Profile Photo

ইকবাল আহমেদOffline

  • Iqbal
  • Profile picture of ইকবাল আহমেদ

    ইকবাল আহমেদ

    4 years, 8 months ago

    এলিটা
    পর্বঃ ৪ (শেষ পর্ব)
    দুইদিন ধরে এলিটা তেমন একটা কথা বলছে না। শুধু যেটুকুন দরকার তাই বলে ঘরের কাজ করছে। বাকিটা সময় সে ঘরের এককোণে একপ্রকার হাইবারনেট অবস্থায় থেকেছে। তিন দিনের দিন নোয়ান এই বিস্ময়কর রোবটের এরকম নিরবতা আর মেনে নিতে পারছিল না। এলিটা তার কাছ থেকে একদিনের সময় চেয়ে নিয়েছিল কিছু একটা গবেষণা করার জন্য।
    – এলিটা, তুমি এত চুপ করে আছ কেন?
    – আমি তোমার কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছিলাম।
    – হ্যাঁ, সে তো আমার মনে আছে। কিন্তু সেটা একদিনের জন্য ছিল। তা তোমার গবেষণার কতদূর?
    – আমার এনালাইসিস একদিন আগেই শেষ হয়েছে।
    – তাহলে চুপ করে আছ কেন? ফলাফল কি পেলে জানাবে না। আর তুমি সাবিলার ভয়েসে কথা বলতে পার।
    এলিটা তার নিজের যান্ত্রিক ভয়েসেই কথা বলতে থাকে।
    – আমার এনালাইসিস মানুষের মন আর আবেগ নিয়ে আমাকে আরো দ্বিধাগ্রস্ত করে ফেলেছে। তাই বিষয়টার গভীরে আমি আর যেতে আগ্রহী নই। যদি তোমার নির্দেশনা থাকে তবে আমি বাধ্য।
    – আচ্ছা এখন কি পেলে তাই বল।
    – আমি মানুষের প্রেম ভালবাসা নিয়ে নতুন-পুরনো অনেক গল্প, উপন্যাস আর মুভি দেখেছি। তাতে দেখা যায়, প্রায় পাঁচানব্বই ভাগ ক্ষেত্রে নায়ক সুন্দরি নায়িকার প্রেমে পড়েছে্। আবার নায়িকাও যথেষ্ট আকর্ষনীয় ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন পুরুষের প্রেমে পড়েছে। কিন্তু যেসব মানব-মানবি অসুন্দর বা আকর্ষনীয় নয় তাদের ক্ষেত্রে প্রেম ভালবাসার গল্প খুবই কম। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় প্রেমের জন্য সুন্দর বা আকর্ষনীয় হওয়াটাই গুরুত্বপুর্ন কিনা। তুমি একজন সুন্দরি কে ভালবেসেছ। এই পৃথিবীতে তোমাদের ঈশ্বর মানুষকে সুন্দর-অসুন্দর দু’ভাবেই তৈরি করেছেন, এটাই তোমাদের বিশ্বাস। যারা সুন্দর তারা তাদের পছন্দের মানুষের প্রেমে আবদ্ধ হয়, তাহলে অসুন্দরদের প্রেমের কি হয়। অসুন্দরদের কি সুন্দরের প্রেমে পড়া যাবে না বা কোন সুন্দর মানুষ কি অসুন্দর মানুষের প্রেমে পড়ে না।
    নোয়ান পুরোপুরি হকচকিয়ে যায়। একটা রোবট হঠাৎ করে কেন এভাবে ভাবছে। তাকে নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বাড়তি হিসেবে তাকে দৈনন্দিন কাজ থেকে ডাটা সংগ্রহ করে নিত্যনতুন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কর্মপন্থা ঠিক করার উপযোগী প্রোগ্রাম করে দেয়া হয়েছে। আর সে কিনা মানুষের প্রেম-ভালাবাসার মতো আবেগ অনুভূতি নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত।
    – এলিটা এগুলো তোমার কাজের মধ্যে পড়ে না। এসব মানুষের নিতান্ত মানবীয় গুনাবলীর বিষয়। এটা নিয়ে না ভাবলেও তোমার চলবে।
    – কিন্তু নোয়ান, আমরা মানে রোবটরা তোমাদের আবেগ অনুভূতির মত করেই তৈরি করা। অনেকেই তাদের ঘরের কাজের রোবটটিকে সুন্দর করে কনফিগার করে। তুমি হয়তো ব্যাতিক্রম। তুমি আমাকে নিতান্ত যান্ত্রিক আর অসুন্দর দেখতে তৈরি করিয়ে নিয়েছ। যার কারনে তুমি প্রায়শই আমাকে পছন্দ করে উঠতে পারছো না। তার উপর তোমার পুরনো প্রেমিকা এখনো তোমার সমস্ত আবেগ জুড়ে আছে, যে কিনা আমার চাইতে অনেক অনেক বেশি সুন্দরি।
    – তার মানে কি তুমিও আমার প্রেমে পড়ে গেছ। ব্যাপারটা এরকমই বলতে চাইছো।
    – বলতে চাইছি নয়। বলতে পার আমি বলছি।
    – এলিটা এসব উদ্ভট কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখ। তোমার নির্দিষ্ট কাজ আছে তুমি তাই নিয়ে থাক।
    – নোয়ান, আমি একটা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছি। যার জন্য অবশ্যই আমার তোমার নির্দেশনার দরকার আছে। যেহেতু আমি রোবট এবং তোমার সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার আমার কোন সুযোগ নাই।
    – কিসের সিদ্ধান্ত?
    – আমি নিজেকে শাটডাউন করে দিতে চাই।
    – মানে কি?
    – তোমাদের ভাষায় যাকে বলে আত্মহত্যা।
    – এ্যাই, এ্যাই, তুমি এসব কি বলছ। রোবটের আবার আত্মহত্যা বলে কিছু আছে নাকি। তোমার চার্জ কমে গেছে। তুমি চার্জ নাওনি কেন?
    এলিটা কাজে ফিরে যায়। নোয়ান খুবই বিরক্ত হয়। একটা রোবট সে কিনা বলে আত্মহত্যা করবে। যতসব উদ্ভট। নানান মুভি আর বস্তাপচা গল্প উপন্যাস এনালাইসিস করে এটা নিশ্চিত বিগড়ে গেছে। এলিটাকে বরং একটু মেইনটিন্যান্স করিয়ে আনতে হবে। ভাল হয় ওর মেমরিটা ফরমেট দিয়ে নতুন করে নেয়া।
    সকালে অনেকক্ষন সময় নিয়ে নোয়ান ঘুম থেকে উঠে। দেয়ালের ঘড়ি দেখে অবাক হয়। এতটা সময় ঘুমিয়ে থাকার কথা নয় তার। আর এলিটাও কেন যে এখনো তাকে ডেকে তোলেনি বুঝতে পারছে না।
    – এলিটা, এলিটা।
    নোয়ান কোন সাড়া পায় না। আবার ডাকে, তারপরও কোন সাড়া পায় না। গর্দভটা আবার কোথায় গেল, নোয়ান এমনটা ভাবতে ভাবতে বিছানা ছেড়ে রান্নাঘরের দিকে যায়। এককোণে এলিটার দেহটা শুয়ে আছে, যা কখনোই হওয়ার না। এলিটা সব সময় দাঁড়িয়েই থাকে। অবাক বিস্ময় নিয়ে নোয়ান আরও এগিয়ে যায়। এলিটার মাথাটাও দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাহলে কি? নোয়ান আর ভাবতে পারে না। সে বুঝতে পারছে তার চোখ ভিজে উঠছে।
    (সমাপ্ত)

    31
    24 Comments
Skip to toolbar