-
♦♦ বইয়ের দিনগুলোতে ♦♦
হাসনাত সৌরভ
========================“বই, বই ভালো বই। বই নেবে গো কেউ, বই?”
“ও বইওয়ালা, বইওয়ালা, শোনো। তুমি কোথা থেকে আসছ গো?”
“আমি? আমি আসছি ঐ দূরের গাঁ থেকে। ঐ যে সবুজ পাহাড়, তার তলায় আমার গাঁ। গাঁয়ের গা ঘেঁষে ছোট্ট নদী তিরতির করে বইছে। নদীর পারে কাশের বন। নদীর হাওয়ায় কাশের বন সারাদিন মাথা দোলায়। কত ফুলের গাছ। সেসব গাছে কত ফুল ফুটে আছে। প্রজাপতি আর ভ্রমরের দল ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে উড়ে বেড়াচ্ছে। গাঁয়ের ছেলে মেয়েরা গাছের ছায়ায় ছায়ায় অলস হয়ে বসে বসে শুধু দেখে আর ভাবে, ভাবে আর লেখে। গাঁয়ে আমার সবাই কবি আর লেখক গো। উপচে পড়ছে। লেখা সব ছাপা হচ্ছে, পাতার পর পাতা। কিছু পাতা জমিয়ে বিকতে বেরিয়েছি গো। একদম টাটকা, তাজা, ঘরে পাতা বই। বই নেবে তুমি?”
“আমি? আমি তো বই নিতে পারিনে বইওয়ালা।”
“বই নেবে না? তো ডাকলে কেন বাছা খামোখা! বেলা যে বয়ে যায়। এতো বই! কখন বিকোবে তার কি ঠিক আছে! তা তুমি পড়তে পারো তো?”
হ্যাঁ, খুব পারি। তবে সে শুধু পড়ার বই। পড়ার বই বোঝো? আমার যে ভারী অসুখ করেছে, বইওয়ালা। বাকি সব বই পড়া যে আমার বারণ! সঅঅঅব। আমায় খেতে দেয়না, ঘুমোতে দেয় না, খেলতে দেয় না, বলতে দেয় না। শুধু পড়া আর পড়া। সে পড়া যে কি তেতো, তোমায় কি বলব!”
“আহা রে! এইটুকু বয়সে এতো কষ্ট তোমার বাছা! দাঁড়াও বইয়ের ঝোড়া গুলো নামিয়ে রাখি। এতো গরম বাছা, এতো রোদের তাত! তোমার কথাগুলি এতো মিষ্টি, এতো কোমল- প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। একটু বসি বরং। তা বাছা, তোমার অন্য বই পড়তে ইচ্ছে যায় না? কতো মজার বই আছে, কত হাসির গল্প আছে। কতো রাজা, রানী, দৈত্য, দানো, ভুত, প্রেতের রকমারি গল্পের বই আছে আমার ঝোড়ায়।”
“ইচ্ছে যায় না আবার! খুব ইচ্ছে যায়। যখন আনমনে এই জানালা দিয়ে চোখ চলে যায় দূরের ঐ আকাশে…..সাদা সাদা মেঘের সাথে আমিও যেন ভেসে যাই ঐ দিগন্তের সীমানা ছাড়িয়ে। ইচ্ছে করে পাখিদের মত ডানা মেলে মেলে উড়ে চলে যাই, যেদিকপানে যেতে মন চায়। কিন্তু… কিন্তু ওরা যে বকে বইওয়ালা। ওরা যে সময় নষ্ট করতে বারণ করে।”
“সময়? সময় কি গরুর দুধ না গাছের আম যে নষ্ট হবে! পড়ার বই তো সবই বাছা। পড়ার আবার বাছবিচার কেউ করে নাকি? সব বই পড়লে অমন ভেদবুদ্ধি হত না বাপু।”
“তুমি সত্যি বলছ, বইওয়ালা? তোমার কথা বিশ্বাস করতে খুব ইচ্ছে করছে। তুমি খুব ভালো বইওয়ালা, তুমি খুব ভালো। জানো, আমার সাথে এমনি করে কতদিন কেউ কথা বলেনি। এখানে সবাই ব্যস্ত, কারও হাতে নষ্ট করার মত একরত্তি সময় নেই।”
“আহা রে! শোনো বাছা, তোমায় আমার সব বই দিয়ে গেলাম। না না, কোনও পয়সা দিতে হবে না। ওদেরও বোলো পড়তে। দেখবে, অসুখ সেরে যাবে। সবার। এই…. এই নাও। এসব এখন তোমার। সব পড়ে শেষ করো। আমি আবার আসব, কেমন?”
@হাসনাতের হস্তাক্ষর
11 Comments-
গল্পের ঝুড়ি থেকে সেরা গল্পটি পেলাম আজ। পথে-ঘাটে এমন বইওয়ালাদের খুব দরকার। ভালো থাক বইওয়ালা, ভালো থাক শিশুগুলো।
প্রিয় গল্পকার, এই ব্যস্ত নগরে আমাদের দেখা হলোনা তাই কিছুটা মন খারাপ লাগছে, তবে ভালো লাগার মত সংবাদ হল রক্তশালুক বইটি সংগ্রহ করেছি। খুব আনন্দ নিয়ে পড়ছি প্রতিটি গল্প এবং প্রতিটি শব্দে আপনার উপস্থিতি অনুভব করি। গল্পের মাঝে আমাদের রোজকার দেখা হোক। ভালো থাকবেন, ভালোবাসা নেবেন।
-
@drako এমন ভালোবাসার জন্যই লিখতে ইচ্ছে করে। কোথাও না কোথাও আমাদের দেখা হোক
Friends
ফরহাদ আহমেদ
@forhad2004
সাব্বির হোসেন।
@shadowhunter3d
তাজুল ইসলাম তন্ময়
@tazulumgmail-com
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
জিকরুল ইসলাম
@zikrul
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
Manik Kumar Sanjowal
@manikkumarsanjowal
অসীম রহমান
@ashim_rahman
Prithula Zaman
@prithula


শুভকামনা