Profile Photo

Azmeri NafsiOffline

  • Azmeri
  • Profile picture of Azmeri Nafsi

    Azmeri Nafsi

    4 years, 3 months ago

    শিরোনামঃ “কেবল বন্ধু হতে পারেনা!”
    কলমেঃ আজমেরি
    তারিখঃ ২২/০২/২০২২
    ___________________________________

    কাল টা শীত ছিলো। মেঘা লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে থাকতে খুবই বিরক্ত। করোনার এই মহামারির কারনে বাসায় থাকতে থাকতে স্টুডেন্টদের পড়ালেখার অবস্থাও করুণ। মেঘা এইবার এসএসসির ক্যান্ডিডেট। পড়ালেখা তেমন করেনা বললেই চলে। বাসায় ফেসবুকিং ইন্সট্রাগ্রাম এ ঘুরাঘুরি করেই দিন কাটে বলা যায় আর কি। দিনগুলো ভিন্ন যায়না। একদিন এমনই বোরিং এক দিনে মেঘার ইন্সট্রাগ্রাম এ টুং করে শব্দ করে উঠলো, নোটিফিকেশন এর। দেরি না করেই ইন্সট্রা-তে ঢুকেই দেখে মেসেজ। ব্যপার টা একটু অবাক করার মতই। ওর বান্ধুবীরা বাদে কেউই তার সাথে অ্যাড ছিলো না। আর বান্ধুবীরা তাকে মেসেঞ্জার ছাড়া মেসেজ দাওয়ার কথা না তাও আবার ইন্সট্রাগ্রাম এ। তাই ও আর দেরি না করে চেক করে একটু বেশি অবাক হয়। কারণ মেসেজ টা ছিলো তার ছোটবেলা বন্ধু আবির এর। ইন্সট্রাগ্রাম এ ছোটবেলার কিছু বন্ধুদের ফলো দেওয়ার সময় তাকেও ফলো দেয়। আবির এর মেসেজ দেখে মেঘা খানিকটা বিস্মিত। প্রায় এতো বছর পর, বছর পাচেঁক হবে হয়তো তাদের দেখা নেই। মেসেজ টা ছিলো, “হাই! মেঘা, তুমি কি ফেসবুক ইউস করো না”…স্বাভাবিক, কারণ মেঘার ফেসবুক এ ছেলেরা অ্যাড থাকে না।আবির মেঘা কে বলল, “আমাদের তো ভুলেই গেছো”..মেঘা একটু লজ্জাবোধ করে। কারন একসাথে একই স্কুল এ পড়ার পরেও কোনো ছেলের সাথেই তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়নি। কিন্তু সবাইকেই তার মনে আছে। আবির কে তো অবশ্যই। কারন স্কুলের সবচেয়ে চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে ছিলো আবির। যদিও সে দেখতে এখনো আগের মতই আছে।এভাবে গল্পটা ইন্সট্রা থেকে ফেসবুক এ চলে যায়। দুজনের ভাব হয়, সারাদিন কথা হয়, তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই খুব ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে।এতো কম সময়তেই এতো গভীর বন্ধুত্ব, ভাবা যায় না। আস্তে আস্তে একজন আরেকজন এর মধ্যে হয় জীবনের অতীতের কথা, হাসি মজা ঠাট্টা। ‘তুমি’ থেকে ‘তুই’ এর সম্পর্ক। জাস্ট ফ্রেন্ড এর থেকে বেস্টফ্রেন্ড এর জার্নি টা মাত্র কয়েকদিন এর মধ্যেই। মেঘা এখন আগের মতো বোরিং সময় কাটায় না। সারাক্ষন আবির এর সাথে কথা বলেই দিন যায় তার, আবির ও তার সাথে কথা বলার জন্য রাতজাগতে শুরু করে। সবই ভালো যাচ্ছিলো তবে মেঘার মনের ভিতর চাপা ভয় একটা কাজ করে।মেঘার জীবন টা খুব অগোছালো। ফ্যামিলি, রিলেশন সবদিক দিয়েই। রিলেশন টিকে না যতই চেষ্টা করেই না কেন।
    বান্ধুবীরা বলে সে খুব খুতখুতে তাই সে এই জীবনেও ভালোবাসার মানুষ পাবেনা।কথাটা ভুল বলেনি হয়তো। তবে আবির এর কথা শুনে সবাই অবাক আর সবার মনে একটাই প্রশ্ন আসলেই কি তারা শুধু বন্ধু!! আসলে আমাদের সমাজে একটা ছেলে আর একটা মেয়ের বন্ধুত্ব থাকা টা অবিশাস্যই ভাবা হয়। সেখানে ওদেরও এটা ভাবা টাই স্বাভাবিক। কিন্তু পরে সবাই বুঝে তাদের গভীর বন্ধুত্ব টা।
    কবি বলেছিলেন, “একজন নারী আর একজন পুরুষ কখনোই বন্ধু হতে পারেনা! কথাটা তিতা হলেও সত্য! দুজনের মধ্যে কেউ না কেউ আসক্ত হবেই, কেউ না কেউ দুর্বল হবেই। আবির আর মেঘার ক্ষেত্রেও ভিন্ন কিছু নয়।
    করোনার এই কালে বাসায় থাকতে থাকতে যখন সবাই বিরক্ত। তখন মেঘা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার প্লান করে। অবশ্যই বাসা থেকে সবাইকে মিথ্যে বলেই বের হতে হয়েছে। এইবার ঘুরতে যাওয়ার প্লান টা স্পেশাল হয় কারন আবির তাদের সাথে তাদের এই একজন ক্লাসমেট কে নিয়ে আসবে মেঘা দের সাথে ঘুরতে। ব্যপার টা খুবই এক্সাইটিং! কারন প্রথম তাদের গ্রুপে কোনো ছেলে বন্ধু যোগ দেয়।চ্যাটিং আর ফোনে যতটা না কথা হয়, সামনাসামনি দুজনেই খুব নার্ভাস। মেঘার চেয়ে দশগুন বেশি লাজুক হলো আবির। চোখে চোখ রেখে কথা বলাটা যেন তার জন্য মহাপরীক্ষা। মেঘা আর তার বান্ধুবী দের দেখেই আবিরের রীতিমতো কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়। যদিও মেঘা তার সাথে কথা বলে তাকে যথেষ্ট কম্ফোর্টেবল ফিল করায়।ওইদিন টা ছিলো দুইজনের জন্যই খুব রোমাঞ্চকর। পাশাপাশি হাটা। অনেক কথা বলা, যেন অন্যরকম মুহুর্ত।এভাবে অনেকগুলো সময় পার হয়ে গেলো। দুইজনের এই এসএসসি পরীক্ষা শেষ এ রেজাল্ট ও দিলো। আলহামদুলিল্লাহ, দু’জনেই পাশ৷ এইবার কলেজে উঠার পর আর লকডাউন রইলো না। আবির আর মেঘার সম্পর্ক টাও আরো গভীর হয়েছে দিনে দিনে।
    এই বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন ও হতে হয়েছে। কারন আমাদের সমাজটা খুব টক্সিক। অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন! একজন ছেলে আর মেয়ের বন্ধুত্ব নিয়ে!সম্পর্ক গভীর হয়েছে অনেক রাগ অভিমান ভালোবাসা হাসি কান্না আনন্দ মুহুর্ত দিয়ে। তাদের একজন আরেকজন কে বকাঝকা, হঠাৎ একজন আরেকজন কে কল দাওয়া, অহেতুক সন্দেহ করা ইত্যাদি কারনে অনেকেই তাদের বন্ধু সম্পর্ক কে কেবল বন্ধুত্ব বলে মেনে নিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে। তবে এখন তারা কাউকেই পরোয়া করেনা। কারন তাদের কাছে বন্ধত্ব টিকিয়ে রাখাটাই আসল। যদিও কখনো কখনো বুঝা যায় যে আবির এর চোখে মেঘা বন্ধুর চেয়েও বেশি,তবে তা কাউকে জানতে দিতে চায় না।
    একদিন ঠিক হলো দুজন কলেজ শেষে দেখা করবে। চলছিলো বর্ষাকাল। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্লান থাকলেও অর্ধেক পথে তা বৃষ্টির জন্য পূরণ হয়না। মেঘা প্রায় অর্ধভেজা আর আবির পুরোপুরিই ভিজে গেছে। দুজন কোনোমতে দৌড়ে একটা প্রায়ফাকা লোকাল বাসে উঠলো। এই ভারীবর্ষণ এ গাড়ি পাওয়া টা ভাগ্যের ব্যাপার।মেঘা বৃষ্টি তে ভিজে দৌড়ে বাস ধরে প্রায় ক্লান্ত হয়ে আবির এর কাধে মাথা রাখে। আর দুইজন আজকের প্লান ভেস্তে যাওয়া নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকে যে কিভাবে এতো সুন্দর প্লান থেকে কি হয়ে গেলো। এমন অবস্থায় বাইরের ভারী বর্ষণ আর জোরে বজ্রপাতের আওয়াজে মেঘা চুপ হয়ে যায়। একটু ভয় ও পায় যদি তার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়। মেঘা কে চুপ দেখে আবির ও নিঃস্তব্ধত হয়ে যায়। মেঘার মনে পড়ে আবির একবার তাকে বলেছিলো যে, যদি একই কলেজে পড়ার সুযোগ হতো তাহলে দুইজন একসাথে একই বাসে পাশাপাশি আসবে। মেঘা, আবির এর কাধে মাথা রাখবে আর আবির তার চুল গুলো সরিয়ে দেবে যদিও তখন মেঘা এগুলোকে ঠাট্টার মতো করে উরিয়ে দেয় তবে কথাগুলো মনে করে মেঘা আবির এর কাধে মাথা রাখা অবস্থায় তার দিকে এক আবেগ ভরা দৃষ্টিতে তাকায়। দেখে আবির ও তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখ যেন অনেক কথা বলতে চাচ্ছে। আবির তার হাত টা নিয়ে মেঘার ভেজা চুলগুলো সরাতে লাগলো। এই মুহুর্তে যেনো কারোর মুখ থেকেই কোনো কথা বের হচ্ছে না। এক মায়া ভরা দৃষ্টিতে দুজন কেবল দুজনের চাহনিতে হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভেজা ঠোঁটগুলো কিছু না বলেই যেন সব বলে দিচ্ছে। তারা কিচ্ছুক্ষণ নিস্তেজ হয়ে কেবল একজন আরেকজন এর দিকে চেয়ে রইলো। মেঘা খুব চেষ্টার পর ও নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। সে আবির কে শক্ত করে ধরে তার ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোঁট স্পর্শ করে চুম্বন করে কিছুক্ষণ সময় ধরে। এখানে কেউ কাউকে জোর করেনি বা কেউ কাউকে বাধা দেয়নি। এই মেঘলা দিন এই হলো তাদের ভালবাসা এবং একজন আরেকজন এর প্রতি দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।তারা হারিয়ে ফেলেছিলো এই অঝোরো বৃষ্টির মহোমায়ায়। যখন তারা বুঝতে পারলো তাদের দূর্বলতার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে, একজন আরেকজন থেকে চোখ ফেরাতে লাগলো। মেঘা বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে আর বৃষ্টির মতোই তার চোখ থেকে কান্না ঝরতে লাগলো। কান্না টা ছিলো যতোটা না লজ্জার, তার চেয়েও বেশি রাগের ক্ষোভের। নিজের উপর ক্ষোভের। ক্ষোভ টা ছিলো এই কারণে যে শত চেষ্টার পর ও সে পারলো না আবির এর প্রতি তার অনুভুতি লুকিয়ে রাখতে।তাই তো!! আবির এর ব্যপার টা কম বেশি অনেকের এই জানা ছিলো যে তার কিছুটা হলেও মেঘার প্রতি এট্রাকশন আছে। কিন্তু মেঘার!!!দুজনই দু দিকে ফিরে আছে, যেনো তারা একজন আরেকজন কে চিনেই না। চারদিকে কেবল বৃষ্টির আওয়াজ। আর তারা দুজনই স্তব্ধ হয়ে আছে।তবে কি আসলেই একজন ছেলে আরেকজন মেয়ে কখনোই কেবল বন্ধু হয়ে থাকতে পারেনা!!

    7
    4 Comments
Skip to toolbar