-
আমি নিজেই আমার দুর্বলতা হবো!
—————————————————-অভ্যাসবশতঃ প্রতিবেলা আয়নায় যে আমাকে দেখি—
একে কখনো একান্ত করে দেখিনি, একান্ত করে ভাবিনি;প্রত্যেকদিন যে চায়ের কাপটি নিয়মমতো অভ্যাসের চোখে,
হাতে তুলে নিই, সেই হাতটিকে কখনো ভালো করে দেখিনি—যে চোখজোড়া দিয়ে দূর-দিগন্তের রোমাঞ্চরাঙা গোধুলি,
আসন্ন শীতলসন্ধ্যা, স্বর্ণরঙের নরম সকালবেলা দেখেছি,–
সেই চোখদু’টিকে কোনোদিন ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখিনি;দু’পা আমাকে নিয়ে গেছে নির্দ্বিধায় সবখানে, আমার মন যখন
চেয়েছে;–
কখনো এই পা’কে মমতার স্পর্শে হাত বুলিয়ে দিইনি!সফলতার কাগজগুলি যে আঙ্গুলে তুলে নিতাম, সেই আঙ্গুল
ক’টিকে কখনো আদরও করিনি—যে নাক আর কান আমাকে সমস্ত সৌরভ, সুগন্ধ, সুমিষ্ট শব্দ, সূর
উপভোগ করতে সাহায্য করতো, এদের কখনো আমি ফিরেও চাইনি—খাদ্যবস্তুর সকল স্বাদ যে নিষিমে আমাকে চিহ্নিত করে দেয়,
শাদা দাঁতেরা শক্ত কিছুকে চিবিয়ে খেতে আমাকে অগুণনবার
সেবা করেছে;
—-এদের আমি কখনোই মর্যাদাবান মনে করিনি; —মাথার ভেতর তীব্র অন্ধকারে বসবাস করে যে কিংম্বদন্তি মস্তিষ্ক,
একে আমি কখনো চোখে দেখিনি, যে আমাকে সমস্ত স্বপ্ন, চিন্তা,
আবেগ, অনুরাগ, ভালোবাসা, মানবিকতার অনুভূতি উপলব্ধি
জাগিয়ে তোলে— একে মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানানোর কথা
কখনো আমার মনে পড়েনি!আমার ভেতরের আমাকে কখনো আমার মনেই পড়েনি!
—-আজ থেকে আমি নিজেই আমার দুর্বলতা হবো!————————————–
9 Comments-
মাঝে মাঝে মিথের দর্শন ভালো লাগে।
মানুষ অভ্যাসবশতঃ চেতনা বা অবচেতন মনে হলেও জীবনতৃষ্ণা বা নিজেকে নিয়ে এতোটা ব্যস্ত-চঞ্চল আর আত্মনিমগ্ন থাকে যে, — তার খুব সহজে মনে পড়ে না– আসলে সে একদিন থাকবে না।ধর্মপুত্র (সত্যনিষ্ট) যুধিষ্ঠিরকে জিজ্ঞাসা করা হয়ে ছিলো– “তাঁর কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় কোনটি? উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেন— মানুষ যে মরণশীল, এই খবরটিই তার মনে না পড়া!”আত্মপ্রেম, বা আত্মপ্রেমী শব্দটা কিছুটা আত্মকামী ঘেঁষা অর্থে ব্যবহৃত হয়।নিজের প্রেমে মোহিত হয়ে নিজেকে কামনা করা একটি আদিরসের ব্যাপার! কামনা কোনো চাওয়াকে তীব্র করে, গাঢ় করে তোলে। কামনা শূণ্য চাওয়া বক্তব্য শূণ্য কথাবার্তার মতো। অসম্ভব ভাবে নিজের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়াটা আবার মনোবৈকল্যের দিকে প্রতি ইঙ্গিত করে।যেটি নার্সিসিষ্টিক্ / Narcissistic বলে পরিচিত।
পুরাকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আধুনিককালেও নারী যে আয়নার সামনে বসে নিজেকে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে, স্বাভাবিকভাবে এটি নারীর নিজের প্রতি নিজেরই রুপবোধের প্রতি কৃতজ্ঞতা বা প্রেম! বিপরীত লিঙ্গের কাছে নিজেকে আকর্ষণীয়া করে তোলাই একান্ত কাম্য! এটি কড়া দাগের তার কাছে প্রাকৃতিক অনুসঙ্গেরও এক ইন্ধন!এখানে সে নিজেকে সর্বাংশে ভাঙ্গতে পারে না। সে শুধু রুপ মোহের নির্যাস গ্রহণ করে। সৌন্দর্যের শিল্পরুপ হয়তো সে খুঁজতে যায় না। সেটি খুব প্রয়োজনও নয় নারীর জন্য। সে শুধু নিজের প্রাত্যহিক রুপের খবরাখবর নেয়।
আমি এখানে নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। বহু মানুষের মতো সমগ্র জীবনেও নিজেকে মনে না পড়ার অকৃতজ্ঞতা থেকে নিজেকে মুক্ত করার একটি চেষ্টা ছিলো….আমাকে ভাঙ্গলেে— অত্যাবশ্যকভাবে আসবে আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গদের কথা! এইগুলির অমূল্য অবদানের কথা। আমি নিজেকে ভালোবাসি, এই অভিব্যাক্তিকে কাব্যরুপে প্রকাশিত করলাম।….
n.b.– Narcissi, –যে গ্রীক যুবক, নিজের প্রতিমূতির প্রেমে পড়ে মারা গিয়েছিলো।

অনুপ দে।
লেখালেখি: / লেখার ধরণ- প্রগতিশীলতা; আধুনিকতা।
- লেখক জীবন আমাকে খুব টানে!
- লেখালেখির মনটা, ব্যাক্তি জীবনে সবাই খুঁজে পাই না!
- আমি গল্পের মানুষ, গল্প লিখে সুখ পাই।গল্পে নিজেকে তুলে ধরা যায়।
- একটা গল্পে অনেকগুলো চরিত্র থাকে, --কথক কিন্ত একজন! সব চরিত্রই গল্প-কারের ভেতর থেকে উৎসারিত! মজা হচ্ছে,- গল্পকার সব চরিত্রকে ছুঁয়ে দেখেন, চিনেন!
Email : [email protected]
Friends
রাহেনা বেগম
@rahena-begum
আলতাফ হোসেন উজ্জ্বল
@uzzal6821
Payel Akhter Jyoti Nur
@payel
Drako Shajib
@drako
MD.RAKIB HASAN ONTO
@rhonto27
Zahidul Jamy
@zahidul
অসীম রহমান
@ashim_rahman
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
এড: সাজেদুল হক টুটুল
@sazedul


নতুনভাবে নিজেকে নিয়ে ভাববার খোরাক পেলাম যেন। অসাধারণ!