Profile Photo

হাসনাত সৌরভOffline

  • Hasnat21
  • Profile picture of হাসনাত সৌরভ

    হাসনাত সৌরভ

    4 years, 5 months ago

    অজাতশত্রু
    ====================

    বুকু কিছুই পারে না। গায়ে-গতরে তাগড়া নয়। পড়ায় মন নেই। বাইরের লোক তো বটেই, তাকে তার বাপ-মা কেউই পছন্দ করে না। বারো বছর বয়েস, অথচ হাবে-ভাবে যেন অনেক বেশি। কিশোরের বয়েস কখন যে বেড়ে যায়, তারা জানতেও পারে না। বয়স বাড়লে কিশোররা কি বাবা হয়ে যায়?

    বুকু সেই কাকভোরে ওঠে। পাশবালিশ নেই তার। মা বাবা কেউ কাছে শোয় না। তাদের আলাদা ঘর। ভাইটাকে জড়িয়ে ঘুমায় রাতে। পাঁচ বছরের ছোট্ট ভাইটার ঘুমন্ত মুখটা সকালে দেখলে তার কিশোর হৃদয় আরেকটু ভিজে যায়। সযত্নে ভাইয়ের মুখ থেকে গড়ানো লাল-ঝোল মুছিয়ে দেয়। বেলা বাড়লেই ভাইটাও তার থেকে দূরে সরে যায়।

    কয়েকদিন হল, বুকু শুনতে পাচ্ছে, বাবা মা তাকে নিয়ে কথা বলছে। সব কথা বোঝে না সে। তাও, কাল যখন রাতে বাবা মাকে বলছিল, “আর কতদিন লাগবে? বারো বছর পার হয়ে গেল, এখনও কথা নেই মুখে…”, বুকুর খুব কান্না পেয়েছিল। মাও একটু ফুঁপিয়ে উঠেছিল বোধহয়।

    বুকু বোবা। পাড়ার ছেলেগুলো তাকে ক্ষ্যাপায়। ‘গুঁ-গুঁ’ করে পেছনে টিটকিরি মারে। বুকু কাউকে কিছুই বলে না। ক্লান্তভাবে হাসে। চলে যায় দৃশ্যটা থেকে। রোজ।

    কয়েকদিন পর থেকে তাকে অন্য স্কুলে যেতে হবে। সেটা নাকি হোস্টেল। বুকু সেখানেই থাকবে। বাবা আজ বলেছে। বুকু কিছুই বলেনি। শূন্য চোখে তাকিয়ে ছিল খানিকক্ষণ। মা কাঁদছিল। মাকে কাঁদতে দেখলে তার খুব কষ্ট হয়।

    বাড়ি থেকে একটু দূরেই একটা এঁদো পুকুর। তার গায়েই একটা নারকেল গাছ। এরাই বুকুর একমাত্র বন্ধু। অন্যান্য দিনের মতো আজকেও সে সবার চোখ এড়িয়ে এখানে চলে এসেছে। কয়েকদিন পর থেকে আর দেখা হবে না ওদের সঙ্গে। বুকু গাছটার গুঁড়ির কাছে বসে। ঠেস দিয়ে। পায়ের কাছেই জলের স্পর্শ।

    চারদিকে চোখ চেয়ে দেখে নেয় সে, কেউ কোথাও নেই তো? তারপর রোজের মতো জলের আয়নাতে মুখ রাখে। হাসে। প্রতিবিম্বটাও হাসে। সে প্রতিবিম্বের সামনের দুটো দাঁত বেজায় বড়। ঠিকরে বের হয়ে আসে। বড্ড বিশ্রী দেখতে লাগে।

    রোজের মতোই জলে হাত দিয়ে ছবিটা ঘেঁটে দেয় ছেলেটা। এক ছুটে দৌড়ে চলে যেতে চায়। পারে না।

    বুকুর কান্নার কোনও আওয়াজ হয় না।

    @হাসনাতের হস্তাক্ষর

    13
    9 Comments
Skip to toolbar