-
আমি কিন্তু সামাজিক বিজ্ঞান লিখতে বসিনি। উন্নত শ্রমিকশ্রেণীর কথা বলতে বসেছি। যে দেশে না আছে কোন পলিটিক্যাল আদর্শ না আছে ধোঁয়াশা হীন স্বাধীনতার ইতিহাস। স্বাধীনতার ইতিহাস একেক রাজনৈতিক দল এক এক রকম ভাবে তুলে ধরেছে। ইতিহাসে আজকের যে আদর্শ পরশু সে কালপ্রিট হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপারগুলো খুব কনফিউজ জড়ানো তাই না? হয়তো হবে। এখন তো ক্ষমতার হরিণ চাই বলে ভাই তার নিজের ভাইকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। যে বাঙালির ভ্রাতৃত্ব সর্বপ্রথম ছিল, যে বাঙালির আত্মিক মায়া ছিল দৈবিক শক্তি ন্যায় তারা যেনো প্রায় বিলুপ্ত। মনে হচ্ছে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীগুলোর মতই, এসব রাজনীতি , কূটনীতি তাদের প্রতিনিয়ত শিকার করছে। ক্ষমতা যেনো সেবার বাহক নয় এখন ,উল্টো শোষকের হাতিয়ার। এইযে এত অর্ধমর্ণ সেবক তাদের বেড়ে উঠার কারণটা কি? এই ক্ষেত্রে অনেকের অনেক কনসেপ্ট আসবে। তবে সবার ওপরে যাহ আসবে তা হল সমাজের গাফিলতি। তবে একটু ভাবুন শুধু কি সমাজ দায়ী? নাকি শিক্ষারও একটা প্রভাব আছে?
প্রথমে আসা যাক আমাদের মৌলিক চাহিদা গুলোর দিকে। আমাদের মোট পাঁচটি মৌলিক চাহিদা। তবে আরো একটা বিষয় আছে যেটার ব্যাপারে আমরা খুব কম অবগত তা হলো মৌলিক অধিকার। এখন হয়তো মনে হবেই দুটো একই জিনিস কিন্তু আসলে সেটা না। মৌলিক চাহিদা: সাধারণত মৌলিক চাহিদা হচ্ছে এমন কিছু বিষয় যা জীবনধারণের জন্য মানুষের অবশ্যই প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ তে মৌলিক চাহিদা সম্পর্কে বলা হয়েছে। মৌলিক চাহিদা সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদন। এছাড়াও কর্মের অধিকার, বিশ্রাম লাভের অধিকার, বৃদ্ধ শিশু বিধবাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি।
মৌলিক অধিকার: প্রথমেই বুঝতে হবে অধিকার আর চাহিদা এক জিনিস নয়। বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিয়ে বলা আছে। সংবিধানের এই অধ্যায়ের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোন আইন করা যাবে না। আর তা যদি করা হয়, তাহলে তা বাতিল হবে। সবগুলো অধিকার নিয়ে আমি বলবো না তবে একটা পয়েন্ট নিয়েই আলোচনা করতে চাই। সেটি হল ” বৈষম্য করা যাবে না এবং সমান সুযোগ”।
এখন যদি আমি মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে থেকে শিক্ষাকে বের করে আমি আর এদিক থেকে বৈষম্য করা যাবে না এবং সমান সুযোগ এই পয়েন্টটা কে যোগ করি তাহলে কি হবে? তাহলে প্রথমে আসবে দেশের ভঙ্গ শিক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথায় আসা যাক মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই বলা যায়। যখন ঢাকা চট্টগ্রাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ অধিভুক্ত কলেজের তদারকি করতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ ছিল। সেই চাপ কমাতে অধিভুক্ত কলেজগুলোর মানোন্নয়ন লক্ষ্যে ১৯৯২ সালের একুশে অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা কি চাপ কমাতে পেরেছি কিনা এই নিয়ে স্বাভাবিক একটা সন্দেহ থেকেই যায়। তবে এমনটা হবার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য এসেছে। আর যদি মান উন্নয়ন হয়েই থাকে তাহলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর সনদপত্র এতো ছোটো করে মাপা হয় কেন? উপরন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে এতো তফাৎ কেন? যেখানে সংবিধানে লিখা আছে শিক্ষা সবার জন্য সমান। তাহলে এখানে সমতা কোথাই? বিবিএ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক রকম সিলেবাসে পড়ান হয় আবার পাবলিকে আলাদা। তাহলে মিল কোথাই হইলো? মান উন্নয়ন কোথাই? অধিকাংশ দিকেই অমিল দেখা যাচ্ছে। তবে আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হেয় করছি না। তবে দেশের সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের মোট ৫৮ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত কলেজ সংখ্যা ৮৫৭ টি , যেখানে স্নাতক পড়ানো হয়। আর ১৪৫ টি কলেজে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়। ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার দিক থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। যার ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা চার লক্ষ বিশ হাজারের অধিক। দিনকে দিন সে সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাহলে এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ দেশে পর্যাপ্ত বেকার উপস্থিত।তখন আপনি এই সিংহভাগ ছাত্র ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলবেন? তারা আসলে দেশের জন্য কি সম্পদ নাকি বোঝা অথবা তাদের তৈরি করবার দায়িত্ব কাদের ছিল? যেখানে বিগত বিশ বছরে বাংলাদেশের বেকারত্বের হার বেড়েছে ৫.৪ শতাংশ। ২০১০ সালে যার হার ছিল ৪.৫ শতাংশ। মূলত এই বিশাল ছাত্র গোষ্ঠী হল বাংলাদেশের উন্নত শ্রমিক। আমরা কি শ্রমিকের সংজ্ঞা কি জানি? “যে ব্যক্তি তার যোগ্যতা ও কাজের উপযোগী হয়ে কোন অর্থ উর্পাযনের কাজে নিয়োজিত থাকেন তাকে শ্রমিক বলা হয়। শ্রমিক মূলত তার শ্রম বিক্রয় করেন তার জন্য এক পক্ষেকে তার উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়।” কতোজন তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেয়েছে? বাংলাদেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ছাত্রী উঠে আসে। তবে এখানেও সফলতার গল্প আছে একেবারেই যে নেই তা আমি বলছি না। চেষ্টা ও শ্রম যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায় তাহলে সম্ভব। কিন্তু এসব সফলতার পরিসংখ্যানিক হার খুবই কম। এদিকে আবার সমাজের একটা চাপ এসব ছাত্রছাত্রীকে সবসময় তাড়া করে। কারণ পূর্ব শিক্ষিত মানুষগুলো মান উন্নত শিক্ষা পায় নাই।
দেশের এই সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রীর যদি উন্নত মানের শিক্ষা প্রদান করা হতো তাহলে দেশে এত বেকারত্ব ও বৈষম্য থাকতো না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা সুস্থ সমাজ পাওয়া যেত। মূলত যে-দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এত বৈষম্য ও অনিহা সেখানে সবার অধিকার রক্ষা করা বড়ই কঠিন। শিকড় থেকে উন্নতি না করতে পারলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মেইনটেন করা কখনও সম্ভব না।যারা নিজে নিজে লড়ে আপন অবস্থান এর উন্নতি করছে তারা শুধু নিজেরটাই নিয়ে ব্যস্ত আছে কিন্তু এই সমাজটা সকলকে নিয়ে গঠিত।‘ উন্নত শ্রমিক ‘
5 Comments
Friends
Mahu Mahbub
@mahumahbub
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
Md. Deloar Hossen
@md-deloar-hossen
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
তুলট ডেস্ক
@toulot
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor


প্রবন্ধটি চমৎকার। সমাজের উন্নয়ন ও সংস্কারে বেশ সুন্দর চিন্তা করেছে লেখক। দেশ ও দশের উন্নয়ন সকলের কাম্য। শুভ কামনা রইল লেখকের প্রতি।