Profile Photo

তিতা ফুলOffline

  • nadia1
  • Profile picture of তিতা ফুল

    তিতা ফুল

    • 6 days, 5 hours ago

    এত বছরের সংসার ফেলে চলে যেতে হয় সেদিন খাদিজা বেগমকে। চোখ ভরে কান্না আসে তার। মা কে হারিয়ে শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই তার শেষ স্মৃতিটুকুও হারিয়ে ফেলেন যে! ইন্তিহা মেয়েটার জন্য খারাপ লাগছে খুব। রাবেয়া তো আগে থেকেই দেখতে পারতো না তাকে। আবরারও তো থাকে না সবসময় বাড়িতে। নিশ্চয়ই কথা শুনায় খুব।

    কেটে গেছে বেশ কিছু দিন। রাবেয়া ভাবীর চলে যাওয়া যেন এখনো মেনে নিতে পারে না ইন্তিহা। পুরো বাড়িতে নিজেকে ভীষণ একা একা লাগে। আবরার থাকে না সারাদিন।আগে মা, মেঝো ভাবীর কাছেই পড়ে থাকতো সারাক্ষন। এখন তো তারাও কেউ নেই। বড় ভাবীর মুখের দিকে তাকানো যায় না। কথায় কথায় আকারে ইঙ্গিতে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলে।

    তবে বললেই কি আর হয়ে যায় সব? ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া করে থাকা, সংসার খরচ চালানো কঠিন ব্যাপার। আবরারের বেতনও তো বেশি না খুব। সেও কিছু বলছে না এই বিষয়ে। থম ধরে আছে যেন সবকিছু।

    মাগরিবের পরপর আসে আবরার। অফিস ছুটি সেই বিকেলে হলেও ইদানিং দেরী করেই ফেরে সে। ইন্তিহা জিজ্ঞেস করলে ‘কাজ ছিল’ বলে এড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতো ঘাটায় না মেয়েটা। হতেই পারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল।

    আবরারের মুখটা আজ প্রতিদিনের তুলনায় একটু বেশিই গম্ভীর। কথা বাড়ায় না সে খুব বেশি। সন্ধ্যার নাস্তা করে ল্যাপটপ নিয়ে বসে সবসময়ের মতো। ইন্তিহা হাতের কাজটুকু সেরে এসে পাশে বসে লোকটার। কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। হালকা গলা পরিষ্কার করে প্রথমে সে’ই কথা শুরু করে।

    “ খুব ব্যস্ত নাকি?”

    “ না, বলো।”

    কিছুক্ষন চুপ করে তাকিয়ে থাকে ছেলেটার মুখের দিকে। এতে যেন তার ভাবান্তর হলো না বিশেষ। বরং নিজের মতো করেই কাজ করে যায় সে। মনকে থামিয়ে রাখতে না পেরে পুনরায় প্রশ্ন করে বসে মেয়েটা।

    “ আজকাল কি কাজের খুব চাপ যাচ্ছে?”

    “ কেন এমন মনে হচ্ছে তোমার?”

    কী বোর্ডে হাত চালাতে চালাতেই উত্তর দেয় আবরার।

    “ কথা বলেন না তেমন। আগের মতো সময় দেন না আমায়!”

    তড়াক করে স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সরাসরি ওর দিকে তাকায় ছেলেটা। অবাকতা ছড়িয়ে পড়ে চোখেমুখে তার।

    “ সময় চাও আমার কাছে? কেমন সময় চাও? “

    “ কেমন সময় মানে? সময়ের আবার ধরন হয় নাকি, আশ্চর্য!”

    কোল থেকে ল্যাপটপ টা সরিয়ে রাখে সে। ইন্তিহার হাত দুখানা টেনে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয়।

    “ হয় তো। এই ধরো, কোয়ালিটি টাইম, ওয়ার্কিং টাইম, আরও কতো কি! তোমার কোনটা চাই?”

    বিরক্ত হয় ইন্তিহা। কথা না প্যাঁচালে ভালো লাগে না বুঝি লোকটার।

    “ আপনার কি সবকিছুতেই মজা করতে হবে? বাসার কি অবস্থা দেখেছেন? আর ভাবী তো…”

    কথার মাঝে থেমে যায় সে হুট করে। এমন কিছু বলা কি ঠিক হচ্ছে? লোকটাও তো দুশ্চিন্তায় থাকে এসব নিয়ে। ইন্তিহার নত মুখ হালকা হাতে উপরে তুলে ছেলেটা।

    “ কি বলতে নিচ্ছিলে বলো? ভাবী কিছু বলেছে তোমায়?”

    “ তেমন কিছু না, বাদ দিন।”

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবরার। ইন্তিহা নিজের হাত সরিয়ে নিতে চাইলেও সরাতে দেয় না সে।

    “ ভাবী খোটা দেয় তোমায়? বাড়ি ছেড়ে দিতে বলে?”

    চুপ করে থাকে মেয়েটা। জবাব দেয় না কথার।

    “ এই কয়দিন যে আমি দেরী করে বাসায় ফিরি, তার কারন জানতে চাইবে না?”

    ফট করে চোখ তুলে ইন্তিহা। কৌতূহল ফুটে উঠেছে চোখে-মুখে তার। হাসে আবরার। শূন্য বিষণ্ণ সে হাসি।

    “ সবকিছু গুছিয়ে নাও। আগামী পরশুদিন আমরা ভাড়া বাসায় উঠবো!”

    চোখ বড় হয়ে যায় মেয়েটার। তাই বলে হুট করে এমন কিছু আশাই করে নি সে। ও তো ভেবেছিল, যত কিছুই হোক, বড় ভাইয়ের সাথেই থাকবে আবরার। অবশ্য ওর এমন ভাবনারও কারন আছে। এই পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে, একবারও ভাইয়ের সাথে সামান্য বাক-বিতণ্ডায়ও জড়ায় নি সে। কথা বলেছে একদম স্বাভাবিক স্বরে। যেন কিছুই হয়নি, এমন।

    “ হুট করে এমন সিদ্ধান্ত, আর কবে কবে করে ফেললেন এতো কিছু? আমাকে জানালেনও না কিছু!”

    “ আজ তো জানিয়েছি? আর ভাবী যে তোমাকে কথা শুনায়, সেটা আমি জানি না ভেবেছো? কেউ আমার স্ত্রী কে অপমান করে কথা বলবে, কথায় কথায় খোটা দিবে, আর আমি কিনা সেখানেই পড়ে থাকবো? এতোটা কাপুরুষ তো নই আমি!”

    ইন্তিহা কথা বলতে পারে না। এতোদিন ও কিসব ভেবেছিল লোকটার ব্যাপারে। আর আজ কিনা…
    “ বাসা ভাড়াটা জানোই তো একটু বেশি এদিকে। আর আমার বেতনটাও তেমন বেশি না। এতদিন তো বাসা ভাড়া লাগে নি, তাই সমস্যা হচ্ছিলো না তেমন। মানিয়ে নিতে পারবে তো? অসুবিধা হবে না তো তোমার?”

    “ অসুবিধা কিসের? আপনার যা সামর্থ্য আছে, সেভাবেই থাকবো আমি। এ আবার জিজ্ঞেস করার কি আছে?”

    ওর কথার জবাব দেয় না আবরার। যদিও এটা জবাব দেয়ার মতো প্রশ্ন না। তবে ওর মুখ দেখে যা বোঝার বুঝে যায় মেয়েটা। হাত রাখে লোকটার কাঁধে।

    “ আপনি এতো দুশ্চিন্তা করছেন কেন? আপনি জানেন না? আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই হবে। আপনি চিন্তা করবেন না অতো।”

    “ সেদিন একটা জবের ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম মনে আছে?”

    “ হ্যাঁ, কি হয়েছে সেটার?.

    “ হয়নি। আজকে জানিয়েছিল।”

    “ তো? এই জন্য এতো চিন্তা করতে হয়? আল্লাহ নিশ্চয়ই আরও ভালো কিছু রেখে দিয়েছেন আপনার জন্য, তাই দেরী করাচ্ছেন। ভরসা রাখুন না।”

    কিছু বলে না আবরার। প্রেয়সীর মুখপানে চেয়ে থকে শুধু। ফের কথা বলে ইন্তিহ’ই।

    “ আপনি এতো মন খারাপ করে রাখেন কেন? আপনার মন খারাপ থাকলে ভালো লাগে না আমার।”

    কথা বলতে বলতেই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে মেয়েটার। কান্না আসার পূর্বাভাস। হেসে ফেলে আবরার। এমন কেন বউটা তার? কথায় কথায় কান্না চলে আসে।

    “ তুমি এমন ছিঁচকাঁদুনে কেন বলোতো? কথায় কথায় কাঁদতে হয়?”

    “ আমি ছিঁচকাঁদুনে?”

    জোর করে রাগার অভিনয় করে ইন্তিহা। সে নিজেও জানে, আবরারের আস্কারায় আজকাল ভেতরে থাকা বাচ্চা স্বভাবটা বাঁধ মানতে চায় না। ভীষণ দাপটে দস্যি হয়ে যায়। ইন্তিহা চাইলেও বেঁধে রাখতে পারে না স্বভাবটাকে। তবুও প্রিয় পুরুষের সম্মুখে এক আধটুখানি আদুরে ছানা না হলে কি চলে?

    “ না, তুমি ছিঁচকাঁদুনে হবে কেন, আমি কি তোমাকে বলেছি নাকি? আমি তো বলেছি আমার বাচ্চা বউটাকে।”

    “ আমি বাচ্চা?”

    “ আরে আমি তোমাকে কখন বললাম, আশ্চর্য! আমি তো আমার বউকে…”

    “ তো আপনার বউ কি পাশের বাসার দাড়িওয়ালা নারগিস খালা?”

    ওর কথার মানে বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে ছেলেটার। বুঝতে পেরেই ঘরময় হো হো করে হেসে উঠে সে। ইন্তিহা বরাবরের মতো আজও চেয়ে থাকে মুগ্ধ চাহনিতে তা। এই পুরুষটি এতো সুন্দর করে হাসে কেন? তার হাসিতে কি জাদু আছে কোনো? নইলে যে ইন্তিহা বারবার ঘায়েল হয়ে যায় এমন হাসিতে!
    –
    –
    –

    আজ শুক্রবার। আবরার ইন্তিহা ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিয়েছে সব। সকাল সকালই বেরুতে হবে। সেখানে গিয়ে সব ঠিকঠাক করতেও তো সময় লাগবে নাকি? ওদের বাড়ি ছাড়ার খবর এখনো জানানো হয়নি কাউকে। জাওয়ার সময় একেবারে বলে নিলেই হয়।

    “ চাচ্চু, ছোটআম্মু! কই যাও তোমরা?”

    ভাতিজার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কোলে তুলে নেয় আবরার। ড্রয়িংরুমে ওদের আলাপ পেয়ে আফজাল সাহেব বেরিয়ে আসেন রুম থেকে।এই সকাল সকাল ওদেরকে বেরুতে দেখে অবাকই হন তিনি।

    “ কোথায় যাচ্ছিস তোরা? জানালি না যে কিছু?”

    এই প্রথমবার বড় ভাইয়ের দিকে শক্ত চোখে তাকায় আবরার। কোন ভণিতা না করেই জবাব দেয় অবাঞ্ছিত প্রশ্নটির।

    “ প্রয়োজন বোধ করিনি।”

    -তোমার আকাশ আমার মেঘ
    -পর্ব-১৮
    -তিতা ফুল

    3
    4 Comments
    • ভালোবাসার সাহসে ইন্তিহা ও আবরার কঠিন সংসার ছেড়ে নতুন আশ্রয়ের স্বপ্ন বুনল…🖤

    • গল্পের আবরার আর ইন্তিহার এই মিষ্টি মুহূর্তগুলো পড়ে খুব ভালো লাগল, বেশ সুন্দর করে পরিস্থিতিটা ফুটিয়ে তুলেছেন আপনি। গ্রুপের বাকি সদস্যদের লেখায়ও নিয়মিত লাইক ও কমেন্ট করে সক্রিয় থাকুন, তাতে সবার উৎসাহ বাড়বে।

    • তিতা ফুল, সম্পর্কের টানাপোড়েন আর শেষমেশ প্রিয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিক ছবি আপনি এঁকেছেন, তা সত্যিই হৃদয়ে দাগ কাটার মতো। সংসারের অন্দরমহলের ছোটখাটো তিক্ততা পেরিয়ে আত্মসম্মান নিয়ে নতুন করে পথ চলার এই সাহসী সিদ্ধান্ত এবং আপনাদের কথোপকথনের সহজ-সরল ভঙ্গিটি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। দারুণ লিখেছেন, সামনের দিনগুলোতে এভাবেই জীবনের গল্পগুলো শব্দের জাদুতে ফুটিয়ে তুলুন!

    • সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন ।

Friends

Profile Photo
Md.Mohsin Ali
@fivertrading007gmail-com
Profile Photo
Redowan Hussain
@redowanhussain
Profile Photo
নৈশান
@noishan
Profile Photo
Hashem Molla
@hashemmolla
Profile Photo
Kazi Mahabubur Rahman
@kazimahabuburrahman
Profile Photo
mithila jannat
@mithilajannat
Profile Photo
Sk Sagor
@sksagor
Profile Photo
Md. Ashraful Alam
@md-ashrafulalam
Profile Photo
Fazilatun Nesa
@fazilatun-nesa
Skip to toolbar