার চেঁচামেচি করছ কেন? এই মেয়ে এইভাবে তুমি কোথায় যাচ্ছো?
    মহিউদ্দিন : এই জন্য তো তোমাকে ডেকেছি , ভালো করে জিজ্ঞেস করো কলেজের নাম করে কোথায় যাচ্ছে? রুপ চেহারা দেখিয়ে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে এখন আবার কোথায় যাচ্ছে কে জানে!
    মিলি : থার্ড ক্লাস ঘরের মেয়েগুলো এরকমই হয়।যাও তোমার রুমে যাও।
    রুবি : মা আমি কলেজে যাচ্ছি সামনে আমার পরীক্ষা।
    মিলি : যাও ওসব পরীক্ষা-ফরীক্ষা দেওয়া লাগবে না সংসারের কাজ করে কুল পাবেন আবার পরীক্ষা যাও।(ধাক্কা দেয় বইখাতা পড়ে যায় রুবি রুমের দিকে চলে যায়) Cut to

    দৃশ্য ।। ১৭।। রাত ।। রুবিদের বাড়ি ।। ইনডোর
    চরিত্র: হাসেম, জরিনা
    [ফ্রেমে দেখা যায়, হাসেম এবং জরিনা, রুবির কথা ভাবছে। অনেক দিন হলো মেয়েটা চলে গেছে]
    জরিনা : কতদিন হলো মেয়েটা শ্বশুর বাড়িতে গেছে, কি করছে, কি ভাবে আছে, জানতে পারলাম না।
    হাসেম : কি করবো কও, বড় ঘাটে নাউ বানলি যে অবস্থা হয়। আমাদের মত গরিব মানুষ বড় লোকের বাড়ি কি করে যায় বল? উপযাচক হয়ে খোঁজ খবর নিতে গেলে অপমান অপদস্ত হতে হবে।
    জরিনা : প্রথম প্রথম কয়দিন মোবাইল করেছিল তারপরে তো আর মোবাইল করে না। হয়তো লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত আছে। এক কাজ করেনে কালকে মোবাইলে কয়ডা টাকা পুরে আয়নেনে আমি ওর সাথে কথা কবো।
    হাসেম : ঠিক আছে আনবানে সব সময় আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি ওর ইচ্ছা যেন পূরণ হয়।দেও চাড্ডে খাতি দাও খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ি।
    (জরিনা খাবার বাড়ার জন্য উঠে) Cut to

    দৃশ্য ।। ১৮।। দিন ।। রুবিদের বাড়ি ।। ইনডোর
    চরিত্র: রুবি, মহিউদ্দিন, মিলি
    [ফ্রেমে দেখা যায় রবি তার বইপত্র এবং ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে, রাফি চুপচাপ দেখেছে,]
    রাফি :(দ্বিধায়) তুমি একটু সময় দাও। মা একটু রক্ষণশীল। তুমি তো জানো, তারা চায় তুমি ঘরের কাজেই মন দাও।
    রুবি : ঘরের কাজ করতে আমার তো কোন আপত্তি নেই! আমি তো পড়াশোনা করব ঘরের কাজের বাইরে অবসর সময়ে।
    রাফি : আমি… আমি আর পারছি না। মা বলেছে, তোমার আমার সম্পর্ক টিকবে না। তুমি পড়াশোনা করো, ডাক্তার হতে চাও, তারা সেটা মেনে নেবে না।”
    রুবি : (চোখে জল, কিন্তু গলা শক্ত): তুমি আমাকে ভালোবাসো এই তার নমুনা? আমার পড়াশোনার ব্যাপারে তুমি সহযোগিতা করবে! এখন দেখছি সবাই উল্টো! এখন আমার স্বপ্ন তোমার কাছে বোঝা! তবে শুনে রাখ যতই বাঁধা আসুক না কেন আমি পরোয়া করি না আমি ডাক্তারি পড়বো, আর সেটা হয়ে দেখাবো!
    রাফি : তোমার বাড়াবাড়ির কারণে আমাকে তালাক দিতে বাধ্য করো না!
    রুবি ‌ : তালাক দেবে কি দেবে না সেটা তোমার অভিরুচ্চির ব্যাপার। আমার আবিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমি সবকিছু ত্যাগ করতে পারি তোমার কাছে আমি ক্ষমা চাই। (রুবি ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে যায়, পেছনে রাফি দাঁড়িয়ে থাকে, মুখ নিচু) Cut to

    দৃশ্য ।। ১৯।।দিন ।। রুবিদের বাড়ি ।। ইনডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি,
    [হাসেম উঠেন বসে আছে রুবি ব্যাগ হাতে প্রবেশ করে ]
    হাসেম : কিরে মা, খরব না দিয়ে চলে আসলি
    রুবি : আব্বা আমি ফিরে এসেছি। আমি হেরে যাইনি, শুধু একটু ভেঙে গেছি।”
    হাসেম : (চোখে জল, মেয়েকে জড়িয়ে ধরে):
    তুই হারিসনি মা । তুই ফিরে এসেছিস নিজের কাছে। এখন আবার শুরু কর। আমি আছি তোর পাশে। প্রয়োজন হলে গ্ৰামে বাকি আমার যতটুকু জমি আছে তোর ডাক্তারি পড়াতে গেলে আমি সেটা বিক্রি করে দেব । দরকার হলে কালই যাব গ্রামে জমি বিক্রি করে আনব। যা,মা ঘর যা, ও রুবির মা দেখো কে এসেছে।ও তোর মা তো পাশের বাড়িতে গেছে। তুই ঘরে যা আমি রিকশা নিয়ে বের হবো। (হাসেম বাইরে দিকে যায় রুবি ঘরের ভিতর চলে যায়।)
    রুবি : (ঘরে ঢুকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, আকাশের দিকে তাকিয়ে) (স্বগত) আমি আবার শুরু করবো। আমার স্বপ্নকে কেউ থামাতে পারবে না। Cut to.
    দৃশ্য।।২০।। চায়ের দোকান।। ইনডোর
    চরিত্র: আসলাম, রাফি
    [ফ্রেমে দেখা যায় রাফি বাইক চালিয়ে এসে চা চাইবে, মিষ্টি কড়া চা ]
    আসলাম: (গান গাচ্ছে) যে জন প্রেমের ভাব জানেনা তার সাথে নেই লেনাদেনা, কি ব্যাপার অনেকদিন তো দেখা সাক্ষাত নেই।
    রাফি : আসলাম ভাই মিষ্টি কড়া করে চা দাও।
    আসলাম : মিষ্টি কড়া চা, নেশায় ধরেছে নাকি! প্রেমে ছ্যাকা খেয়েছো? বুঝেছি, আমি বলেছিলাম না আমার মত প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে দেখো কেমন লাগে।
    রাফি : আসলাম ভাই আগে চা বানাও তো।( চা নিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে চা খেতে থাকে। দূর থেকে দেখে রুবি কলেজের দিকে যাচ্ছে, রুবির এইচএসসি পরীক্ষা চলছে)

    দৃশ্য।।২১।।দিন।। রুবিদের বাড়ি ।। ইনডোর
    চরিত্র : হাসেম, রুবি, জরিনা
    [ফ্রেমে দেখা যায় হাসেম, রুবি, জরিনা বসে বসে কথা বলছে]
    রুবি : পরীক্ষাগুলো তো সে অনেক সুন্দর ভাবে দিয়েছি এবারও আমি গোল্ডেন এ প্লাস পাব। আব্বা আমি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং করবো তুমি কোন চিন্তা করো না আমি একটা টিউশনি পেয়েছি ঐ টাকা দিয়ে আমি কোচিং এর ফী দিতে পারব।
    হাসেম : মারে তোর চোখে আমি যে আগুন দেখছি। এই আগুনে অঙ্গার হয়ে তুই ঠিকই ডাক্তার হবি।
    রুবি : আমি হারতে চাই না, আব্বা আমি কালই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হব। আমি প্রমাণ করতে চাই, মেয়েরাও বাবা মায়ের এবং নিজের স্বপ্ন স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
    হাশেম : তুই শুধু আমার মেয়ে না, তুই আমার স্বপ্নের পূর্ণতা।
    জরিনা : খিদে পেটে বাপ মেয়ে শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না পেটে তো কিছু দিতে হবে না হলে স্বপ্ন দুর্বল হয়ে যাবে। (মায়ের কথা শুনে বাপ মেয়ে হেসে ওঠে) Cut to

    দৃশ্য ।।২২ ।। দিন।।রাফিদের বাড়ি।। ইনডোর
    চরিত্র: মহিউদ্দিন, মিলি
    [ফ্রেমে দেখা যায়, মহিউদ্দিন পেপার পড়ছে একটি নিউজে তার চোখ আটকে যায়]
    মহিউদ্দিন: আজকাল পত্রিকায় কি সব লেখে মনে হয় মনগড়া সংস্থা নিউজ, ভুল ধর্ষণ ছাড়া কোন কথাই নেই এক্সিডেন্ট ভালো কোন নিউজ নেই।
    একি রিক্সাওয়ালার মেয়ে ডাক্তারিতে চান্স। দেখে তো ভালো করে পড়ে দেখি। এটা দেখছি রাফি যে মেয়েটাকে বিয়ে করেছিল সে।রাফির মা এদিকে এসো।
    মিলি : কি ব্যাপার এত ধৈর্য্যর করে ডাকছো কেন?
    মহিউদ্দিন : এই দেখো পত্রিকাটা ভালো করে দেখো কি লিখেছে রিক্সাওয়ালার মেয়ে ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছে।
    মিলি : হতেই পারে এ আবার কি গোবরের পদ্মফুল।
    মহিউদ্দিন : লোকে বলে মেয়ে মানুষের বুদ্ধি কম ভালো করে পড়েছ ওখানে আসলে রিক্সাওয়ালার মেয়েটা কে? ও সেই মেয়ে রাফির বউ! আমাদের উঁচু মুখে সিরিজ কাগজ দিয়ে ঘষে ভোতা করে দিলো।
    মিলি : নাউ হয়েছে কেবলিতো চান্স পেয়েছে পাশ করে বের হোক তারপর বোঝা যাবে! দিল্লি বহুদূর। চা করে দিচ্ছি চা খাও মাথা ঠান্ডা করো ওসব ভেবে লাভ নেই। (মিলি কিচেনের দিকে চলে গেল মহিউদ্দিন পেপারের দিকে চোখ রাখল)

    দৃশ্য।।২৩।।দিন।। রুবিদের বাড়ি ।। ইনডোর
    চরিত্র : হাসেম, রুবি, জরিনা
    [রুবির মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে যাচ্ছে হাসেম আলী তাকে পৌঁছে দিতে চায়]
    হাসেম : মা তোকে এগিয়ে দিয়ে আসি
    রুবি : আব্বা, তুমি বিশ্রাম নাও। আমি নিজেই যেতে পারবো । আজ আমার যুদ্ধ বিজয়ের দিন। আমি ডাক্তার হতে যাচ্ছি!
    হাশেম : (কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরে) তুই শুধু আমার মেয়ে না, তুই আমার স্বপ্নের কান্ডারি।
    রুবি : আব্বা তুমি টাকার জন্য চিন্তা করোনা আমার কানের দুলটা বন্ধক রেখেছি। সেই টাকা দিয়ে ভর্তি হব।
    হাসেম : আমিও গ্রামের জমি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তুই যা সমস্যা নেই টাকা লাগলে আমাকে বলিস পাঠিয়ে দেবো।

    জরিনা : সাবধানে যাস মা তুই আমাকে ভুল বুঝিস না অভাব অনটনের সংসারে অতিষ্ঠ হয়ে তোকে অনেক সময় অনেক কথা বলেছি আমাকে ক্ষমা করে দিস। সত্যিই অসম্ভবকে সম্ভব করেচিছ!(রুবি একটা রিক্সা ডেকে উঠেপড়ে) Cut to

    দৃশ্য ।।২৪।। দিন।।রাফিদের বাড়ি।। ইনডোর
    চরিত্র: রাফি
    [ফ্রেমে দেখা যায় সে একটা ট্যাবলেটের পাতা থেকে বেশ কয়েকটি ট্যাবলেট খায়]
    রাফি : রুবি আমি একটা প্রতারক, আমার কথা রাখতে পারিনি , তোমার প্রতি অন্যায় করেছি। তুমি দেখিয়ে দিয়েছো, মানুষের ইচ্ছা শক্তি থাকলে সে অনেক কিছু করতে পারে। তোমাকে আঘাত দেওয়ার কষ্ট ভুলতে এখন নেশার মধ্যে ডুবে থাকি। (নেশায় বুঁদ হয়ে যায়) Cut to

    দৃশ্য ।। ২৫।।দিন ।। বাড়ির সামনে ।। আউটডোর
    চরিত্র: হাসেম, মিরাজ, রহিম
    [হাসেম আলী রিক্সার হ্যান্ডেলে হাত রাখেন, কিন্তু শরীর কাঁপে, পা টলে যায়]
    হাশেম : ( স্বগত ) এই চাকা তো আর ঘুরে না… শরীরও সায় দেয় না। কিন্তু ঘরের ভাড়া, রিক্সার মালিকের ভাড়া —সবই তো চাই…হাশেম আলী তুমি এখন বৃদ্ধ। শরীর আর রিক্সা টানতে পারে না। মেয়েটা মেডিকেলে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত,। রিক্সার মালিক ও ঘরের মালিক চাপ দিচ্ছে। সমাজের মানুষ তাচ্ছিল্য করে।

    মিরাজ : ( চিৎকার করে) বৃদ্ধ হয়ে গেছো, রিক্সা চালাতে পারো না, তবু রিক্সা নিয়ে বের হও কেন ? রিক্সার ভাড়া দিতে না পারলে কাল থেকে রিক্সা বন্ধ!”
    (ঘরের মালিক দরজায় এসে দাঁড়ায়)
    রহিম : এই মাসের ভাড়া কোথায়? না দিলে ঘর ছাড়তে হবে!(হাসেম চুপচাপ মাথা নিচু করে, চোখে জল) শুনেছি তোমার মেয়ে ডাক্তার হয়েছে, তাও বাবাকে দেখছে না!”

    intercart
    [রুবি মেডিকেল কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে ফিরে এসেছে। বাবার দুর্দশা দেখে সে ভেঙে পড়ে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়—এবার সে বাবার জন্য দাঁড়াবে।]

    মিরাজ : তোমার যথেষ্ট বয়স হয়েছে এখন বিশ্রামের পালা, ডাক্তার মেয়েটা তোমাকে দেখছে না কেন!

    (হঠাৎ রুবি এসে দাঁড়ায়, মেডিকেল ইউনিফর্মে, চোখে জল)
    রুবি : কে বলেছে আমি বাবাকে দেখি না? এই মানুষটার ঘামেই আমি আজ ডাক্তারি পাশ করবো।
    হাসেম : (কাঁপা গলায় হাশেম আলী তাকিয়ে দেখে, রুবি সামনে দাঁড়িয়ে) “তুই… তুই এসেছিস মা ?”
    রুবি : (বাবাকে জড়িয়ে ধরে): আমি এসেছি, আব্বা এবার আমি দায়িত্ব নেবে জীবন সংসারের । আপনি এখন থেকে ফুল রেস্ট।
    (ঘরের মালিক ও রিক্সার মালিক সামনে এসে দাঁড়ায়)
    রহিম : ভাড়া তো এখনো বাকি…
    রুবি : (চোখে দৃঢ়তা) আমাকে কিছু দিন সময় দিন সব মিটিয়ে দেবো। এখন থেকে আমার বাবার কোনো অভাব থাকবে না।
    মিরাজ : এই মেয়েটা সত্যিই আলাদা। বাবার জীবনটাই পাল্টে দিলো । ঠিক আছে মা তুমি ডাক্তার হলে আমাদেরই গর্ব।
    রহিম : হাসেম ভাই তোমাকে অনেক বেশি কথা বলেছি কিছু মনে করো না কেন অর্থের প্রয়োজন সবারই আছে। তোমার মত মেয়ে ঘরে ঘরে জন্ম হোক। (মিরাজ ও রহিম চলে যায়)
    রুবি : আমার ইন্টানী চলছে ওটা শেষ হলে আমি হয়ে যাব একজন ডাক্তার। আমরা নতুন একটা ফ্লাট নেব সেখানে আমরা সবাই মিলে থাকবো।
    হাসেম : রুবির মা রুবির মা কই গেলে দেখো কে এসেছে? দেখো আমাদের বাড়িতে ডাক্তার এসেছে। (জরিনা ঘর থেকে বের হয়ে আসে রুবি মাকে জড়িয়ে ধরে) freeze.

    ।। The End ।।/25/08/2025

    2
    2 Comments
    • নাটকের শেষ দৃশ্যটি সত্যিই অসাধারণ। ‘মেয়েরাও বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে’—এই সত্যটি খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

Abul Hasan Tuhen

Friends

Skip to toolbar