-
নীল কালির আঁচড়
নাজনীন শামীম
চট্টগ্রাম থেকে
১০ই অক্টোবর ২০২৬ইংগ্রামের বাড়িটা যখনই ছাড়ি, একটা ভারী দীর্ঘশ্বাস বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে। পুরনো ঘড়ির টিকটিক শব্দ, জানালার গরাদে জমে থাকা বিকেলের আলো আর আম্মার গন্ধমাখা মাটির ঘ্রাণ—সবকিছু যেন বারবার পেছনের দিকে টানে।
আজ অনেক বছর পর সেই ভাঙা দেউড়ি পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। উঠোনের এককোণে সেই পুরোনো কৃষ্ণচূড়া গাছটা আজও দাঁড়িয়ে আছে, তবে আগের মতো ফুল এখন আর তেমন ফোটে না। বয়স হয়েছে তারও। মেঝের যে ফাটল দিয়ে একসময় ঘাস গজিয়ে উঠত, সেখানে এখন সিমেন্টের প্রলেপ। কিন্তু স্মৃতির কংক্রিট কি আর মোছা যায়?
হাঁটতে হাঁটতে সোজা চলে গেলাম আমার সেই ছোট্ট ঘরটায়। আলমারির সবচেয়ে ওপরের তাকে ধুলো জমে থাকা একটা কাঠের বাক্স। ভেতরে হাত দিতেই আঙুলের ডগায় ছোঁয়া লাগল একরাশ অবিন্যস্ত স্মৃতির। খয়েরি রঙের একটা ডায়রি আর জং ধরা একটা কলম। পাতা উল্টাতেই বেরিয়ে এল নীল কালিতে লেখা কিছু এলোমেলো লাইন আর একটা শুকনো রজনীগন্ধা ফুল।
ফুলটা দেখলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রিমঝিম বৃষ্টির সেই বিকেলটা। তখন আমাদের জীবনটা কত সহজ ছিল! মুঠোফোনের নীল আলোর মোহময় দুনিয়া তখন আমাদের গ্রাস করেনি। বিকেলবেলা সাইকেলের হ্যান্ডেলে হাত রেখে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা, রিমঝিমের জানালার আড়াল থেকে এক পলক দেখার জন্য অপেক্ষা করা—সে এক অন্য রোমাঞ্চ।
রিমঝিম সেদিন একটা চিঠি দিয়েছিল হাতে গুঁজে। খামের ওপর কোনো নাম ছিল না, শুধু একটা ছোট্ট প্রশ্ন— “কাল কি বিকেলের ট্রেনে চলে যাচ্ছো?”
আমার আর যাওয়া হয়নি সেদিন। কিন্তু জীবনের তাগিদে, জীবিকার টানে ঠিকই একদিন ঘর ছাড়তে হয়েছিল। সময়ের স্রোতে রিমঝিম হারিয়ে গেছে তার নিজের ঠিকানায়, আর আমি হারিয়ে গেছি ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহরে। মাঝেমধ্যে ফেসবুকে তার রিলস বা ছবিতে একটা লাইক দেওয়া হয়, কিন্তু সেই চোখাচোখি আর হৃদয়ের স্পন্দন কি আর প্রযুক্তির স্ক্রিনে পাওয়া যায়?
ডায়রির শেষ পাতায় চোখ আটকে গেল। সেখানে বড় বড় করে লেখা— “সময় ফুরায়, কিন্তু কিছু মানুষ মনের ডায়েরিতে চিরকালের মতো রয়ে যায়।”
চোখের কোণটা হঠাৎ কেমন যেন ভিজে উঠল। বাইরে তখন বিকেলের নরম রোদ এসে পড়েছে কৃষ্ণচূড়ার ডালে। মনে হলো, রিমঝিম যেন পাশের ঘর থেকেই ডাকছে, “এই শুনছো? কফিটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!”
আমি শূন্যতায় হাত বাড়ালাম, কিন্তু মুঠোয় ধরা রইল কেবল সময়ের ধুলো আর এক বুক নস্টালজিয়া। কিছু গল্প শেষ হয়েও ফুরোয় না, তারা শুধু মনের গভীরে জীবন্ত হয়ে বেঁচে থাকে।3 Comments-
আপনার লেখাটি পড়ে স্মৃতির সেই নস্টালজিক মায়াবী জগৎ যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল, বিশেষ করে সেই শুকনো রজনীগন্ধা ফুলের বর্ণনাটি হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। শৈশবের সেই সহজ দিনগুলোর সাথে যান্ত্রিক জীবনের বৈপরীত্য আপনি অত্যন্ত আবেগঘনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এমন চমৎকার অনুভূতির প্রকাশ আমাদের আরও উপহার দেবেন, এই প্রত্যাশায় আপনার পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম।
Friends
মোঃ বায়েজীদ
@bayejid
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
Shojan Maria Shoche
@shojanmaria
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
Santo Mon
@santomon
Ariba Mehzabin Yeana
@aribamehzabin
Md. Jahangir Alam
@md-jahangiralam
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia
shimul gupta
@shimulgupta


দারুন