-
* ছেলেটির নাম অর্ণব
সে একাকীত্বের মাঝে জীবন কাটাচ্ছে , দিনের পর দিন।
ঘর থেকে বাহিরে যায় না
বন্ধুদের সাথে বিকেলে বাইকে চড়ে আর
ঘুরতে যায় না।
অথচ,
সে’ও একদিন সবার মত হাসি আর
খুশিতে মেতে থাকতো।
অর্ণব ঘরের এক কোণে বসে সারাদিন
কবিতা আর গল্প লিখে,
তার যত ভাবনা আছে,
মনের যত কথা জমা আছে,
সে তা আর ও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলে
কলমের কালিতে।
হঠাৎ একদিন,
অর্রণবে চোখ পড়লো একটি ডাইরির উপরে
ধুঁলো জমে জমে ডাইরিটা নোংরা হয়ে গেছে
অর্ণব ডাইরিটা হাত দিয়ে ওঠিয়ে ফুঁ
দিয়ে ধুঁলো সরাতে লাগলো।
তারপর,
একটি রোমাল দিয়ে ডাইরিটা পরিষ্কার
করে তার প্রথম পাতাটা খুঁলল।
আর সেখানে রঙিন কালিতে লেখা আছে
তোমার পূর্ণীমা।
অর্ণব লেখাটার উপর হাত বুলালো,
আর একটা দীর্ঘশ্বাঃস ছাড়লো,
পরোক্ষণে অর্ণবে চোখ দুটি জলে ভরে গেলো।
অর্ণব যখন ডাইরির দ্বিতীয় পাতাটা মেলালো
তখন দেখতে পেলো,
স্পর্ট হাতের লেখা আছে
ভালোবাসি, ভালোবাসি শুধু তোমাকে।
তখন অর্ণব বুক ফুপিয়ে কেঁদে কেঁদে
বললো
ওরে বেঈমান,
এই তর ভালবাসা ছিলো !
তুই ত দিব্যি ঘর সংসার করতেছিস
এখন,
আর আমি আছি,
চারদেয়ালের মাঝে বন্দী।
কি ছিলো না আমার
তর প্রতি বুক ভরা ভালোবাসা
ছিলো,
প্রতিদিন পাগল হয়ে থাকতাম তর সাথে
একটিবার কথা বলার জন্য।
মাঝে মাঝে লং ড্রাইভে ও যেতাম
তুই আর আমি দু’জন মিলে
হাতে হাত রেখে পথ চলতাম
কাশবনে দু’জন লুকোচুরি খেলতাম,
তারপর,
তরে নিয়ে শপিং করতে যেতাম,
দু”জনে মিলে ফুসকা খেতাম,
আর ও কত কি ?
হায় আফসোস এখন তা শুধু অতীত
শুধু ছিল না আমার ভালো একটা জব
তাই তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি ?
এটা আজও মানতে পারি না বলে আমি৷
আজও ঘরবন্দী নীড়হারা পাখি।
এখন বুঝি তর ভালোবাসা ছিল নাটক,
আর আমি ছিলাম একটা বোকা ছেলে
এখনও আছি বোকা হয়ে ,
তাইতো,
নিজেকে করে রেখেছি গৃহবন্দী।
তবে আমি বোকা হলেও এটা আমার প্রেমের সৌন্দর্যতা, এটাই আমার প্রেমের
দৃষ্টান্ত!
আর এর নামই কি তবে ভালোবাসা ?
তারপর,
অর্ণব ডাইরিটা ছুড়ে পেলে দিলো
ময়লার স্তুপে।
আর,
ঠিক, এভাবেই হারিয়ে যাই
অর্ণবের মতো হাজারো প্রেমিকদের
যত্ন করে গড়ে তোলা
ভালোবাসার সেই সম্রাজ্ঞ।
>>8 Comments-
-
মুহাম্মদ জে.এইচ রপ্পি, আপনার লেখাটিতে অর্ণবের একাকীত্ব ও হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির যে করুণ চিত্রটি ফুটে উঠেছে তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী, আর এমন আবেগময় মুহূর্তগুলো পড়ার সময় প্রিয়জন হারানোর বিষাদ বা কোনো পুরনো স্মৃতির সাথে মিলে গিয়ে মনের মাঝে এক অন্যরকম গভীর অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তাই আপনার লেখার এই সাবলীল প্রকাশভঙ্গি বজায় রেখে সামনে আরও এমন হৃদয় ছোঁয়া কিছু লিখতে পারেন বলে আমি মনে করি।
-
-
কবি মুহাম্মদ জে.এইচ (রপ্পি) কিশোরগঞ্জ জেলায় সদর থানার বৃন্দাগড় গ্রামে ১৯৯২ সালে নানার বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। বর্তমানে পাকুন্দীয়া থানার হোসেন্দী গ্রামে পৈত্রিক নিবাসে দিন যাপন করছেন। এস. এস. সি ২০১১ তে পাশ করার পর, ২০১৫ সালে কৃষিতে ডিপ্লামা সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে নিজ ব্যবসায়িক কাজে নিয়োজিত আছেন।
কবির প্রথম একক কাব্যগন্থ ভালোবাসার নীলপদ্ম
২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়,
২০২৩, ২০২৪ সালে ঢাকায়
আর্ন্তজাতিক কবি সম্মেলন পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে,
নানা ম্যাগজিনে ও কবির কবিতা প্রকাশিত হয়েছে
অনলাইনে কবি উদাসী ও রেনেসাঁস কবি হিসেবে
পরিচিতি পেয়েছে।
Friends
Foyzur Khan
@foyzur-khan
Md Ramjan Ali
@mdramjanali
TOUHIDUL ISLAM
@touhidulislam
অথই মিষ্টি
@atiymistyn48
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
সৃষ্টির বিস্ময়
@1ff4f40742b37a84604c6bb76fb8ef34
মিহির চৌধুরী ইমন
@mihirchowdhuryemon
Shohel Nawaz
@shohel-nawaz
শোয়েব ইবনে শাহীন
@abir-shoaib



মুহাম্মদ জে.এইচ রপ্পি, অর্ণবের একাকীত্বের গল্পটা পড়ে একদম বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো। ভালোবাসার এই তিক্ত সত্যিগুলো মেনে নেওয়া কি আসলেই খুব কঠিন?