-
ছোট গল্প।
#One Lac US Dollar….
#লেখক-অমি রেজা।
——————————————————
#বাস টা হুসসসস শব্দ করে থেমে গেলো।
সারি বেধে নামছে সবাই, কোন হুরোহুরি নেই। এদেশের মানুষ অনেক ভদ্র। আইন মানা এদের অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে। আমি নামতে গেলাম আর অমনি ঝুম-ম-ম করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। রীতিমতো মুষলধারে। আমি ক্যাম্পাস থেকে ফিরছিলাম। এদেশে ইউনিভার্সিটি কে ওরা স্কুল বলে। আমি থাকি এই স্টপেজ থেকে সাত মিনিটের হাটা পথ রাস্তার ওপারে, পাহাড়ের উপর একটা দ্বিতল বাড়ীতে। আমরা কয়েকজন বাংলাদেশী মিলে থাকি। দাড়িয়ে আছি বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়। স্টপেজ এ আমার মতো আরও কয়েকজন আটকে গেছে যারা ছাতা আনতে ভুলে গেছে। এদেশে প্রত্যেক মানুষের সাথেই ছাতা থাকে। কারন সিংগাপুর এর ওয়েদার এরকমই। বৃষ্টি উইথআউট নোটিস এ আসতে পারে। আমি শব্দ করে একটা হাঁচি দিলাম,আমার চারপাশ লক্ষ করে আমি একটু লজ্জা পেয়ে গেলাম। শব্দ দূষন এদের খুবই অপছন্দ।
টেক দিস,এক টুকরো টিস্যু এগিয়ে দিলো আমার দিকে কেউ একজন।
আমি তাকিয়ে দেখি মধ্যবয়সি এক মহিলা। দেখতে মোটামুটি, কিন্ত হাসিটা দারুন। আমি তাকে ধন্যবাদ জানালাম।
সে মিষ্টি হেসে বললো,
ইউ ওয়েলকাম।
ইউ স্টুডেনা(student),সে জিজ্ঞাসা করলো,
আমি হেসে বললাম,ইয়েস।
হোয়ার ডু ইউ লিভ?
আমি আঙুল উচিয়ে বিপরীত দিকে পাহাড়ের উপর দেখিয়ে বললাম, ওভার দেয়ার……
তুমি?
ব্লক ৪০।
ওওওওওওও।
বৃষ্টি থেমে গেলো। তাকে বাই বলে আমি বিদায় নিলাম। আবার সেই ঝকঝকে হাসি। মনটা ভীষণ ভালো লাগায় ভরে গেল।
কয়েকদিন পর,একই বাসে ফিরছিলাম। রেড হিল স্টপেজ থেকে যাত্রী নিয়ে বাস রওয়ানা হল।আমি বই পড়ছিলাম।
এক্সকিউজ মি,, মে আই সিট হেয়ার,
আমি ডান দিক চেপে আগুন্তক কে জায়গা করে দিলাম।
হাই,,,,হাউ আর ইউ।
আমি বিস্ময় নিয়ে তাকালাম,
আরে এত সেদিনের সেই মহিলাটা।
আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম,কেমন আছেন।
সেই মিষ্টি হাসি,,,,
সে হাত বাড়িয়ে বলল আমি সিলভিয়া, তুমি?
আমি যুবরাজ, নাইস টু মিট ইউ মেম। তার সাথে হ্যান্ডসেক করলাম। মাই গড,এতো নরম হাত।
কে যেন কানের কাছে বলে উঠলো,সাবধান,মামা সাবধান।
আপনি এই পথে।
হা আমি জব করি কাছেই একটা কেসিনো তে।
তুমি বাংলাদেশা?
নো মেম বাংলাদেশা নয় বাংলাদেশী।
সে সরি বলে হেসে দিলো।
কথায় কথায় আমরা বিডক(এলাকার নাম)এর কাছাকাছি চলে আসলাম।
সিলভিয়া বললো,
আমি কি তোমার ফোন নম্বর পেতে পারি,
আমি সিওর বলে তাকে ফোন নম্বর দিলাম।
বাস থেকে নেমে সে হাত বাড়িয়ে দিলো বিদায় নেওয়ার জন্য।
আমি তার নরম হাতের ছোঁয়া আবার পেলাম। আবার কানের কাছে শুনতে পেলাম,সাবধান, মামা সাবধান।
তারপর প্রায় একমাস পার হয়ে হয়ে গেছে। তার আর দেখা পাইনি। ব্যাপারটা আমি আমার রুমমেট কারো সাথেই শেয়ার করিনি। কার মনে কি আছে কে জানে। কিন্তু আমি সিলভিয়ার কথা ভাবছি কেন? আমার অবচেতন মন তার ফোন কল বা টেক্সট পাওয়ার অপেক্ষা করছে কেন? আমার ছোট্ট মন টা কোন উত্তর খুঁজে পায়না।
একদিন সত্যি একটা টেক্সট আসলো।
কেন উই মিট টুমরো?
আমি অবাক হলাম। রিপ্লাই দিলাম,সিওর।
সে লিখলো,কেপাচিনো শপ নং৩৪৩,নিয়ার জুরং বার্ড পার্ক, সময় সকাল ১০.৩০।
আমি ওখানে থাকবো।
আমাদের দেখা হোল। আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে মেম।
সিলভিয়া একটু লজ্জা পেল,ওর লালচে গাল এ তা প্রকাশ পেলো। আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে বললো। মেম বলে ডাকছো কেন। সিলভিয়া বলো,কামঅন আমরা বন্ধু ত।
আমি একটু লজ্জা পেলাম,বললাম তুমি ত বয়সে অনেক বড়।
সো হোয়াট, ফ্রেন্ডশিপ বয়স দিয়ে হয় না।
ওকে,তুমি যা বলো।
চলো পার্ক এ যাবে নাকি মেরিনা বে যাবে।
তোমার যেখানে ইচ্ছে।
আমরা মেরিনা বে র বাসে ওঠলাম। মেরিনা বে আমারও খুব পছন্দের একটা জায়গা।
এই জায়গাটাকে এরা অনেকটা অষ্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের আদলে তৈরী করেছে। এখানে প্রচুর পর্যটক দের ভীর থাকে। আমি আর সিলভিয়াও ভীড়ের মাঝে হারিয়ে গেলাম।
সিলভিয়া আমার হাত ধরে হাটছে।
নরম কোমল হাত,আহা!
মন বলছে সাবধান,মামা সাবধান।
দিন যায়,সময় যায়,আমাদের বন্ধুত্ব অনেক গভীরে পৌঁছায়। আমরা আমাদের সকল কথা শেয়ার করি। সিলভিয়া সিঙ্গেল। বিয়ে করেছিলো। হাসব্যান্ড ইমপোটেন্ট ছিলো, তাই ডিভোর্স নিয়ে ফেলেছে। এরপর থেকে সে একা।
আমি তাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম,আমাকে এতো পছন্দ করো কেন?
মিষ্টি হেসে বলেছিলো—পুওর বয়,ইউ আর ভেরী স্পেশাল ফর মি।
ঘুম আসছিলো না,ঘরের বাইরে চলে আসলাম। রাত একটা হবে। দোলনাটায় বসলাম। এদেশে রাত -দিন সবসময় একই মনে হয়। চারদিকে আলোর অভাব নেই । আকাশ এ আজ ভরা পূর্ণিমা। বিশাল চাঁদ। পাহাড় এর ওপর দোলনায় দোলছি, আর ভাবছি—
একজন বিদেশীনি কেন আমাকে এতো পছন্দ করে। আমি দেখতে খুব সুন্দর নই, তবে আমার ভেতর একটু রাফ এন্ড টাফ ভাব আছে। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেলো।
একদিন সিলভিয়া আমাকে বলেই ফেললো-
রাজ, ও যুবরাজ বলতে পারতো না। আমি তোমার কাছে কিছু চাইলে তুমি দিবে।
আমি একটু ধাক্কা খেলাম। সিলভিয়া,তুমি বলেই দেখো। তোমার জন্য জান কুরবান।
হাসলো মেয়েটা।
এত সোজা নয় ব্যাপারটা।
বলেই দেখো।
আমাকে একটা বেবি দিতে পারবে?
প্রথমে কথাটা বুঝতে পারি নি,যখন বুঝলাম তখন আমি অট্টহাসি তে ফেটে পড়লাম। হা—হা—হা। সিলভিয়া অবাক হয়ে,তাকিয়ে রইলো আমার দিকে। মেয়েটার সুন্দর মুখটা কেমন মিইয়ে গেছে।
আমার খুব মায়া লাগলো তার জন্য। তুমি এসব কি বলছো সিলভিয়া?
সত্যি বলছি। আমার মনের অজান্তেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তুমি খুব সহজ সরল একটা ছেলে। তোমার নিষ্পাপ মুখশ্রী,মায়াভরা হাসি,তোমার সিম্পলিসিটি সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আর তোমার চোখ,অসাধারন সুন্দর রাজ। আমি তোমাকে সব সত্যি বলছি,আমি কোন টিন এজার মেয়ে নই। আমার পঁয়ত্রিশ চলছে। আমি যা বলছি,খুব ভেবে চিন্তে বলছি। বিলিভ মি,আই রিয়েলি লাভ ইউ।
কিন্ত আমি অনলি ২৩। তোমার সাথে আমার বয়সের পার্থক্য অনেক। তা ছাড়া তুমি জানো,আর ২টা সেমিস্টার শেষ হলে আমার এম.বি.এ কমপ্লিট হবে। তারপর আমার ক্যারিয়ার।
তোমার সবকিছু হবে,কোনটাই আটকে থাকবে না। কেমন করে?
এরপর সে যা বললো,সেটা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। সে আমার কাছে বেবি চায় সত্য,কিন্ত তার জন্য কোন শারীরিক সম্পর্কের প্রয়োজন নেই। সে আমাকে স্পার্ম(বীর্য) ডোনেট করতে বলে। অর্থাৎ সে টেস্ট টিউব বেবি নিবে।
তাই বলে আমাকে বেছে নিলে?
আমি যে তোমাকে ভালোবাসি রাজ। তার মুখে তোমার ছবি দেখে আমি বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিবো।
তুমি ড্রিংক করেছ, আবোল তাবোল বকছো।
আমি যাই সিলভিয়া।
যেওনা,আমি তোমাকে তার বিনিময়ে 100,000$ ইউ.এস ডলার দিবো। বিলিভ মি।
কি বললে,তুমি আমাকে টাকার কথা বলতে পারলে? আমার প্রচণ্ড রাগ হল। সজোরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ওর ফ্লাট থেকে বের হয়ে গেলাম। উদ্ভ্রান্তের মত লিফটের বাটন টিপতে লাগলাম। আমার কানে তখন বাজছে ওয়ান লাখ ইউ এস ডলার,বিলিভ মি……………..
একটা অসম্পূর্ণ গল্প,একটা অসম সম্পর্ক,আর অনুভবে সহজ সত্যতা হল…..
পৃথিবী তে সব সম্পর্কের মানে খুঁজার দরকার কি? থাক না কিছু কিছু সম্পর্ক হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে।
সব স্পর্শ কে মনে রাখার দরকার কি?
যাক না হারিয়ে সব অনুভূতি মন বলাকা হয়ে।
সব পরিচয় কে আত্নীয়তার বন্ধনে বাধঁতে হবে
এমনতো কোন কথা নেই? যাক না হারিয়ে,
পথের পরিচয় পথে-বাসে-ট্রেনে-লোকালয়ে।।।
#অমি রেজা।
সময়কাল: ডিসেম্বর-২০০৪ ইং।
সিংগাপুর।-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 29 May 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 28 February 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 08 December 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 09 September 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 21 June 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 12 August 2026 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
তুলট ডেস্ক
@toulot
Tamim Iqbal
@tamim-iqbal
আশ্রাফুজ জামান তানবীন
@ashrafujjaman001


প্রবাসের গল্প মন রিফ্রেশ করে দেয়। নতুন পরিবেশ, নতুন দৃশ্য, নতুন মানুষ। ভালো লাগল বেশ আপনার লেখাটি । একই সাথে রিফ্রেশিং, আবার তার সাথে মানবতার কথা বলে, মানবতার সংকট, আবেগ, বাস্তবতা। মনের মধ্যে একটা ইম্প্রেশন রেখে যায়। শুভেচ্ছা নিন। আরো লেখা পাব আশা করি সমনে