-
তুমি ভালো থেকো, এই কথাটাই
সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়(ছোটগল্প)
নাজনীন শামীম
৩১শে আগষ্ট ২০২৬ ইংকিছু বিচ্ছেদে কেউ কাউকে ছেড়ে যায় না।
শুধু দুজন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থেকেও বুঝে যায়—এখন থেকে তাদের পথ আলাদা।সেদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টি হচ্ছিল।
রাস্তায় মানুষের ভিড়, গাড়ির হর্ন, দোকানের আলো—সবকিছু আগের মতোই ছিল। শুধু রায়ানের পাশে মায়া ছিল না।
অথচ এই রাস্তা দিয়েই তারা কতবার হেঁটেছে।
মায়া সবসময় বৃষ্টিতে ছাতা বন্ধ করে দিত। রায়ান বিরক্ত হয়ে বলত,
—“ভিজে যাবে।”
মায়া হেসে বলত,
—“তুমি তো আছো।”
আজ বৃষ্টি নামতেই রায়ান অজান্তেই ছাতাটা একটু পাশে সরিয়ে দিল।
তারপরই মনে পড়ল—
আজ তাকে ভিজতে দেওয়ার মতো কেউ নেই।তাদের প্রেমটা খুব বড় কোনো গল্প ছিল না।
ছিল ছোট ছোট অভ্যাস।
রাতে ঘুমানোর আগে কথা বলা।
মন খারাপ হলে চুপ করে থাকা।
রাগ করলে ফোন না ধরা।
আবার পাঁচ মিনিট পর নিজেই ফোন করে বলা—“রাগ করে আছো?”
তারপর একদিন সত্যিই রাগ জমে গেল।
কোনো তৃতীয় মানুষ ছিল না।
কোনো বিশ্বাসঘাতকতাও না।ছিল শুধু দুজনের ক্লান্তি।
মায়া বলেছিল,
—“তুমি আমাকে ভালোবাসো, কিন্তু বুঝতে চেষ্টা করো না।”
রায়ান বলেছিল,
—“তুমিও তো আমাকে বুঝতে চেষ্টা করো না।”
দুজনেই ঠিক ছিল।
আর দুজনেই ভুল ছিল।
সেদিন শেষবার দেখা হলে মায়া অনেকক্ষণ রায়ানের দিকে তাকিয়ে ছিল।
রায়ান জিজ্ঞেস করেছিল,
—“কিছু বলবে?”
মায়া মাথা নাড়িয়ে বলেছিল,
—“না।”
তারপর একটু থেমে খুব আস্তে বলেছিল,
—“ভালো থেকো।”
রায়ানও বলেছিল,
—“তুমিও।”
এই দুটো শব্দের ভেতরেই তাদের সাত বছরের ভালোবাসা শেষ হয়ে গিয়েছিল।
কেউ কাঁদেনি।
কেউ কাউকে আটকায়নি।
কারণ কখনো কখনো মানুষ বুঝে যায়—
আটকে রাখলে মানুষটা থাকবে, কিন্তু ভালোবাসাটা থাকবে না।তিন বছর পর একদিন হঠাৎ মায়াকে দেখা গেল সেই পুরোনো রাস্তায়।
রায়ান দূর থেকে দেখেও এগিয়ে গেল না।
মায়াও তাকে দেখে থেমে গেল।
দুজনের চোখে এক মুহূর্তের জন্য পুরোনো দিনগুলো ফিরে এল।
তারপর মায়া হাসল।
রায়ানও হাসল।
মায়ার পাশে একটা ছোট্ট মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
রায়ান বুঝল—মায়া তার জীবনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
আর নিজের বুকের ভেতর হাত রেখে বুঝল—
সে-ও এগিয়েছে।
শুধু কিছু স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে।বিদায় নেওয়ার আগে মায়া আবার বলল,
—“ভালো থেকো।”
এবার রায়ান হাসতে পারল না।
শুধু মাথা নেড়ে বলল,
—“তুমিও।”
মায়া চলে গেল।
রায়ান অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর নিজের মনে বলল—
“তোমাকে ফিরে পাওয়ার ইচ্ছে আজ আর নেই।
শুধু মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে,
আমাদের সেই পুরোনো মানুষ দুটোকে যদি একবার ফিরে পাওয়া যেত!”বৃষ্টি তখনও পড়ছিল।
রায়ান ছাতা খুলল না।
কারণ কিছু বৃষ্টি শরীর ভেজায় না—
পুরোনো ভালোবাসার স্মৃতিগুলোই ভিজিয়ে দেয়।
(অতঃপর)12 Comments-
-
“কিছু বৃষ্টি শরীর ভেজায় না—পুরোনো ভালোবাসার স্মৃতিগুলোই ভিজিয়ে দেয়”—এই লাইনটা পড়ে একদম বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল, সত্যি এমন অনুভূতি কি কখনো পুরোপুরি মুছে ফেলা যায়?
-
-
খুব সুন্দর লাগল। না পাওয়ার গল্পগুলাই সব থেকে সুন্দর। আবার আপনার লেখাটা আরও এক পা এগিয়ে গেল। না পাওয়ার পরেও না পাওয়া থেকে গেল।
-
আপনার লেখাটি পড়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অদ্ভুত এক শূন্যতার অনুভূতি হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটে গেল, বিশেষ করে বৃষ্টির ছোঁয়ায় স্মৃতির ভেসে ওঠার দৃশ্যটি যেন হুমায়ূন আহমেদের কোনো চরিত্রের একাকীত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, তাই আপনি যদি বর্তমান সময়ের পাশাপাশি অতীতের টুকরো কিছু অনুভূতির যোগ আরও একটু বাড়ান তবে গল্পটি পাঠকদের জন্য আরও দীর্ঘস্থায়ী এক ভালোলাগায় পরিণত হতে পারে।
-
-
Friends
Zahidul Jamy
@zahidul
মোঃ বায়েজীদ
@bayejid
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
Shojan Maria Shoche
@shojanmaria
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
Santo Mon
@santomon
Ariba Mehzabin Yeana
@aribamehzabin
Md. Jahangir Alam
@md-jahangiralam
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia



“ভালো থেকো” শব্দটাই তো থেকে যায়, ভালোবাসা যখন নিঃশব্দে বিদায় নেয়…🤍