-
রাঙামাটির রঙে চোখ জুড়ালো —–
পিনাকল চাটার্ড স্কুল এন্ড কলেজ হতে ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে অায়োজন করা হয় বার্ষিক শিক্ষা সফরের। শিক্ষা সফরের স্থান নির্ধারন হয়েছে রাঙামাটিতে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি – এই তিন পার্বত্য অঞ্চলের কথা শুনলেই মন প্রাণ অানন্দে নেচে উঠে এবং মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে পাহাড় ঘেড়া প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভের অাশায়। রাঙামাটির প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য হল কাপ্তাই হ্রদ। মনুষ্যসৃষ্ট এ হ্রদ ৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত। পাহাড় ও চিরসবুজ বনভূমি দ্বারা এই উপকূল এলাকা বেষ্টিত। বাংলাদেশের একমাএ পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র এই কাপ্তাই হ্রদ।এছাড়া বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত উপজাতীয় জনগনের ঐতিয্য, কৃষ্টি, সভ্যতা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন, উন্নয়ন, বিকাশ এবং গবেষনা করার উদ্দেশ্যে ১৯৭৮ সালে রাঙামাটির ভেদভেদী নামক স্থানে উপজাতীয় সাংস্বৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় এই রাঙামাটিতে।
রাঙামাটিতে শিক্ষা সফরে যাবে – এই চেতনায় অানন্দে অান্দোলিত শিক্ষার্থীদের মন প্রাণ। এক সপ্তাহ অাগে থেকেই ছিল তাদের অনেক পরিকল্পনা। কি করবে, পোশাক, সাজগোছ সব বিষয়ে তাদের প্ল্যানিং শেয়ার চলছিল তাদের প্রিয় মিসের সাথে – ক্লাস করার ফাঁকে ফাঁকে।
অবশেষে শিক্ষা সফরের সেই কাঙ্খিত দিন ফিরে এল। তবে অনেকের মনে দুশ্চিন্তা ও ছিল কেননা কিছুদিন অাগেই রাঙামাটিতেই বোট দুর্ঘটনা ঘটেছিল। অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলি,ছাএছাএী, বিদ্যালয় কতৃপক্ষ সকলেই যার যার ধর্মীয় দোয়া / প্রার্থনা করে অবশেষে নির্বিঘ্নে যাএা শুরু করলাম। অামি যে বাসে ছিলাম সে বাসে বেশির ভাগ ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেনীর ছাএছাএীরা এবং তাদের অভিভাবকমন্ডলী ছিলেন। যাওয়ার পথে অামার সফরসঙ্গী ছিল মাইমুন্নেসা সোহানা, অাফিয়া তাসনিম ফারহা, তাদের অাম্মা এবং অামার ছোট বোন তুষিতা বড়ুয়া। সোহানা, ফারহা তো ম্যাডামের সাথে জমিয়ে অাড্ডা এবং খেলায় মশগুল ছিল এবং ম্যাডামের গান শুনছিল। ম্যাডামকে নাকি তাদের খুব পছন্দ।কথার এক ফাঁকে তাদের বাড়িতে যাওয়ার দাওয়াতও দিয়ে দিল। হা হা। গান গাইছিলাম ” অাকাশে বাতাসে চল সাথী উড়ে যায় চল ডানা মেলে…. “।সবার সাথে অাড্ডা, মাতামাতি, গান গেয়েই পৌঁছে গেলাম রাঙামাটি শহরে। সবার চোখে মুখে অানন্দের ঝিলিক। ঝিলিক দেখেই মনে পড়ে যায় কবিতাটি – ” অানন্দ রে অানন্দ তুই কোথায় থাকিস বল…….! যাএাপথের প্রথম গন্ত্যস্থল ছিল অারন্যক রিসোর্ট। বাস হতে নেমে সবাই সারিবদ্ধভাবে চলে গেলাম অারন্যক রির্সোটে। যেহেতু অামি ষষ্ঠ শ্রেনীর শ্রেনীশিক্ষিকা ছিলাম তাই তাদের কড়া নজর ও দেখভালের দায়িত্ব অামার। দায়িত্ত্ব বুঝে নিয়ে রিসোর্টে ঢুকলাম।প্রবেশ করার সাথে সাথেই চোখে পড়বে হ্রদ।হ্রদের উপকূলে সাজানো প্রাকৃতিক পার্ক। হ্রদ এবং হ্রদের বোট দেখে ছাএ ওমর ফারুকের মন চাচ্ছিল বোটে নামতে, নৌকায় চড়তে! কিন্তু না, ম্যাডামের কড়া অাদেশ, পানিতে নামাই যাবে না। কিন্তু ম্যাডামের মনও চাচ্ছে বোট চড়তে… হা হা! ম্যাডাম তো অার ছাএছাএীদের বলতে পারছে না… হা হা! তবে ওদের হাজার অনুরোধ রক্ষার্থে হ্রদের পাড়ে হালকা পানিতে পা ভেজাই একসাথে সবাই মিলে। ঘৃড়াঘুড়ির ফাঁকে ফাঁকে ছবি তোলা কি থেমে অাছে!!! ছাএছাএীদের সাথে গ্রুপ ছবি তুলছি অার তুলছি। ভাগ্যিস, ফটোগ্রাফার তুষিতা ছিল! অার্মিদের তৈরি সুইমিং পোল দেখে তো সবার লাফ দিতে ইচ্ছে হলো। অাগেভাগে সতর্কবানী – ” কেউ লাফ দিবে না, ম্যাডামও সাঁতার জানি না… হা হা “! শুধু সুইমিং পোলে বসে ছবি ক্লিক! ছাএছাএীদের মধ্যে সুমাইয়া, মুনতাহা, ওমর, রাফিন, অালিজা, রাহি, মিফতা, ইফফাত, জুহি, মিমহা,জেরিন, তাবাসসুম,অানান, যাদের সাথে অানন্দে ছবির ফ্রেমে বন্দী হলাম। অারন্যক রিসোর্ট হতে গেলাম পলওয়ে পার্কে। সেখানেই প্রথমে দুপুরের খাবার খাওয়ার ধুম পড়ল। এত্ত হাঁটিহাঁটি, ঘুড়াঘুড়ি করলাম। “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়! “দুপুরে খাওয়ার পরে পলওয়ে পার্কে ঘুড়াঘুড়ি শুরু। পার্কেই পাশেই হ্রদ। পার্কটা বেশ সাজানো গোছানো। অন্যরকম সুন্দর পরিবেশ। মুনতাহা, সুরাইয়া, ওমর, তাবাসসুম অার ওদের ছোট্ট ভাইবোনরা সবাই বেজায় খুশি, ঈশিতা ম্যাডামের সাথে ঘুড়ছে অার ছবি তুলছে! দিনটা অানন্দে কিভাবে কেটে গেল! সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। অবশেষে যাওয়ার পালা। বাসে সবাই ক্লান্ত। সবাই যেন ঘুমিয়ে পড়বে বাসে! এই অবস্থা। কিন্তু না, একটু জিড়িয়ে সবার গান নাচের তুমুল মোহড়া! প্রথমদিকে ক্লান্ত ছিলাম বলে গান নাচে মন দিই নি।পরে যখন ছাএীরা বার বার অনুরোধ করল, তখন কি অার বসে থাকা যায়! মেতে উঠি অানন্দে। “বা….লা,বা….লা ” গানটার সাথে সবার নাচের অানন্দটা যেন দ্বিগুন হলো। অানন্দ করতে করতে পোঁছে গেলাম যান্ত্রিক শহরে। ছাএীদের অাফসোস, কেন দ্রুত সময় চলে গেল! ঐ গানটা মনে পড়ল ” এই পথ যদি শেষ না হয় তবে কেমন হতো বলো তো!
কিন্তু সময়ের ঘড়ি টিক টিক বেজে উঠল! বিদায়ের পালা! পরিসমাপ্তি হলো শিক্ষা সফরের।
বেঁচে থাকুক সবার মনে অানন্দের স্মৃতিটুকু। অার্শীবাদ, ভালবাসা রইল সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি।
Friends
UTTAM KUMAR BISWAS
@uttamk
Pranto Sarkar
@pranto-sarkar
Reazul Kabir
@reazul-kabir
শোয়েব ইবনে শাহীন
@abir-shoaib
Umme Tabassum Taiyeba
@umme-tabassum-taiyeba
Shibbir Ahmed Hasan
@shibbirahmedhasan
Drako Shajib
@drako
Md Nurnabi Sarker
@nurnabi
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990


অভিনন্দন।