Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • গল্পঃ কিশোরী বয়সের ভালোবাসা
    লেখনীতেঃ মেহের মেহের সীমা।

    ১৭ পর্বের পরবর্তী অংশ

    এই চুপ,বেয়াদব কোথাকার!
    মামা কিসের?
    এর আগে না তুই তাকে দেখেছিস আর না সে তোকে।
    তাছাড়া ইসলামে তো কোথাও নেই যে চাচাতো বোনের খালার দেবরকে বিয়ে করা যাবে না!
    নানু আমি যাচ্ছি না, আমাকে জোর করলে আমি কিন্তু ওখানে গিয়ে তাকে মামা ডাকব।
    এতে আপনারা ছোট হবেন।
    রিয়া আমার হাত ধরে রেখেছে যাতে আমি যেতে না পারি।
    এই মেয়ে আমার সাথে এমন করবে ভাবতেই পারছি না।
    আমার কথা শুনে নানু বলেন,ভুলেও এমন ভুল করিস না, তাহলে তোর বাপ চাচার কাছে বিচার যাবে।
    কথাটা শুনে থমকে গেলাম কারণ বাবা আমাকে ভালোবাসলেও আমার দ্বারা তার মাওয়মার অসম্মান মানবে না।
    কারণ বাবা মুরব্বিদের অসম্মান সহ্য করতে পারেন না।
    ভিতরে ভিতরে রিয়ার উপর মেজাজ খারাপ হচ্ছে।এই ফাজিল মেয়ে সব জানে।
    আমাকে এজন্যেই সকাল থেকে ক্ষেপাচ্ছে আমি তা বুঝতে পারিনি।
    আর এখন বুদ্ধি করে এখানে এনেছে।
    ঠিক আছে আমি মামা বলব না কিন্তু তাদের প্রতিটি কথার উত্তর হবে আমার স্টাইলে।
    আমি ও রিয়া নানু বাড়িতে গিয়ে টিভির রুমে বসেছিলাম।
    সামনে ছবি চলছে সেদিকে আমার কোন খেয়াল নেই এর থেকে বেরিয়ে আসার বুদ্ধি ভাবছি।
    এরমধ্যে নানুর ছোট মেয়ে রেবা খালা আমাকে ডেকে নিয়ে একটা লোকের সামনে চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছে।
    আমি নিচের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।
    অবশ্য আমার সামনে একজন পুরুষের জুতা পড়ে পা নাচাচ্ছেন।
    পুরুষ বললাম কারণ প্যান্ট আর বুট জুতো দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা পুরুষের পা।
    আমার বুঝতে সমস্যা হচ্ছে না সামনে বসে পা নাচাচ্ছেন যিনি সেই পাত্র।
    আমি রাগে লোকটার দিকে তাকাচ্ছি না।
    এরমধ্যে সামনে থাকা লোকটা বললেন, আপনার নাম কী?
    আজব নাম না জেনেই দেখতে এসেছেন?
    আমার কথা শুনে নানু পিছনে থেকে গুঁতা দিচ্ছে আমি সেদিকে নজর দিচ্ছি না।
    লোকটা বললো,নাম জেনেই আসি বা না জেনে আসি সেটা ব্যাপার না।
    আপনার মুখ থেকে নামটা শুনতে চাচ্ছিলাম।
    তবে তার আগে আমার নামটা বলি, আমি তারেক রহমান।
    আমরা তিন ভাই দুই বোন।
    আমি সবার ছোট।
    তা এবার তো নামটা বলুন?
    আমি কাট কাট গলায় বললাম,সীমা।
    তা কেমন আছেন সীমা?
    আলহামদুলিল্লাহ।
    তারেক বললেন,হম,তা আপনি রান্না বান্না পারেন তো?
    ন আমি রাঁধতে পারি না, তবে খেতে ও ঘুমাতে পারি।
    সে আমার কথা শুনে বলেন সমস্যা নেই আমি রান্না পারি আপনার রান্না করতে হবে না।
    তা সীমা আপনার কি করতে ভালো লাগে?
    মানুষের সাথে ঝগড়া করতে, আমি প্রচন্ড জেদি।
    আমার রাগ উঠলে সব ভেঙেচুরে ফেলি।

    হম, সমস্যা নেই আমি আবার রাগ করতেই জানি না।
    আপনার রাগ উঠলে যা ভাঙতে ইচ্ছে করবে বলবেন এনে দিব।
    আমার কথা শুনে তারেক এর মেঝো ভাবী বললেন, মেয়ে মানুষ হয়ে এমন চটাস চটাস করে কথা বলছো কেন?
    তা মুখে যেমন ধার কাজে তো দেখি শূন্য।
    যাই হোক একটু দাঁড়াও তো দেখি।
    আচ্ছা তোমার কোমর সমান চুল তা কি আসল না কি নকল?
    আমি তার কথা শুনে রেগে পায়ের নখ দিয়ে মাটিতে আঁচড় কাটছি।
    আর ইচ্ছে করে বাম পায়ের নখ বাঁকা করে রেখেছি যাতে দেখে বোঝা যায় আমার পায়ে সমস্যা।
    তার কথা শুনে সেভাবে বসে রয়েছি এরমধ্যে রিয়া তারেক এর মেঝো ভাবীর কথা শুনে বললো, আমার বোনকে দেখতে এসেছেন।
    কোন গরু ছাগল দেখতে আসেননি।
    যে হেঁটে দেখাবে,চুল দেখাবে।
    আর আপনার সুবিধার জন্য বলছি আমার বোন খোড়া নয় সে দাঁড়াতে এবং দৌড়াতে দুটোই পারে।
    এবং আমাদের বাড়িতে সবার থেকে ওর চুল সবচেয়ে বড়।
    তবে আপনাদের দেখানোর দরকার মনে করছি না।
    এরমধ্যে তারেক বললেন,আরে মাটিতে আঁচড় কাটতে গিয়ে তো নখ সহ আঙ্গুল ভেঙ্গে যাবে।
    আমাদের দুই বোনের কথা তারেক এর মেঝো ভাবীর পছন্দ হয়নি তাইতো তিনি তারেক কে বললেন, ভাইজান কাদের কি বলছেন!
    এই মেয়ে শহরে বড় হয়েছে এর কথার ঝাঁজ দেখছেন? চলেন তো এখানে থেকে।
    তারেক তার কথা শুনে বললেন, আহ্ ভাবী , আচ্ছা সীমা আপনার কি ভালো লাগে?
    শপিং করতে না ঘুরতে?
    আমি রেগে বললাম পড়াশোনা ছাড়া আর কিছু ভালো লাগে না।
    আচ্ছা ভালো।
    তা স্কুল তো শুনলাম বন্ধ।
    তো চলুন আমাদের বাসায় বেড়াতে।
    আপনার বাসায় বেড়াতে যাব কোন দুঃখে?
    যতসব।
    সীমা আমি কিছু কথা বলি একটু খেয়াল করে শুনবেন, আপনার সাথে যদি আমার বিয়ে হয়।
    তো আপনার সব ভালোলাগার খেয়াল রাখতে চেষ্টা করবো।
    আপনাকে পড়াশোনা করাব।
    পড়াশোনা করাবে কথাটা শুনে এই প্রথম তার দিকে তাকালাম।
    গোলগাল চেহারা বড় বড় চোখ কালো সিল্কি ছোট ছোট চুল ফ্যানের বাতাসে দোল খাচ্ছে।
    আমার চোখ আটকে গেল সেদিকে।
    মেদহীন শরীর দেখতে খারাপ লাগছে না।
    চেহারায় মধ্যে একটু ম্যাচয়ুটি ভাব ‌
    এই প্রথম কোন ছেলেকে দেখে মনের মধ্যে অন্য রকম অনুভুতি হচ্ছিল।
    লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে সামনে একটা নোটবুক ও কলম ধরে বললেন, আপনাদের বাসার ফোন নাম্বারটা লেখে দিন তো।
    আমি বোকার মত লেখে দিলাম।
    আমি অবাক হচ্ছি তারেক কিন্তু লম্বায় আমার সমান।
    কিন্তু এই পর্যন্ত যতগুলো প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছি বা যারা আমার জন্য পাগল ছিলেন সবগুলো ছেলেই এমনকি সোহেল এবং জাভেদ তার থেকে অনেক লম্বা ও দেখতে সুন্দর।
    কিন্তু তাদের দেখে কখনো মনে ধাক্কা লাগেনি।
    সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তারেক আমার প্রতিটি তেড়া কথার ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিয়েছেন।
    সেটা ভালো লেগেছে।
    ওখানে থেকে আসার সময় মনে মনে বললাম, আমাকে তিনি পড়াশোনা করাবেন বলছেন,
    তাছাড়া তাকে বিয়ে করলে, সোহেল ও জাভেদের কাছে থেকেও বাঁচতে পারব।
    হে আল্লাহ ওনার সাথেই যেন আমার বিয়ে হয়।
    আসলে সে সময়ে এটাও ভাবেনি আমার বয়স পনেরো তার ৩৪।
    আমাদের বয়সের গ্যাপ অনেক যা ভবিষ্যৎ এ আমাদের মধ্যে দেওয়াল হতে পারে।
    তবে ওনাকে দেখলে মোটেও তার বয়স বোঝা যায় না।

    সেদিন বাসায় আসলাম তবে আমার চিন্তা ভাবনা সেখানে আটকে রয়েছে।

    দেখতে দেখতে কেটে গেছে কয়েকদিন এরমধ্যে জানতে পারলাম পাত্রের পছন্দ হলেও তার ভাবীর নাকি আমাকে পছন্দ হয়নি।
    তাছাড়া আমার পায়ের সমস্যা রয়েছে।
    সেজন্য পাত্রের বাড়ির অনেকেই রাজি না।
    তবে পাত্রের নাকি আমাকে পছন্দ হয়েছে।

    সেদিন আরেকটি কথা জানতে পারলাম,এই বিয়ের প্রস্তাব নাকি আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় এসেছিল।
    আমার বয়স কম এবং পাত্র আমাদের আত্মীয় হয় সেজন্য আমার বাবা ও মা মানা করেছিলেন।
    তার পর থেকে তারা দুইশত মেয়ের বেশি দেখা হয়েছে।
    কোন না কোন কারণে বিয়ে হচ্ছে না।
    এসব জানার পর আমার আর এই বিয়েতে আগ্রহ নেই।
    আমি সব ভুলে পড়াশোনতে মনোযোগ দিলাম।

    ১৫ দিন পর গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ করে বাবা, মা এসে উপস্থিত।
    তবে শ্রাবণ ও সাব্বির ভাই আসেনি।
    তারা আসলে দোকান বন্ধ রাখতে হবে সেজন্য।
    মায়ের কাছে থেকে জানতে পারলাম আগামী পরশু আমার আংটি বদল হবে।
    আমি মায়ের কাছে এই কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেছি।
    কারণ তারেক নামের লোকটাকে ক্ষণিকের জন্য ভালো লেগেছিল কিন্তু তাই বলে এতো তাড়াতাড়ি সব হচ্ছে,
    তাছাড়া যেখানে তাদের বাড়ির সবাই আমাকে পছন্দ করেনি।
    সেখানে বৌ হয়ে যাব বিষয়টি মানতে কষ্ট হচ্ছিল।
    কিন্তু মা বললেন এসব নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে না।
    মা আমাকে আরও বললেন, তোকে আর কষ্ট করতে হবে না।
    এই ছেলে ঢাকার বনানীতে চাকরি করেন।
    আমাদের বাসায় থেকে তার অফিস বেশি দূরে নয় সবচেয়ে বড় কথা তুই আমাদের সাথে থাকতে পারবি।
    এর থেকে ভালো আর কি আছে বল মা?
    সেজন্য এই সমুন্ধ করতে আমি আর তোর বাবা এই বিয়েতে রাজি হয়েছি।
    তোর বড় দুলাভাই বলেছে এই ছেলের কাছে তোকে বিয়ে দেওয়া যায়।
    ছেলে কর্মমুখী,আর পড়াশোনা করছেন,
    একেবারে মূর্খ নয়।
    আর সবচেয়ে বড় কথা রিয়ার খালু মাটির মানুষ ।
    তাকে কখনো রাগ করতে দেখিনি তাই তার ভাই খারাপ হবে না।
    নিশ্চয় তার মতই হবে।
    মায়ের চোখের সেদিন আমাকে কাছে রাখার আনন্দ দেখেছি।
    মায়ের দিকে তাকিয়ে সেদিন আর কিছু বলতে পারিনি।

    দেখতে দেখতে চলে এল সে মাহেন্দ্রক্ষণ।
    কিছুটা ভয়, লজ্জা নিয়ে খাটে বসে আছি আমার পাশে বড় আপা,মেঝো আপা, রিয়া বসে রয়েছে।
    দুই দুলাভাই ব্যস্ত তাদের নতুন ভায়রাকে সমাদার করতে।
    আংটি বদল করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে গেছে।
    আজ আমার বিয়ে তবে অর্ধেক বিয়ে,,,

    #চলব

    আমার ফেসবুক আইডি লক হয়ে গেছিল সেজন্য এতদিন উধাও ছিলাম।

    17
    14 Comments

Saifun nesa Shima

Housewife

Skip to toolbar