Profile Photo

naznin shamimOffline

  • nazninshamim
  • Profile picture of naznin shamim

    naznin shamim

    • 1 month, 1 week ago

    “বুকের ভিতর এক চিলতে শ্মশান”
    নাজনীন শামীম
    চট্টগ্রাম থেকে
    ৫ ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং
    ​
    পকেটে হাত ডুবিয়ে যখন দেখা যায় সেখানে শুধু দুটো ছেঁড়া বাস টিকিট আর খালি কাগজের ধূলিকণা, তখন সন্ধ্যার শহরের আলোকেও বড্ড অমানবিক মনে হয়। অর্কের জন্য আজকের বিকেলটা অন্যরকম হতে পারতো। সাড়ে পাঁচটায় কফিশপে শিউলীর মুখোমুখি বসে চার বছরের সম্পর্কের একটা সুন্দর পরিণতির কথা বলার কথা ছিল। কিন্তু টেবিলে রাখা ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ দুটো জুড়িয়ে বরফ হয়ে গেলেও শিউলীর চোখ দুটো জুড়ে ছিল শুধুই বরফশীতল এক অচেনা চাহনি।
    ​”একটা ছেলে যে নিজের এক বেলার আহার সংস্থান করতে পারে না, সে আরেকটা মানুষের দায়িত্ব কীভাবে নেবে, অর্ক? স্বপ্ন দিয়ে তো আর পেটের ক্ষুধা বা সংসারের খরচ মেটানো যায় না।”
    ​শিউলীর কণ্ঠস্বর কাঁপেনি, কোনো দ্বিধাও ছিল না সেখানে। কথাগুলো শেষ করে যখন সে তার ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিয়ে রিকশায় গিয়ে উঠল, অর্ক শুধু এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। শেষবারের মতো একটু হাতটা ধরার বা আকুতি জানানোর অধিকারটুকুও তার ছিল না। বেকারত্ব মানুষের ভালোবাসার সমস্ত আবেগ আর আত্মসম্মানকে এক লহমায় ধূলিসাৎ করে দেয়। চার বছর ধরে লালন করা স্মৃতিগুলো যেন মুহূর্তের মধ্যেই মিথ্যে হয়ে গেল কেবল একটা সরকারি চাকরির নিয়োগপত্রের অভাবে।
    ​বাড়ি ফেরার পথে ফুটপাতের মোড়ে হঠাৎ ছোটবেলার সহপাঠী সজলের সঙ্গে দেখা। একসময়ের পড়াশোনায় পেছনের সারিতে থাকা সজল এখন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সজল গাড়ি থামিয়ে খুব কৃত্রিম এক হাসি দিয়ে বলল, “কীরে অর্ক, চাকরি-বাকরির খবর কী? নাকি এখনও টিউশনি আর চাকরির ফরম পুরণেই দিন কাচ্ছিস?” সজলের সেই সহানুভূতির ছলে করা উপহাসের জবাবে অর্ক কেবল একটা মলিন হাসি উপহার দিল। তার নিজের শহরের বাতাসেই যেন আজ তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
    ​বাড়ি ফিরে মায়ের মুখটার দিকে তাকানোর সাহস অর্কের ছিল না। মা কিছু বলেননি, শুধু থালা ভর্তি ভাত সামনে এনে রেখে নিরবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। সেই দীর্ঘশ্বাসের শব্দটাও অর্কের কাছে চাবুকের ঘা অপেক্ষা কম মনে হয়নি। যে ভালোবাসার জন্য অর্ক তার পুরো যৌবন উজাড় করে দিয়েছিল, আজ চাকরি না থাকায় সেই ভালোবাসাও তাকে একটা ব্যর্থ মানুষের তকমা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিল। অন্ধকার ঘরে শুয়ে অর্ক বুজতে পারল—এই সমাজে যোগ্যতা মাপার একমাত্র স্কেল হলো উপার্জনের অঙ্ক; খালি পকেটের বেকার যুবকের ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই, সে ভালোবাসা যত গভীর বা পবিত্রই হোক না কেন।

    5
    8 Comments
    • পকেটে হাত ডুবিয়ে যখন দেখা যায় সেখানে শুধু দুটো ছেঁড়া বাস টিকিট আর খালি কাগজের ধূলিকণা, তখন সন্ধ্যার শহরের আলোকেও বড্ড অমানবিক মনে হয়।

    • আপনার লেখাটা পড়ে একদম বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল, সত্যি খুব বাস্তব আর যন্ত্রণাদায়ক একটা দিক তুলে ধরেছেন। আমাদের আশেপাশের অনেক অর্কই যে প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, সেটা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনি সময় করে গ্রুপে অন্যদের লেখাতেও লাইক-কমেন্ট দিয়েন, এতে সবার সাথে পরিচয় বাড়বে আর গ্রুপটা আরও প্রাণবন্ত থাকবে।

      • ধন্যবাদ আমার প্রিয় রুপাই বন্ধু আমার এভাবে মন্তব্যে পাশেথেকো সবসময়ই ❤️♥️

    • বেকারত্বের নির্মম বাস্তবতা!

    • আপনার লেখায় ফুটে ওঠা অর্কের অসহায়ত্ব এবং বাস্তবতার নিদারুণ আঘাত পাঠক হিসেবে আমার হৃদয়ে গভীর দাগ কেটে গেছে। প্রতিটি শব্দে যে নিস্তব্ধ হাহাকার আপনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা একজন ব্যর্থ প্রেমিকের যন্ত্রণা ও সামাজিক বৈষম্যকে ভীষণ জীবন্ত করে তুলেছে। আপনার এই লেখনী শৈলী সত্যিই প্রশংসনীয় এবং আপনি আরও চমৎকার সব গল্প আমাদের উপহার দেবেন বলে আশা রাখি।

      • অনেক ধন্যবাদ প্রিয় বন্ধু আমার।আমার সফলতা তোমাদের আন্তরিক সহযোগিতা ♥️♥️

Friends

Skip to toolbar