Profile Photo

Adwit Kanti RouthOffline

  • Adwit
  • Profile picture of Adwit Kanti Routh

    Adwit Kanti Routh

    4 weeks ago

    ইউক্রেন ও রাশিয়ার তৃণভূমিতে একটা যাযাবর গোষ্ঠী ছিল যাদের নাম দেয়া হয়েছে আর্য। আর্যদের একটা শাখা গ্রীসে গিয়ে তৈরি করল বজ্রের দেবতা জিউস, আরেকটা শাখা নরওয়েতে গিয়ে তৈরি করেছে বজ্রের দেবতা থর।
    আরেকটা শাখা তাজাকিস্তানের আসল, এখানেই তৈরি হয়েছে বেদের সামান্য কিছু অংশ, দেবরাজ ঈন্দ্র ও বৃত্র নামে ড্রাগনের মধ্যকার যুদ্ধ। জিউস, থর সবাই ড্রাগনের সথে যুদ্ধ করেছে। এই গল্প গ্রীক পুরাণেও আছে, নরওয়ের পুরাণেও আছে।
    ঋকবেদের কিছু অংশ, ঈন্দ্র এসব নিয়ে আর্যরা ভারতে ঢুকেছিল। বেদের বাকি অংশ রচিত হয়েছে সিন্ধু নদের তীরে হিমালয়ের কোলে। ড্রাগন বৃত্র ভারতের আবহওয়ায় হয়ে গেছে বৃত্রাসুর (অসুর)। আগে ঈন্দ্রের বাহন ছিল ঘোড়া। ভারতে ঢুকে আর্যরা হাতি দেখেছে। তখন ঈন্দ্রের বাহন হয়ে গেছে হাতি, নাম ঐরাবত।
    পরবর্তীতে পুরাণে ঈন্দ্রের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। কিন্তু বেদের প্রধাণ দেবতা ছিল ঈন্দ্রই। এই বজ্র দেবতার কাছে কৃষকরা বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করত। ঈন্দ্র আজও সব জায়গায় আছে। রংধনুকে বলা হয় ঈন্দ্রধনু, পাঁচটা ইন্দ্রিয়কে বলা হয় পঞ্চ ইন্দ্রিয়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামেও ঈন্দ্র আছে ( রবি + ঈন্দ্র = রবীন্দ্র )।
    বাংলা, হিন্দী, সংস্কৃত এগুলো ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা। আমরা বাঙালিরা ইন্দো ইউরোপীয়। আমাদের DNA test করলে কিছুটা European DNA পাওয়া যাবে।

    আর্য ও সেমেটিক এই দুই জাতি পৃথিবী dominate করতেছে। আর্যরা যেমন তিনটা পুরাণ বানিয়েছে গ্রীক পুরাণ, নর্স পুরাণ, ভারতীয় পুরাণ। সেমেটিক জাতিও 3টা ধর্ম বানিয়েছে। ইহুদি, খ্রিষ্ট ধর্ম, ইসলাম।
    ইউরোপীয়রা রক্তের দিক দিয়ে আর্য কিন্তু ধর্মের দিক দিয়ে সেমেটিক (খ্রিষ্ট ধর্ম)। আমরা বাঙালিদের মধ্যে আর্য DNA বেশী কিন্তু ধর্মে সেমেটিক (মুসলিম) বেশী। বাঙালি DNA তে তুর্কি, আরবের শেখ, চাকমা মারমা সাওতাল সব DNA আছে।

    বহুঈশ্বরবাদের ঐতিহ্য একেশ্বরবাদের ছোবলে হারিয়ে যেতে বসেছে। এমনিতে সব ধর্মই মিথ্যা। But tradition বলে একটা জিনিস আছে না ? Tradition হিসাবে প্রকৃতি পূজা, গাছ পাহাড় আকাশ আগুন নদীকে পূজার যে রীতি সেই রীতির প্রতি একটা শ্রদ্ধা আছে।

    কবিগুরুর একটা গান আছে – নমোঃ যন্ত্র নমোঃ যন্ত্র। কবি কি জানেনা মেশিন জড়বস্তু ? জেনেশুনে কেন মেশিনকে পূজা করছে ?
    জড় পদার্থকে শ্রদ্ধা করা এটা আমাদের পূর্বপুরুষ ও পূর্বনারীদের ঐতিহ্য, আমাদের DNA এর মধ্যে আছে। সেমেটিকরা এসে সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে আলাদা করে দিছে শিরকের দোহাই দিয়ে। আগে আমরা সৃষ্টির মধ্যেই স্রষ্টাকে পেতাম। …

    এখন কথা হল, সৃষ্টিকর্তা বলেই কিছু নাই এবং ধর্মগুলো মিথ্যা। তবু বহুঈশ্বরবাদী ধর্মগুলো একেশ্বরবাদী কট্টর ধর্মের চেয়ে better, উদার। ঈশ্বরে বিশ্বাস না করলেও প্রকৃতি পূজার প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানো যায়।

    1
    1 Comment
    • সুন্দর বিষয় নিয়ে এসেছেন। তবে এখানে তিনটা প্যারালাল বিষয় এক সাথে প্রবাহিত আছে যেগুলি ওভারল্যাপিং। নৃতত্ত্ব, ধর্ম আর দর্শণ। এই তিনটা বিষয় খুবই ওভারল্যাপিং। পৃথিবীতে এত সময় এত মিশ্রণ ঘটেছে যে, এগুলির ট্র্যাক রাখা মুশকিল। ইদানীং আর্যদের প্রভাব যতটা ভাবা হতো সর্ব-ভারতে – ততটা দেখা হচ্ছে না। অনার্য দক্ষিণ-ভারতীয়দের কথাও আনতে পারতেন। বাঙ্গালি জাতির তৈরীতে এদের মিশ্রণ কম না। ভারতে এদের আগমন আর্যদের অনেক আগে। এদিকে, বহুঈশ্বরবাদীতার পাশে পাশে একেশ্বরবাদীতার আগমন অনেক নতুন। অনেক পরের কালের। যদিও ভারতবর্ষের সনাতন ধর্মের অনেক ধারার মধ্যকার একটা ধারায় নিরাকার একেশ্বরের প্রাধান্যও কম না। … অন্যদিকে দর্শনের দিক থেকে ভাবলে পূর্ব পশ্চিম সব দর্শনের মূলেই সম্ভবত সবচেয়ে আদি দর্শণ – টার্মটা সঠিক মনে নাই – তবে ‘পুরুষ-প্রকৃতি’ বা ‘দ্বৈতবাদ-অদ্বৈতবাদ’ বললে কিছুটা কাছে আসা যায়। ১) আমি নিজেই কি একা (অর্থাৎ প্রকৃতিও আমার অংশ – আমি-ই প্রকৃতি) – নাকি – ২) আমি একটা সত্তা – আর প্রকৃতি আমার থেকে দ্বিতীয় একটা সত্তা … -> এই দুই মিলেই বিশ্ব। দর্শনের সম্ভবত সবচেয়ে আদিম প্রশ্ন এই বিষয়টা। এর পরেই এনিমালিজম, প্রকৃতিকে মান্য করা, পৌত্তলিকতা, একেশ্বরবাদ/বহু ঈশ্বরবাদ ইত্যাদি। ওখান থেকেই নানা ডালপালা …

Skip to toolbar