-
দাদাজানকে মনে পড়ে
সালটা ছিল ২০১২, ফেব্রুয়ারী মাস। ফ্রানচাইজিজ ভিত্তিক ক্রিকেট লীগ বিপিএল এর প্রথম আসরের মাঝামাঝি সময়। অলক কাপালির ফর্ম তখন তুঙ্গে ছিল। ব্যাট চালালেই কিছুনা কিছু ঘটত ডবলস, চার নাহয় ওভার বাউন্ডারি। ক্লিনিকের রিসিপশনে বসে টিভিতে একাকি খেলা দেখছিলাম। সাউন্ড মিউট করা ছিল। রিসিপশনের মেয়েটি আরো আট দশটা রিশিপশনিস্ট মেয়েদের মতই। একটু চঞ্চল টাইপের। রংঢং ভালো। কিছুক্ষণ হলো বসে আছি,একটু আগে অসুস্থ দাদাকে কেবল একটা কেবিনের বন্দোবস্ত করে আসছি, সাথে করে যারা এসেছেন তারাই সব কিছু হ্যান্ডেল করছেন এই মুহূর্তে। সুতরাং আমার ঝামেলা নাই।
দোতলায় ছিল ক্লিনিকটি। দোতলা থেকে নামতাম চা-টা খাওয়ার জন্য। দুপুরের সময় লাঞ্চের ও সময় তখন। আমার ফোন বাজলো, হ্যা উপরে আসতেছি। ক্লিনিকের সাথে সকল রকমের ফরমাল চুক্তি পত্র করা শেষ, কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাক্তার আসবে রোগীকে দেখবেন। কয়েকজন লাঞ্চের জন্য বেরিয়ে গেল বাকি আমরা কেবিনে অপেক্ষায় আছি ডাক্তারের! ডাক্তার এসে অনেকগুলো টেষ্ট করতে দিল। এবার পালা টেষ্টের জন্য বিভিন্ন রুমে নিয়ে যাওয়া!
রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলল, রোগীর সেরেব্রাল ম্যালেরিয়া ধরা পড়েছে। এই সমস্যা নাকি খুব রেয়ার। মৃত্যুর সম্ভাবনাই বেশি। আমরা কেউই বিচলিত নই। মৃত্যু শয্যাশায়ী রোগীর সাথে আমিই রয়ে গেলাম, বাকিরা সবাই বাড়িতে ফিরে গেল। কেবিনে শুধু মৃত্যু শয্যাশায়ী দাদা আর আমি। এভাবেই ঘুমিয়ে না ঘুমিয়ে কাটল পুরো একটি রাত। পরেরদিন সকালে দু একজন আসল রোগীর সাথে দেখা করতে কিন্তু সবাই আবার ফিরেও গেল।
ঐদিনগুলোর তৃতীয় দিন। ডাক্তার আরো একটা টেস্ট করতে দিলো। রোগীর সাথে শুধু আমিই। ক্লিনিকে কোনো ট্রলি ছিলনা। কাউন্টারে অনেক চেয়েছি, দেয়নি। যাহোক সেদিন দাদাকে কোলে পাঞ্জা করে কেবিন থেকে টেষ্ট রুমে নিয়ে গেলাম, যথারীতি টেষ্টও হয়েছে একইভাবে কেবিনে ফিরি। দাদার সাথে কথা বলার মত অবস্থা নেই, যন্ত্রনায় কাতর কোন কথাই ভালভাবে বলতে পারত না। তবে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিত। আমি ভাবতে বাধ্য ৯০ বছরের এই লোকটা আমাকেই কি যেন বলতে চাইত। কিসের যেন আকুতি। দাদার চোখে জল, আমি যদিও সইতে পারি অনায়াসে। বড্ড বেশি ভালবাসত আমাকে।
সপ্তাহ খানেকের মধ্যে দাদী সহ অনেকেই আসে ক্লিনিকে। দাদাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সবাই কেমন জানি দুঃখের সাগরে ভাসসে। আর হবেনা! বাড়িতেই নিয়ে যেতে হবে। এদিকে ডাক্তার ও একই সিদ্ধান্ত দিল।
ঠিক ৩০ দিন পর দাদা আমাদেরকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। আমি তখন চট্টগ্রামে। খবর শুনে ছুটে যাই বাড়িতে। দাদাকে শেষ বারের মত দেখতে। যেতে যেতে ভাবি, এই পৃথিবীর সব কিছুই মায়া। সব কিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে সবাইকে। এই নিয়তিকে মেনে নিয়েই সেদিন শ্মশানের স্ফুলিঙ্গে শুইয়ে দিয়ে স্বর্গ বাসী করলাম দাদাকে।
অনেক বেশি মিস করি দাদা তোমাকে। যেখানেই থাক ভাল থেকো। আর আমাদের জন্য অনেক আশীর্বাদ করো।3 Comments
Friends
নীল মাছি
@raihanrbt
Dhumketu
@dhumketu
Jannatul Ferdous Ivy
@jannatul-f-ivy
আ.ক.ম. আবু সাইদ
@a-k-m-abu-syed
ISMAT JAHAN LIPI
@ismatjahanlipi
অরিন্দম সাইফুল্লাহ
@arindam-saifullah
Fahmida-Reea-Fahmida-Reea
@fahmida-reea-fahmida-reea
Nipun Chandra
@nipunch
কলমে পৃথিবী
@asin432


দারুন😍😍