-
কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ #২৩সীমার শ্বশুর শ্বাশুড়ির বৃদ্ধ মানুষ তারা তো নিজেরা কিছু করতে পারেন না।
আমার মেয়ের খেয়াল রাখবে কেমনে?
উল্টো মেয়েটাকেই তো তাদের গোসল করিয়ে দিতে হবে,যত্ন করতে হয়।
সুমনার কথা শুনে তার স্বামী শাহেদ বেপারি ভাবছেন
তার মেয়েটা ছোট হলেও কাঁধে অনেক বড় দায়িত্ব নিয়েছে।
স্বামীকে চিন্তিত দেখে সুমনা বললেন,সাব্বিরের বাবা আপনি চিন্তা করে শরীর খারাপ করবেন না।
আপনার তো খুশি হওয়ার কথা আপনার মেয়ে নিজের দায়িত্বের অবহেলা করে না।
বরং খুশি মনে তা পালন করে।
তাছাড়া এই যুগে কয়জন মেয়ে তার শ্বশুর শাশুড়ির সেবা করে?
আর কয়জন মেয়েই পারে শ্বশুড় শাশুড়িকে মা বাবার মতো করে ভালোবাসতে।
আমাদের মেয়েটা অন্য সবার মত নয়, বরং নিজের সবটুকু উজাড় করে শ্বশুর বাড়ির সবাইকে ভালো রাখতে চেষ্টা করছে তা দেখে আমি খুব খুশি।
যা সবাই পারে না তা আমাদের মেয়েটা অনায়াসে করছে।
এটা দেখে ওর মত মেয়ের মা হতে পেরে আমার গর্বে বুক ভরে গেছে।
সুমনার কথা শুনে শাহেদ বেপারি কি বলবেন তা ভেবে পেলেন না।
কারণ তার মনে অব্যক্ত কথাগুলো তার স্ত্রী বলে দিয়েছে।
শাহেদ বেপারি ভাবছে,এই মুহূর্তে তার স্ত্রীর অপারেশন করলে ভালো হতো তবে মেয়েটা যেহেতু আবারো মা হবে।
মেয়েটার দিক ভাবতে গেলে সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন।
কারণ সুমনা মা হয়ে মেয়ের খেয়াল যেভাবে রাখবে তার স্ত্রী নিজে অসুস্থ থাকলে মেয়েটার খেয়াল সেভাবে আর কেউ রাখতে পারবে না।
এসব ভেবে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন।
তা দেখে সুমনা বেগম তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি চিন্তা করবেন না।
আল্লাহর দয়ায় যা হবে তা ভালোই হবে।
সাব্বিরের বাবা আরেকটি কথা, আমার জরায়ুতে টিউমার হয়েছে তা সীমাকে বলবেন না ।
কারণ সবাইকে বুঝাতে পারলেও আপনার মেয়েকে বুঝানো যাবে না।
দেখা যাবে অপারেশন করতে জোর করবে এটা ভাববে না আমি অসুস্থ থাকলে ওর দেখাশোনা কে করবে।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর কথা শুনে বললেন, ঠিক আছে তা নিয়ে তুমি চিন্তা করো না।
আসলে সাব্বিরের মা তুমি মাঝে মাঝে ব্যথায় কেমন ছটফট কর তা দেখে ভয় হয়।
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে কিছু বলেননি বরং স্বামীর বুকে মাথা রেখে চোখ বুজে বললেন, চিন্তা করবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে।
সুমনা বেগম স্বামীর বুকে মাথা রেখে মনে মনে ভাবছে এই মানুষটার ভালোবাসা পেতে তাকে কত চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে।
এখন নিজের জন্য স্বামীর চোখে ভালোবাসা দেখে অতীতের সব অবহেলা অবজ্ঞা ভুলে গেছে।
সুমনা মনে করেন একসাথে সংসার করলে সব সময় মতের মিল হতে হবে তা নয়।
কখনো কখনো নীরব থেকেও স্বামীর অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়।
ভাঙতে পারে সবাই গড়তে পারে কয়জন?
অতীতে শাহেদ বেপারির তার প্রতি অবহেলা, অবজ্ঞা করেছিলেন।
তাকে তার স্বামীর জীবনে দ্বিতীয় নারীর আগমন সহ্য করতে হয়েছে।
তখন সহ্য না করলে আজকে তার ছেলে মেয়ে একটা সুন্দর পরিবেশ পেতেন না।
যখন শাহেদ বেপারি তাদের ছেলে ও মেয়ের সাথে লুডু খেলে,১৬ গুটি বা কেরাম খেলে তখন তার বাচ্চাদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দেখে মনটা আনন্দে ভরে উঠে সুমনার।
স্বামীকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত তার ভুল ছিল না।
সেদিন যদি স্বামীর ভুল ধরে বসে থাকতেন তাহলে তা ভুল হতো।
সেদিন সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের সন্তানদের জীবনে এই মুহূর্তগুলো হয়তো আসতো না।
তবে সুমনা কখনো চাইনি তার মত তার মেয়ের জীবন হোক।
সে প্রথম দিকে যে অবহেলা অবজ্ঞা পেয়েছে তার মেয়েটা তা পাক।
কিন্তু সবই কপাল না হলে তার শান্ত সৃষ্ট মেয়ের কপালে এমন রাগী স্বভাবের বর জুটে?
সুমনা মনে প্রাণে দোয়া করেন তার মেয়েটার জীবন সুখে শান্তিতে ভরে যাক।
তার মেয়ের জীবনে কোন কষ্ট না থাকুক।কয়েক মাস পর
প্রিয়া তোমার কি হয়েছে?
আজকাল আমার সাথে ঠিকঠাক মত কথা বলছো না!
শ্রাবণের কথা শুনে প্রিয়া বলে,
আমার আবার কি হবে!
এমনিতেই কথা বলতে ভালো লাগছে না।
প্রিয়ার কথা শুনে শ্রাবণ বললেন, তোমাকে এমন নীরব দেখলে বুকের বাম পাশে ব্যথা করে তুমি তা বুঝ?
তাছাড়া আজকাল মায়ের শরীর ভালো যাচ্ছে না।
কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলেও বলেন না।
আর তোমার কাছে এলে তোমাকেও কেমন নিষ্প্রাণ দেখায়
শ্রাবণ আর কতদিন এভাবে চলবে?
তাছাড়া তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছ মা তোমাকে পছন্দ করলেও বাবা করে না।
তার কথা তুমি স্থির স্বভাবের না।
যেখানে তোমার বড় ভাই বাবার সাথে দোকান করে সেখানে তুমি টইটই করে ঘুরে বেড়াও সেজন্য আমার বাবা তোমাকে তেমন পছন্দ করেন না।
বাবার কথা হচ্ছে,তোমার বাবার অবস্থা যতই ভালো হোক তা দিয়ে তো লাভ হবে না।
এছাড়া তোমার বাবা নিশ্চয় নিজের অবস্থান ভুলে আমার বাবার কাছে আমাকে চাইতে আসবে না?
যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ জানা তা বয়ে বেড়ানোর তো মানে হয় না।
থাপ্পর দিয়ে সব দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব মেয়ে!
বেশি ভালোবাসি তো সেজন্য মাথায় উঠে গেছে,
এই মেয়ে আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নেয় মানে কী?
আমাকে বুঝি মানুষ মনে হয় না!
তোমার মা ও দুলাভাই আমাকে যতটুকু বুঝে তুমিও তা বুঝতে চাও না।
শ্রাবণ রেগে কথাগুলো বলছিল।
প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে বলে,মা ও বড় দুলাভাই আর কতদিন তোমার পক্ষ নিবে?
আমি আর পারছি না এসব সহ্য করতে।ছিঃ তুই এতো লোভী?
যতদিন বাজারে আমার বড় দোকান ছিল ততদিন তো তোর বাবার সমস্যা হয়নি।
তখন তো শ্রাবণ বলতে তিনি পাগল ছিলেন।
এখন দোকান করি না সেজন্য তার কাছে খারাপ হয়ে গেছি।
তোর কথা শুনে তারিফ না করে পারলাম না।
তোদের কাছে ভালোবাসার দাম নেই টাকাই সব।
কথাটা বলে শ্রাবণ রাগ করে ওখানে থেকে চলে যায়।এই ভাবী এই শরীর নিয়ে এতগুলো কাপড় চোপড় নিয়ে ছাদে একা যাচ্ছেন কেন?
কখন না কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়!আল্লাহর রহমতে কিছুই হবে না।
কাজ করলে শরীর আরও ভালো থাকবে।
ভাবী আপনি যাই বলুন না কেন এই সময়ে এত কাজ করা ঠিক নয়।
তাছাড়া আপনার প্রথম বাচ্চা সিজার হয়েছে সেদিকে একটু নজর দিতে হবে তো!
আমি মুচকি হাসলাম।
দুই হাতে ভেজা কাপড় চোপড় এর বালতি নিয়ে আমি ছাদে যাচ্ছিলাম।
এরমধ্যে পাশের বাসার ভাবীর সাথে দেখা হয়ে যায়।
সে ছাদে থেকে নামছিলেন আমাকে বালতি হাতে ছাদের দিকে যেতে দেখেই উপরের কথাগুলো বলেন।
আসলে তারা সবাই আমার চিন্তা করে বুঝতে পারছি কিন্তু আমি চাই না আমার কাজগুলো আমার অসুস্থ মা এসে করুক।
আমার মা প্রতিদিন আছরের নামাজ পড়ে এসে আমার মেয়েকে রাখেন আর কোন কাজ বাকি থাকলে তা করে দেয়।
ইদানিং মা’কে কেমন ক্লান্ত ও অসুস্থ দেখায়।
কি হয়েছে জানতে চাইলে বলেন কিছুই হয়নি।
আর মা এসে কাজ করলে আমার ভালো লাগে না।
তাই নিজের কাজগুলো নিজে করার চেষ্টা করি।
ছাদে কাপড় চোপড় মেলছি আর ভাবছি কাবিনের পর সময়গুলো আর এখনকার সময়ে কত ব্যবধান।
তখন আমার প্রতি তারেক এর ভালোবাসা ও খুনসুটি ছিল।
আর এখন শুধু অভিযোগের ঢালা খুলেন।
আমি বোকা, কোনো কাজ পারি না, বাহিরের মেয়েদের মত টিপটিপ থাকি না।
কয়েকমাস আগে তো খুব কাছের একজনের কাছে এটাও শুনলাম তারেক নাকি আমার বড় আপুর বরকে বলেছেন,আপনারা সবাই সুন্দরী বৌ পেয়েছেন আর আমি পেয়েছি সবার বাছাইয়ের পর থেকে যাওয়াটা।
কথাটা শুনে আমার হৃদয়ে কতটুকু রক্তক্ষরণ হয়েছে তা কাউকে বুঝাতে পারব না কখনো।
তারেক এমন কথা বলতে পারে তা আমি জানি,
কারণ তারেক সব সময় আমি দেখতে অসুন্দর তা আমার মুখের উপরে বলতে ছাড়েন না।
তাই বাহিরে কারো সামনে বলা কঠিন নয় তার জন্য।
তবে আমি ভেবে পায় না সবাই যে বলে, আমাকে দেখতে বিদেশীদের মত সুন্দর দেখায়, আমার বাদামী রঙের চোখের মণি জন্য আমাকে অন্য সবার থেকে আলাদা লাগে।
তা কি ভুল!
যদি ভুল নাই হবে তবে কেন তারেক কখনো আমার সম্পর্কে এমন কিছু বলে না।
আর সবার বলা দিয়ে আমার মন তো শান্ত হবে না।
যার মুখ থেকে প্রশংসা শুনতে চাই তার কাছে তো আমাকে ভালোই লাগে না।
ইদানিং মনের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত কাজ করছে।
নিজের নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগি।
মাঝে মাঝে মনে হয় কেন আমি তারেক এর পছন্দ মত রূপবতী হলাম না।
রূপবতী হলে হয়তো তারেক আমাকে ভালবাসতেন ছোট ছোট বিষয়ে রেগে থাকতেন না আমার সাথে।
আচ্ছা তারেক মাঝে মাঝে অভিযোগ,আমি পরিপাটি হয়ে থাকি না কেন?
কিন্তু কখনো কি এটা ভেবেছে নিজেকে পরিপাটি রাখার মত প্রয়োজনীয় সময় আমি পায় কিনা?
এই যে মাঝে মাঝে মেয়েকে নিয়ে রাত জাগতে হয় কখনো সে এক রাত জেগেছে।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমার কাজগুলো তো আমাকেই একা করতে হয়।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কত কাজ করতে হয় আমাকে তা একবার ভেবে দেখেছে।
আর সে বাসায় আসার পর মেয়ের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটাবেন তারপর খাওয়া দাওয়া করে টিভিতে নাটক বা নিউজ দেখবেন।
রাত দশটা বাজার আগেই বিছানায় যাবেন।
সে সময়ে আমাকে তার পা টিপে দিতে হবে ২০ মিনিট বা আধাঘণ্টার বেশি।
সাড়ে দশটার মধ্যে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাবে কিন্তু আমার যে তখন ঘুম আসে না।
মনে চায় তার সাথে গল্প করতে তা কি কখনো বুঝতে চেয়েছেন?
এই কয়দিন তার সাথে সংসার করে এটা বুঝে গেছি সে বেশি কথা বলতে পছন্দ করে না।
হাতে গোনা কয়েকজন বন্ধুর সাথে শুধু গল্প করতে পছন্দ করেন।
তার সে বন্ধু তালিকায় আমি নেই তা বুঝতে পারছি।
তাইতো আমার সাথে গল্প করতে তার ভালো লাগে না।ইস্ কতক্ষন হয়েছে ছাদে এসেছি উল্টাপাল্টা ভেবে সময় নষ্ট করলাম।
এজন্যই তো তারেক আমাকে বকা দেন।
তাছাড়া আমি অতিরিক্ত আবেগী যা ঠিক নয়।
আমাকে বুঝতে হবে ৩৪ বছরের পুরুষের মাঝে আবেগ থাকে না।
থাকে দায়িত্ব কর্তব্য।
তাই আমার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা শেখতে হবে না হলে সংসার জীবন কখনোই সুখময় হবে না।
কথাটা ভাবতে ভাবতে নিচে নেমে আসলাম।
বাসায় এসে দেখি আম্মার নামাজ আদায় হয়ে গেছে।
লায়লা বাড়িতে গেছে গত সপ্তাহে।
থাকলে আমার পরিশ্রম অনেকটাই কম হয়।
কারণ পরি কে ওর কাছে রেখে কাজ করা যায়।
তাছাড়া লায়লা আমাকে কাজেও সাহায্য করে।
তবে তার মন জুগিয়ে চলতে হয়।
কথাটা ভেবে আম্মাকে নিয়ে খেতে বসছি এরমধ্যে মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে কান্না করতে লাগলো।
হাত ধুয়ে খাবার রেখে উঠে এলাম।
মেয়েকে কোলে নিয়ে চুমু খেয়ে বললাম,সোনা আরেকটু পরে উঠলে কি হত?
মেয়েটা আমার কথা শুনে ফোকলা দাঁতে হেসে দেয়।
মেয়েটার হাঁসি দেখে আমার বুকটা জুড়িয়ে যায়।কিছুক্ষণ পর
শ্বাশুড়ি আম্মার খাওয়া শেষ হলে সে খাটে বসে পরি কে তার কাছে দিয়ে আমাকে খেয়ে নিতে বললেন।
আম্মা একাই হাঁটতে কষ্ট হয় তাই তার নাতনিকে নিয়ে বসেই খেলা করেন।
আমি পরি কে তার কাছে বসিয়ে দিয়ে খেতে আসি কিন্তু ভাত ততক্ষণে পানি ছেড়ে দিয়েছে।
তা দেখে খাওয়ার রুচি চলে গেছে।
কিন্তু খাবার নষ্ট করা আমার পছন্দ নয় তাই ডাল নিয়ে কোনরকমে ভাতগুলো খেয়ে উঠে গেলাম।
সন্ধ্যায়
তারেক বাসায় এসেছে তাকে হাতমুখ ধুতে ওয়াশ রুমে পাঠিয়ে বিছানায় তার জন্য তোয়ালে ও লুঙ্গি রেখে আমি রান্না ঘরে এলাম।
তার নাস্তার ব্যবস্থা করতে।
আম্মা মায়ের সাথে গল্প করছেন আর মা তার নাতনিকে কোলে নিয়ে হাঁটছে আর আম্মার কথা শুনছেন।
তারেক আসার সময় প্রায় হাফ কেজির মত জাম নিয়ে এসেছে আমি তা থেকে কিছু জাম পিরিজে নিলাম সাথে নাস্তার জন্য ডিমের চপ করেছিলাম তাও নিলাম।
নাস্তার ট্রে খাটে রেখে তার দিকে তাকিয়ে বললাম, তোমাকে চা দিব?
তারেক নাস্তার ট্রের দিকে তাকিয়ে বলেন,
চা পরে দাও আর জাম এভাবে দিয়েছ কেন?
জাম কিভাবে খায় তা জানো না?
আমি তার কথা শুনে বললাম মেখে আনব?
তারেক কিছু না বলে চুপচাপ বসে পড়লেন।
আমি তা দেখে জামের পিরিজ নিয়ে আসি রান্না ঘরে।
আম্মা ও মাকে চা দিয়ে জাম মাখাতে ফ্রিজ থেকে কাঁচা মরিচ বের করলাম।
জাম মাখা শেষ হলে তা নিয়ে তারেক এর সামনে দিলাম।
তারেক দেখে বললেন, সামান্য জাম মাখাতে এতক্ষন লাগে?
আমি খাবো না,নিয়ে যাও।
আমি তাকে বললাম, খেয়ে নেও রাগ কর না।
আমি কথাটা আরেকবার বলতে নেওয়ার আগেই তারেক জামের পাত্র হাতে নিয়ে আছড়ে ফেলে দিলেন।
বিকট শব্দ হলো!
অন্য রুমে থেকে শব্দ পেয়ে মা দ্রুত এসে বললেন,কি হয়েছে?
ব্যথা পেয়েছিস?
মায়ের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললাম,মা অসাবধানতাবশত আমার হাত থেকে বাটিটা পড়ে গেছে।
মা আমার দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে, পরি কে খাটে বসিয়ে ফ্লোর পরিষ্কার করতে নিলেন।
আমি তা দেখে মা’কে বললাম, তুমি পরিকে রাখ আমি করছি।মা বাসায় যাওয়ার আগে আমাকে বলে গেলেন,মা রে ধৈর্য্য ধর একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।
জানিস তোর বাবা কিন্তু তারেক এর থেকেও রাগী ছিলেন এখন তাকে দেখলে বিশ্বাস করবে কেউ সেই কথা?
আমি মাথা ঝাঁকিয়ে না বললাম।
দেখিস তারেক ও বদলে যাবে।
আমি মায়ের কথা শুনে মুচকি হেসে তাকে চিন্তা করতে নিষেধ করলাম।
রাতে
খাওয়া দাওয়া শেষ হয়েছে আরও আগেই।
মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে তারেক বসে বসে নিউজ দেখছিলেন আমি বিছানায় এসে মেয়েকে মাঝে শুয়াতে গেলে তারেক বললেন, আজকে পরি ওখানেই ঘুমাক।
আমি কিছু না বলে মশারী টাঙিয়ে তারেক ও পরির মাঝে শুয়ে পড়লাম।
তারেক আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে কখনো চুল নিয়ে নাড়াচাড়া করছে।
মাঝে মাঝে কপালে চুমু খাচ্ছে তার এই মুহূর্তেই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সন্ধ্যার করা ব্যাবহারে কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না।
এমন না যে আজ তার আচরণের সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছি না ।
কখনোই মিল খুঁজে পায় না।
তারেক এর স্পর্শ গুলো আস্তে আস্তে গভীর হচ্ছে ,
তার ভালোবাসার আহ্বান ফিরিয়ে দেওয়ার দুঃসাহস কখনো আমার হয়নি আর হবেও না।
তার ডাকে সাড়া দিয়ে হারিয়ে গেলাম অন্য জগৎ এ।
যেখানে রাগী তারেক এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।নোটঃ ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় থেকে আমার আইডি ফেসবুক থেকে লক করে দেয়।
অনেক চেষ্টার পর গতকাল রাতে আইডি আনলক হয়েছে।
এতদিন এজন্য গল্প দিতে পারিনি।
আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত এতদিন গল্প দিতে পারিনি সেজন্য।#চলবে
4 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian


ভাল লেগেছে – অপেক্ষায় রইলাম