Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • Profile picture of নাদিম হোসাইন

    নাদিম হোসাইন

    4 years, 4 months ago

    ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখক ঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বার ০১
    ———————————————————————————————————————-

    লোকমান সাহেব গত কিছুদিন ধরে একটা দুশ্চিন্তায় মগ্ন । একটি ভয়ানক স্বপ্ন দেখেছেন এবং সেটা তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না । তিনি এই স্বপ্নের মানে খুঁজে পাচ্ছেন না এবং তিনি এই স্বপ্নটাকে মন থেকে সরাতে পারছেন না । তিনি অফিসে বসে আছেন ঠিক এমন সময় কেউ একজন দরজা আলতো করে খুলে বলছে
    => May I come in??
    লোকমান সাহেব তাকালেন তিনি দেখলেন তার ডাক্তার বন্ধু ডক্টর রফিক উল্লাহ তিনি এসেছেন । লোকমান সাহেব বলে উঠলো
    => আয় ভেতরে আয়
    রফিক সাহেব ভেতরে ঢুকলেন । তারপর তিনি বলছেন,
    => কি অবস্থা বল দেখি ।
    => কোন অবস্থার কথা বলছিস।
    => তোর ব্যবসা ।
    লোকমান সাহেব চেয়ারে হেলান দিয়ে বললেন
    => আছে কোনরকম । তা কি মনে করে আসলি ।
    => না ভাবী বলল তুই নাকি বুড়ো বয়সে ভাব ধরেছিস।
    লোকমান সাহেব আলতো হাসি মুখে নিয়ে বললেন,
    => বুড়ো কি আমি একা হয়েছি তুইও তো হয়েছিস।
    রফিক উল্লাহ সাহেব একটু বিরক্তি নিয়ে বলছেন,
    => তোকে একটা প্রশ্ন করলাম আর তুই ঠাট্টা করছিস।
    লোকমান সাহেব একটু হাসি দিয়ে বললেন,
    => Sorry।। কি যেন বলছিলি, বল।
    রফিক সাহেব কপালে ভাজ ফেলে বলছেন,
    => ভাবী বলল তোর নাকি রাতে ঘুম হয় না । সারারাত নাকি বারান্দায় বসে কাটাশ।।
    লোকমান সাহেব শান্ত ভাবে বলছেন,
    => কই না তো, আমি তো ঘুমাই।। তবে, ঘুমটা শেষ রাতে আসে ।।
    => আচ্ছা ঠিক আছে, আমি কিছু ওষুধ দিয়ে যাই।। এগুলো রাতে খাবার পর খেয়ে ঘুমাস।।
    লোকমান সাহেব এবার ঠাট্টার সুরে বলছেন,
    => এই তোরা ডাক্তাররা সমস্যাকে বিশাল বড় বানিয়ে দিস।। আর কিছু না পেরে শুধু ঔষধ আর ঔষধ।।
    রফিক সাহেব কিছু বললেন না। তিনি ব্যাগ থেকে ওষুধ বের করলেন। তারপর বললেন,
    => এই নে।। আর আমি যাচ্ছি।। যদি পারি কাল আবার আসবো।।
    রফিক সাহেব উঠে দাঁড়ালেন।। লোকমান সাহেব বলছেন,,
    => কি ব্যাপার উঠছিস কেন চা খেয়ে যা ।।
    রফিক উল্লাহ সাহেব কোন কথা না বলে উঠে চলে গেলেন।। লোকমান সাহেব খুবই বোরিং একজন মানুষ।। রফিকুল্লাহ লোকমান সাহেবের খুব কাছের একজন বন্ধু।। লোকমান সাহেব আরো একটু আরাম আয়েশে বসেন।। তারপর চোখের পাতা দুটো নামিয়ে নিলেন।। মনে হচ্ছে সকল ক্লান্তি এসে তার চোখে ভর করেছে।।
    হঠাৎ একটা আওয়াজে লোকমান সাহেব চোখ খুললেন।। তিনি দেখলেন তাঁর ছেলে এসেছে।। তার ছেলে বলছে,
    => আব্বু কিছু টাকা লাগবে।।
    লোকমান সাহেব সোজা হয়ে বসলেন।। তারপর প্রশ্ন করলেন,,
    => কেন??
    => না, কাল আমার এক বন্ধুর বার্থডে ।। তাই সবাই চাঁদা তুলছে।।।
    => তা বাবা, প্রতি মাসেই কি তোর চাঁদার টাকা দিতে হয়।।
    আবির নিজেকে সামলিয়ে বলছে,,
    => না আসলে,, প্রতিমাসেই একটা না একটা বন্ধুর বার্থডে থাকে ।।
    => যাক,, তা তোমার বার্থডে তে কেউ চাঁদা তুলে না।।
    => আব্বু দাও না।। আমাকে আবার বের হতে হবে তো।।
    লোকমান সাহেব আর কিছু বললেন না ।। তিনি ছেলেকে টাকা দিয়ে দিলেন।। ছেলে হাসিমুখে বের হয়ে গেল।। লোকমান সাহেবের একটা মাত্র ছেলে, আর এক মেয়ে।। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।। ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা ।। তিনি তার ছেলেটাকে একটু বেশী ভালোবাসেন।।

    4
    4 Comments
Skip to toolbar