Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • Profile picture of নাদিম হোসাইন

    নাদিম হোসাইন

    4 years, 3 months ago

    ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখক ঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বার ০৪
    ——————————————————————————————————————

    লোকমান সাহেব গত দুই তিন দিন হল খুবই অসুস্থ । তার অসুখটা এখনও সারেনি। রফিক সাহেব তাঁকে পূর্ণাঙ্গ রেস্টে থাকতে বলেছেন। কিচ্ছু করার নেই। ম্যানেজার প্রতিদিন বাসায় আসছে। তাছাড়া লোকমান সাহেব খুব বুদ্ধিমান। তার ব্যবসা এর কোন প্রকার ক্ষতি হবে না। লোকমান সাহেব কে দেখার জন্য তার দুই নাতি, মেয়ে এবং মেয়ের জামাই এসেছে। সম্পূর্ণ বাসাটা একটা চমৎকার কোলাহলে ভরপুর। খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে নাতনি টাকে তার খুবই ভালো লাগছে। ভালো লাগার একটা বিশেষ কারণ রয়েছে। আর তা হলো নাতনিটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ালেখা করে। সে ভুল ইংরেজি বলে। শুনতে খুব ভাল লাগে। যেমন প্রথম দিনে সে বলে উঠলো,,
    => নানা ভাই । Your fever is coming…..
    সকলেই খুব হেসে উঠলো। তখন সে আবার বলল,,,
    => Why you are smile???
    এরকম আরও অনেক কথা। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়।
    => তোমাকে কে বলেছে ইংরেজিতে কথা বলতে।
    তখন সে বলে,,
    => স্কুলে মিস বলেছে ইংলিশে কথা বলতে।
    আর বড় নাতি হচ্ছে একটু গম্ভীর টাইপের। সে খুব কম কথা বলে। যে কোনো কথা সে ভেবে উত্তর দিবে। তবে সে মানুষের প্রচুর ভুল ধরে। সে হয়েছে অনেকটা তার বাবার মত। আজ সকালে আবির বলল,,
    => শান্ত নাস্তা করেছ।
    শান্ত মাথা উঁচু করে বলল, না।
    => কি ব্যাপার সকাল দশটা বাজে,, এখনো নাস্তা করোনি??
    =>সরি মামা!! কথাটা হবে তুমি নাস্তা খেয়েছো??
    আবির তখন চুপসে বলল,, সরি।

    লোকমান সাহেবের মেয়ের নাম হচ্ছে শাকিলা। সে দেখল যে তার বাবা বারান্দায় শুয়ে আছে ইজিচেয়ারে। সে বাবার পাশে গিয়ে বসলো। সে তার বাবাকে বললো,,
    => আব্বু তুমি কি ঘুমাচ্ছ??
    => না। কি বলবি বল।
    => না আব্বু। কিছু না। তোমার কি অসুখটা বেড়েছে??
    => না তেমন বাড়েনি। তবে রাতে ঘুমাতে পারি না। তাই সকালে প্রচন্ড খারাপ লাগে।
    => আব্বু ।। চলনা কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
    => নারে মা। সেই সময় নেই। দেখি কাল একটু অফিসে যাবার চেষ্টা করব।
    => তোমারি শরীর নিয়ে অফিসে যাবার কোন প্রয়োজন নেই।
    => নারে যেতে হবে। গত কয়েকদিন হল অফিসে যাওয়া হয়নি।
    =>আগে নিজে বাঁচো। পরে অফিসে যেও।
    লোকমান সব কিছুই বললেন না। চুপ করে রইলেন।

    সানু বেগম রান্নাবান্নায় খুব ব্যস্ত। মেয়ের জামাই নাতি-নাতনি সবার জন্য একটা না একটা রান্না আছে। সব মিলিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি।

    বিকেলে আবির বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বের হচ্ছিল। ঠিক তখন তার ভাগ্নি রিয়া বলছে,,
    => মামা, I go with you…
    আবির একটু হেসে বলছে,,
    => আমি তো ঘুরতে যাচ্ছি না।
    => জানিনা I go with you…
    => আহা ঠিক আছে। তুমি যাবে। কিন্তু তুমিতো মজা পাবে না।
    => পাব তুমি নিয়ে চলো না।
    => ঠিক আছে চলো।
    বাধ্যতামূলক আবির রিয়াকে নিয়ে বের হলো। রিয়া বলছে,,
    => Where we going??
    => We are goin to the beautiful place.
    রিয়া একটু চুপ করে কি যেন ভাবলো। তারপর বলছে,,
    => মামা প্লিজ রাগ করোনা, একটা প্রশ্ন করি।
    => করো।
    => আচ্ছা মামা Place কথাটার মানে কি??
    => ও,,place কথাটার অর্থ হচ্ছে স্থান বা জায়গা।
    রিয়া আর তেমন কিছু বলল না। রিয়া আর আবির রিকশা থেকে নামল। রিয়া দেখল তার মামার মত কিছু ছেলে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আবির সামনে এগিয়ে গেল তারপর বলছে,,
    => কিরে তোরা এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস।
    একটা ছেলে বলে উঠলো,,
    => কি আর করব। তোর আশায় পথ চেয়ে ছিলাম।
    শুকনা পাতলা একটা ছেলে বলে উঠলো,,
    => কিরে দোস্ত। এটা কে??
    আবির উত্তর দিল,,
    => এ হচ্ছে রিয়া। আমার ভাগ্নি।
    পাশ থেকে চুল বড় বড় এই টাইপের একটা ছেলে বলল,,
    => দোস্ত। ওই টা অর্পিতা না।।
    আবির মাথা ঘুরিয়ে দেখল আসলেই তো অর্পিতা। তার বুকের ভিতর একটা খুশি আর অন্যরকম এক আনন্দ ভর করছে। কিন্তু অর্পিতা এই সময় এখানে একা। সে বুঝে উঠতে পারল না। তাই সে সামনে এগিয়ে গেল। রিয়া ও তার মামার পেছনে নিল। আবির পেছন থেকে বলল,,
    => অর্পিতা তুমি এখানে!! এই সময়!!
    অর্পিতা পেছনে ঘুরে দেখল আবিরকে। সেও কিছুটা অবাক হল। তারপর সেই কর্কশ কন্ঠে উত্তর দিল,,
    => কেন?? আমি কি এখানে আসতে পারি না??
    আবিরের তখন মুখটা গোমরা হয়ে গেল। সে গোমরা মুখ নিয়ে বলল,,
    => না। আমি তা বলিনি।
    => তুমি কি আমায় সন্দেহ করছো??
    => না ছিঃ।। কক্ষনো না।।
    অর্পিতা রিয়ার দিকে খেয়াল করল।। তারপর সে বলছে,,
    => এটা কে??
    আবির সেই গোমরা মুখে নিয়েই বলছে,,
    => আমার ভাগ্নি।
    অর্পিতার মুখের কোনে ছোট একটা হাসি নিয়ে বলছে,,
    => তোমার নাম কি??
    অর্পিতাকে রিয়া বলল,,
    => আমি কি বাংলায় বলবো নাকি ইংলিশে বলব??
    অর্পিতা রিয়াকে কাছে টেনে নিল। তারপর বলছে,,
    => ইংলিশে বল শুনি।।
    => My name is Riya.
    => বাহ খুব সুন্দর নাম তো। কোন ক্লাসে পড়ো তুমি।।
    => I read in class two.
    => তাই নাকি। Very good. আচ্ছা তোমার মামা টা কেমন??
    => সত্যি বলব নাকি মিথ্যা বলব!!
    => আচ্ছা মিথ্যা বলো।
    => আমার মামা অনেক ভালো।।
    অর্পিতা প্রচন্ড জোরে হেসে উঠলো। সেই হাসি থামতেই চায় না। অর্পিতা হেসে আবার বলছে,,
    => আর সত্যিটা কি হবে।
    => সত্যি হলো মামা অনেক পচা। কোথাও নিয়ে যেতে চায় না। শুধু একা একা ঘুরতে বের হয়।
    অর্পিতা আবিরের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকলো। আবিরের ঠোটের কোনায় হাসির রেখা ফুটে উঠলো এবং সে মুগ্ধ চোখে অর্পিতার এই হাসি উপভোগ করতে থাকলো। সে ভাবছে অর্পিতা যদি সব সময় এই হাসিটা মুখে নিয়ে তার সাথে কথা বলতো। তাহলে হয়তো তার চেয়ে সুখি আর কেউ হত না।।।।

    6
    9 Comments
Skip to toolbar