Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • #ধারাবাহিক
    একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৫)
    ~ আবির হাসান সায়েম

    সুদীর্ঘ তেরোদিন পর আজ আমাকে রিলিজ দেয় হলো । কতগুলো দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাবো। সকালবেলা মনটা বেশ ভালোই ছিলো কিন্তু দুপুরেরদিকে আইনুল্লাহ আর হাফসা এসে মনটা একদম খারাপ করে দিলো। আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে করে কান্না করতে লাগল। আমার চোখও টলমল করে উঠল। তাদের ছেড়ে যাচ্ছি এই দুঃখে না, এতো ভালোবাসা পেয়ে -মনটা কেনো যেনো কেপে উঠল। কিছু ভালোবাসা কাদায় কিছু ভালোবাসা হাসায় কিছু ভালোবাসা কাদতে কাদতে হাসায়। যে ভালোবাসায় মানুষ কাদতে কাদতে হাসে, সেসব ভালোবাসায় কোনো খাদ থাকে না৷ এই ভালোবাসা অগ্রাহ্য করা যায় না।
    আমি আর ফরিদ নীচে দাড়িয়ে আছি। ফরিদ একটা ছোট ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আকাশটা মেঘলা। ঠান্ডা বাতাস বইছে। ইচ্ছে করছে রিক্সা নিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরি। কিন্তু উপায় নেই। ফজলুল কাদির সাহেব গাড়ি নিয়ে আসছেন। ডাক্তার সাহেবের চরম মানা,’কোনোরকমের অবহেলা করা যাবে না। আগামী দুই সপ্তাহ খুব ক্রিটিকাল। ঝাল খাবেন না, সময় মতো খাবার খাবেন, ঠান্ডা লাগাবেন না। আপনার উচিত ছিলো আরও এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকা। কিন্তু আপনি তো একদম অস্থির হয়ে পরেছেন৷ দুই সপ্তাহ পর এসে দেখা করবেন৷ ”
    গাড়ি এসে গেছে। আমি আর ফরিদ উঠে বসলাম। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, বেশ ভালো বৃষ্টি। গাড়ির জানালা সব বন্ধ। মনে হচ্ছে জেলখানাতে বসে আছি৷ আমি বললাম,
    ” আচ্ছা গাড়ির জানালা কি খোলা যাবে? ”
    ড্রাইভার বলল,
    ” জানলা খুললেই বৃষ্টি ঢুকে সিট ভিজে যাইবো৷ ”
    ফজলুল সাহেব বললেন,
    ” আমরা কিন্তু আপাদের বাসায় যাচ্ছি৷ ”
    আমি অবাক হয়ে বললাম,
    “মানে? ”
    “আপনার বাসা অনেকদিন ধরে বন্ধ পরে আছে। সব ওলোপালোট। তাই আপা বললেন আপনাকে তাদের বাসায় নিয়ে যেতে। কালকের মধ্যে আপনার বাসা ফিটফাট করে দেয় হবে। ”

    আমি আর কোনো কথা বললাম না। মাথাটা হঠাৎ ঝিমঝিম করছে। আমি চোখ বন্ধ করে কল্পনা করার চেষ্টা করছি।
    আমি দাড়িয়ে আছি একটা রাস্তার মাথায়। সুপ্রসস্থ সোজা একটা রাস্তা আমার চোখের সামনে। হুহু করে বাতাস বইছে। মনে হচ্ছে
    শরীরে চামড়া ভেদ করে চলে যাচ্ছে৷ আমি দু’হাত মেলে দিলাম। সাথে সাথেই গাড়ির হর্ণ বেজে উঠল। আমরা শিলাদের বাড়ি পৌছে গেছি।

    চলবে…

    4
    2 Comments
Skip to toolbar