Profile Photo

Anup DeyOffline

  • Anup-Dey
  • Profile picture of Anup Dey

    Anup Dey

    • 4 years, 9 months ago

    ‘মৃত বেদনার স্মৃতিরাকাশে;-
    উড়ে গিয়ে মন্ হংস ডানাতে,
    উড়ে উড়ে কেবল, শাদা আর
    কালো কষ্টের আলপনা আঁকছে!’…
    ………………. ……………. ………..

    আজকের গল্পের নাম—

    ‘সীমাবদ্ধ সীমারেখা।’
    ——————————————————————————

    স্মৃতি সততই সুখের! আজো আমি মিষ্টি অনুভূতি বোধ করি– স্মৃতি কাতরতাই!
    এখনো আমার প্রিয় বাল্য, কিশোর কালকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে। কিন্ত খুব স্মৃতি কাতরতা আবার আবদ্ধ করে ফেলে স্মৃতির জেলখানায়!

    কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় বা সৃষ্টিতে স্মৃতির ভার কাটিয়ে উঠতে পারেননি।বলা ভালো-হয়তো সেভাবে চাননি।তবে সংশয়ী মনে চেষ্টা করেছেন, সেই চেষ্টাও ছিলো অসাধারণ!
    এখানে, সুধীন বাবু বা কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘যযাতি’ কবিতায় সরাসরি প্রগতি চেতনা আর অতীত নস্টালজিয়ার বাইরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন–
    ( বিদগ্ধ কাব্য সমালোচকরা- অসামান্য, মহান কবিদের কিছু কবিতা চিহ্নিত করেন।এবং তাঁরা যদি এই কবিতাগুলি না লিখতেন, তাহলে আর লেখাই হতো না! ক্ষতি হতো বোধ ও কাব্যের, ও সভ্যতার!যেমন– সুধীন্দ্রনাথের- যযাতি; জীবনানন্দের– অবসরের গান; রবীন্দ্রনাথের– নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ…. )

    আমি বিংশ শতাব্দীর সমানবয়সী;
    মজ্জমান বঙ্গোপসাগরে ; বীর নই,
    —–তবু জন্মাবধি যুদ্ধে যুদ্ধে,
    বিপ্লবে বিপ্লবে–
    বিনষ্টির চক্রবৃদ্ধি দেখে, মনুষ্য ধর্মের
    স্তবে নিরুত্তর, অভিব্যক্তিবাদে অবিশ্বাসী,
    প্রগতিতে যত না পশ্চাত্পদ, ততোধিক
    বিমুখ অতীতে কারণ ভূতের নির্বন্ধাতিশয়ে,
    তথা ভবিষ্যের নিষেধে, অধুনা ত্রিশঙ্কু,
    এবং সে-খণ্ডে বিশ্বের মধ্যে দ্বৈপায়ন আমরা
    সকলে, জানি কি না জানি, নাস্তিরই
    বিবর্তবাদ |

    এবং জীবনানন্দের উচ্চারণ এমনঃ–

    জানি— তবু জানি নারীর হৃদয়—
    প্রেম— শিশু— গৃহ– নয় সবখানি;
    অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—
    আরো- এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের
    অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে;
    আমাদের ক্লান্ত করে ক্লান্ত, ক্লান্ত করে;
    লাশকাটা ঘরে সেই ক্লান্তি নাই;
    তাই লাশকাটা ঘরে চিৎ হ’য়ে শুয়ে
    আছে টেবিলের’ পরে |
    ————————————————————————————
    তবু এক টুকরো স্মৃতি বা স্মৃতিকাতরতা আমার মনের ভেতর আমাকে জড়িয়ে রাখে।ঘোর লাগা স্বপ্নের মতো বিভোর করে তোলে ——আশ্চর্য, এই আমাকে!
    …………………………………………………………………………………………

    সীমাবদ্ধ সীমারেখা
    —————————-

    আমরা হেঁটে হেঁটে হেঁটে বহুদূর হয়ে সবশেষে রেলওয়ে একাডেমিতে এসেছি।তুমি আর আমি।সঙ্গে আমার এক বন্ধুসহ! সে অবশ্য আমাদের থেকে বেশ দূরে দূরেই
    ছিলো। আমরা যখন পাশাপাশি হেঁটেছি তখন আমাদের তেমন কথা হয়নি– কথা বলার বিশেষ প্রয়োজন ছিলো না।তোমার সঙ্গ যেনো তোমার কথা বলেছে, আবার
    আমার সঙ্গ যেনো– আমার কথা বলেছে! তোমার মুখে বা চোখে আমি চোখ রেখে হেসেছি– এতেইতো হাজার কথার জন্ম হয়েছে!… তুমি তাকিয়েছো আমার মুখে ও চোখে– ওতেই আমি— তোমার সহস্র কথামালার শব্দ গুঞ্জন শুনেছিলাম!….

    আমাদের সঙ্গের —- অল্প দূরবর্তী আমার বন্ধু বেচারা– মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকতো। কতোবার তার সাথে চোখাচোখি হয়েছে।কিন্ত তার অস্বস্তি ও বিব্রতবোধ আমি ভূলে গিয়েছিলাম।তোমার সঙ্গ পরশে আমি হয়ে উঠেছিলাম মহারাজা! চারপাশের সবাইকে তখন নতজানু প্রজা মনে হয়েছে! আমি চলেছি তোমার পাশে বিজয়ীর বেশে, রাজ্য জয়ের পরে সংবর্ধিত কোনো একজন রাজার মতো!

    আহা! ছাত্রজীবন! আমার অব্যক্ত প্রথম প্রেম! —- তুমি,
    তারপর আমরা সেই একাডেমির দীঘির পারে— একটু কম ঝোঁপালো, আগাছার দঙ্গল ছাড়িয়ে—- তৎক্ষনাৎ একটা বসবার জায়গা তৈরি করে নিয়ে—- সেখানে বসলাম– দুজন পাশাপাশি।…
    —-এখানেও অল্পদূরেতে আমার ওই আশৈশব বন্ধু দাঁড়িয়ে বা বসেছিলো! আমি তাকে ক’বার দেখেছি।দেখে মনে হয়েছিলো— হাসি ছড়ানো মুখের সে, —আসলে আমার অথবা তখন আমাদের—– শাদা মনের প্রকৃতই শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলো।

    দুজন পাশাপাশি বসেছিলাম।আমাদের চোখের সামনে ছিলো পড়ন্তবেলার রোদের ম্রিয়মান আলো খেলার অবারিত দীঘির জল। হাওয়াতে সৃষ্টি হওয়া দীঘির জলে মৃদু ঢেউয়ের খেলা। দূরের কয়েকটি পুরোনো রেইনট্রি, —–গাছগুলির গা বেয়ে উঠেছিলো কিছু বড়ো পাতার ফার্ণ জাতের গাছ। সঙ্গে পাতাবিহীন হলুদ সোনালী রঙের স্বর্ণলতার জঙ্গল! দূর আকাশে উড়ছে এলোমেলো দু’চারটি কাক।আকাশের ক্যানভাসে কিছু ধবধবে শাদা মেঘ।কাছেই দীঘির পারে— অযত্নে বড়ো হওয়া গাছে কলাবতীর ফুল ফুঠেছিলো। আমাদের থেকে দু’হাত দূরেতে ছিলো আকারে বেশ লম্বা লম্বা দল্ ঘাসের আগাছা!—- তুমি হাত বাড়িয়ে দল্ ঘাসের আগা ছিঁড়ে নখে খুঁটে খুঁটে ফেলছিলে। তোমার মুখে কোনো কথা নেই! আমি তোমার উদাসীনতা কিভাবে ভাঙ্গাবো বুঝে উঠতে পারি না! ——যদিও অসম্ভব ভালোলাগায় তোমার মুখটি ভরে উঠেছিলো! ওই মুখের কথা বলার কোনো প্রয়োজন হয়তো সেই সময় ছিলো না। —–তবু তুমি মৌনতা ভেঙ্গে দিয়ে আমার দিকে তাকালে।বললে, —- ‘এই জায়গাটি অন্য রকমের সুন্দর!’
    — আমি বলি, –‘হ্যাঁ। আমরা এখন প্রকৃতির মাঝে বসে আছি।এই সুন্দর, এবং এই ভালোলাগার কোনো তুলনা হয় না।’
    আমার কথা শেষ না হওয়ার আগেই– হঠাৎ তুমি বললে– ‘আমি সুখী।’
    এই কথার উত্তরে কী বলা যায়, ভেবে না পেয়ে আমিও বলি–‘আমরা সুখী।’
    —- তুমি কাজল আঁকা ডাগর নয়নে আমাকে দেখলে, মুখে কিছু বললে না। শুধু তোমার মুখের দ্যুতিময় হাসি– সেদিন অজস্র কথা বলেছিলো!….

    এভাবে বহুক্ষণ কাটে।আমরা ঠাঁই বসে থেকেছি! আমাদের মনে অন্যরকম ভালো লাগা– প্রথম সূর্য উদয়ের মতো নরম কোমল উষ্ণ ভালোবাসারই পূর্বরাগ!….

    আমি দেখলাম– আমার বন্ধু উঠে গিয়ে কিছুদূরে চলে যায়।সে ঘুরে ঘুরে দেওয়াল সংলগ্ন দীর্ঘকালের পুরোনো বড়ো বড়ো গাছগুলি দেখতে থাকে।আমি জানি না–
    সেও কি তার ভালোলাগার কথা নিঃশ্চুপ বৃক্ষদের শোনাতে চেয়েছিলো!—–

    তুমি হাসি মুখেই আমাকে বললে– একটা কি গান গাইতে পারি না?
    ——আমি থতমত খেয়ে তোমাকে দেখি।আমার এতোক্ষণের নিরেট ভালোলাগার কাচের গোলক ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম! তবুও মুখে হাসির রেখা টেনে বললাম–‘

    —‘প্রশিক্ষিত গানের গলার গায়কতো আমি নই।তবে খালি গলাতে আমি সূর-বেসূরের —একটি গান, —-হয়তো স্মৃতি থেকে গাইবার চেষ্টা করতে পারি।এই গানকে অবশ্য গান মনে নাও হতে পারে!’…..
    তুমি বললে–‘আমার কাছে এটিই গান মনে হবে!’….

    আমি প্রথমে কোন্ গানটি গাইবো বুঝতে পারলাম না।তালগোল লাগছে। আমার মস্তিষ্ক অতিরিক্ত ভালোলাগার সাথে আর কিছু মেলাতে দিচ্ছে না যেনো! নার্ভাস ভাব লাগছে।সেই ভাবটা, মুখের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আগেই গোপনে তা লুকাতে যথেষ্ট চেষ্টা করে যায়…. গেয়ে উঠি রাগাশ্রয়ী এই গান।—–

    “ভোরের শিশির হয়ে, একফোঁটা সুখ যদি কুড়িয়ে পেতাম,—
    —-আমি কুড়িয়ে পেতাম।
    —–ফুলের পরাগ হলে প্রজাপতি, চুম্বনে ভরিয়ে দিতো।
    ———নাহ, নাহ– নাহ, কিছুই হওয়া হলো না।——

    —-ডানা পেলে শূণ্যে হারিয়ে যেতাম, ডুবুরী হলেও খুঁজে মুক্তো—-
    পেতাম।
    —-না পাওয়ার থেকে এই পাওয়ার আশা, বুকভরা তৃষা তবু—-
    ভালোবাসা।
    —–তারা হলে, আকাশে জ্বলে থাকতাম। তুমি এলে এই প্রাণের—
    ——কথা বলতাম।…
    ———— নাহ– নাহ, নাহ! কিছুই বলা হলো না।——–

    ভোরের শিশির হয়ে, একফোঁটা সুখ যদি কুড়িয়ে পেতাম,—
    ——আমি কুড়িয়ে পেতাম।
    ——ফুলের পরাগ হলে প্রজাপতি, চুম্বনে ভরিয়ে দিতো।
    ———নাহ, নাহ– নাহ, কিছুই হওয়া হলো না।”———-

    এখন আমাদের—–
    সেই রেলওয়ে একাডেমির সেই দীঘিপাড়, কলাবতীর গাছ, দল্ ঘাস– হালকা ধরণের সবুজাভ ঝোপঝাড়, দীঘির টলোমলো পানিতে মৃদু ঢেউ, আশপাশের বহুকিছু ও আমাদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচিহ্নটুকু কোথাও কিচ্ছু নেই! এখানে এখন দীঘিটি আর চারপাশের অনেক কিছুকে বাণিজ্যিক করণ করা হয়েছে।হারিয়ে গেছে সেই দিনের এখানে তোমার আমার বা আমার তোমার মনের পরিচয় পর্বের মতো– বহু কিছু!

    এখন আমরা,
    —-তুমি বহু দূরের খুব পরিচিত বড়ো এক শহরে,
    —-আর আমি এখানে, এই ছোট প্রায় অচেনা এক শহরে বাস করি।
    পুবেকার আমাদের মধ্যখানে শুধু, —-অনেক পূর্ব স্মৃতিদের হাওয়াটুকু বয়ে যায়!….
    —————–
    [ গল্প ]
    পুনঃপ্রকাশ

    8
    8 Comments
    • গল্প, কবিতা, গানে মন ভালো হয়ে গেল। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নেবেন।

    • সীমাবদ্ধতায় বেঁচে থেকে কি লাভ!

    • শুভেচ্ছা !

    • প্রিয় অভিমানী মন,
      —‘সীমাবদ্ধতায় বেঁচে থেকে কি লাভ!’ [?]

      —নাহ্! সীমাবদ্ধতায় কেউ বেঁচে থাকতে চাই না।
      এই কথার অর্থ হচ্ছে, মুক্তমন ও অবমুক্ত মনের চাওয়ার প্রাপ্তি।
      কিন্ত আমরা কি নিজেদের জীবনে সীমাবদ্ধ নই? আমাদের নিত্য জীবনযাপনে আমরা কি বহু কিছুই অবদমন করে যায় না? এবং এই সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত দরিদ্র ও অধিকাংশ নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্তের নিয়তির মতো।নানাভাবে আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।আমরা অনেকে বুকের মধ্যে কতো রকমের সীমাবদ্ধতার দুঃখ বোধ চেপে বেঁচে রই।এইসব বুকের ভেতর চেপে চুপে নিজেকে মহান ব্যস্ত জীবনের কাছে ছেড়ে দিই!
      —–হয়তো সময়ের চাকায় কোনো কোনো ব্যাক্তি মানুষটি ‘পরিশ্রম ও অর্জন’ এই সমন্বিত গণিতের উত্তরে বেশ বিত্ত বৈভবের দেখা পায়, সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।কিন্ত যখন খুব একান্ত সময়ে এসে নিজেকে অতীতের আয়নায় দেখে, তখন তার নিজের এককালের ওই সীমাবদ্ধতা নিজেকেই লজ্জিত করে!
      বিখ্যাত,অখ্যাত বা সাধারণের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যাদের অতীত বর্তমানের খোঁজ নিলে দেখা যাবে— তারা বুকে ও মননে সীমাবদ্ধতার পাহাড় নিয়ে অটল দাঁড়িয়ে আছেন।
      সীমাবদ্ধতার বড়ো উদাহরণ অপ্রাপ্তি।যেভাবে চাওয়া হয় সেভাবে না পাওয়া, অথবা
      যা পাওয়া হয়েছে তা মনের দেওয়ালে আঁকা ছবির সাথে মিলে যায় না।অর্থাৎ শেষ
      পর্যন্ত সেই অপ্রাপ্তি!
      —–এই গল্পের ঘটনা বেশ সাধারণ এক কাহিনী।কিন্ত গল্পের মূলচরিত্রের বুকে বিঁধে রয়েছে প্রেমের অপরিণতির যন্ত্রণা… সেই অপ্রাপ্তি।
      হয়তো, মূলচরিত্রের সামাজিক কোনো ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ছিলো না।হয়তো তার নিজের কোনো উজ্জ্বল পরিচয় নেই।মূলচরিত্র বুঝেছে, সে আসলে যাকে স্বপ্ন দেখে চলেছে, প্রেমের বিনিময়ে আপন করে পাওয়ার, সেটি এক অসম ব্যাপার…
      হয়তো তার আরাধ্য মনের মানুষটা ধনবান কোনো পরিবারের সদস্য।
      এভাবে, —-এই গল্পে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সীমাবদ্ধতার এক সীমারেখা টানা হয়েছে!🙂
      * পরিশিষ্ট—
      ‘মৃত বেদনার স্মৃতিরাকাশে;-
      উড়ে গিয়ে মন্ হংস ডানাতে,
      উড়ে উড়ে কেবল, শাদা আর
      কালো কষ্টের আলপনা আঁকছে!’…

    • শুভেচ্ছা!

    • অসাধারণ!!

অনুপ দে।

লেখালেখি: / লেখার ধরণ- প্রগতিশীলতা; আধুনিকতা।

  • লেখক জীবন আমাকে খুব টানে!
  • লেখালেখির মনটা, ব্যাক্তি জীবনে সবাই খুঁজে পাই না!
  • আমি গল্পের মানুষ, গল্প লিখে সুখ পাই।গল্পে নিজেকে তুলে ধরা যায়।
  • একটা গল্পে অনেকগুলো চরিত্র থাকে, --কথক কিন্ত একজন! সব চরিত্রই গল্প-কারের ভেতর থেকে উৎসারিত!  মজা হচ্ছে,- গল্পকার সব চরিত্রকে ছুঁয়ে দেখেন, চিনেন!

Email : [email protected]

Skip to toolbar