Profile Photo

naznin shamimOffline

  • nazninshamim
  • Profile picture of naznin shamim

    naznin shamim

    • 2 weeks, 3 days ago

    শেষ বিকেলের নীল শাড়ী”
    নাজনীন শামীম
    চট্টগ্রাম থেকে
    ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং

    তিন বছর পর মেঘলা আকাশটার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বুকে একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব করলাম। বৃষ্টিটা একটু পরেই নামবে। ঠিক যেমনটা নেমেছিল সেদিনের সেই শেষ বিকেলে, যখন তুলি আমার জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে গেল।
    ​আমাদের ভালোবাসার গল্পটা কোনো রূপকথার চেয়ে কম ছিল না। চার বছরের সংসার, ছোট্ট একটা ভাড়া বাসা, আর সামান্য আয়ের মধ্যেও উপচে পড়া সুখ। তুলির হাসিটাই ছিল আমার সারা দিনের ক্লান্তি মেটানোর একমাত্র ওষুধ। ও বলত, “তুমি যদি কখনো আমাকে ছেড়ে যাও, আমি কিন্তু বাঁচব না।” আমি হেসে ওর কপালে চুমু খেয়ে বলতাম, “পাগলি, মরণের সাধ্য নেই আমাদের আলাদা করার।”
    ​কিন্তু মরণ তো আর বলে-কয়ে আসে না।
    ​সেদিন ছিল তুলির জন্মদিন। আমি ওর জন্য একটা সাধারণ নীল শাড়ি কিনেছিলাম, যা ও অনেক দিন ধরে চেয়েছিল। অফিস থেকে একটু জলদি বের হয়ে বাড়ি ফিরছিলাম, মনে কত শত স্বপ্ন। দরজায় নক করতেই তুলির ওপার থেকে কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না। ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই আমার হাতের শাড়ির প্যাকেটটা ছিটকে মেঝতে পড়ে গেল।
    ​তুলি মেঝেতে পড়ে আছে, নিথর। পাশে রক্তের দাগ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার যখন আইসিইউ থেকে বের হয়ে এসে মাথা নিচু করে বললেন, “আই অ্যাম সরি, ব্রেন হেমারেজ হয়েছিল… আমরা বাঁচাতে পারলাম না,” তখন আমার চারপাশের সব শব্দ যেন এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে গেল।
    ​মৃত্যু যে কতটা নিষ্ঠুর, তা আমি সেদিন বুঝেছিলাম। ও আমাকে ছেড়ে চলেও গেল, অথচ আমাকে সাথে নিয়েও গেল না। বেঁচে থাকার এই শাস্তিটা যে মৃত্যুর চেয়েও কত কঠিন, তা প্রতিদিন, প্রতিটা মুহূর্তে আমি হাড়ভাঙা যন্ত্রণায় টের পাই।
    ​কাল রাতে ওর এক পুরোনো ডায়েরির ভাঁজে একটা চিঠি পেলাম। চিঠিটা মৃত্যুর কিছুদিন আগে ও আমার জন্য লিখে রেখেছিল। ধুলো জমা সে চিঠির পাতায় লেখা ছিল—
    “শোনো, যদি কোনো দিন আমি হঠাৎ হারিয়ে যাই, মন খারাপ কোরো না। জানি তোমার চোখের জল মুছিয়ে দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না, তাও লক্ষ্মীটি, কাঁদে না। আমি না হয় তোমার মেঘ হয়ে ওপর থেকে ঝরে পড়ব, তুমি শুধু বৃষ্টিতে ভিজে আমার ছোঁয়াটুকু বুঝে নিও।”
    ​চিঠিটা পড়ার পর থেকে আমি আর কান্না আটকাতে পারিনি। আজ বাইরে ঝুম বৃষ্টি নামছে। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছি। পানির ফোঁটা নাকি চোখের জল—কোনটা দিয়ে গাল ভেসে যাচ্ছে, তা আজ আর আলাদা করতে পারছি না।
    ​তুলি, তুমি তো বৃষ্টি হয়ে ফিরে এলে, কিন্তু আমার এই শূন্য বুকটা যে আজীবন খাঁ খাঁ মরুভূমিই
    রয়ে যায়।

    3
    7 Comments
    • নীল শাড়ির ভাঁজে হারানো ভালোবাসা আজ বৃষ্টির ফোঁটায় ফিরে এলেও শূন্য হৃদয় রয়ে গেল অনন্ত মরুভূমি…🖤

      • সু- প্রিয় বন্ধু আমার!! এখন কিন্তু মরুভূমিতে ও বৃষ্টি হয়,😀😀😀

      • ভালোবাসা আজ বৃষ্টির…🖤।।ধন্যবাদ মঞ্ছবন্ধু আমার।
        কি খবর আপনার লেখা লেখি কেমন চলছে?

    • নাজনীন শামীম, আপনার এই লেখাটা পড়ে বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত মায়ায় মোচড় দিয়ে উঠল। সত্যিই বৃষ্টির দিনে প্রিয় মানুষের স্মৃতিগুলো এভাবে ফিরে আসা বড় কষ্টের, খুব সুন্দর লিখেছেন আপনি।

    • বৃষ্টি হয়ে ফিরে আসাটা মনে গভীর দাগ কাটলো ।

    • আপনার লেখনীতে মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির যে বিষণ্ণ সুর ফুটে উঠেছে, তা পাঠকের হৃদয়ে গভীর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে যায়। প্রিয়জনের হারানো স্মৃতি আর চিঠির সেই শেষ কথাগুলো দারুণ আবেগঘন, আপনি অবশ্যই নিয়মিত এভাবে মনের গভীরের কথাগুলো লিখে যাবেন।

Friends

Skip to toolbar