Profile Photo

ফারজানা আক্তার জেমীOffline

  • Jemi2021
  • লেখা:ছোটগল্প

    বিষকাঁটালি ‘অ’

    আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি। সেই উপলক্ষে স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর প্রস্তুতি শেষে বাসায় ফিরছে
    শিপু আর তার বন্ধু মৃদুল। অনুষ্ঠানে শিপু আর মৃদুল দুইজনই ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটকে অংশ নিয়েছে। শিপুর ভূমিকা ভাষা-শহীদ আবদুল জব্বার আর মৃদুল হল আবাই(আবুল বরকত)।

    বাসায় ফিরে ক্লান্ত শিপুর চোখ বুজে এল। ঘুমের ঘোড়ে শিপু চলে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে।হঠাৎ দেখতে পেল, একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাতে বড় বড় প্ল্যাকার্ড নিয়ে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের দিকে যাচ্ছে বেশ সন্তপর্ণে। প্ল্যাকার্ডগুলো তে লেখা, ” রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই”, ” ‘অ’ আমার অহংকার “, “আমাদের দাবি মানতে হবে, বাঙলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হবে”।

    হঠাৎ প্ল্যাকার্ড ওয়ালা মানুষটি শিপুকে ইশারা করে ডাকছে প্ল্যাকার্ডগুলো যাতে ভিতরে পৌঁছে দিয়ে আসে গেটে দারোয়ানের কাছে। আর যেন বলে,” আবাই ভাই, এগুলো দিয়ে গেছে। আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল এসে বেলা নিয়ে যাবে ।”

    শিপু ততক্ষণে প্ল্যাকার্ডগুলো পৌঁছে দিতে গিয়ে দেখে মহাকান্ড চলছে হলের করিডোর জুড়ে! ছাত্ররা সবাই মিটিং, স্লোগান, লিফলেট, প্ল্যাকার্ড বানাতে ব্যস্ত।এসব দেখতে দেখতে রাত হয়ে এল। সবেমাত্র গেইট দিয়ে বেরিয়ে হাঁটা ধরবে এই মুহূর্তে আবাই ভাই তাকে পেছন থেকে ডাকল। বলল, “ছোটভাই এখন ত ১৪৪ ধারা চলছে, বাইরে পরিস্থিতি ভাল না, তুমি বরং কাল সকালে বাসায় যাও। পুলিশ আবার হলের বাইরেই কড়া নাড়ছে কিনা!”

    সকাল বেলা কিসের মোহে যেন মিছিলে চলে যায় শিপু আবাই ভাইয়ের সাথে। মিছিলে আবাই ভাইয়ের পাশাপাশি হাঁটছে আবদুল জব্বার নামে এক লোক। জানা যায়, উনি শাশুড়ির ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে ঢাকা এসেছেন ২০ ফেব্রুয়ারী, উঠেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ব্যারাকে গফরগাঁও নিবাসী হুরমত আলীর (২০/৮)রুমে। কিন্তু সকালেই অন্য সব চিন্তা বাদ দিয়ে কিসের টানে যেন চলে এসেছেন এই মিছিলে। অবিরত স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন পাশাপাশি।

    মিছিল সবে মাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে এসেছে, এক পুলিশ অফিসার বিড়বিড় করে সৈনিকদের কমান্ড দিচ্ছেন, “সহীহ মকা মিলগায়া!শ্যুট দ্যাম।” শুরু হল গুলি, এলোমেলো ছুটাছুটি তে শিপু লুকিয়ে গেল বড় এক কৃষ্ণচূড়া গাছের কুঠরীর ভিতর। দেখতে পেল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে আবাই ভাই। ব্যাথ্যার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তিনি। তাঁর রক্তে ভেসে আছে প্ল্যাকার্ড। পাশেই শুয়ে আছেন সবেমাত্র গতকাল ঢাকায় আসা জব্বার নামক লোকটাও। উনি কাতরাতে লাগলেন গুলিবিদ্ধ দেহ নিয়ে।

    কি একটা রোমহষর্ক পরিবেশ!! তাকাতেই যেন স্নায়ু শিথিল হয়ে আসছে শিপুর। আর ভেসে আসছে,জব্বার ভাইয়ের মর্মাহত কন্ঠস্বর,, রক্ত দিয়ে ভাষা কিনেছি,,,,,”

    দেখতে দেখতে দেহ স্থির হয়ে গেল আবাই ভাইয়ের। ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদে শিপু। কিন্তু চিৎকারও করতে পারছে না,শুধু চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে আসছে অহরহ।

    মোবাইলে রিংটোন শুনে ঘুম ভেঙে গেলে শিপুর। চোখভর্তি পানিসহ সে নিজেকে আবিষ্কার করল যখন ভোর হয়ে গেছে। কল দিয়েছে নাটকের এক সদস্য, জলদি প্রস্তুত হয়ে নেবার তাগাদা দিচ্ছে শিপুকে। কল শেষ হতেই গতরাতের দুঃস্বপ্নের কথা মনে করে থ হয়ে আছে সে।সাথে সাথে মৃদুলের মেসেজ আসল, “gd m9 dstw. Taratari ready hoia naw. Thik time moto ready theko, w8 jeno na kora lage.” শিপু এক মুহূর্তে অনুভব করল রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ভাষার সারাশরীরে বিষকাঁটালির বিষাক্ত বান ছড়িয়ে পড়ছে। ক্ষত-বিক্ষত ‘অ’, ‘আ’, ‘ক’ এরা অশ্রুসিক্ত চোখে যেন তাকিয়ে আছে জব্বার ভাই আর আবাই ভাইয়ের রক্তভাসা দেহের উপর।

    1 Share
    23
    19 Comments
    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 29 April 2021 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তুলতে সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • অসাধারন লেখা। শিপুর সাথে সাথে আমিও যেন দেখতে পাচ্ছিলাম স্বপ্নটা। তবে রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এ ভাষা এত সহজে এর গৌরব উবে যেতে দেবনা।অভিনন্দন ও ভালবাসা রইল আপনার লেখার প্রতি।

    • দারুন,,😍। গদ্য এর নামটিই যেমন পুরো গল্পটি পড়তে উদ্বুদ্ধ করে

    • দারুন,,, গদ্যের নামটিই যেন পড়তে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে

    • ভালো লিখেছেন; আপনাকে অভিনন্দন

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 25 June 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • নন্দিত উপাস্থাপন।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 27 March 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 06 October 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 20 July 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar