-
“ছেলেরা কাঁদে না।”
এই একটি বাক্য দিয়েই আমরা অনেক ছেলে শিশুর Life Script লিখে দিই—
এটা কি কখনো ভেবেছি?হয়তো আপনার ছোট্ট ছেলেটা পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেল।
চোখে পানি চলে এলো।মা বললেন –
“কিচ্ছু হয়নি! তুমি ছেলে তো! ছেলেরা কাঁদে না।”Be Strong.
বাবা হয়তো বললেন-
“পুরুষ মানুষ হয়ে এতটুকু ব্যথায় কাঁদছ?”Be Strong.
শিশুটি হয়তো তখন চোখের পানি মুছে ফেলল।
শুধু ব্যথাটা নয়—
সেদিন সে হয়তো আরও একটি বিষয় শিখে ফেলল—“আমি ছেলে। আমাকে শক্ত হতে হবে।”
“কষ্ট পেলেও তা প্রকাশ করা যাবে না।”
“কাঁদলে আমি দুর্বল।”শিশুর কাছে বাবা-মায়ের স্বীকৃতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আবার যখন একটু বড় হলো—
খেলার মাঠে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেল। বন্ধুরা বলল-“কী রে, তুই মেয়ের মতো কাঁদছিস নাকি?”
সে আবার চোখের পানি আটকে ফেলল।
কারণ তার ভেতরে তখন একটি message বেশ শক্ত হয়ে বসে গেছে—
“Strong boys don’t cry.”
Be Strong.
আরও একটু বড় হয়ে সে যখন জীবনের প্রথম বড় কষ্ট পেল—
প্রিয় কাউকে হারাল,
প্রেমে ব্যর্থ হলো,
চাকরি হারাল,
অপমানিত হলো—তখনও হয়তো তার চোখে পানি এলো।
কিন্তু সে কাঁদল না।
কারণ ছোটবেলায় সে বারবার শিখেছিল—
কাঁদলে সে দুর্বল।
চুপ থাকলে সে ভালো ছেলে।
কষ্ট সহ্য করতে পারলে সে সাহসী।Transactional Analysis-এর ভাষায়, শিশুরা তাদের চারপাশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অসংখ্য messages, responses এবং strokes-এর মধ্য দিয়ে নিজের সম্পর্কে এবং পৃথিবী সম্পর্কে নানা সিদ্ধান্ত তৈরি করতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এগুলোর পুনরাবৃত্তি,অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত life script-এর pattern-এর অংশ হয়ে উঠে।
TA Today ও Born to Win-এ script, strokes, ego states, drivers ও injunctions—এসব ধারণার গুরুত্ব আলোচিত হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—
“Be Strong” Driver এবং “Don’t Feel” ধরনের Injunction এক জিনিস নয়। তবে শিশুকে বারবার অনুভূতি প্রকাশ না করতে বলা হলে, তার মধ্যে নিজের অনুভূতিকে চেপে রাখার একটি স্থায়ী pattern তৈরি হতে পারে।
তাই সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—
কোন আচরণ করলে আমি প্রশংসা পাব, আর কোন অনুভূতিটা লুকিয়ে রাখলে আমি ‘ভালো ছেলে’ হয়ে থাকব।এভাবেই ছোট ছোট ম্যাসেজ , নিষেধ, প্রত্যাশা আর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তৈরি হতে থাকে তার Life Script।
আজ সেই ছোট্ট ছেলেটি হয়তো বড় হয়েছে।
ব্যথা পেলে বলে—
“আমি ঠিক আছি।”মন খারাপ হলে বলে—
“কিছু হয়নি।”ভেঙে পড়লেও কাউকে জানায় না।
সম্পর্কে কষ্ট পেলেও চুপ থাকে।
অপমানিত হলেও হাসে।
ভয় পেলেও সাহসী হওয়ার অভিনয় করে।কারণ তার ভেতরে কোথাও হয়তো এখনও সেই শিশুটি বসে আছে—
যে শিখেছিল,“ছেলেরা কাঁদে না।”
কিন্তু সত্যিই কি তাই?
কান্না কি দুর্বলতার পরিচয়?
নাকি কান্না মানুষের স্বাভাবিক আবেগ প্রকাশের একটি ভাষা?একটি ছেলে শিশুকে আমরা যদি বলি—
“ব্যথা পেয়েছ? কাঁদতে ইচ্ছে করলে কাঁদো। আমি তোমার পাশে আছি।” Allower.তাহলে সে হয়তো অন্য একটি Life Script নিয়ে বড় হবে—
“আমার অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ।”
“কষ্ট হলে সাহায্য চাইতে পারি।”
“কাঁদা মানে দুর্বল হওয়া নয়।”
“আমি ছেলে বলেই আমাকে সবসময় শক্ত থাকার অভিনয় করতে হবে না।”আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের কাঁদা বন্ধ করা নয়; বরং তাদের অনুভূতিকে চিনতে, গ্রহণ করতে এবং সুস্থভাবে প্রকাশ করতে শেখানো।
কারণ আমরা কখনো জানি না—
আজ যে শিশুকে বলছি “কাঁদবে না”,
আগামী দিনের সেই বড় মানুষটি হয়তো কতটা কষ্ট বুকের ভেতর জমিয়ে বয়ে বেড়াবে।একটু ভাবুন তো—
আপনার ছোটবেলায়ও কি এমন কোনো কথা বারবার বলা হতো—যা আজও অজান্তে আপনার আচরণ, সম্পর্ক কিংবা অনুভূতি প্রকাশকে প্রভাবিত করে?
আপনার উত্তরটি হয়তো শুধু আপনার নিজের গল্পটাকেই বুঝতে সাহায্য করবে না—
অন্য একজন মানুষকেও তার নিজের গল্পটা বুঝতে সাহায্য করবে।7 Comments-
-
আপনার এই চমৎকার লেখাটি আমাদের সমাজের প্রচলিত কিছু ধ্যানধারণাকে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে, যা সত্যিই অত্যন্ত সময়োপযোগী ও হৃদয়স্পর্শী। আবেগের সঠিক বহিঃপ্রকাশের ওপর আপনার এই সুন্দর ভাবনাগুলো অন্যদেরও নিজেদের শৈশব নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।
-
Friends
নাঈম অরণ্য
@aronnonaim
Hafizur Rahman shakil
@shakilahamed72gmail-com
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed



রাহেনা বেগম, আপনার লেখাটা পড়ে একদম হাড়ের ভেতর পর্যন্ত কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। ছোটবেলায় আমাদের চারপাশ থেকে ছেলেরা কাঁদে না বা শক্ত হতে হয়—এই শিক্ষাগুলো যে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে তা আপনি দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। আপনার লেখাটি পড়ার পর আপনার ছোটবেলার এমন কোনো কথা কি এখনও অবচেতন মনে বারবার ফিরে আসে?