Profile Photo

তিতা ফুলOffline

  • nadia1
  • Profile picture of তিতা ফুল

    তিতা ফুল

    • 1 month, 1 week ago

    “ ইন্তিহা, আবরার উঠেছে ঘুম থেকে?’
    ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে ইন্তিহা। কাল রাতে এই বাড়িতে আসতে অনেক রাত হওয়ায় আর ইন্তিহা অসুস্থ থাকায় খুব বেশি মানুষের সমাগম হতে দেননি আবরারের মা, আসমা বেগম।তাই এখন সকাল সকাল আশেপাশের বেশ কিছু মহিলারা এসেছেন নববধুকে দেখবে বলে। শাশুড়ির প্রশ্নে অপ্রস্তুত ইন্তিহা সাথে সাথে জবাব দিতে পারে না। আসলে সকাল সকাল রুম থেকে বের হওয়ার পর আর হয়নি অমুখো। ফজরের পর আবরার যখন রুমে আসে, দেখেনি ওকে। ওর আসার আগেই বেরিয়ে গেছে মেয়েটা। তাই এখন কি বলবে বুঝতে না পেরে চুপ করে থাকে। পাশ থেকে খাদিজা বেগম, ওর মেঝ জা-ই জবাব দেন।
    “ওকে তো দেখেছি সেই সকালেই কোথায় যেন বেরিয়েছে। হাবিব কে নিয়ে গেলো সাথে করে।”
    “ কি বলিস? এই ছেলেটাও না! হুস হবে না কোনোদিন। আজকের দিনেও ওর বাইরে যেতে হবে!”
    শাশুড়ির কথায় খাদিজা মুচকি হাসলেও সন্তুষ্ট হতে পারেন নি রাবেয়া, আবরারের বড় ভাবি। ঠেশ মেরে কথা বলতে তার যেন জুড়ি মেলা ভার। এতক্ষন শাশুড়ির সতর্কবার্তায় চুপ করে থাকলেও এবার আর সেটা সম্ভব হয়ে উঠলো না যেন।
    “তা ইন্তিহা, স্বামী সকাল থেকে বাসায় নেই, সে খবর তোমার আগে অন্য কেউ জানার কথা বুঝি? স্বামীর খোঁজ খবর রাখো না দেখছি!”
    এতো মানুষের সামনে বড় জা’য়ের এমন বিব্রতকর প্রশ্নে হতচকিয়ে যায় মেয়েটা। কথা বলার ভাষা হারায় এক মুহূর্তের জন্য। মাথা নিচু করে চুপ থাকে।
    “ আহ, আমিনা। কি শুরু করলে? এসব কেমন ধরনের প্রশ্ন? চুপ থাকতে বলেছিনা তোমাকে?”
    শাশুড়ির কথায় চুপ হয়ে যাওয়ার পাত্রী রাবেয়া সরকার না। সে তার মতো করে বলতে যাচ্ছিলো আরও কিছু। তবে সিঁড়ির কাছে দাড়িয়ে থাকা আবরারকে দেখে চুপ হয়ে যায়। এই বাড়িতে আবরারই একমাত্র ব্যাক্তি, যাকে তিনি যমের মতো ভয় পান। কারণটা যদিও অজানা। তবে আবরারের উপস্থিতিতেই তার সমস্ত চেঁচামেচি শান্ত হয়ে যায়।আবরার কোন কথা বলে না। চুপচাপ এগিয়ে এসে বসে ইন্তিহার পাশের ফাঁকা জায়গাটায়। এতে মেয়েটা সরে বসে খানিকটা। যা চোখ এড়ায় না আবরারের। মাথা ঘুরিয়ে সূক্ষ্ম হাসে সে। পুনরায় স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রশ্ন ছুড়ে রাবেয়া বেগমের উদ্দেশ্যে।
    “ কে কার স্বামীর খোঁজ করে না ভাবী?”
    ব্যাস। হয়ে গেলো। শুনে নিয়েছে সবটা। আবরারের কথায় কোন প্রতিউত্তর করলেন না তিনি। না তো বসে রইলেন আর এক মুহূর্ত সেখানে। উঠে চলে গেলেন নিঃশব্দে। আবরারের উপস্থিতিতে অন্যান্য মহিলারা চলে গিয়েছে বহু আগেই।
    “সকাল সকাল নাস্তা না করেই কোথায় গিয়েছিলি? আর তোর তো কোন হেলদোলই দেখছি না। আজকে না ইন্তিহাকে নিয়ে ওদের বাড়িতে যাওয়ার কথা? কখন যাবি ?”
    মায়ের কথা শুনে ত্বরিত ইন্তিহার দিকে তাকালো ছেলেটা। মাথা নিচু করে বসে আছে ইন্তিহা। ফের মায়ের দিকে ফিরে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
    ‘’কালকে যাবো। ওর শরীর ভালো না তেমন। টানা দুইদিন জার্নি করলে অসুস্থ হয়ে পড়বে আরো।”
    “সেটা জানিয়েছিস উনাদের? উনারা তো জানেন আজকেই যাবি তোরা।”
    “ আরে মা, তুমি এতো চিন্তা করছ কেন সেসব নিয়ে? আমি সকালেই ফোন করে বলে দিয়েছি আসিফকে। আর ইন্তিহা, রুমে আসো তো। কথা আছে।”
    বলেই সে হাটা ধরলো রুমের দিকে। যেন সে শতভাগ নিশ্চিত, ইন্তিহা ওর পিছুপিছু রুমে পৌঁছুবে এক্ষুনি। হলোও তাই। মিনিট পেরুতেই ইন্তিহা এসে দাঁড়ালো দরজার কাছটায়।
    “ভেতরে এসো!”
    চুপচাপ রুমের ভেতরে প্রবেশ করলো মেয়েটা। আবরার চোখ তুলে তাকালো ভালোমতো।লাল পেড়ে ছাই রঙা একটা সুতির শাড়ী পরেছে মেয়েটা। চোখের পাশ ঘেঁষে টানা হয়েছে কাজলের রেখা। রেখাটা পরিপক্ক হাতের। দেখেই বোঝা যায় অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। ইন্তিহা সাজে না তেমন, অভ্যাস নাই। তবে সাজ ছাড়াই বা কম কিসে? হৃদয়ে কারো বাক্তিত্ব গেঁথে গেলে, তাকে এমনিতেও পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর লাগে।
    “ নাস্তা করেছো?”
    “হ্যাঁ!”
    খুব ছোট্ট করে উত্তর দেয় সে। বিপরীতে ‘আপনি নাস্তা করেছেন?’ প্রশ্নটা করতে চাইলেও মুখে আসে না। আবরার বোধহয় বুঝতে পারলো সেটা। প্রশ্নবিহীন উত্তর দেয় সে।
    “ আমার এক বন্ধু আছে, মুনির। হাটতে গিয়ে দেখা হয়ে গেলো ওর সাথে। জোরাজুরি করে নাস্তা করিয়ে দিলো।”
    লোকটার ওজুহাত দেয়ার ধরন দেখে ইন্তিহার হাসি পেলো খুব।এমনভাবে বলল, যেন ও জেরা করছে বাইরে থেকে খেয়ে আসার কারনে।তবে বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকলো সে। এমন কথার কি উত্তর দিবে বুঝতে না পেরে মাথা নিচু করে দাড়িয়েই রইলো খানিকক্ষণ। অধৈর্য হলো আবরার। এতো কম কথা বলে কেনো মেয়েটা? নিজে থেকে না বলুক, অন্তত একটু বড় করে উত্তরটা তো দিতে পারে নাকি? প্রসঙ্গ বদলালো সে।
    “ আজকে তোমাদের বাড়িতে না যাওয়ায় মন খারাপ হয়েছে তোমার?”
    “ মন খারাপ হবে কেন? “
    ওর কথায় থামলো ছেলেটা। একটুখানি চুপ থেকে ফের বললো,
    “ সেটাই। তোমার মন তো সবসময়ই খারাপ থাকে। ভালো থাকে কখন আবার?”
    চুপ হয়ে গেলো মেয়েটা। আসলেই তো। মন ভালো থাকে কখন তার! সারাক্ষন তো চুপ করেই থাকে। তবে ও বুঝতে পারলো না এই সামান্য একটা কথায় ওর অভিমান হচ্ছে কেনো এমন। এই কথা তো সবাই বলে ওকে। সবসময় শুনে শুনে অভ্যস্ত। তবুও বুক ভারী লাগছে কেন এতো?
    “আমি খুব একঘেয়ে ধরনের মানুষ। দুইমিনিট কথা বলেই মানুষ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।”
    ইন্তিহার কথায় হতচকিয়ে উঠে আবরার। এ আবার কেমন কথা! ও’তো সেভাবে বলতে চায়নি কথাটা। মেয়েটা কি মন খারাপ করলো? কষ্ট পেয়েছে কি খুব ওর কথায়? কথা ঘুরালো সে।
    “ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলাটাই ভালো। অন্তত আমার দিক থেকে। আমার বউ অন্য কারো কাছে খুব আকর্ষণীয় লাগুক,এটা আমি একদমই চাই না।”
    ‘আমার বউ!’ এই একটা কথাই যেন তোলপাড় চালালো মেয়েটার বক্ষজুড়ে। একটু আগে হওয়া সূক্ষ্ম অভিমানটুকু যেন ভুলে গেলো মুহূর্তেই। সেখানে জায়গা করে নিলো এক ঝাঁক প্রজাপতির দুরন্তপনা। আবরার বসলো সোফার উপর। ওকেও ইশারা করলো বসার জন্য পাশে। বিনাবাক্য ব্যায়ে বসে পড়লো সে। তবে মুহূর্তেই ওর চোখ আটকে গেলো সোফার হাতলে থাকা আবরারের হাতের দিকে। কাল রাতে অন্ধকারের মাঝে সেভাবে দেখা হয়নি, তাই হয়তো কাটা দাগটা দেখতে পায়নি, ভাবলো সে। তবে দৃশ্যমান অংশটুকুতে এখনো কোনো কাটা বা আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। ফর্সা হাতের মসৃণ চামড়ায় যেন ঠিকরে বেরুচ্ছে আলো। ইন্তিহার দৃষ্টি লক্ষ্য করে সে নিজের হাতের দিকে তাকালো একবার। বুঝে পায় না মেয়েটা বারবার ওর হাতে কি খুজে। কাল রাতেও খেয়াল করেছে কয়েকবার। জিজ্ঞেস করাতেও বলে নি কিছু। তবে কিছু একটা যে আছে, এতে তো সন্দেহ নেই কোন।
    “সাজিয়ে দিয়েছে কে তোমায়?”
    আবরারের কথায় আচমকা চোখ ফিরায় মেয়েটা। যেন লুকাতে চাইছে দৃষ্টি। তবে সে একদমই যানে না, আবরার ওর আশেপাশে থাকাকালীন প্রতিটা সূক্ষ্ম নড়াচড়াও নজর বন্দী করে নিতে পারে। তাও আবার ওকে বিন্দুমাত্র বুঝতে না দিয়েই!
    “খাদিজা আপু”
    আপু! অবাক হলো আবরার। ভাবীকে আপু ডাকছে মেয়েটা। আবার এমনভাবে বলছে যেন কতো আগের চেনাজানা তাদের। ভালো লাগলো বিষয়টা। চুপচাপ থাকলেও ভেতরের হৃদয়টা খাঁটি। এতক্ষনে নিচের দিক থেকে চোখ উঠালো মেয়েটা।আবরার যেন এরই অপেক্ষায় ছিল। সে সরাসরি তাকালো মেয়েটার কালো কাজলে আঁকা চোখের পানে। তারপর হুট করে, একদম হুট করে বলে ফেললো হৃদয় কাঁপানো সে বাক্য।
    “সুন্দর লাগছে!”
    চোখ সরিয়ে নিলো মেয়েটা। এমন সব কথা বললে কি আর চেয়ে থাকা যায় নাকি? ইন্তিহার অস্বস্তি বুঝতে পেরে আর কথা বাড়ালো না আবরার। কিছু একটা ভেবে উঠে দাঁড়ালো ত্বরিত।
    “ওই বাড়ি থেকে সবার আসার সময় হয়ে গেছে।সেখানে থাকতে হবে আমার।আর শুনো, অনেক মানুষ থাকতে পারে বাড়িতে। রুম থেকে বের হবে না তুমি। কিছু প্রয়োজন হলে মেঝ ভাবীকে বলবে। লিমা থাকবে এখানে, তোমার কাছে।”
    আবরারের কথায় কোন প্রতিউত্তর করল না সে। শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। আবরার তার ফোন, ওয়ালেট সব পকেটে পুরে হাটা ধরলো দরজার দিকে। কয়েক কদম পেরুতেই থেমে পুনরায় ফিরে এলো ওর সামনে।
    “ আলমারিতে তোমার যাবতীয় সব জিনিসগুলো আছে। খুলে দেখে নিও সব।আর…”
    আরো কিছু হয়তো বলতে যাচ্ছিলো সে। তবে ফোন আসায় আর বলা হলো না। আবরার চলে যাওয়ার পর ইন্তিহা কিছুক্ষন বারান্দার ফুল গাছগুলোতে পানি দিলো। কাল রাতে আর দেখা হয়নি সেভাবে। আবরার আসলেই একজন রুচিশীল মানুষ। ওর রুম, বারান্দা দেখলেই সেটা স্পষ্ট হয়। ওর পুরো ব্যাক্তিত্বটাই তো আকর্ষণীয়!
    রুমে এসে বিছানাটা একবার টানটান করে গুছিয়ে রাখলো সে। টেবিলের উপর থাকা জিনিসগুলো গুছাতে গিয়ে নীল রঙা চিঠির খামখানা চোখে পড়লো তার। ভারী অবাক হলো মেয়েটা। তাই বলে ওকে কিছু না বলেই রুমে চিঠি রেখে যেতে হবে লোকটার? খামটা হাতে নিতেই হৃদস্পন্দন বাড়লো বহুগুন। নীল খামের ভাজে সাদা একখানা চিরকুট। সাথে হাতের একটা ব্রেসলেট। স্বর্ণের হবে জিনিসটা। ইন্তিহা সেটা টেবিলের উপর রেখে কাঁপা হাতে চিরকুটটা খুললো। গোটা গোটা অক্ষরগুলো যেন নিঃশব্দে সাক্ষর দিয়ে দিলো লোকটার নামে।
    (চলবে)

    তোমার আকাশ আমার মেঘ
    পর্ব_৫
    -তিতা ফুল

    3
    3 Comments
    • তিতা ফুল, আপনি চমৎকার একটি পরিবেশনা উপহার দিয়েছেন, যেখানে চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব এবং মিষ্টি অনুভূতিগুলো খুব সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে আবরারের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ এবং ইন্তিহার ভেতরের চাপা আবেগ পাঠকদের হৃদয়ে সহজেই দাগ কেটে যায়। আপনার লেখার এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইলে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের আরও সূক্ষ্ম কিছু দিক তুলে ধরতে পারেন, যা আপনার কাহিনীকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

    • শাশুড়ির প্রশ্নে অপ্রস্তুত ইন্তিহা সাথে সাথে জবাব দিতে পারে না।

    • লেখাটা পড়ে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে, আবরারের ইন্তিহার প্রতি যত্ন আর মায়াগুলো এতো সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন যে পড়তেই বেশ লাগছে!

Friends

Profile Photo
Mashuk Hossain
@mashukhossain
Profile Photo
Noyontara
@bablee
Profile Photo
Sazia Islam Mim
@saziaislammim
Profile Photo
Md.Mohsin Ali
@fivertrading007gmail-com
Profile Photo
Redowan Hussain
@redowanhussain
Profile Photo
নৈশান
@noishan
Profile Photo
Hashem Molla
@hashemmolla
Profile Photo
Kazi Mahabubur Rahman
@kazimahabuburrahman
Profile Photo
mithila jannat
@mithilajannat
Skip to toolbar