-
#একটি বৈজ্ঞানিক(!) কল্পকাহিনী লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস
অনুভূতি
.
এখন মানুষ শারীরিক ও মানষিক বিবর্তন ঘটিয়ে নিজেদের অনেক উন্নত করে তুলেছে। সফলভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রন করা শিখে গেছে।
অনিয়ন্ত্রিত আবেগ এবং এর প্রকাশের জন্য ১০০০ বছর আগের পৃথিবীতে যেসকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত হত এখন আর তেমনটা হয় না।
এখন মানুষ পরিমিত পরিমানে ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে আবেগ প্রকাশের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ECM ব্যবহার করে। এটি একটি ছোট্ট মডিউল যার পুরো নাম Emotion Control Module. নিউরাল ডিজাইনিং এর সময়ই পাকাপাকি ভাবে এটি মস্তিষ্কে বসিয়ে দেয়া হয় যা নগরকেন্দ্র কেন্দ্রীয় কম্পিউটার থেকে নিয়ন্ত্রন করা হয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রায় আবেগ অনুভব করার জন্য সবাইকে একটা মিনি কন্ট্রোলার ইন্টারফেস দেয়া হয়।
.
.
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ক্রোমিয়াম অ্যালয়ে তৈরী চকচকে আরামদায়ক ডিভানে আধশোয়া হয়ে একটি বই পড়ার চেষ্টা করছিল ইরিত্রা।
প্রাগৈতিহাসিক তথ্য সংরক্ষন করার ইউনিটটি হাতে দেখে মেটাফর জানতে চাইল,” এটা কোথায় পেলে?”
-“গতমাসে নগরকেন্দ্র অডিটরিয়ামে ‘বিবর্তনের ইতিহাস প্রদর্শনী’ মেলায় পি২ রোবটদের ‘ধাঁধাঁ’ স্টলে জিতেছিলাম।”
-” এই ইউনিট গুলি এখন শুধুমাত্র ‘সিসিলি’ নগরকেন্দ্র কেন্দ্রীয় জাদুঘরে দেখতে পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে ড. নীল ক্লাসে একটা নিয়ে এসেছিলেন।”
-“হ্যাঁ, প্রাগৈতিহাসিক মানুষ এগুলিকে বই বলতো। আই কিউ টেস্টে পুরষ্কার হিসেবে বইটার সাথে এটা কিভাবে পড়তে হয় তার উপর একটা ক্রিস্টাল-ও দিয়েছিলো।”
মেটাফর নিজের ভাবলেশহীন কন্ঠে বললো,” অভিনন্দন ইরিত্রা।”
-” এখন আমি কিছু কিছু পড়তেও পারি কিন্তু তেমন কিছুই বুঝতে পারি না। তুমি কি একটু শুনবে?”
-” হ্যাঁ ইরিত্রা, অবশ্যই।”
-” এখানে ৩ জন মানুেষর কথা লেখা আছে। তারা অন্ধকার আকাশের নিচে সবুজের মাঝখান দিয়ে ঘরে ফিরছে।
__কি বলেন বিড়বিড় করে? জোরে বলেন আমরাও শুনি!
অস্পষ্ট কন্ঠস্বর –
“কিছুটাতো চাই- হোক ভুল, হোক মিথ্যে প্রবোধ,
অভিলাষী মন- চন্দ্রে না পাক, জোস্নায় পাক সামান্য ঠাঁই,
কিছুটাতো চাই, কিছুটাতো চাই।”
.
কারো কিছুটা কারো কতকিছু!
অবচেতন মনে মানুষ কত আগেই না কতকিছু জেনে ফেলে!!”
-” এই কথাগুলোর অর্থ কি মেটাফর বলতে পারো?”
-” মনোবিজ্ঞানের ইতিহাস ক্লাসে ড. নীল সেদিন আমাদের বলছিলেন আমরা আধুনিক মানুষেরা নিজেদের অনুভূতি যেমন সফলভাবে নিয়ন্ত্রন করা শিখেছি প্রাগৈতিহাসিক যুগে ব্যাপারটা এমন ছিল না। তখন মানুষের অনুভূতির প্রকাশ ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কোটিকোটি নিউরনের দ্বন্দ সংঘাত এর তাৎক্ষণিক উপস্থাপন। একে তারা স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতির প্রকাশ বলে জানতো।
এখন আমরা যেমন অবাক হওয়ার অনুভূতি প্রকাশের জন্য ECM এর মেরুন রঙের সুইচটা অন করে দেই, ভালোবাসার অনুভূতির জন্য নীল সুইচ তখন ব্যাপারটা এত সহজ ছিল না।
তখন মানুষ ভালোবাসা প্রকাশের জন্য অদ্ভুৎ কিছু কাজ করতো, অর্থহীন কিছু কথাবার্তা বলতো। এই কথাগুলোকে আমার সেকরমই মনে হচ্ছে।
ইরিত্রা তার অনুভূতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের মেরুন সুইচটি অন করে যতটুক সম্ভব বাড়িয়ে দিয়ে বললো,” কিন্তু কথাগুলো কী সুন্দর দেখেছো!”
মেটাফর তার সেই একঘেঁয়ে কন্ঠে বলে গেলো,” অর্থহীন কথাবার্তায় আমি কোন সৌন্দর্য খুঁজে পাই না ইরিত্রা আর আমাদের কখনোই ECM এর সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করা উচিৎ না।”**কবিতার লাইন ৪ টা আমার খুবই পছন্দের কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ’র কবিতা থেকে ধার করা।
7 Comments
Friends
মো: নাজমুল আখতার
@faith
Poly Alam
@butterflywords
Drako Shajib
@drako
রবিউল আলম মাজেদ
@majed1997
দেবজীৎ ঘোষ প্রীতম
@debojit
naznin shamim
@nazninshamim
দ্বীপ সরকার
@dweepsarkar
Ashik Mokami
@ashikmokami
Fatema-Kasem
@fatema-kasem


আপনার লেখা গল্পটা পড়ে অন্যরকম এক অনুভূতি হলো, সাই-ফাই এর ভেতরে আবেগের এই টানাপোড়েন বেশ চমৎকার। তবে আধুনিক যান্ত্রিকতার ভিড়ে কি সবসময় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা আসলে সম্ভব বলে আপনার মনে হয়?