<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Drako Shajib | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/drako/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/drako/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Drako Shajib.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 13 Jun 2026 13:43:22 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">31063436579e782fc0ec2938431abee8</guid>
				<title>** গল্প - অবন্তিকা খুন…!!

ভালোবাসলে মানুষ কি না করতে পারে?? প্রয়োজন মনে করলে খুন-টুন করতেও বাঁধে না। কিন্তু, কেউ কি ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষটিকেই  খুন করে?? তো গল্পের টুইস্ট প্রথমেই রিভিল করে দিলাম এই বিশ্বাস থেকে যে গল্পটা পড়তে পাঠক আরো বেশী আগ্রহ অনুভব করবে।

সতর্কবার্তাঃ
তো, আমার বাবা, Mr. “Father of Wisdom” একদা বলেছিলেন, 
“বাছা… প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছুই ক্ষতিকর, হউক সে ভালোবাসা।” 


অবন্তিকার মত সুন্দরীর জন্য এ শহরে রোজ হাজারটা ছেলে খুন করতেও পারে, আবার খুন হতেও দ্বিধা করে না। তবে, সত্যি কি না জানিনা অনেকেই বলে, যে তাকে খুন করতে পারে তার প্রেমেই পড়েছিল অবন্তিকা।

তো চলেন আজকে, লাভ স্টোরিটা শুনাই…


অবন্তিকা সবে ঘুম থেকে উঠে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েছে। ব্যালকনির সামনে যে গলিটা চলে গিয়েছে বড়রাস্তার দিকে, সে রাস্তা ধরে একটা হ্যাংলা পাতলা ছেলে এগিয়ে আসছে একগাদা শিমুল ফুল হাতে।

অবন্তিকা জানে এই ফুলগুলো তার জন্যে, যদিও এখন পর্যন্ত ছেলেটি সরাসরি ফুলগুলো অবন্তিকার হাতে দেয়নি। তবে, বেশকিছুদিন ধরে ছেলেটি নিয়মিত হরেক রকম ফুল নিয়ে আসছে। গলির মোড়ে ঠিক অবন্তিকার বারন্দার বিপরীতে, শতবর্ষ পুরোনো লোহার মরচে ধরে যাওয়া কারেন্টের খাম্বার কাছে হাম্বার মত দাড়িয়ে থাকে সে, বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে অবন্তিকার বারান্দার দিকে, তারপর অবন্তিকার সাথে দেখা হওয়া মাত্র’ই বিশ্রী দেখতে, হলদে হয়ে যাওয়া ৩২ দাঁত বের করে এক বিস্তীর্ণ হাসি দেবে। যে হাসি দেখে, শহরের সবথেকে কুৎসিত মেয়েটিও এই ছেলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। সেখানে, অবন্তিকার এই ছেলের প্রেমে পড়ার তো কোন প্রশ্ন’ই আসে না।

তবে, ছেলেটার সাহস থাকুক বা না থাকুক, বুক ভরা আশা আছে। সেই আশা থেকে, ফুলগুলো প্রতিদিন রেখে যায় গেটের সামনে থাকা অব্যবহৃত চিঠির বাক্সের উপর।
     
আজ ছেলেটা গলির মোড়ে আসতেই একটা ছোট খাট জটলা দেখা গেল তাকে ঘিরে, এলাকার ছেলেপেলে হয়ত আজ দায়িত্ব নিয়ে ছেলেটার মাথা থেকে প্রেম-ভালোবাসার ভূত ছাড়াবে। তবে, ছেলেটি হয় বোকা নয় বেপরোয়া, তাই হয়ত, আসন্ন বিপদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকেও রোদ্রের মত প্রখর ঝলমলে চোখে চেয়ে আছে অবন্তিকার দিকে। কেমন যেন এক শুন্য চাহনি ছেলেটির দৃষ্টিতে, যে চাহনিতে দৃষ্টিপাত হলেই মনে এক শুন্যতা তৈরী করে। 

অবন্তিকা এই শহরের মেয়ে, ইট পাথরের মত শক্ত তার হৃদয়। তাই নিজেকে খুব দ্রুত সামলে নিয়ে, এক অবজ্ঞাভরা কটমটে টাইপ চাহুনি ফিরিয়ে দিয়ে পর্দার আড়ালে চলে গেল।

সেই উপেক্ষার উদাসীন দৃষ্টি কার কাছে কেমন ঠেকলো জানিনা তবে গল্পকার হিসেবে সেদিন আমি খুন হয়েছিলাম, হয়ত আজো আমার লাশ খুজে পাওয়া যাবে মনসুরাবাদের সেই গলিতে।


২.
অবন্তিকা ভার্সিটি যাওয়ার জন্য বাসার নিচে, রিক্সার জন্য দাঁড়াতেই ছেলেটি এগিয়ে আসছে ফুলের গোছা হাতে নিয়ে। 

ছেলেটার ভীরু পায়ে এগিয়ে আসা দেখতে দেখতে অবন্তিকার মন তার ব্রেইনকে বলছে, ছেলেটার আসলেই ভয় ডর বলতে কিছু নাই। এতগুলা ছেলেপেলের বাঁধা দেয়ার পরেও এভাবে একটা মেয়ের বাসার নিচে ফুল হাতে আসতে পারে ক&#039;জন?

অবন্তিকা মনে করার চেষ্টা করছে, এই ছোট্ট জীবনে সে কতগুলো দীর্ঘ চিঠি পেয়েছে, যে চিঠির প্রতিটি অক্ষর কোন না কোন প্রেমিকের প্রেম নিবেদন করেছে। অবন্তিকা ঠিক জানেনা, তার বাসার সামনে এই নির্বোধ ছেলের আগে আরো কতজন ঐ একি খাম্বার নিচে হাম্বার মত দাঁড়িয়ে থেকেছে, এলাকার ছেলে-পেলের সাথে মারামারি করে, হাল ছেড়ে দিয়েছে।

এতসব ভাবতে ভাবতে অবন্তিকা দেখলো ছেলেটা তার পাশ কাটিয়, তার’ই বাসার গেইট দিয়ে ভেতর চলে গেছে।  


অবন্তিকা বেশ অবাক হল প্রথমে, তারপর নিজের ভাবনাকে বেশী গুরত্ব দিচ্ছে ভেবে আবার আপন মনেই বলে উঠল, এইসব ফালতু বিষয় পাত্তা দেয়ার টাইম নাই… এমনিতেই দেরী হয়ে যাচ্ছে।


অবন্তিকা রিক্সা পেতেই উঠে পড়ল। একবারো পিছনে না তাকিয়ে সোজা চলে গেল জাহাঙ্গীরনগর। আজ তার ফিজিক্সের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ের উপর ক্লাস নেবে আসাদ স্যার। যদিও তার প্রতিটি ক্লাস’ই কেন জানি খুব গুরুত্বপূর্ণ, ভীষণ দরকারি।  


৩.
বাসায় বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিলেন রেণু। একটা বিবর্ণ, ফকির টাইপ ছেলে এক গোছা  টকটকে লাল ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে দেখে, বেশ অবাক হলেন। ফুলগুলো তার ভীষণ চেনা, কিন্তু শিমুল না পলাশ ঠিক মনে করতে না পারলেও, বিশেষত্বহীন এই ছেলের ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে তার সবথেকে প্রিয় মানুষটার কথা মনে পড়ে গেছে। রেণু মোলায়েম স্বরে জিজ্ঞেস করল, কি চাই?


- ছেলেটি বলল, কিছু ফুল এনেছিলাম আপনি কি রাখবেন?
- রেণু অবাক হয়ে আবার জিজ্ঞেস করল, তুমি কি ফুল বিক্রি কর?
- ছেলেটি এক চিলতে হেসে বলল, হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। এই শহরের ফুলের ব্যবসা খুব লাভজনক, কোন ট্যাক্স দিতে হয়না তাই খুব অল্প দামে দিচ্ছি।
রেণুর অবাক ভাব এখনো কাটেনি। সে ফুলগুলো একবার দেখল। চোখে আগুন ধরে যায় ফুলগুলোর রূপে। কত দাম দিতে হবে?
অদ্ভুত ছেলেটি এবার মুখের হাসি চট করে লুকিয়ে বলল এক গ্লাস ঠান্ডা পানি হলেই সব দিয়ে দেব।


রেণু এবার সত্যি বিভ্রান্ত হল, অজানা এক ভয় তার বুকের ভেতর জমতে শুরু করেছে। আবার ছেলেটি একবার ভালো করে দেখল রেণু, তারপর শীতল স্বরে বলল, ভেতরে এসো।


সুন্দর ওয়াল আর্ট দিয়ে চমৎকার সাজানো ড্রয়িং রুমে ছেলেটিকে বসিয়ে রেখে ফুল গুলো নিয়ে চলে গেল রোজিনা।


কিছুক্ষণ পরেই একগ্লাস ঠান্ডা পানির সাথে দুই টুকরো পনির একটা পিরিচে সজিয়ে ছেলেটির সামনে দিল এক পিচ্চি টাইপ গৃহ-পরিচারিকা। মেয়েটি খাবার দিয়ে চলে না গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিরক্ত চোখে ছেলেটিকে দেখছে। ছেলেটি কাজের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে একবার হাসতেই মেয়েটি বলল হাসেন কেন? পানি-পুনি খাইয়া তারাতাড়ি বিদায় হোন। আর খালাম্মায় কইছে এই বাড়ির ত্রিসীমানায় আর কোনদিন আসতে না। এই নেন আপনার ফুলের দাম। বলে মেয়েটি অনিচ্ছা স্বত্তেও একটা ৫০০ টাকার ভাজ করা নোট টেবিলে রাখল।

ছেলেটি টাকাটা নিয়ে উল্টে - পাল্টে দেখে মেয়েটিকে বলল, আসল তো!
মেয়েটির চেহারায় এবার বিরক্তি ভাবটা আরো প্রবল, উত্তরে বলল,  নকল টেকা পামু কই?
অদ্ভুত ছেলেটি টাকাটা খুশি মনে পকেটে রেখে দিয়ে বেশ আরাম করে পনির খেতে খেতে চিন্তা করছে পানির সাথে পুনির যে সম্পর্ক অবন্তিকার সাথে তার সেই সম্পর্ক গড়ার জন্য আর কি কি করা যেতে পারে?

(গল্প সবে শুরু...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246213/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Apr 2026 04:45:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>** গল্প &#8211; অবন্তিকা খুন…!!</p>
<p>ভালোবাসলে মানুষ কি না করতে পারে?? প্রয়োজন মনে করলে খুন-টুন করতেও বাঁধে না। কিন্তু, কেউ কি ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষটিকেই  খুন করে?? তো গল্পের টুইস্ট প্রথমেই রিভিল করে দিলাম এই বিশ্বাস থেকে যে গল্পটা পড়তে পাঠক আরো বেশী আগ্রহ অনুভব করবে।</p>
<p>সতর্কবার্তাঃ<br />
তো, আমার বাবা, Mr. “Father of Wisdom” একদা বলেছিলেন,<br />
“বাছা…&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246213"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246213/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">807a560200b299578abc636ce949f8b3</guid>
				<title>কেমন গেল পহেলা/পয়লা বৈশাখ?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/244718/</link>
				<pubDate>Tue, 14 Apr 2026 22:22:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কেমন গেল পহেলা/পয়লা বৈশাখ?</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0c3340ad118a7ec8994507af4fe0144f</guid>
				<title>Drako Shajib and Kobi Alom are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/216297/</link>
				<pubDate>Wed, 26 Jun 2024 12:12:06 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">21f467d8dd94f7924c2c9dd647cd17f7</guid>
				<title>Drako Shajib and মোঃ আব্বাস উদ্দীন ধ্রুব। are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/215189/</link>
				<pubDate>Tue, 28 May 2024 10:40:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5e0449b1a87052ebc248040468867b01</guid>
				<title>Drako Shajib and রাহেনা বেগম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/214201/</link>
				<pubDate>Sun, 12 May 2024 04:10:32 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">703c8dcab2116dffa105b8ed6afa3fb1</guid>
				<title>Drako Shajib and স্নিগ্ধ ধূম্রাক্ষর--- are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/211789/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Apr 2024 06:57:29 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">492b14c8234442b4bd35a9f5abf98b12</guid>
				<title>Drako Shajib and মারুফ হাসান মাইয়ুফ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210104/</link>
				<pubDate>Sat, 09 Mar 2024 20:40:29 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2eeb9125db39bc9dc50f2bfed23425bc</guid>
				<title>#বই মেলা ২০২৪

একুশে বই মেলার একটা অন্যরকম ভালো ব্যাপার আছে। শহরে আর যত মেলা আছে, সেসব মেলায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্তির চূড়ায় উঠে তারপর টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। 
এদিকে, একুশে বই মেলায় শূন্য পকেটে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে সমস্ত মেলার আনন্দ উপভোগ করে ঘুরে আসা যায়। ঠিক গ্রামের মেলাগুলোর মত।   

আমি গত শনিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারী শ্যামলদার নিমন্ত্রণ পেয়ে ভর দুপুরে একাই বই মেলার দিকে রওনা দেই। ইচ্ছা হয় মেট্রোরেলে চড়ি। মিরপুর দশের স্টেশনে রেলের মতই লম্বা লাইনে টিকিটের জন্য দাঁড়াই। কয়টা বাজে দেখতে মুঠোফোন বের করে দেখি সময় গড়িয়ে তখন তিনটা আট। 

মেট্রো রেলে ওঠার এইটা আমার দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা হলেও অটোমেশন মেশিনের সাহায্যে টিকিট কাঁটার প্রথম অভিজ্ঞতা। তাই মেশিনের ব্যবহারবিধি শিখতে সামনের জন কিভাবে টিকিট নেয় সেটা উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। প্রথমে যে একক যাত্রা না একাধিক যাত্রা অপশন সিলেক্ট করতে হবে এইটা জানতাম না। তারপরে পিছনের একজন সত্যি সত্যি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এরপরে আমার গন্তব্য নির্বাচন করি ঢাকা ইউনিভার্সিটি। টিকিট মূল্য ৫০ টাকা। টিকিটের দাম দেয়ার জন্য মেশিনের নির্ধারিত জায়গায় প্রথমবার ২০ টাকা রাখতেই সাইই... করে টাকা টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়বার টাকা আর নিতে চায়না। এবার পিছন থেকে সাহায্যের বাণী ভেসে আসে। পরে, আমি ঠিক জায়গাতে টাকা ধরতেই আমার টিকিট বুঝে পাই। 

টিকিট নিয়ে প্রথমে ভুল দিকে উঠে যাই। কিছু কিছু ভুল করতে ভালো লাগে, এই ভুলটি সেরকম। এই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার পাশাপাশি পুরো স্টেশন ঘুড়ে দেখার একটা সুযোগ পেয়েছি। উত্তরা থেকে এক ঝাঁক যাত্রী নিয়ে ট্রেন আসে। পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে মেট্রো রেলের স্বচ্ছ কাঁচের জানালায় ধূসর শহরটাকে দেখতে দেখতে যখন শাহাবাগ আসি তখন, সামনের সিট খালি হয় দেখে বেশ বিরক্ত হই। তবে, মেট্রোরেলের সব থেকে ভালো দিক হল একদম ধুলাবালি ও দূষণমুক্ত। ঢাকা ভার্সিটির প্লাটফর্মে যখন নামি তখন চারটা বেজে গেছে। 

শ্যামলদাকে পাই কলা ভবনের তিনমূর্তির সামনে। শ্যামলদা তাঁর নামের মতই চমৎকার একটা মানুষ। ভীষণ গাছ ভালোবাসে। &#039;অভয়ারণ্য&#039; নামে তাঁর একটি সংগঠন আছে। সে ব্যাপারেই ভার্সিটির কিছু ছাত্র ও তাঁর বন্ধু রথিনদাকে নিয়ে সভা করছিল ঘাসের উপর বসে। সেখানে &#039;বই বিহঙ্গ&#039; সম্পর্কে জানতে পারি। 

শ্যামলদার মেলা থেকে বই কিনে দেবার কথা থাকলেও সভা শেষে লোকটা তাঁর বন্ধুকে সাথে নিয়ে পল্টি মারে। তবে, সঙ্গী হিসেবে পেয়ে যাই সদ্য পরিচিত বন্ধু সৌরভকে। ওর মত চৌকষ আর সার্প ছেলে গোয়ান্দা গল্পে পাওয়া যায়। ও একটা বইয়ের নাম বলে, অন্বেষা প্রকাশনীর &quot;হেমলকের নিমন্ত্রণ&quot;। বইটার খোঁজ করতে অন্বেষা প্রকাশনীর স্টলেও যাই। সেখান থেকে জানতে পাই বইটা স্টক আউট। দেখার জন্যেও একটা কপি অবশিষ্ট নাই। তবে, আগামীকাল আবার পাওয়া যাবে এই আশ্বাস নিয়ে আবার দুইজনে হাঁটা শুরু করি। এক স্টলে চোখে পড়ে কবি পাবলো নেরুদার একটা কবিতা বই। মনে পড়ে যায় “তুলট” মঞ্চবন্ধু &#039;বিক্রমাদিত্য ১৩&#039; এর কথা।        

তারপর, কি একটা বই খুঁজতে সৌরভ চলে যায় বাংলা একাডেমির স্টলে, আর আমি যাই আমাদের “তুলট” মঞ্চগুরু, প্রিয় কবি &#039;আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির&#039; এর লেখা কবিতার বই ‘জলরঙের স্মরণ তিথি’ খুঁজতে হাওলাদার প্রকাশনীতে। সেখানে কবিকে না পেয়ে কবিতার বইটি সঙ্গে নিয়ে নেই।  

আরো কিছু নির্দিষ্ট স্টলে যাওয়ার প্লান থাকলেও সময় ফুরিয়ে আসে। মেলা থেকে বেড়িয়ে নীলক্ষেতের দিকে হাঁটতে শুরু করি। নীলক্ষেতে আসতেই পুরনো বইয়ের গন্ধ নাকে লাগে। &#039;Enid Blyton&#039; এর লেখা গল্পের বই &#039;The Secret Seven&#039; আর &#039;The Caravan Family&#039; কিনি।

অসংখ্য বই কেনার ইচ্ছা থাকলেও মোট তিনটা বই কিনতে পেরে মনে এক অন্যরকম সুখ লাগে। এই সুখের কথা লিখেও সুখ পাচ্ছি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/209689/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Feb 2024 13:36:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>  <a href="https://toulot.com/n_astream/?s=%23বই" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#বই</a> মেলা ২০২৪</p>
<p>একুশে বই মেলার একটা অন্যরকম ভালো ব্যাপার আছে। শহরে আর যত মেলা আছে, সেসব মেলায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্তির চূড়ায় উঠে তারপর টিকিট কেটে ঢুকতে হয়।<br />
এদিকে, একুশে বই মেলায় শূন্য পকেটে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে সমস্ত মেলার আনন্দ উপভোগ করে ঘুরে আসা যায়। ঠিক গ্রামের মেলাগুলোর মত।   </p>
<p>আমি গত শনিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারী শ্যামলদার নিমন্ত্রণ পেয়ে ভর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-209689"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/209689/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>35</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">565d5615551c834591f6802fe0a28de8</guid>
				<title>ক্ষ্যাপা বিষুর পাঠশালা

[ ভালো কাজ করাটা কঠিন তাঁর থেকে কঠিন ভালো কাজকে সঙ্গ দেয়া। ]
——————————————————————————————————————


১.
মস্তবড় এক দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাঁঠালিচাঁপা গ্রাম। কাঁঠালিচাঁপা গ্রাম আশেপাশের আট-দশটি গ্রাম থেকে সমৃদ্ধ। গ্রামে একটা ছোট হাসপাতাল, একটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটা পোস্ট অফিস, একটা কালী মন্দির ও একটা চার্চ রয়েছে। গ্রামের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া অপ্রশস্ত সড়ক এখনো বেশ ভালো। রাস্তার সাথে লাগোয়া সরু খাল বন্ধুর মত পিছু নিয়েছে বড় নদী পর্যন্ত।
 
কাঁঠালিচাঁপা গ্রামে এত কিছু থাকা সত্ত্বেও কিছুই নেই। গ্রামের নাম কাঁঠালিচাঁপা হলেও এই গ্রামের কয়েক প্রজন্ম এই ফুল দেখেনি কোথাও। হাসপাতাল থাকলেও ডাক্তার ও রোগী কোনটাই নাই। আগে এক সময় ডাক্তার আসতো শহর থেকে। তখন চোখের চিকিৎসার জন্য দূর দূরান্ত থেকে অনেকে আসতো প্রতি শনিবার। স্কুলটির বেশ সুনাম হয়েছে এখন, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও অনেক। তবে প্রাথমিক শিক্ষার পর বেশীরভাগ শিক্ষার্থী হাইস্কুলের দিকে না গিয়ে আবার ফসলের মাঠে দিকে ফিরে যায়। মন্দিরটি বেশ পুরনো ও জরাজীর্ণ, চার্চটি অবশ্য এখনো তার লাবণ্য ধরে রেখেছে। 

এই দিককার মানুষেরা বেশীরভাগ’ই কৃষি নির্ভর। সব মৌসুমেই ধান-পান চাষ হয়, তবুও গ্রামের মানুষদের অভাব দূর হয়না। প্রতিবছর’ই মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। ধান চাষ করে যা ফসল পাওয়া যায় তার থেকে খরচা হয় বেশী, মাঝে দিয়ে অক্লান্ত শ্রম সব যায় গচ্চা। তাই আজকাল ছেলেপেলেরা কোদাল-কাস্তের পাশাপাশি বই, পেন্সিল তুলে নিয়েছে। কেউ কেউ চাষবাস ছেড়ে দিয়ে শহরে গিয়ে উঠেছে।

অভাব-অনটন, আশা-নিরাশা নিয়ে অনেকে এখনো গ্রাম আঁকড়ে বসে আছে। তাদের জীবন বড় অদ্ভুত। ঘরে ধান ফুরালেও তাদের মুখের পান ফুরোয় না। বিড়ি একটার পর একটা জ্বলতে থাকে ঠোঁটের গোঁড়ায় তার সাথে সকাল-সন্ধ্যে পাল্লা দিয়ে চলে চা।  
 

২.
এ… কুডি যাইসনা… 
শোন… শোন… ভালো কই। যাইসনা বাবা। ওরে কেউ থামাও। এই পোলাডা যে আমার পিত্তি জ্বালাই খাইলো।
 
বিষুর কানে এসবের কিছুই পৌঁছায় না। শরৎ’এর পেজা মেঘ উড়ে চলেছে দিগন্তের দিকে। তার পিছু পিছু ছুটে চলেছে সে। 

বিষু বরাবর’ই ভীষণ ক্ষ্যাপাটে। তাই বিষুর মা চণ্ডীর কথা কেউ কানে নেয় না। উৎসুক পড়শীরা একবার বিষুর চলে যাওয়া আর একবার চন্ডীর উগ্রমূর্তি দেখে যে যার কাজে মন দেয়। মায়ের ঝাঝানি খেয়ে বিষুর ছোট বোন বীণা অনিচ্ছা স্বত্তেও রাস্তা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসল।
- কি রে পাইলি তোর দাদারে?
- না মা। দাদায় নাকি হাঁটতে হাঁটতে পূব মুই গ্যাছে।
- এহন ক্যামনডা লাগে। ঘরে এক দানা চাউল নাই। ধান কয়ডা কইছিলাম পোলাডারে ভাঙ্গাইয়া আনতে। বস্তায় ধান ভরতে ভরতে পোলাডার মাথায় আবার কোন ক্যারা ওডলো কেডা জানে? 
চন্ডী আপন মনেই কথাগুলো বলছিল। কথাগুলোর ভার বীণা এখনো খুব একটা বইতে শেখেনি। সে বলল, 
- মা আমি রেণুগো বাড়ি যাই?
- ওগো বাড়িতে কি আবার? ঐদিকে গ্যালে ঠ্যাং ভাইঙ্গা দিমু। এখনি কোলায় যাবি। যাইয়া তোর বাবুরে খবর দে।
- বাবুরে কি কমু?
- যাইয়া ক’ এহনি বাড়ি আইতে। ধান কয়ডা ভাঙ্গাইয়া দিয়া যাক। নাইলে আজকে আর গেলা লাগবেনা?

বিষণ্ণমুখে বীণা ফসলের মাঠের দিকে হাঁটা শুরু করল। বীণার ভোঁতা মুখ দেখে চণ্ডীর মেজাজ আবার বিগড়ে গেল। রোদে পোড়া মায়াহীন মুখটা তৃষ্ণা আর ক্লান্তিতে সত্যি সত্যি এবার রণচণ্ডী রূপ ধারণ করল। মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলল, কামের কথা শুনলেই তো তোগো মাথায় ঠাডা পরে। মরলে পরে ঝোলা ভইরা খাইস। 

মায়ের কথা গায়ে না মেখে বীণা গ্রামের ছায়াঘন মেঠো পথ দিয়ে আনন্দে হেঁটে চলেছে। তেঁতুল তলা দিয়ে যাওয়ার সময় একটু থামল সে। আকো-পোকো দুই ভাই মার্বেল দিয়ে নাইকামুঠ খেলছে। দুইটা পাকা তেঁতুল তাদের পাশে অযত্নে পড়েছিল। বীণা তেঁতুল দুটি কুঁড়িয়ে নিয়ে তার কোঁচায় বাঁধল। তারপর, কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে খেলা দেখে মনে কিছুটা সংশয় নিয়ে বলল, ‘পোকাদা তুমি জেতলে মোরে কয়ডা বেল দেবা কও?’ 
উত্তরে, “গেলি এইহান থিকা।”বলেই পোকো চোখ রাঙাতেই বীণা একছুট দিল। 

রোদের তেজ অনেক, কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক তাকাতেই বীণার চোখে জল চলে আসলো। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ খাঁ খাঁ করছে। বছরের এই সময়টা ধান কাঁটার পর কেউ কেউ শীতের শাক সবজী চাষের জন্য মাঠ প্রস্তুত করে। মাঠে যারা কাজ করছে তাদের কারো কারো মাথাতে এখনো বাঁশের তৈরি মাথাইল দেখতে পাওয়া যায় বাকি সবার মাথাতেই গামছা বাঁধা। অনেকটাদূরে বীণা তার বাবা আশীষকে দেখতে পেয়ে কয়েকবার গলা ফাটিয়ে ডাক দিলো। বীণাদের সামান্য কিছু জমি আছে এই মাঠে। তার উপর নির্ভর করেই সংসার চলে আশীষের। সংসারে তাকে নিয়ে মোট সাত জন। দুই ছেলে-মেয়ে ও ধর্মপত্নী বাদে তার বৃদ্ধা মা, বিধবা বোন ও একটি বকনা গরু। 

আশীষ লাউয়ের জন্য মাচা করছিল। একটা ক্ষীণ তবে পরিচিত কণ্ঠস্বর কানে আসতেই মাথা তুলে দূরে তাকালো সে। সাথে সাথে মাথার ঘাম কপাল বেয়ে নেমে আসলো সমস্ত মুখ জুড়ে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো তাঁর। মাথার গামছা খুলে ভালো করে চোখ-মুখ মুছে নিয়ে আবার শব্দের উৎস খুঁজতে লাগলো আশীষ। চোখের উপর হাত দিয়ে রোদটাকে আড়াল করে দূরে তাকাতেই বীণাকে দেখতে পেল সে। বীণা খালি পায়ে আইল দিয়ে হেঁটে কাছে আসতেই আশীষ শুধালো, 
- কি রে মা? তুই এইহানে ক্যা?
- মা’য় তোমারে বোলায়।
- তোর মা’য় আবার বোলায় ক্যা? তর দাদায় আবার কিছু করছে নাকি? 
- হয়। তুমি ত’তড়ি লও। নাইলে মা’য় মোরে কোপাবে।
- কি করছে তোর দাদায় আবার?
- মুই কইতারমু না। মা&#039;য় জানে। তুমি এহনি লও। 
- আচ্ছা। হাট তয়।

রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ফসলের আইল ধরে বাবার পিছনে পিছনে হাটছে বীণা। এই শৈল্পিক দৃশ্য কোন শিল্পী দেখলে সাথে সাথে রংতুলি নিয়ে আঁকতে বসে যেত। কিন্তু গ্রামের মানুষের কাছে এই দৃশ্য বড় সাধারণ। তারা কাজের ফাঁকে একপলক শুধু দেখে নেয় কে বা কারা যাচ্ছে। অবসর পেলে কেউ কেউ শুধায় কাজ ফেলে বাবা- মেয়ে কই যায়। কেউ কেউ আবার হালকা রসিকতা করে বলে, “কি রে বুড়ি চল্লি নাকি শ্বশুর বাড়ি?”


৩.
বিষুরে নিয়া সন্ধ্যে বেলায় চায়ের দোকানগুলো মুখর হয়ে উঠল। কেউ বলল, ছেলেটার মাথা তো অনেক আগে থেকেই খারাপ। আবার কেউ বলে, পেত্নীতে ধরছে দেইখাই বিষু এমন করে। নগেন কাকা বলে, ঐসব কিছুনা, ও হইলো মায়ের চ্যালা। ওর উপর নিশ্চয়ই মা কালীর দৃষ্টি আছে। 

আশীষ সারাদিন ছেলেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। শেষমেষ ছেলেকে না পেয়ে বড় বাজার থেকে ধান ভাঙিয়ে চাল আর তুষের বস্তা সমেত গ্রামে ফেরে সে। সরাসরি বাড়ি না গিয়ে হরিহরের চায়ের দোকানে থামে কমলের ভ্যান। কমল এই গ্রামের’ই ছেলে। শক্ত-সামর্থ্য, ভীষণ কর্মঠ। আশীষের কয়েক ঘর পরেই কমলের ঘর। গ্রামে কারো ভ্যানের প্রয়োজন হলেই ডাক পরে কমলের। 

হরিহর চা দিতে দিতে আশীষকে প্রশ্ন করে, কিরে আশু পোলাডার কোন খোঁজ পাইলি?
আশীষ চা হাতে নিয়ে নিরস মুখে চুপ করে থাকে। উত্তর দেয় কমল, “কাগু তন্ন তন্ন কইরা খুঁজজি বোনাডারে। ওর ছায়াডাও দেহি নাই।”

হরিহর বলে, “পোলাডায় এমন বোনা হইলে যে ক্যামনে বুঝিনা বাপু!” এই বলে, হাতের মুঠোয় ধরা বিড়ি মুখের কাছে নিয়ে বেশ কায়দা করে বার দুই টান দিল। আর সাথে সাথে খুক খুক করে কাশতে শুরু করল সে। বেশ কিছুক্ষণ কেশে গলা খাকড়ি দিয়ে গল্পের মত করে বলতে শুরু করল, “ও যাওয়ার সময় এই দিক দিয়াই যায়। মুই তহন দোকানের ঝাঁপি হালাই বাড়ির দিকে যামু দেইখা। দেহি বলদাডার গা হাত পা সব খালি। আকাশের দিকে চাইয়া হাটতাছে। আমি এত কইরা বোলাইলাম ওরে একটা বার ফিরাও চাইলোনা।” 
 
আশীষ এইবার মুখ খুলল, কাকা ওয় বাড়ি আহুক একবার। বাইড়াইয়া যদি ওর ঠ্যাং না ভাংছি তাইলে আমি আমার মরা বাপের মাথা খাই। তুমি দেইখা নিও কাকা, ওর মাথার ভূত না তাড়াইয়া আমি ক্ষ্যান্ত দিমু না।

পাশ থেকে রথিন বলে, আহা… এত মাথা গরম করলে চলে। পোলাপান মানুষ গায়ে একটু হাওয়া বাতাস লাগাইয়া চলবোই তা তুমি যতই শাসন করো। তা তোমার পোলাডা তো ভালোই আছে। আমার কালু ঐদিন কি করলো শোন। ওরে সেদিন কইছি যা একটু মাছের খাওনডা দিয়া আয় বাপ। পোলা আমার কথা কানের ধারেই নিলো না। পোলাপান মানুষ কথা কইলে যদি কথা না শোনে তাইলে কেমনডা ঠেহায় কও। আমার মাথায় গেল রক্ত উইঠগা। দিলাম কানসা পাচাইয়া চোপাড়। পোলায় চোপাড় খাইয়া কই বাড়ি ছাইড়া পলাইবো হেইয়া না উল্ডা চলা লইয়া আইসে মোরেই মারতে।

গল্পে মন বসেনা আশীষের। সকাল মরিচ গুলে পান্তা যা খেয়েছিলো তার এক দানাও পেটে অবশিষ্ট নেই। খিদে পেলে এমনিতেই মাথা ঠিক থাকে না তাঁর। তখন চোখের সামনে যা দেখতে পায় তাই খেতে ইচ্ছে করে। একটু আগে সাদা পলিথিনের ঠোঙায় ঝুলতে থাকা কেকগুলো সব খেতে ইচ্ছে করছিল। এখন মনে হচ্ছে গোটা দোকানটা ভেজে দিলে একাই চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারবে সে। 

আশীষের বিমর্ষ মুখ দেখে হরিহর বলে, ওত চিন্তা করিসনা আশু। বাড়ি যা এহন। পেটে টান পড়লে দেখবি বনগড়ুডা ঠিকি বাড়ি ফিরা আইবো।

আশীষ তাঁর ও কমলের চায়ের দাম মিটিয়ে বলে, “যাই তয় কাকা।” তারপর কমলের উদ্দেশ্যে বলে, “চল।”
কমল বলে, “আশুদা তুমি আউগগাও মুই বিড়িডা খাইয়া আইতাছি।”

সাথে সাথে গলার রগ ফুলিয়ে আশীষ বলল, “বিড়ি পরে খাইস। এহন ল। ঘরে চাউল নাই একটাও। চাউল কয়ডা লইয়া গ্যালে তারপর তোর বৌদি ভাত চড়াইবো।”
“আরে দাদো.. তুমি যে তড়াশ দিলা আজকে। আচ্ছা হাডো।” এই বলে কমল তাঁর ভ্যানের ব্রেক ঢিলে করে দুই পা এগুতেই আবার থামল। তারপর, মাথা চুলকে ইতস্তত করে বলল, “দাদো এহন যে আরেকটা কাম বাজজে।”

- মাইয়া মাইনষের মত যুইত না কইরা ক দেহি কি হইসে। 
- মা’য় কইছিলো কয়ডা মুগের ডাইল আর আধ সের চিনি লইয়া যাইতে। কিন্তু মোর ট্যাহে আছে মোডে কুড়ি টাহা। দাদো তুমি যদি কয়ডা টাহা দেও হেলে…
- দাঁড়া দেহি মোর ধারে কত আছে। 

আশীষ পকেট হাতড়িয়ে পঞ্চাশ টাকার বেশী পেলনা। সেখান থেকে বিশ টাকা কমলকে দিয়ে বলল, এই টাহাডা রাখ এহন। আর এক কাম কর, দিনুর দোকানে যা। ওরে আমার কথা কইয়া যা যা লাগবো নিয়ায়। ওরে টাহা দেওয়া লাগবোনা।

দিনুর সাথে আশীষের অনেকদিনের লেনদেন। প্রতি মৌসুমেই দিনুর কাছে আশীষ ধান বিক্রি করে। ধানের মূল্য বাবদ মোট টাকা দিনু একবারে কখনোই দিতে পারেনা। প্রতিবারেই বেশ কিছু টাকা বকেয়া রাখে দিনু। যে কয়টা বকেয়া থাকে তার বেশীর ভাগ’ই দিনুর দোকান থেকে সদাই কিনে উসুল করে নেয় আশীষ। দিনু’ও কোন আপত্তি করেনা।


৪.
১৩ বছর হতে চলল বিষু বাড়ি ফেরেনি। আশীষ ছেলের খোঁজ করা বন্ধ করে দিয়েছে বহু আগেই। তবে, চন্ডী এখনো আক্ষেপ করে ছেলের জন্য। বীণা তাঁর দাদার চেহারা মনে করতে চেষ্টা করে তখন। খুব আবছা একটা মুখ মনে পরে। সে মুখে উজ্জ্বল দুটি চোখ নক্ষত্রের মত জ্বল জ্বল করে। এখনো গ্রামের চায়ের দোকানে বিষুর ক্ষ্যাপামি নিয়ে বিস্তর গালগপ্প চলে। ছেলেটা ভীষণ বেমানান ছিল এখানে। তাঁর চিন্তা-ভাবনা, চালচলনে গ্রামের কারো সাথে মিল ছিল না। পড়া লেখায় ভীষণ অমনোযোগী হলেও হেড স্যারের খুব ভক্ত ছিল সে। অংকে মাথা ভালো ছিল তবে অজিত স্যারের রাগী রাগী চেহারা দেখে খুব ভয় পেত বিষু। তাই, অংক ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই পালিয়ে যেত স্কুল থেকে। ক্ষ্যাপা বিষুর ক্ষ্যাপামির কিছু উদাহরণ দেয়া যাক এইবার।

বিষুর দাদু রুপাই বেঁচে ছিল তখন। সে সময়ে গ্রামের শান্তি রক্ষার জন্য একঝাক প্রবীন দিনরাত চায়ের দোকানে বসে থাকত। যদিও তাঁরা চোখে খুব একটা দেখতে পেতনা তবুও গ্রামের খুটিনাটি প্রতিটি বিষয়ে তাদের নজর ছিল। একদিন বিনয়ের চায়ের দোকানে রুপাই, নন্দ আর কানাইয়ের মধ্যে বিড়ি খেতে খেতে কি যেন একটা ব্যাপার নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছিলো। এমন সময় বিষু উপস্থিত সেখানে। তাঁর বয়স খুব অল্প। সবে পাকা পাকা কথা বলতে শিখেছে। সে দাদুকে বলল, “দাদু মুই’ও বিড়ি খামু। মোরে এক প্যাকেট বিড়ি কিন্না দেও।” চায়ের দোকানে উপস্থিত সবাই তো সে কথা শুনে তো হো হো করে হেসে উঠল। কিন্তু বিষু সে দিকে গ্রাহ্য না করে তাঁর দাদুকে আবার বলল, “দাদু মোরে বিড়ি কিন্না না দিলে তোমারেও বিড়ি খাইতে দিমুনা।”
- রুপাই তাঁর নাতীকে বলে, তুই গুড়াগাড়া মানু বিড়ি কি খাবি, তরে লেমঞ্চুস কিন্না দিমুহানে। 
- মুই লেমঞ্চুস খামুনা। মুই বিড়ি খামু।
- ছোড গেদুগো বিড়ি খাইতে নাই। আমার মত বড় হইলে তহন খাইস। এহন পোড়া পোড়া হরিস না তো।
-ছোড গেদুগো বিড়ি খাইতে নাই ক্যান?
-ছোডরা বিড়ি খাইলে ত’তড়ি মইরা যায়। 
-বিড়ি খাইলে মোরা ত’তড়ি মইরা যামু তয় তোমাগো মত শয়তান বুড়াগো কিছু হয়না ক্যান?
-কি মোরা শয়তান বুড়া?
-শয়তান না তো কি? মোরে ভুলাই ভালাইয়া একলা একলা বিড়ি খাবা ভাবছো। মোরে বিড়ি না দিলে তোমার বিছনা আমি রাতত্তিরে মুইতা যদি না ভিজাইছি মুই তোমার নাতী না।

সেদিন সত্যি সত্যি রাতে রুপাই ভেজা বিছানায় ঘুমায়। এবং তাঁর পরের বেশ কয়েকটা দিন’ও রুপাই তাঁর বিছানা ভেজা পায়। শেষমেশ জ্বর ঠান্ডা লেগে বিশ্রী একটা অবস্থা হয়। কিন্তু বিষু তাঁর জেদ তখনো ধরে রাখে। উপায় না পেয়ে নাতীর পায়ে পরে রুপাই। বলে, “ক্ষ্যামা দে আমারে দাদুভাই। তর বিড়ি, পান, চা যা খাইতে মন চায় খা তবু আমারে ক্ষ্যামা” এই দৃশ্য দেখে সবাই হেসে লুটোপুটি খেলেও আশীষ তাঁর ছেলেকে শাসন করতে যায়। কিন্তু বিষু বলে যে বিষ খাওয়া ক্ষতিকর সে বিষ খাওয়া চলবে না। যদি কেউ খায় তবে তাকেও খাবার অনুমতি দিতে হবে। 

ছেলের কথার মাহাত্ম্য বুঝতে পেরে দমে যায় আশীষ। বাধ্য হয়ে বিড়ি খাওয়া ছাড়তে হয় রুপাই’য়ের। এমন কি অল্প কিছুদিনের মধ্যে  তামাকমুক্ত গ্রাম গড়তে কচিকাঁচার একটা দল আন্দোলন শুরু করে, যার নেতৃত্ব দেয় বিষু নেপথ্যে থাকে  প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার আব্দুল জব্বার ও অজিত স্যার।

গ্রামের সব দোকানে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন। 

এমন হাজারটা কীর্তি আছে ক্ষ্যাপা বিষুর। আরেকদিনের ঘটনা বলি, নিখিলদের অনেক পুরনো একটা বৈলাম গাছ ছিল। দূর থেকে কাঁঠালিচাঁপা গ্রাম চেনার সবথেকে সহজ উপায় ছিল ঐ বৈলাম গাছ। আশপাশে এত বড় আর মোটা গাছ আর একটাও নেই। 

একদিন হঠাৎ নিখিলের বাবা অমৃতবাবু সিদ্ধান্ত নেয় গাছটি কেটে ফেলবে। এর আগে অনেকেই বেশ ভালো দাম দিতে চেয়েছিল গাছটির জন্য কিন্তু অমৃতবাবু কারো কাছেই বিক্রি করে নাই। তবে সেবারে তাঁর নতুন ঘর তোলার জন্য জমি ও ঘরের খুঁটি আর আসবাব বানানোর জন্য ভালো কাঠ প্রয়োজন তাই, তিনি গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। 

অমৃতবাবুর পরিকল্পনা মত সব কিছু ঠিক করে যেই গাছ কাটতে যাবে ঠিক তখন ক্ষ্যাপা বিষু হাজির। বিষু অমৃতবাবুর পা জড়িয়ে ধরে বলল, “কাকা তুমি মোর পাঁজরের হাড় দিয়ে তোমার ঘরের খুঁটি বানাও তবু এই গাছ কাইটো না। এই গাছ শুধু আমাগো গ্রাম না সারা দেশ ঘুইরা আর একটাও পাবা না।”     
অমৃতবাবু বলল, বিষু পাগলামি করলে দূরে গিয়া কর। এইখানে তর কোন পাগলামি চলব না।
- কাকা তুমি লাগলে মোগো ঘর বাড়ি সব নিয়া নাও তাও এই কাম কইরো না কাকা। 
- পা ছাড় কইলাম। এই কে আছস পাগলটারে ধর দেহি।
- সারা জীবন তোমার দাস হইয়া থাকমু কাকা। মা কালীর দোহাই লাগে তাও গাছটা কাইটো না। ভগবান তোমারে দুই হাত ভইরা দিসে কাকা। তোমার তো টাহার অভাব নাই। জমির অভাব নাই। এই গাছটা না কাটলেও তোমার কোন ক্ষতি হইবোনা। কিন্তু এই গাছটা কাটলে মোগো হগগলের ক্ষতি হইবো কাকা।
- আমার গাছ কাটলে তোগো কিসের ক্ষতি হইবো। আমার গাছ আমি কাটমু। কেউ বাঁধা দিলে ওরেও কাইটা ফালা ফালা করমু।
- “ঠিকাছে কাকা তয় আমারেই আগে কাটো।” এই বলেই বিষু অমৃতবাবুর পা ছেড়ে দিয়ে গাছটাকে জড়িয়ে ধরে। বিষুকে খুব সামান্য লাগে বৈলাম গাছটার সামনে। গাছটা এত প্রকান্ড যে বিষুর মত দশ-বারো জন একসাথে হাতে হাত ধরে গাছটাকে জড়িয়ে ধরলে তবেই গাছটাকে পুরোপুরি ঘিরে ধরতে পারবে।

অমৃতবাবু খেপে গিয়ে গ্রামের সবাইকে জড়ো করে সেখানে। অনেকে অনেক কিছু বোঝানোর চেষ্টা করে বিষুকে। একে একে সবাই ব্যার্থ হয়। আশীষ এসে খুব মারধর করে ছেলেকে, তবুও বিষু এক পা নড়েনা। এসব দেখে নিখিল শেষমেশ এগিয়ে আসে। নিখিল শহরে পড়ালেখা করা ছেলে। সে তাঁর বাবাকে বোঝানো চেষ্টা করে। কিন্তু অমৃতবাবু এতসব কান্ড দেখে আরো বেঁকে বসে। সে ঘোষণা দিয়ে যায় আজ না হয় কাল এই গাছ সে কাটবেই কাটবে। কোন ক্ষ্যাপামি তাঁর কাছে চলবে না।

বিষু একটানা ৫২ দিন বৈলাম গাছ পাহারা দেয়। এই ৫২ দিন সেই গাছতলায় থেকেছে সে। সেখানেই খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, বিসর্জন।  তারপর একদিন রাতে কারা জানি দল বেঁধে এসে ধরে নিয়ে যায় বিষুকে, অন্ধকার এক কুঠুরিতে দিন দুই আঁটকে রাখে। তারপর, আবার চোখ বেঁধে ছেড়ে দিয়ে যায় ঠিক আগের জায়গাতেই। কিন্তু যখন সে ফিরে আসে তখন আর বৈলাম গাছটার কোন চিহ্ন খুঁজে পায়না সে। 

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/209592/</link>
				<pubDate>Thu, 22 Feb 2024 00:08:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ক্ষ্যাপা বিষুর পাঠশালা</p>
<p>[ ভালো কাজ করাটা কঠিন তাঁর থেকে কঠিন ভালো কাজকে সঙ্গ দেয়া। ]<br />
——————————————————————————————————————</p>
<p>১.<br />
মস্তবড় এক দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাঁঠালিচাঁপা গ্রাম। কাঁঠালিচাঁপা গ্রাম আশ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-209592"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/209592/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e221e9b9eda26653ee52f7883e95ffb0</guid>
				<title>Drako Shajib and Masfi K are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/209082/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Feb 2024 04:58:26 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a0a8be27f4ac3577028423e8822d714</guid>
				<title>Drako Shajib and ধূসর কাব্যিক are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207202/</link>
				<pubDate>Fri, 17 Nov 2023 06:13:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dcb5e8b10c13856bad3d7525921715a6</guid>
				<title># আকাশ পাতাল ভাবনা
(গল্প না কল্পনা)

মুনীর সকাল থেকে ইতিহাস বই মুখের উপর ধরে আছে। দুপুরের দিকে মা একবার ডাকতে এসেছিলো। বললো, গোসল করে খেতে আয়। আর পর্দা তুলে জানালা খুলে দে। ঘরের মত মুখটাও এমন গুমট করে বসে আছিস ক্যানো? মুনীরের উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করেই মা  চলে গেল। চুলায় তখনো তরকারী টগবগ করে ফুটছে! 

মুনীর অবশ্য তার মায়ের কথা ঠিকমত শুনতেই পায়নি! সে তখন এক গভীর চিন্তায় ডুব মেরে আছে। ইতিহাস পড়ে তার মনে হচ্ছে যুদ্ধ-বিগ্রহ চিরকাল ছিল, আছে, থাকবেই। এর থেকে মুক্তির কোন পথ নেই। শান্তির জন্য অশান্তি করাটাই যেন বাঞ্ছনীয়। এই শিক্ষা বোধহয় প্রকৃতি&#039;ই আমাদের দিয়েছে। তাইতো বারবার শান্তির জন্য অশান্ত হয়ে ওঠে পৃথিবী। যেমন, চৈত্রের অসহ্য গরমের পর কালবৈশাখী ঝড় হয়, সমুদ্র বারবার উত্তাল হয় হারিকেন, টাইফুন ঘূর্ণীঝড়ে, সারাদিনের উত্তাপের পর হীমশীতল হয় মরুভূমি। 

তারপরেও মুনীর ভাবে, আচ্ছা! যদি আকাশ থেকে টুপটাপ বোমা না ফেলে কিছু ফুল-ফলের বীজ ফেলত মৃত্যুদূতের মত ধেয়ে আসা যুদ্ধবিমানগুলো, গোলা-বারুদের পরীবর্তে উড়ে আসত অসংখ্য পাখী! আমরা না হয় পাল্টা আক্রমণ করতাম সকাল-বিকাল চারাগাছে পানি দিয়ে। মুঠীভরে ধান-গম খেতে দিতাম ভিনদেশী পাখিগুলোকে। যুদ্ধের পরিণাম হত এক সবুজ পৃথিবী! ঘন বন-জঙ্গলে দেখা যেত বাঘ-ভাল্লুক! মানুষের আর তখন কষ্ট করে হায়েনার মত হানাদার বাহিনী হবার প্রয়োজন হত না। বন্য জন্তুগুলোই তখন আমাদের শিশুদের চুরী করে নিয়ে যেত। শক্তিশালী যুবকেরা মারা পড়তো কালাজ্বরে আর শত্রুপক্ষ নোবেল পুরষ্কার পেত শান্তির জন্য।

ধুর... যত সব উদ্ভট চিন্তা! নিজের উপর বিরক্ত হয় মুনীর। কেন সে এসব ভাবছে। সে জানে তার এসব ভাবনায় কিছুই হবেনা। এমনকি একটা পিঁপড়াও প্রভাবিত হবেনা। তবুও নিজের ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা মুনীর। তবে, তার ভাবনার গতিপথ বদলেছে... 

যুদ্ধ জয় করে কি স্বাধীনতা আসে? না মনে হয়। স্বাধীনতা আসলে মানুষ মানুষের কাছ থেকে চাইছে। এক দেশ তো আরেক দেশকে বন্দী করে রাখেনি। মানুষ মানুষকে বন্দী করে রেখেছে। মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রানী এমনটা করেনা। ইতিহাসে এক বাঘ কখনো অন্য বাঘকে বন্দী করে রাখে নাই। লড়াই করেছে খাবারের জন্য, সঙ্গিনীর জন্য অথবা আশ্রয়ের জন্য। লড়াই না করে উপায় কি প্রকৃতি এর জন্য ভীষণ ভাবে দায়ী। তাইতো স্বাধীনতা পাবার পরেও আমরা লড়াই করছি আমাদের সাথেই, এতে দোষের কিছু নাই। এই লড়াই চলছে, চলবে...  

আমরা মানুষ সবসময় নিজেদের আলাদা করে দেখতে পছন্দ করেছি। তাই বন্য জন্তুদের মত লড়াই না করে আমাদের লড়াই করার পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন হলে ভালো হত। যেমন, রাগ করে একজন আরেকজনকে গালি না দিয়ে দুই-একটা কবিতা শুনিয়ে দেয়া যেতে পারে। কবিতা শুনে বিমর্ষ মনে যে যার বাড়ি ফিরে যেত।  
মারামারি না করে এক কাপ চা আর অর্ধেক সিগারেট অফার করা যেতে পারে। চা-সিগারেট খেতে খেতে গল্প অথবা রাজনৈতিক আলাপ জমে উঠলে তখন আরো দুই এক কাপ চা সাথে গরম শিঙাড়া। এতে অবশ্য কেউ আহত না হয়ে আলসার ক্যান্সার বাধিয়ে বসত আর সবথেকে বেশী লাভবান হত দোকানী।

মানুষ চিরকাল নিজেকে এবং অপরকে অবিশ্বাস করে গেছে। কিন্তু দ্বিধা নিয়ে বাঁচা যায়না তাই চার হাজার বছর আগে মিশরীয়রা আবিষ্কার করে তালা-চাবি। কিন্তু গুপ্তঘাতক তার আগে থেকেই লুকিয়ে ছিল ঘরের ভেতরে। ষড়যন্ত্র করে রাজার খাবারে মিশিয়েছে বিষ। ছুরী ব্যাকডেটেড হয়েছে  তাই নেতার পাঁজরে বিধিয়ে দিয়েছে বুলেট। শেষমেষ ভালো থাকার জন্য করেছে শান্তিচুক্তি। তবুও শান্তি মরীচিকা হয়েই রয়ে গেছে। 

মা আবার এলো, এবার হাতে ঝাড়ু! মুনীর খেয়াল করে নাই ব্যাপারটা! খেয়াল করলে এক লাফে বিছানা ছেড়ে বাথরুমের দিকে দৌড় দিত। কিন্তু সে তখনো অন্যমনস্ক হয়ে আকাশ -পাতাল ভাবছে। ছেলের এমন আনমনা ভাব দেখে ঝাড়ুর উল্টা পিঠ দিয়ে কষে এক বাড়ি মারলো মা! বলল, কোনো কাজ নাই! সারাদিন গবাদি পশুর মত শুয়ে বসে থাকবি না মানুষের মত একটু আচরণ করবি?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/206754/</link>
				<pubDate>Sat, 04 Nov 2023 18:52:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># আকাশ পাতাল ভাবনা<br />
(গল্প না কল্পনা)</p>
<p>মুনীর সকাল থেকে ইতিহাস বই মুখের উপর ধরে আছে। দুপুরের দিকে মা একবার ডাকতে এসেছিলো। বললো, গোসল করে খেতে আয়। আর পর্দা তুলে জানালা খুলে দে। ঘরের মত মুখটাও এমন গুমট করে বসে আছিস ক্যানো? মুনীরের উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করেই মা  চলে গেল। চুলায় তখনো তরকারী টগবগ করে ফুটছে! </p>
<p>মুনীর অবশ্য তার মায়ের কথা ঠিকমত শুনতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-206754"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/206754/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">88cbe430b0d762b12b86ea290c4f44c5</guid>
				<title>Drako Shajib and নীলিদ্রিমা তন্বী (রোদেলা ) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/206702/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Nov 2023 19:35:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c8914e02a6cc0ea612f5d53e2ba267a3</guid>
				<title>Drako Shajib and Aeka Asin are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/203683/</link>
				<pubDate>Sat, 05 Aug 2023 15:16:57 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6b8f276966a0dba9bc44f5f0729b9430</guid>
				<title>Drako Shajib and তুলি are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/201225/</link>
				<pubDate>Sat, 27 May 2023 04:39:52 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5d080fcdd33e1d85d0938190d01f4b41</guid>
				<title>Drako Shajib and Pushpen Ray are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/201109/</link>
				<pubDate>Thu, 25 May 2023 02:50:12 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9a2f44c33d8b6ecdc61ecedbe1a312a2</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/198952/</link>
				<pubDate>Thu, 13 Apr 2023 00:56:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a147f0cf34061dd6f382ec3c086a7400</guid>
				<title>ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যান
পর্ব-২ঃ বোম্বার ম্যান
————————————————————————-


১.

শহর জুড়ে এক নতুন আতংকের নাম বোম্বার ম্যান। শহরের জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য যে সকল লোকাল বাস রয়েছে সেই বাসগুলোতেই নাকি তার দেখা পাওয়া যায়। প্রচন্ড ভিড় বাসগুলোয় চড়ে বোমা দেখিয়ে আতংক ছড়াচ্ছে এই বোম্বার ম্যান। এক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছে চ্যানেল গুজব।

প্রতিদিনের মত প্রচন্ড ভিড় ঠেলে সেদিনও একদম পিছনে গিয়ে দাঁড়াই। পেছনের সিটের একদম মাঝখানে বসা একলোক আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসছিল। দেখতে বেশ ফিটফাট। দেখলে মনে হয় বড় কোন অফিসার, গাড়ি নষ্ট তাই বাসে করে বাড়ি ফিরছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম ভাই আপনার সাথে কি আমার আগের পরিচয় আছে? লোকটা মাথা নেড়ে উত্তর দিল “না”। আমি আবার প্রশ্ন করলাম তাইলে আমারে দেখে হাসতাছেন যে? কিছু কি বলবেন? 
লোকটা খুব শান্তভাবে বলল, “জ্বী ভাইজান। আপনারে বেশ বুদ্ধিমান মনে হইতাসে। তাই আপনারে একটা কথা বলতে চাই।” আমি জানতে চাইলাম বিষয়টা কি?
সে বলল, আমার ব্যাগে একটা বোমা আছে। চাপ লাগলেই ফাটবো।
আমি বললাম, ভাই মজা নেয়ার জন্য কি এই পুরা বাসে আমারেই পাইসেন?
“জ্বী না ভাই, এই দ্যাখেন!” বলেই ব্যাগ খুলে লোকটা একটা আজব জিনিস দেখালো আমারে। ছোট্ট একটা জিনিস বিভিন্ন রঙের তারে পেচানো আবার লাল নিল বাত্তি জ্বলতাসে। 
জিনিসটা দেখতেই গলাটা শুকায়া গেল আমার। আশেপাশের মানুষ দেখার সাথে সাথেই তো চিৎকার চেচামেচি করতে করতে চলন্ত বাসের জানলা দিয়া লাফ দিল।
লোকটা তখন ঝাঁঝালো গলায় সবাইরে শান্ত হইতে বলল। নাইলে সে ঐ বাস তখুনি উড়ায় দেয়।
আরো বলল, “তার নাকি চিৎকার চেচামেচি একবারে অপছন্দ।”
সবাই শান্ত হলে লোকটা আবার বলতে শুরু করলো, “এই বোমটা শুধুমাত্র চাপ লাগলেই ফাটবে। এখন সে এই ভিড় ঠেলে বাস থেকে নামতে গেলে যদি তার ব্যাগে চাপ লাগে সেটা সম্পূর্ণ তার অনিচ্ছাকৃত। তাই যারা বাঁচতে চায় তারা যদি একটু সু-শৃংখল হয়ে দাঁড়ায় তাহলে হয়ত এই যাত্রায় বেঁচে যেতে পারে।” 
পরের স্ট্যান্ডে বাস থামতেই সু-শৃংখল মানুষগুলো আবার বিশৃঙ্খল হয়ে যে যার মত ছুটতে লাগলো। মুহুর্তেই প্রচন্ড ভীড় বাসটা খালি হয়ে গেল। অন্যদিকে যারা দৌড়ে এসেছিলো বাসে ওঠার জন্য তারা সবাই এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল গেটের কাছে।  
আমি তখনো বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে।
লোকটা আমায় বলল, “সিট তো সব খালি হয়ে গেল। এবার আরাম করে বসে বাড়ি যান।” এই বলে সে শিষ দিতে দিতে বাস থেকে নেমে গেল। 

শহর জুড়ে এই ঘটনাই প্রথম ও শেষ নয়। বিচ্ছিন্নভাবে আরো কয়েকটা বাসে কয়েকদিনের ব্যবধানে এমন ঘটনা আরো ঘটেছে। এর মধ্যেই দেশের সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে শহরের বিভিন্ন বাস স্টান্ডে চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে। 
তবুও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি চ্যানেল গুজব থেকে আমি আজব।


২.

ছাতা ম্যানের বেশ কিছুদিন থেকে খুব মন খারাপ। কেন মন খারাপ এই বিষয়ে ছাতা ম্যান নিজেও কিছু জানেনা। তার প্রায়শই এমন হয় তখন তার ইচ্ছে করে দূরে কোথাও চলে যেতে।  
ছাতা ম্যান উড়তে জানেনা তাই বাসে করে ঘুরে বেড়ায়। আজ সে এক দূরগামী বাসে উঠে পড়েছে। শহর ছেড়ে অনেকটা পথ যাবার পর টিকেট চেকার যখন জানতে পারল ছাতা ম্যানের কাছে টিকিট ও টাকা কোনটাই নাই তখন তাকে সাথে সাথে বাস থেকে নামিয়ে দিল নিশ্চুপ আঁধারে ছেয়ে যাওয়া এক বনের মাঝখানে।
জনশূন্য অরণ্যের মাঝে ছাতা ম্যান বেশ উপভোগ করতে লাগলো তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো। আকাশে বেশ বড় একটা নিঃসঙ্গ চাঁদ। চাঁদের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ছাতা ম্যান জঙ্গলের আরো গভীরে ঢুকে পড়ল। উদ্ভ্রান্তের মত হাঁটতে হাঁটতে ছাতা ম্যান একটা বিশাল নদী খুঁজে পেল। চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে নদীর পানি, চোখ ধাঁধিয়ে গেলো ছাতা ম্যানের। চোখ বুজে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে কখন জানি ছাতা ম্যান তার ছাতা দুটো মেলে ধরল দুই হাতে। শনশন শব্দে উত্তাল হয়ে উঠল বন, তখনো চোখ বন্ধ করে ছাতা ম্যান। বাতাসের তীব্র বেগ ছাতা ম্যানের ধরে রাখা ছাতায় এক অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখালো। ছাতা ম্যানকে লাটিমের মত ঘুরাতে ঘুরাতে শূন্যে তুলে নিল বাতাস।

ছাতা ম্যান বাতাসের স্রোতে ভেসে চলল। বাতাসের এমন বেগ যে ছাতা ম্যান তার ছাতা নিয়ে শূন্যের উপর কয়েকবার প্লটি-পাল্টি খেয়ে আবার তাল সামলে নিয়ে উড়তে লাগলো। ছাতা ম্যানের ভয় কাটতে শুরু করেছে। সে এখন নাম না জানা নদীর উপর দিয়ে উড়ে চলেছে। ছাতা ম্যানের জানা ছিলনা শহরের এত কাছ দিয়ে এমন প্রশস্ত নদী বয়ে চলেছে। ছাতা ম্যানের দু-চোখ অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে ক্রমশ। মাঝে মাঝে জোনাক পোকার মত দূর হাইওয়ে দিয়ে গাড়িগুলো দ্রুত চলে যাচ্ছে আরো দূরে। 

ছাতা ম্যান’ও উড়তে উড়তে দূরে সরে যাচ্ছে নদী থেকে। আচমকা হাওয়া বদল হল, বাতাসের ঝাপটায় ছাতা ম্যানের নাকে দুর্গন্ধ এসে ঠেকল। কেমন যেন দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠলো চারপাশ। ছাতা ম্যান ক্রমশ নিচের দিকে নামতে শুরু করল আর সাথে আবার কয়েক পাক পল্টি দিয়ে গড়িয়ে পড়ল নদীর গায়ে লাগোয়া ময়লার ভাগাড়ে। ময়লা-আবর্জনায় মাখামাখি হয়ে ছাতা ম্যান আবার বাতাসের তোড়ে ভেসে চলল। এইবার বাতাস শহরমুখী বইতে লাগলো ছাতা ম্যানকে সাথে নিয়ে। ছাতা ম্যান খুব করে চাইছে বাতাস তার দিক বদলে উল্টো পথ ধরুক। তাকে নিয়ে যাক কোন স্বচ্ছ শ্যামল গায়ে, যেখানে সে কোনো এক শান্ত নদীর ধারে গাছের ছায়ায় নিশ্চল হয়ে সারাদিন শুয়ে থাকবে।
বাতাস বা নিয়তি যেটাই বলি, ছাতা ম্যানের মনের কথা শুনলনা। আসলে এই পৃথিবীতে মনের মত কিছুই হয় না। মনটা যে এই পৃথিবীর’ই না। উড়তে উড়তে ছাতা ম্যান এবার একটা মান কচু ভর্তি ট্রাকে গিয়ে পড়ল। সাথে সাথে ছাতা দুখানা বন্ধ করে ছাতা ম্যান চুপচাপ বসে রইল ট্রাকে। ট্রাক বাতাসের থেকেও দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে শহরের মধ্যপ্রান্তে।


৩.

বোম্বার ম্যান অনেকদিন থেকেই এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের নেশায় মরিয়া হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার ল্যাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। সে তার শরীরকে একটা শক্তিশালী বোম্বে রূপান্তর করতে চায়। যে বোম্ব ফেটে গিয়ে সব নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারবে আবার সে তার ইচ্ছানুযায়ী ধ্বংসাত্মকের পরিমাণ নির্ধারন করতে পারবে। এছাড়া, বিস্ফোরণের পর তার বিচ্ছিন্ন শরীর যেন সে আবার নতুন করে ফিরে পায়, তার শরীরের প্রতিটি কোষ, রক্তকনিকা, এটমগুলো এক সাথে হয়ে আবার যেন তার শরীর আগের অবস্থায় ফিরে আসে যেমন আমরা সিনেমায় দেখে থাকি। এমন এক বোম্ব আবিষ্কার করতে চায় সে। ব্যাগে করে বোম্ব নিয়ে ঘোরা ফেরা করা আগে থেকে রিস্কি হয়ে গ্যাছে। শহরের সব জায়গায় আগে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক জোরদার হয়ে গ্যাছে। সেই দিনতো গন ধোলাইর হাত থেকে একটুর জন্য রক্ষা পেয়েছে সে। তার গবেষণা অনেক দূর এগিয়েছে। সফলতা খুব কাছে তা সে বুঝতে পারছে। এবং তারপর এই শহরকে সে তার মনের মত করে সাজাবে।


৪.

সত্যের আজ চাকরীর প্রথম দিন। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে সে এই চাকরীটা পেয়েছে। তার জীবনের প্রথম চাকরী তাই ভীষণ ব্যস্ততা নিয়ে সে ঘর থেকে বেড়িয়েছে। জ্যাম ঠেলে অফিসের কাছে আসতে আসতে জয়েনিং টাইম থেকে ৫ মিনিট বেশী চলে গ্যাছে। তার শার্ট বেশ টাইট ফিটিং হওয়ায় ঘামে পিঠের সাথে বার জড়িয়ে যাচ্ছে আর ক্রমাগত তার অস্বস্তি বেড়ে চলেছে। তীব্র যানযটে ভেতর সে এবার পায়ে হেটে ছুটছে অফিসের দিকে। শহরের সবথেকে বড় কাঁচা ও পাকা বাজারের পাশে তার অফিস। এই দিকটা তাই দিন-রাত অজস্র মানুষের ভিড় ও ব্যস্ততায় গমগম থাকে। 


ছাতা ম্যান রাতে ট্রাকেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাংতেই সে নিজেকে আবিষ্কার করল অকারণ বাজারে। চারিদিকে মানুষের হৈ-চৈ আর কর্মব্যস্ততা দেখে ছাতা ম্যান আবার বিষণ্ণ হয়ে পড়ল। এই শহরে শুধুই তার’ই কোন ব্যস্ততা নাই। সে অলস ভঙ্গিতে সারা শরীর চুলকাতে শুরু করল। যত চুলকায় তত চুলকানি বাড়ে। 
ছাতা ম্যান যখন দেখল তার হাত-পা লাল হতে শুরু করেছে তখন তার ক্যাপ্টেন মাহিনের কথা মনে পড়ল। ক্যাপ্টেন মাহিন বলত, “চুলকানীর সব থেকে বড় ওষুধ চুলকাবি না।”
ছাতা ম্যান চুলকানি বন্ধ করে ছাতা মেলে ধরল। রোদ লাগছে খুব। সে মনে মনে ভাবছে গত রাতের ঘটনা কি বাস্তব নাকি স্বপ্ন? যেটাই হোক আবার উড়তে চাইলো সে গত রাতের মত। তাই বাতাসের জন্য মনে মনে পার্থনাও করতে লাগলো। এর ভেতর এক লোক ট্রাকের উপর উঠে জিজ্ঞেস করল, “এই মিয়া আপনে কেডায় আবার?”
ছাতা ম্যান ঘাড় ফিরাতেই দেখল, এক কম বয়সী ছেলে মুখে বিশ্রী ভাবে পান চিবোতে চিবোতে তাকে দেখছে। তার দাঁতের অবস্থা দেখলে বোঝা যায় এই লোক খাবারের মধ্যে এই একটা জিনিস ভালো খায়। লোকটা আবার বলল, “আরে হালায় পাগল-পুগোল নাকি, কথা কয়না কেন?”
তাকে কি উত্তর দিবে ভাবতেই বাতাসের একটা ঝাপটা ছাতা ম্যানের ছাতা টান দিল। ছাতা ম্যান সাথে সাথে ছাতা ধরতে লাফ দিল কচু বোঝাই ট্রাকের উপর থেকে। ছাতা ধরে ফেলতেই ছাতা ম্যান খুব ধীর গতিতে শূন্যে ভাসতে লাগলো। আর লোকটাকে উদ্দ্যেশ্য করে বলল, কচু বেপারীর জাহাজের খবর নিয়া লাভ কী?
ছাতা ম্যান খুব করে চেষ্টা করছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখার। এর ভেতর বাতাসের বেগ কম হওয়ায় সে খুব নীচ দিয়ে উড়ে চলেছে। উড়তে উড়তে সে ব্যস্ত রোডে চলে আসলো। তার খুব কাছ দিয়ে চলে যাচ্ছে একের পর এক বাস, ট্রাক, টেম্পু। ছাতাটাকে বিভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ধরে কোনরকম পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলো গাড়িগুলো থেকে। আচমকা সে খেয়াল করল, একটা ছেলে খুব ব্যস্তভাবে রাস্তা পার হবার জন্য বারবার সামনে এগিয়ে আসছে। আর দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসা গাড়িগুলো তাকে হর্ণ দিয়ে আবার পিছনে সরিয়ে দিচ্ছে। ছেলেটা পিছয়ে গিয়ে খুব অস্বস্তি নিয়ে তার শার্ট পিছন দিকে টেনে ধরছে।
পরের বার ছেলেটা আরো বেশী মরিয়া হয়ে রাস্তা পার হবার জন্য এগুতেই ছাতা ম্যান লক্ষ্য করল, দুইটা লোকাল বাস নিজেদের মধ্যে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ছেলেটার দিকে। ছাতা ম্যানের বুঝতে আর বাঁকি রইল না কি হতে যাচ্ছে। ছাতা ম্যান সাথে সাথে তার ছাতা ৯০ ডিগ্রী এংগেলে ঘুরালে খুব দ্রুততার সাথে সে ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেল। হঠাৎ একজন মানুষকে ছাতা নিয়ে উড়ে আসতে দেখে ছেলেটাও রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে পড়ল অবাক বিস্ময়ে। এই দৃশ্য দেখে ড্রাইভার দুজন’ও ব্রেক চাপতে ভুলে গেল বেমালুম। বাস দুইটা ততক্ষণে নিয়ন্ত্রন হারিয়েছে। ড্রাইভার দুইজন তখন ফাঁকা জায়গা খুঁজছে দূর্ঘটনা এড়ানোর জন্য। কিন্তু তেমন কোন ফাঁকা জায়গা নেই কোথাও। অবস্থা এমন যে, দুইজনকে বাঁচাতে গেলে আরো বেশী হতাহত হবে।
ছাতা ম্যান বাজ পাখীর মত ছো মেরে ছেলেটাকে তুলে নিয়ে ছাতার এংগেল ঘুরোতেই তারা বাসগুলোর সামনে সামনে উড়তে লাগলো। চমকের পর চমক দেখে ড্রাইভার দুইজন হয়ত গাড়ি এক্সেলেটর ছেড়ে দিয়েছে বিধায় গাড়ি আস্তে আস্তে ধীর হতে শুরু করেছে। অপরদিকে, দুই জনের ওজনের ভারে ও বাতাসের বেগে ভাটা পড়াতে ছাতা ম্যান ও সত্য রাস্তায় গড়িয়ে পড়ল। ঠিক তাদের মাথার কাছে এসে গাড়ির চাকাগুলো গড়ানো বন্ধ হল। 
গাড়ির হেলপার,যাত্রী ও পথচারী সবাই একে একে ছুটে আসতে লাগলো চারিদিক থেকে। কিন্তু বড় কোন দুর্ঘটনা হয়নি দেখে কেউ কেউ আশাহত হয়ে আবার অন্য পথ ধরল। ছাতা ম্যান ভীড় জমার আগেই তারা ছাতা দুটো খুঁজে নিয়ে চুপচাপ ঐ দুটো বাসের একটিতে উঠে পড়ল। বাস ভরা যাত্রী। ভীড় ঠেলে একদম পিছনে গিয়ে দাঁড়াল সে। বাসের সবাই তাকে অদ্ভুত চোখে দেখছে। দুই একজন জিজ্ঞেস করলো, “সে ঠিক আছে কিনা?” সে খেয়াল করল, তার হাতের কনুই, পায়ের হাটু ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালা করছে। সময়ের সাথে সাথে জ্বালাপোড়া আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কাঁটা যায়গা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। শরীর থেকে বের হয়ে আসা রক্ত কাঁটা জায়গায় জমা হয়ে একটা শীতলভাব জ্বালা পোড়াটাকে একটু কমিয়ে আনছে ভেবে ভালো লাগছে।      
 এক মাঝবয়সি লোক, তাকে বসার জন্য সিট ছেড়ে দিয়ে একটা কালো ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়াল। লোকটা উঠে দাড়ানোর পরেও ছাতা ম্যান দাঁড়িয়ে আছে দেখে লোকটা তাকে বসতে বলল। খুব ঠান্ডা সে কণ্ঠস্বর শুনে ছাতা ম্যান মন্ত্রমুগ্ধের মত বসে পড়ল। 

লোকটা আলতো করে তার কাঁধে হাত রেখে বলল, এই শহরটা আমাদের অথচ আমরা এই কথা জানিনা। একবুক আশা নিয়ে এই শহর আমাদের অপেক্ষায় থাকে। আমরা ফিরে আসি প্রতিদিনি কিন্তু আবার চলেও যাই রোজ। শহর আবার শুন্য মনে অপেক্ষা করে আমাদের ফিরে আসার।
ছাতা ম্যান বিরক্ত চোখে তার কনুই বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়া দেখছে। তার মনে হচ্ছে, তার শরীরে হিমোগ্লোবিন ব্যাপক শূন্যতা রয়েছে। তার বেশী করে ফল আর শিং মাছ খাওয়া দরকার। এমন সময় তার কনুই ঘেঁসে কন্ডাক্টার এসে দাঁড়াল। অসহ্য যন্ত্রণায় মাথাটা বিগড়ে গেল ছাতা ম্যানের। যা-তা ব্যবহার করল কন্ডাক্টরের সাথে। তাতেও মনের ঝাল না মিটলে, ড্রাইভারের গুষ্টির ষষ্ঠী পূজা করে ফেলল ছাতা ম্যান একি সাথে।   
অবস্থা বেগতিক দেখে কন্ডাক্টর ভাড়া না নিয়েই চলে গেল। ছাতা ম্যানের রাগ তখনো শান্ত হয় নাই। কালো ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রলোক ছাতা ম্যানকে একটা রুমাল দিয়ে বলল ক্ষতস্থান বেঁধে নিতে।
ছাতা ম্যান রুমালটি নিয়ে তার কনুইতে বাঁধতে বাঁধতে লোকটাকে আবার একবার ভালো করে দেখে নিল। এই লোকটা তার প্রতি এত বেশী স্বদয় হওয়ার কারন খুঁজতে লাগলো আগান্তুকের ভাবলেশহীন চোখে। 
লোকটা স্মিত হাসি হেসে বলল, যাচাই করে নিচ্ছেন? এই শহরে অচেনা কেউ গায়ে গায়ে ধাক্কা খেলে আগে পকেট চেক করে নেয় মানুষ, আর মানবতা ঝুলে থাকে দেয়ালে দেয়ালে। 
আপনি যা করেছেন আমি দেখেছি সবটাই। আপনি বেশ সাহসিকতার সাথে বোকামির পরিচয় দিয়েছেন। তাই দেখে সহানুভূতি দেখাচ্ছি। অন্য কোন মতলব নাই।
—  আপনি কি মলম বিক্রি করেন?
— লোকটা এবার হোহো হাহা করে হেসে উঠল। উত্তরে বলল, জ্বী, না। আমি শিক্ষক মানুষ। ঘুরে ঘুরে      জ্ঞান দেই মানুষকে।
— বিনামূল্যে?
— হ্যাঁ, বিনামূল্যে।
— ওহ বুঝছি! পাগল! আপসোস, দেশটা পাগলে ভইরা গ্যাছে!
— একজন শিক্ষককে পাগল বললেন। আপনি দেখি বেশ অভদ্র। এমন অভদ্র মানুষগুলো কিভাবে মানুষের জন্য ভাবে তাদের জন্যে কাজ করে আমি ঠিক মেলাতে পারলাম না।
— আপনিও তো তাইলে অভদ্র। বোকা তো আপনি’ই আমারে প্রথম বলছেন। একটা রুমাল দিয়া কি মাথা কিন্না নিছেন নাকি?
— ভাই আপনি অহেতুক তর্কে জড়াচ্ছেন। তর্ক করতে চাইলে ভালো কোন বিষয় নিয়ে তর্ক করা উচিত।
— ভালো খারাপ কোন তর্কেই আমি নাই। আপনার সিটে আপনেই বসেন। তাও চুপচাপ থাকেন। এত কথা ভালো লাগেনা। এই বলে ছাতা ম্যান আবার উঠে দাঁড়াল।
— লোকটা আবার শান্তস্বরে বলল, আচ্ছা আমি চুপচাপ থাকছি। আপনার উঠতে হবেনা। দয়া করে বসুন।

ছাতা ম্যান আবার বসতেই লোকটা বলল, আচ্ছা একটা লাস্ট প্রশ্ন করি?
ছাতা ম্যান ভুরু কুচকে আগান্তুকের দিকে তাকালো।
লোকটা বলল, আপনি তখন ছাতা নিয়ে কিভাবে শূন্যে ভেসে ছিলেন? এটা কি কোনো স্পেশাল ছাতা?
ছাতা ম্যান উত্তরে বলল, আপনি একটা বলে দুইটা প্রশ্ন করছেন তাই আপনার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবেনা। দুঃখিত।
লোকটা এবার বেশ রেগে গেল। কঠিন গলায় বলল, উত্তর না দিতে চাইলে নাই তবে তোমার কথার ধরণটা ভালোনা। তুমি মানুষ হিসেবে ভালো কিন্তু তোমার কথার বলার ধরনটা খারাপ। কথা বলা একটা আর্ট। 
— আমি কোন আর্টিস্ট না। আর মুখে মধু অন্তরে বিষ নিয়া ঘুইরা বেড়ানি থিকা মেশিন গান নিয়া ঘুইরা বেড়ানি অনেক ভালো।
কথায় কথায় আবার দুইজনের মধ্যে তুমুল ঝামেলা বেঁধে গেল। আশেপাশের লোকজনেরাও ততক্ষণে তাদের বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। 
কালো ব্যাগধারী লোকটা বলল, তুমি তখন একটা ভালো কাজ না করলে তোমাকে একটা উচিত শিক্ষা দিতাম আজ।
ছাতা ম্যান বলল, আপনে আমার বড় না হইলে আজকে এই ছাতা দিয়া বাইরাইয়া আপনেরে পাতা পাতা বানাইয়া দিতাম।
তর্কে-বিতর্কে গাড়ি যখন ছাতা ম্যানের বাড়ির কাছে পৌঁছালো। তখন ছাতা ম্যান ভীড় ঠেলে নামতে নামতে লোকটাকে উদ্দ্যেশ্য করে বলল, আপনি ভাই দুনিয়ার ত্যাড়া। আপনেরে সকাল দুপুর ছাতা দিয়া বাইড়াইয়া সোজা করা উচিত।
ছাতা ম্যান বাস থেকে নামতেই গাড়ি আবার চলতে শুরু করল। খানিকটা পথ যেতেই বাসটা আবার থামল। সেই আগান্তুক বাস থেকে নামলো এবার। চোখাচুখি হল ছাতা ম্যানের সাথে। ছাতা ম্যান খেয়াল করলো তার চোখে মুখে একটা অন্যরকম ঝিলিক, হাতে কালো ব্যাগটা নাই। 
ছাতা ম্যানের মনে হল, লোকটা নিশ্চয়ই তার সাথে এক হাত লড়াই করার জন্য তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ভুলে ব্যাগটা বাসেই রেখে এসেছে। ছাতা ম্যানের হাসি পেলো খুব এই ভেবে।
মুহুর্তেই পথঘাট কাঁপিয়ে এক প্রবল বিস্ফোরণে চারিদিকে এক আলোর বিচ্ছুরণ ছড়িয়ে পড়ল। এক মুহুর্তের জন্য সবার কানে তালা, আর চোখে অন্ধকার দেখলো। তারপর সবকিছু সয়ে আসতেই ছাতা ম্যান দেখলো যেই বাসটায় চড়ে সে এসেছে, রাস্তার মাঝখানে চলতে থাকা সেই বাসটি শুন্যে থেক মুখ থুবড়ে রাস্তায় পড়ল। দাউ দাউ করে জ্বলছে বাসটি। বাসের ভেতর থাকা যাত্রীরা জ্বলন্ত শরীর নিয়ে বাসের দরজা জানালা দিয়ে ছিটকে বেড়িয়ে আসছে। আচমকা পুরো শহর এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো বোধহয়। তারপরেই বিহ্বল লোকজনের ছোটাছুটি ও আর্তনাদে বীভৎস হয়ে উঠল চারিদিক।
ছাতা ম্যান চারিদিকে এক নজর সেই লোকটাকে খুঁজতে খুঁজতে জ্বলন্ত বাসটার দিকে এগিয়ে গেল।


৫.

সবগুলো টিভি চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ। লাইভ টেলিক্যাস্টে সবাই দেখলো পুড়ছে শহর, পুড়ছে মানুষ।  
শহর জুড়ে বোম্বার ম্যানের গুজব আরো বেশী বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠল নগরবাসীর কাছে।
আতংকে দিশেহারা শহর শান্ত নদীর মত নিশ্চল হয়ে পড়ল। তবে, মানুষজন বেশীদিন ঘরে বসে রইলোনা। পেটের দায়ে মানুষ আবার রাস্তায় নামলো। শহর আবার মুখর হয়ে উঠল দিন কয়েকের মধ্যে। তবে গনপরিবহন সবাই এড়িয়ে চলতে লাগলো। মানুষ পায়ে হেঁটে অফিসে যাওয়া আসা শুরু করল। হু হু করে বাড়লো সাইকেলের দাম। শহরের প্রধান সড়কগুলোয় দেখা গেলো রিক্সার আধিপত্য।

ছাতা ম্যান হন্যে হয়ে সারা শহর উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ায় সেই লোকটার খোঁজে। ক্যাপ্টেন মাহিনকে সে সবকিছু খুলে বলেছে। ক্যাপ্টেন মাহিনের তেমন উৎসাহ দেখা গেলোনা এই ব্যাপারে। সে বলল, “মানুষের উপকার করতে গিয়া বারবি কিউ হবার কোনো ইচ্ছা আমার নাই।” 

আর সে বাসে যাতায়ত’ও করেনা। তার এলাকার বাইরে যাওয়ারও প্রয়োজন’ই পড়েনা। সে ছাতা ম্যানকে আরো বলল, “ছাতা নিয়া বেশী উড়াউড়ি করিসনা। কখন জানি কারেন্টের তারে গিয়া পইড়া কাউয়ার মত লটকাইয়া থাকবি।”
তাই ছাতা ম্যান একাই লোকাল বাসে সকাল-সন্ধ্যা ঘুরে বেড়ায়। যদিও তার পকেটের অবস্থা বেশী ভালোনা তবুও সে চাপার জোরে ম্যানেজ করে নেয়। মধ্যরাতে সে ছাতা নিয়ে উড়ে বেড়ায়। তখন গাড়িগুলো বেশ স্পিডে চলে। দ্রুতগামী বাস- ট্রাকগুলো তাকে উড়তে বেশ সহায়তা করে।


৬.

বোম্বার ম্যান অবশেষে তার আবিষ্কারে সফলতা পেয়েছে। সে এখন জলজ্যান্ত একটা মানব বোম্ব।
এই শহরে শৃঙ্খলা ফেরাতে, শহরের মানুষগুলোকে সভ্য করতে দীর্ঘদিন পরে সে আবার বেড়িয়েছে। 
ততদিনে শহর আবার আগের রূপে ফিরে এসেছে। শহরের মানুষগুলো আরো বেশী বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে যেনো এই কদিনে। এই দেশের মানুষ কখনই শুধরোবেনা এই ভেবে মায়া হল বোম্বার ম্যানের পর মুহুর্তেই হিংস্র হয়ে উঠল সে। নিজেকে সে আর নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা কিছুতেই। জনবহুল রাস্তার মোড়ে, বাস স্ট্যান্ডে, ভিড় বাসে, ফুটওভার ব্রিজে ফেটে পড়ছে সে প্রচণ্ড আক্রোশে। গোটা শহর নরক হয়ে উঠল অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে। একের পর এক বিস্ফোরণে মানুষগুলো ছাইয়ের স্তূপে পরিণত হতে লাগলো। পোড়া রক্তে বিবর্ণ হয়ে উঠল শহরের পথ-ঘাট। এমন বীভৎসতা এই শহর দেখেনি আগে।



৭.

ছাতা ম্যান খেঁকিয়ে উঠতে যাবে তখন তার খেয়াল হল এই কন্ডাক্টরের একটা হাত নাই। এক হাত নিয়ে এই লোক কিভাবে কন্ডাক্টরী করে এই চিন্তায় ডুবে গেল সে পরক্ষণেই। বাঁধ সাধল কন্ডাক্টর নিজেই, “ঐ মিয়া কানের মাথা খাইছেন? ভাড়া দেন।”
অন্য কেউ হলে এতক্ষণে তুলকালাম বাঁধিয়ে দিত ছাতা ম্যান। কিন্তু সে দশ টাকার একটা চকচকে নোট কন্ডাক্টরের বুক পকেটে গুঁজে দিয়ে বাস থেকে নেমে পড়ল।
বাস থেকে নামতেই ছাতা ম্যান একটা ডাবল ডেকার দেখতে পেয়ে উঠে পড়ল। ডাবল ডেকার বাসে ভাড়া না দিয়ে সহজেই ঘোরাফেরা করা যায়। ছাতা ম্যান সোজা দোতালায় উঠে একদম সামনে গিয়ে সিট পেল। দোতালা বাসের সামনের সিটটা সচরাচর ফাঁকা পাওয়া যায়না। ছাতা ম্যানের কাছে মনে হল, সে একটা সিনেমা হলে এসে বসেছে। সিনেমা হলে সিনেমা চলছে, “পথের পাঁচালী”। 
মানুষ দেখে দেখে বড় হয়েছে ছাতা ম্যান তবুও শহর জুড়ে এত এত মানুষের অচেনা মুখগুলো দেখতে তার দারুণ ভালো লাগে।তার মনে হয়, সে প্রতিদিন কি নতুন সব মুখ দ্যাখে নাকি চেহারা মনে রাখতে পারেনা তাই তার কাছে সবগুলো মুখ নতুন লাগে।
 
ছাতা ম্যান মানুষের নাম ও মুখ বেশী দিন মনে রাখতে পারেনা। এমনকি যাকে সে এতদিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার চেহারাও সে ভুলে গ্যাছে এই ক’দিনে। শুধু মনে আছে সেই কালো ব্যাগটি। তাই সে কারো হাতে কালো ব্যাগ দেখলেই বিচলিত হয়ে পড়ে। অনুসরণ করে, কথা বলে সেই মানুষের সাথে নানান বাহানায়। সেই শীতল কন্ঠস্বর মেলাতে চেষ্টা করে কিন্তু ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে প্রতিবার। পড়ে, ‘পাগল’ বলে গালী দিয়ে এড়িয়ে যায় সবাই।
ছাতা ম্যান সিনেমার সবথেকে মর্মান্তিক সিন দেখলো এইবার। যেই বাসটা থেকে সে নেমে গিয়েছিলো সেই বাসটা এতক্ষণ ডাবল ডেকারের সামনে সামনে চলছিলো। আচমকা সেই বাসটা প্রচন্ড বিস্ফোরণে ফেটে পড়লো। ছাতা ম্যান স্পষ্ট দেখতে পেল, একটা হাত উড়ে এসে পড়লো ডাবল ডেকারের ছাঁদে।


হার্ড ব্রেকের কারনে ডাবল ডেকারের যাত্রীরা কাঁদি থেকে কলা খসে পড়ার মত অনেকেই হুড়মুড় করে সিট থেকে পড়ে গেল। দাউদাউ করে জ্বলছে সামনের বাসটি তখন। সামনের সিটে বসে ছাতা ম্যান সিনেমার সব থেকে রহস্যজনক সিন দেখলো এইবার। জ্বলন্ত বাসের লেলিহান শিখা থেকে ছিটকে বেড়িয়ে আসা কিছু নীলচে আগুনের স্ফুলিঙ্গ একত্রে একটা ঘুর্ণীর সৃষ্টি করেছে বাতাসে। তারপর সেই ঘুর্ণীটা বাতাসে ভেসে চলে যাচ্ছে শহরের অন্যদিকে। ছাতা ম্যান সাথে সাথে ডাবল ডেকারের ছোট জানালা গলে লাফ দিলো দোতালা থেকেই আর সাথে সাথে মেলে ধরল তার ছাতা দুটি। নিচের দিকে পড়তে পড়তে ছাতা ম্যান নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেল তার ছাতার। পিছু নিলো সে অদ্ভুত সেই নীলচে আগুনের ফুলকির। 
ছাতা ম্যান কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলো, একটা ফাঁকা জায়গায় নীলচে আগুনের ঘুর্ণীটা নেমে গিয়ে একটা মানুষ হয়ে গেল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ছাতা ম্যান। সে উপলব্ধি করল, এই শহরে তার থেকেও অদ্ভুত মানুষ ঘুরে বেড়ায়। 

ছাতা ম্যান দূর থেকেই লোকটাকে অনুসরণ করতে লাগলো। বাকের রোডের কাছাকাছি আসতেই ছাতা ম্যান একটা ছবি তুলে ফেলল লোকটার। অন্ধকারেও বেশ স্পষ্ট ছবি পেয়েছে লোকটার। কালো ব্যাগ ছাড়াই ছাতা ম্যান এবার চিনতে পারলো লোকটাকে। 


৮.

বোম্বার ম্যান ততক্ষণে বুঝে ফেলেছে যে কেউ তার পিছু নিয়েছে। তাই সে বিভিন্ন ওলি-গলি ঘুরে ছাতা ম্যানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো। ছাতা ম্যান ধৈর্য্য হারিয়ে বোম্বার ম্যানের রাস্তা রোধ করে দাঁড়ালো এবার। বোম্বার ম্যানও দাঁড়িয়ে পড়ে আবার নিজেকে বিস্ফোরিত করার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলো সে। 
বোম্বার ম্যানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছাতা ম্যান বলতে শুরু করল, মানবতার ফেরীওয়ালা যদি এমন অমানবিক কাজ করে তবে এই শহর জনশূন্য হতে আর বেশী দেরী নাই।
— এই শহর আমার। এই শহর আমি মানুষের বসবাসযোগ্য করে তুলবই।
— কীভাবে? মানুষ মেরে? যদি মানুষ না থাকে কি হবে মানুষের বসবাসযোগ্য শহর দিয়ে? তাকিয়ে দেখুন, ইটের ভাটা করে ফেলেছেন শহরটাকে। এখানে প্রাণের বিকাশ কি করে হবে?
— ধ্বংসের মাঝেই সৃষ্টির বীজ লুকানো। আপন নিয়মে আবার প্রাণ ফিরে পাবে এই শহর। নতুন এক সভ্যতার বিকাশ ঘটবে তখন। যেখানে সভ্য মানুষের দল শান্তিতে বাস করবে এই শহরে।
— আপনি লাশের স্তূপে শান্তির ফুল ফুটাতে চাইছেন।
— যুদ্ধ ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা কখনোই হয়নি। এই যুদ্ধে আমার পাশে এসে দাঁড়াও ছাতা ম্যান প্রাণে বেঁচে যাবে।
“আইজকা তর খবর’ই আছে” বলে ঝাপিয়ে পড়ল ছাতা ম্যান। তার ছাতা দুটো বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একের পর এক আঘাত করছে বোম্বার ম্যানের উপর। ছাতার বাড়ি খেয়ে খেয়ে রক্তাক্ত বোম্বার ম্যান একসময় ফেটে পড়ল প্রচন্ড গর্জনে। 
তীব্র আলোর ঝলকানিতে চারিদিক অন্ধ হয়ে গেল মুহুর্তেই। ছাতা ম্যান একটি ছাতা সামনে রেখে কোনো রকমে রক্ষা পেল। অন্য ছাতাটি পিছনে ধরে রাখায় বিস্ফোরন থেকে সৃষ্ট তীব্র বাতাসের বেগ ছাতা ম্যানকে উড়িয়ে নিয়ে অনেক দূরে গিয়ে ফেলল। 
যুদ্ধের ময়দানে ছাতা ম্যান আবার ফিরে আসলেও বোম্বার ম্যানকে আর খুঁজে পাওয়া গেলনা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/197543/</link>
				<pubDate>Sun, 26 Mar 2023 09:05:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যান<br />
পর্ব-২ঃ বোম্বার ম্যান<br />
————————————————————————-</p>
<p>১.</p>
<p>শহর জুড়ে এক নতুন আতংকের নাম বোম্বার ম্যান। শহরের জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য যে সকল লোকাল বাস রয়েছে সেই বাসগুলোতেই নাকি তার দেখা পাওয়া যায়। প্রচন্ড ভিড় বাসগুলোয় চড়ে বোমা দেখিয়ে আতংক ছড়াচ্ছে এই বোম্বার ম্যান। এক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছে চ্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-197543"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/197543/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">123fc4d1444d5e26f7b1e4199ca97304</guid>
				<title>Drako Shajib and Shukdeb Chandra Mazumder are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/197362/</link>
				<pubDate>Fri, 24 Mar 2023 14:38:00 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8d0ae1d6f860387f6dc7ebdb3363a92e</guid>
				<title>Drako Shajib and সাদিক আহমদ সিয়াম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/194226/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Feb 2023 08:01:00 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">319ef9f05b4213fdb4f5bb637f4d69a8</guid>
				<title>কৌতুকঃ

বুলু: কি রে ভুলু শুনলাম, তুই নাকি বিয়ে করবি না?
ভুলু: হুম.. ঠিকি শুনছস।
বুলু: কেনো রে..?
ভুলু: মনে রাখার ভয়।
বুলু: মানে?
ভুলু: বিয়া করলে অনেক কিছু মনে রাখতে হয়। এই যেমন, বউ&#039;র জন্মদিন, ম্যারেজ ডে, বাজারে গেলে ধইন্ন্যা পাতা আরো কত কী।
বুলু: এইগুলো মনে রাখতে পারবি না?
ভুলু: আমার ঘুম থেকে উইঠ্যা দাত মাজতে মনে থাকেনা, ভাত খায়া পানি খাইতে মনে থাকেনা এইসব মনে থাকব?
বুলু: হায়রে... ভুলু!!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/192476/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Feb 2023 13:54:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কৌতুকঃ</p>
<p>বুলু: কি রে ভুলু শুনলাম, তুই নাকি বিয়ে করবি না?<br />
ভুলু: হুম.. ঠিকি শুনছস।<br />
বুলু: কেনো রে..?<br />
ভুলু: মনে রাখার ভয়।<br />
বুলু: মানে?<br />
ভুলু: বিয়া করলে অনেক কিছু মনে রাখতে হয়। এই যেমন, বউ&#8217;র জন্মদিন, ম্যারেজ ডে, বাজারে গেলে ধইন্ন্যা পাতা আরো কত কী।<br />
বুলু: এইগুলো মনে রাখতে পারবি না?<br />
ভুলু: আমার ঘুম থেকে উইঠ্যা দাত মাজতে মনে থাকেনা, ভাত খায়া পানি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-192476"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/192476/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>19</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8b6162432262d11e0ec3a99886f4dc66</guid>
				<title>Drako Shajib and Md Rizwan Shuvo are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/191622/</link>
				<pubDate>Mon, 30 Jan 2023 08:17:21 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2d9e403997c9a1019b0cc742878cb974</guid>
				<title>Drako Shajib and Tanvir Ahmed are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/191546/</link>
				<pubDate>Sun, 29 Jan 2023 18:16:50 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">91c8cf6dc0f2cc45e0d95f484d66cb44</guid>
				<title>Drako Shajib and রাহুল চন্দ্র দাস are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/186991/</link>
				<pubDate>Sun, 01 Jan 2023 06:46:17 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c25bf449b58f6c4b3788d36d045a70be</guid>
				<title># ডিসেম্বরের শহর 

[গল্প লিখছিলাম অন্য একটি কিন্তু গল্পে গল্পে এই গল্পটা কিভাবে যেন চলে আসলো। সকল লেখক-পাঠকবন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কিছু ভুল শব্দ ও বাজে রসিকতার জন্য]

কাকতালীয়ভাবে যেটা দরকার সেটা ঠিক সময়ে পেয়ে গেলে বেশ অবাক লাগে, তাই না?
এই ধরুন আপনার আজকে খিচুরী খেতে মন চাইছে বাসায় ফিরে দেখলেন পাশের বাসার ভাবী আপনার বাসায় খিচুরী দিয়ে গ্যাছে। অথবা, ফাঁকা পকেটে ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন আর রাস্তায় বেশ কিছু টাকা কুড়িয়ে পেলেন। 
তবে, আমার এখন আর অবাক লাগেনা। আমার লগে এত হরহামেশা কাকতালীয় ভাবে এত কিছু ঘটে যে আমি এখন মনে মনে নিশ্চিত থাকি, যেই জিনিসটা চাইতাছি তা একটু অপেক্ষা করলেই বা একটু খুজলেই পাইয়া যাব। একটা ঘটনা কই তাইলে বুঝবেন। 
একদিন এক কামে গেছিলাম শালবন। রাস্তা দিয়া যাইতে যাইতে একটা স্টিক বানাইসি। খামু। কিন্তু ম্যাচ নাই। রাস্তা ধইরা হাঁটতে হাঁটতে একটা চা বিড়ির দোকান পাইলাম। একটা ম্যাচ চাইয়া পকেটে হাত দিসি দেখি ভাংতি কোন ট্যাকা নাই। হাজার ট্যাকার নোট। দোকান থিকা যে ধরামু সেই সাহস পাইতাসিনা। অনেক ময়মুরুব্বি বইসা আছে।
এখন এই বনে বাদাড়ে এত বড় নোট পুরা এক প্যাকেট সিগারেট কিনলেও ভাংতি হইতে কষ্ট হইয়া যাইব। মন খারাপ কইরা দাঁড়াইয়া আছি দোকানের সামনে। কি করুম ভাবতাসি। এমন সময় একটা ট্রাক আইসা থামল দোকানের সামনে। ড্রাইভার বুক পকেট থেকে একটা কাগজ বাইর কইরা দোকানদারের কাছে ঠিকানা জিজ্ঞাস করতেই একটা পয়সা টুপ কইরা ড্রাইভারের কাগজের ফাঁক দিয়া মাটিতে পড়ল। ড্রাইভার খেয়াল করলেও ট্রাক থেকে আর নামল না। কয়েনটা যে মাটিতে পড়ছে দোকানে বইসা থাকা সবগুলো চোখ দেখছে। আমি সবার চোখের সামনে কয়েন তুইলা দেখি পাঁচ ট্যাকা। ম্যাচের দাম বাবদ কয়েনটা দোকানদাররে দিয়ে সোজা হাঁটা দিলাম।

তাই মনে করতেই পারেন আমি ধন-সম্পদ, সুখ সমৃদ্ধি চাইয়া এত দিনে পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষের তালিকায় নাম লিখাইছি। কিন্তু আমার কপাল যেমন ভালোর ভালো, খারাপের খারাপ।
 
একদিন আলুক্ষেতে দাঁড়াইয়া এক ভিক্ষুকের হাত নেই দেইখা ভাবতাছিলাম হাত ছাড়া মানুষের অনুভূতি কেমন হয়? তার কষ্ট কি আমি কখনো বুঝতে পারব? আর ঠিক তখনি, খোদা জানে কই থেকে একটা বাস আইসা ধাক্কা দিল। আমি উইড়া গিয়া পড়তেই একটা হুন্ডা সাই কইরা আমার ডাইন হাতের উপর দিয়া চইলা গেল। হাত হাড়াইলাম একটা। এখন হাড়ে হাড়ে বুঝি হাত না থাকলে কেমন লাগে।

খারাপটা যেমন গুরুতর হইছে তেমন যদি ভালোটা হইত তাইলে আর দুঃখ থাকত না। কইতে পারেন জানে বাইচা গেছি, আরো খারাপ কিছুও হইতে পারত কিন্তু জানে এর আগেও বাঁচছি। 

ছোটবেলায় কুমিল্লা গেছিলাম কাকার লগে ঘুরতে। যেখানে গেসিলাম ঐ খানে একটা সুন্দর বাধানো পুকুর ছিল। টলটলা পানি। আমি তখনো সাঁতার পারিনা। হাঁটু সমান পুকুরে নাইমা মন ভিজলোনা তাই মনটারে ভিজাইতে বুক সমান পানিতে নাইমা পড়লাম। দুইটা ডুব দিয়া ভাবলাম আজকে থাক। থাকুম তো আরো কয়দিন। ভাইবা চিন্তা যেই ঘুইরা উঠতে যামু তখনি মনে হইল আমারে পিছন থিকা পানিতে টান দিসে। যতই সামনে পা বাড়াই ততই পিছনে যাইতে থাকি। একসময় পায়ের নিচে আর ঠাই নাই। সাথে সাথে দাপাদাপি শুরু কইরা দিলাম।
পুকুরে তখন আরো অনেকে গোসল করতাছিলো। আমার নানীও ছিল। কিন্তু কেউ আর বুঝে নাই আমি সাঁতার কাটতাসি নাকি বাঁচার জন্য শেষ চেষ্টাটুকু করতাসি। 
দাপাদাপি করতে করতে যখন নিশ্বাসের সাথে নাক মুখ দিয়া পানি খাওয়া শুরু করলাম তখন নিজেরেই বলতে লাগলাম কাম সাড়ছে। মায়ে আজকে কঠিন রাগ করব যদি শুনে আমি পানিতে ডুইবা মইরা গেছি।
যখন চোখে মুখে সূর্যের চোখ ঝলাসানো আলোয় এক অন্য ভুবন দেখতাসি তখন নাকি কাকতালীয় ভাবে এক মহিলার শাড়ির আঁচল ধইরা টান লাগতাসিলো। মহিলা পড়ে নাকি আইসা আমারে বাঁচায়। চোখ মেইলা দেখি নানীর মুখ। যে আমারে বাচাইছিল তারে আর দেখতে পারি নাই। দেখতে পারলেও তখন আর বুঝি নাই কোন মহিলা ছিল। আমি তখন পানিতে ডুইবা যাওয়ার জন্য আমার কি ধরনের শাস্তি হইতে পারে এই চিন্তায় আছিলাম। শাস্তি অবশ্য হইছে, কঠিন এক শাস্তি! বাইচা থাকার শাস্তি! 

আমার কপালগুণে সবসময় এমন কিছু কিছু না ঘটতেই থাকে। সবসময় বলতে কিছু কিছু সময়ে এমন হয় যে পুরা ফাঁপরে পইড়া যাই, এমন অসহায় হইয়া যাই যে করুনায় নিজেরে নিয়া নিজেই হাসি তামাশা করতে থাকি। তখন, কপাল গুণে এমন কোন কারিশমা হইয়া যায় যে সেই সময়টা কোনরকম সামলাইয়া নিতে পারি।

হাত হাড়াইয়া খুব কষ্টে আছিলাম। কাজ বাজ নাই, টাকা পয়সা নাই। থাকার জায়গা যেদিন হারাইলাম ঐরাতে মন খারাপ কইরা লাভ রোডে বইসা আছি ফুটপাতের উপর এক বিড়ির দোকানের পাশে। এক বদ মাইয়া আইসা আমারে কইল, ঐ আমার একটা কাজ কইরা দিতে পারবি? 
আমি কইলাম কি কাজ?
-- ঐ যে ঐ খানের ঐ গাড়িতে যে বসা আছে তারে গিয়া কইবি লাগবো নাকি রাতের পরী? 
-- কইলে আমারে ট্যাকা দিবি?
-- হ দিমুনে।
আমি সাথে সাথেই ঐ গাড়ির কাছে গিয়া জানলায় চোখ রাইখা দেখলাম এক বুড়া ব্যাটা বইসা আছে। তারে কইতেই বুড়া ব্যাটা কইল রেট কত?
আমি তো আকাশ থিকা পড়লাম। রেট তো জানা হয় নাই। আন্দাজ কইরা কইলাম পাঁচ হাজার। 
হালায় গাইল দিয়া কইল তোর রাতের রানী কই? দেখি তার মুখখানা। ওরে দেখাইতেই ওয় তিন হাজার টাকা কইল।
আমি আইসা ঐ মাইয়ারে জানাইতে আমারে একটা চুমা দিয়া গাড়ির দিকে গেল। গাড়ির ভিতরেই ওরা কাম সাড়ল। 
ঐ মাইয়া গাড়ি থেকে বাইর হইয়া আবার আমার কাছে আইল। দুইটা দামী বিড়ি কিন্না একটা আমারে দিল। তারপর জিগাইলো কই থাকি?
কইলাম থাকার জায়গা নাই। 
ওয় বিড়ি জ্বালাইয়া কইল আমার লগে কাম করবি? থাকতে দিমু, খাইতে দিমু, মাঝে মইধ্যে মুড ভালো থাকলে লাগাইতেও দিমু।
আমি আবার বইসা পড়লাম ফুটপাতে। বিড়িটা ধরাইয়া চান্দের দিকে তাকাইয়া কইলাম সালা কপালের মায়রে…

এক হাত হইলেও কোন সুযোগ আমি হাত ছাড়া করিনা। ঐ বদমেয়েরে বিয়া করলাম। বউ খারাপ কাম করে ভাইবা মন খারাপ হইত। মাঝে মাঝে মনের দুঃখে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতাম। একদিন হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর আইছি। ফেরার সময় যেই বাসে উঠছি, উঠতেই বুঝলাম এইডাই সেই বাস যেই বাসে ধাক্কা  খাইয়া আমার সব থেকে দরকারি হাতটাই ভোগে চইলা গ্যাছে।
ড্রাইভার আমারে দেইখা চিনলো। সিগন্যালে বাস দাঁড়াইলে বারবার ঘুইরা ঘুইরা তাকাইতাছিল। ড্রাইভারের পাশের সিট খালী হইতেই সেইখানে গিয়া বসলাম। এই লোকটা সেদিন আমার জন্য অনেক করছিল। হালায় নিজেই ধাক্কা দিয়া, নিজেই হাসপাতালে নিয়া গ্যাছে। ক্ষতিপূরণ হিসাবে এডভান্স সাড়ে সাত হাজার টাকা হাসপাতালের বিল হিসাবে দিয়া তারপর পলাইছিলো। হাত কাঁটা যাওয়া পর নিজের হাতে একদিন গরুর মাংস দিয়া ভাত মাইখা খাওয়াইয়া দিসিলো।

আমি ওস্তাদরে হালচাল জিগাইলে কইল খুব ঝামেলায় আছে। ঐ এক্সিডেন্টে হেলপার ধরা খাইছিলো। মহাজনে রাগ কইরা ছাড়ানির জন্য কোন টাকা দেয় নাই দেইখ্যা পুলিশে চালান কইরা দিসে। এখন যেই *** পোলায় আছে অয় দুনিয়ার চোর। সারাদিন গাড়ি ভরা যাত্রী থাকে কিন্তু তারে নাকি সবাই কম ভাড়া দিয়ে নাইমা যায়।
আমি কইলাম আমারে রাখবেন কামে। আট আনাও চুরী করুম না খালী শর্ত একটা গাড়ি সুন্দর মত কইরা চালাইবেন। 
ওস্তাদে কইল বড় কষ্টের কাম কিন্তু তার উপর এক হাত। আর আমার মুখ ভালোনা। গালি দিলে উল্টা গালি দেওয়ন যাইবোনা।
আমি কইলাম ট্যকা দিবেন ব্যবহার ভালো পাইবেন। 
ওস্তাদ নগদের উপর গাড়ি সাইড কইরা ফারুক নামের কামলাডারে ডাকল। ওস্তাদের গলা শুইনা ভেতরটা কাইপা উঠল।
ফারুক মনে হয় পিছনে ভাড়া কাটায় ব্যস্ত ছিল। ঐখান থেকে উত্তর দিল কি হইছে? চ্যাচাইতাসেন ক্যান?
ঐ *** পোলা এই দিকে আয়। কয় টাকা ভাড়া কাটছস?
টাকা গুনতে গুনতে ফারুক আগাইয়া আইসা কইল ক্যান ত্যাল লাগবো নাকি? সকালেই তো টাংকি ফুল কইরা বাইর হইলাম।
-- এত কথা কস ক্যান? তরে যেইটা জিগাইসি ঐটা ক…
-- ১৩৮০
-- ঐ ট্যাকা এর কাছে দিয়া বাস থিক্কা নাম। তর চাকরী নট!
ফারুক কতক্ষণ ভেন্দার মত আমার দিকে তাকাইয়া থাকল। তারপর কইল ট্যাকা দিমু ক্যান? সারাদিন কাম করসিনা।

ওস্তাদ সিট ছাইড়া উইঠা গিয়া ঠাটাইয়া একটা চড় দিল ফারুকের কান বরাবর। এরপর ফারুকের হাত থেকে টাকাগুলো জোর কইরা নিয়া ধাক্কা দিয়া গাড়ি থিকা নামাইয়া দিল।

সেদিন ওস্তাদের সাথে থাইকা গ্যালাম। গাড়ি শহরের বাইরের। রতনপুরের। সকালে ওস্তাদের সাথে আবার বাইর হইলাম গাড়ি লইয়া। সারাদিনে শহরের এমাথা ওমাথা করে ৪ টিপ। শেষ টিপে আর ওস্তাদের সাথে সেদিন শহর ছাইড়া গ্যালাম না। 
বাসায় যাইয়া দেখি বউ নাই। নিশ্চয়ই **টা বাইর হইসে শরীর ব্যাচতে। আইজকাইল তার মার্কেট বেশ ভালো। গাড়ি কইরাও মাঝে মাঝে তারে নামাইয়া দিয়া যায় বাড়িতে। ছোট্ট একটা এলাকায় কয়েকঘর টিনসেড বাড়ির একঘর ভাড়া নিয়ে থাকি। পাড়া পড়শি সবাই দেখছে বিষয়টা। অনেকে এসে বলে আপনার বৌ গাড়িতে কইরা ঘোরা ফেরা করে আর আপনারা এই বস্তি থাকেন। অনেকের আবার বিষ্ময় কেটেছে বহু আগেই। তারা আবার সুযোগ পাইলেই ঘরে ঢুকতে চায়।
এই দিক দিয়া আবার আমার বউ ভালো আছে ঘরে কাউরে চান্স দেয়না। কয় অফিসের কাজ বাসায় করিনা।
আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে বউ আইলো শেষ রাতে। গায়ে মদের গন্ধ, কথা বার্তাতেও মাদকতা।
আমি চুপচাপ বইসা শুধু শুনতাসি।
বউ কয় পুরুষ মানুষ আর কু** বাচ্চার লগে মিল কই জানো?
আমি নিরুত্তর।
বউ কয়, যখন এগো মাথায় মাল উইঠা যায় তখন আর *** পোলারা ফুডা খুইজা পায়না। 
আমি কইলাম ঠিক বলছো। আসলে মানুষ জাতটাই খারাপ। পোলা আর মাইয়া বিষয় না।
বউ শাড়ি খুলতে খুলতে বলে এইটা কি কইলা। এই যে আমি ভালো, তুমি ভালো আমরা কি মানুষের জাত না।
আমি বউয়ের ছোপ ছোপ লালচে হয়ে যাওয়া শরীর দেখতে দেখতে বলি, মনে হয়না।
-- আমরা তাইলে কিসের জাত?
-- ফক্কিনির জাত।
বউ আর কথা বাড়াইলোনা কাথা গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল।
আমিও বউয়ের পাশে শুয়ে তার নরমে নিজেরে গরম কইরা ঘুমাইয়া পড়ি।

ঘুম ভাংলে দেখি বউ নাই ঘরে। আমি বউয়ের ফোন দিয়া ওস্তাদরে ফোন দিয়া কই রতনপুরে আমার জন্য একটা ভালো বাড়ি ঠিক কইরা দিতে। পাড়লে আজকেই দিতে তাইলে আইজ থেকেই বউরে নিয়ে উঠব। 
ফোন রাখার আগেই বউ আইল গোসল কইরা। দেইখা মনটা ভইরা উঠল। এক হাত দিয়াই জড়াইয়া ধইরা কইলাম তরে নিয়ে আমি চান্দে বাসা বাধুম বউ। এই ইটের ভাঁটায় আর থাকুম না। ব্যাগ গুছা।
বউ কইল, হাত জাগে না, সোনা খারাইয়া দেখি তালগাছ!
মেজাজটা খারাপ হইয়া গেল। মনটা চাইল হাতটা ওর গলার ভিতর ভইরা দিয়া কইলজাটা বাইর কইরা আনি। পরে মনে হইল জোর খাটাইয়া লাভ নাই, আপোষে থাকতে হইব। 
আর, ওর মুখের ভাষা ছাড়া বাকি সবটাই সুন্দর! ওরে নিয়া ভালোই থাকতে পারুম মন কইতাছে।
ওরে ময়না, টিয়া, সোনা কইয়া বুঝাইলাম।। কাহিনী শুইনা ওর ছলছল চোখ দেইখা বুঝলাম কাজ হইসে। এই চান্সে আদর দিয়া প্রেমে একটু মশলা দিলাম। ঝাঁঝ বাইর হওয়ার আগেই ফোনটা বাইজা উঠল।
ওস্তাদ ভাইবা ফোনটা ধরলাম। কানে নিয়া শুনি এক *** *** পোলায় কইতাসে, “কালকের কাস্টমার তরে বাকি জীবনের লাইগা রাইখা দিতে চায়। এর বদলে তুই যা চাইবি তাই তরে দিবো আর মরলে পড়ে ওর সব সম্পত্তি তর। আর আমি খোঁজ নিয়া দেখসি ওর তিনকূলে কেউ নাই। তুই কি কস?&quot;
আমি ফোনটা কাইটা দিয়া বউরে কইলাম, ফোনটা আমি নিয়ে যাইতাসি তুই ব্যাগ ট্যাগ গুছাইয়া ঘরে থাকিস। কোথাও যাইস না। আমরা আজকেই যামুগা এই শহর ছাইড়া।

ওস্তাদের লগে দেখা হইতেই ওস্তাদরে জিগাইলাম কিছু পাইছেন?
-- কী?
-- বাড়ি।
-- কাহিনী কি? খুনটুন করছস নাকি?
-- ধুরো হালার! এক হাত দিয়ে নিজের জীবনডা নিতে পারতাসি না আবার আরেকজনের? 
দুপুরে খাইতে খাইতে ওস্তাদরে বিষয়টার গুরুত্ব বুঝাইতে ওস্তাদ কয় বাড়ি একটা আমারি আছে। নদীর লগে। ঝড়-বন্যায় পানি উঠে দেইখা থাকিনা। কিন্তু তর ভাড়া দেওন লাগব।
আমি কইলাম মাগনা থাকুম ক্যান? তয় কম রাখতে হইব। যতই হোক, আপনার লাইগা আজ আমার এক হাত নাই। 
-- তাইলে কি আজকেই উঠবি?
-- তাইলে তো বাইচা যাই।
-- ঠিক আছে তাইলে। আইজকা যাওয়ানের সময় তর মাল সামানা নিয়ে যামুনে।
-- মালছামানা তেমন কিছুই নাই একটা বউ আছে আর বউয়ের কয়ডা শাড়ি।

রাইতে যাওনের সময় বাসায় আইসা দেখি বউ আর কারেন্ট কোনটাই নাই। ঐদিকে ওস্তাদ বাসস্টান্ডে পুরা বাসটা খালি কইরা আমগো জন্যে বইসা আছে। মন খারাপ কইরা বইসা রইলাম ঘরে। ইচ্ছা করতাছিল গলায় দড়ি দেই। আবার মনে হইল দড়ি তো নাই ঐ *** শাড়ি পেচাইয়া মরতে হইব শ্যাষ-ম্যাষ। নিজের উপর হাসি আসা শুরু হইল। এমন সময় মনে হইল হালার ওরে তো আমি ভালোইবাসি না। খারাপ মানুষরে চাইলেও ভালোবাসা যায়না। আমি একাই থাকুম চান্দে। 
যাওয়ার আগে মনে হইল এই *** ঘরে মুইতা যাই। ঘরের ভিতর মুইতা বাইর হইতেই দেখি বউ আসতাছে। বুকের মইধ্যে ছ্যাৎ কইরা উঠল। 
চিল্লাচিল্লি শুরু কইরা দিলাম। বউ কইল একজনের কাছে কিছু টাকা পাই ঐটা আনতে গেছিলাম। 
আমি শান্ত হইয়া কইলাম চল তাইলে এক্ষুনি আমার লগে। বউ কয় দাঁড়া ব্যাগটা নিয়া আসি। বউয়ের পিছন পিছন মোবাইলের লাইট জ্বাইলা গেলাম। দেখি বউয়ের ব্যাগের উপড়েই মুইতা ভাসাইয়া দিসি। 

বউরে নিয়া ওস্তাদের কাছে ফিরা যাইতেই ওস্তাদ একটা বিড়ি জ্বালাইয়া গাড়ি এক্সেলেটরে পাড়া দিল। রকেটের মতো উড়তে উড়তে যাইতাসি স্বপ্নের দুনিয়ায়। বউরে কইলাম, হালায় এমনে গাড়িটা চালাইয়া আমার হাতটা খাইয়া দিসিলো একদিন। 

কপালটা ভালো, স্বপ্নে যেমনটা চাইছিলাম তেমন একটা বাড়ি পাইছি। নদীর ধারে নিরিবিলি শান্তিতে থাকা শুরু করলাম।
বউটা সারা দিন নদীতে বড়শি ফালাইয়া বইসা থাকে। সারাদিন যা মাছ-টাছ পায় রাইতে আমি আইলে তাই দিয়া দুইজনে খাইয়া ঘুম দেই। 
দিন দিন বউটা আরো বেশি সুন্দর হইয়া উঠতাছিল। দেশের মানুষ তো জ্বইলা পুইড়া আঙ্গার হইয়া যাইতাছিল আমার মত লুলা ব্যটার বউ দেইখা।

হিংসার আগুনে না পুড়লেও বাসে সারাদিন গরমে, ঘামে, ধুলাবালি আর মানুষের গায়ে গায়ে ডলা খাইয়া আমার শরীর দিয়াশলাইয়ের প্যাকেটে লেপা বারুদের মত হইয়া থাকে। আমি নিশ্চিত কাঠি দিয়া ঘসা দিলে আগুন ধইরা যাইব।
এর ভেতর নানা তালের হাজার মানুষ প্রতিদিন বাসে ওঠে নামে। কিছু আছে দুনিয়ার গোয়াড়! উইঠা গেটের কাছে ঘাপটি যে মারব আর নড়া চড়া নাই। যত কই ভাই পিছনে গিয়ে দাঁড়ান তত বাসের হাতল শক্ত কইরা ধরে। অথচ সবাই যদি ঠিক মত দাঁড়ায় আমাগো ডেইলি ইনকাম আরো ২ গুন বাইড়া যাইত।      
কিছু আছে বোবাকালা ৫ টাকা ধরাইয়া দিয়া আর কিছুই দ্যাখে না, শুনেও না। আবার কিছু আছে **পাকনা। ওগোরে তো কিছু বলাই যাইব না। একটা কইলে ১০ টা শুনাইবো, চান্স পাইলে গায়ে হাত দিব। 
এই দিকে আমার হাতটা না থাইকা মনে হয় ভালোই হইছে। প্রতিদিন&#039;ই কেউনা কেউ খুশী হইয়া ভাড়া বাড়াইয়া দেয়। একদিন ভাবতাসি বউয়ের লাইগা একটা দামী কিছু নিয়া যামু ঐদিনি ৫০০ টাকা দিছে একজনে ভালোবাইসা। 
এছাড়া অনেকেই ভাড়া নিয়া আমার লগে বেশী ক্যাচক্যাচ করে না। আমিও অবশ্য সুন্দর কইরা বলার চেষ্টা করি। এইদিক থেকে বলা যায় ভালো ব্যবহার হইল আলাদিনের চেরাগ। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার কইরা সহজেই ভাড়া বেশী নেওয়া যায়। উপড়ি ইনকামের দরকার আছে নাইলে নিতাম না। দেশ ভরা স্টুডেন্ট ওগো হাফ-পাস রাখতে রাখতে ফুল ভাড়া দেওয়ার যাত্রীগুলা হাত ছাড়া হইয়া যায়। 
তারপরে দিন শেষে যদি দেখি ত্যালের খরচ ওস্তাদের পকেটের উপড়ে দিয়া যাইতাসে তাইলে সেদিন ওস্তাদ আর হ্যার বউরে ** না, আমার উপরে দিয়াই যায়। তখন মনে হইত আমার বৌ মনে হয় আমার থিকাও ভালো কাজ করত। পৃথিবীর সবথেকে জঘন্যতম চাকরী হইল বাসের হেলপারী আর কন্ডাক্টটারী করা। দুনিয়ার মানুষের গায়ের স্যাঁতস্যাঁতা ঘামে সারাদিন মাখামাখি কইরা, খালি প্যাটে গালি খাইয়া, ট্যাকার লাইগা চুরী-চামারী কইরা, পচা মাছের মত বোটকা গন্ধ নিয়া রোজ বাড়ি ফিরি। 

তারপরেও শান্তিতেই আছিলাম। বউরে নিয়া রাইতে নদীর জলে রংতামাশা কইরা, পেট ভইরা খাইয়া, নিশ্চিন্তে ঘুমাইয়া সারাদিন ঐ এক হাতে ঝুইলা থাইকাও আনন্দে আছিলাম পুরা দমে। কিন্তু হালার কপাল... বাসে ঐদিন কি নিয়া জানি এক বিশাল গ্যাঞ্জাম বাইধা গেল। গাঞ্জাম থামাইতে যেই কাছে গেছি অমনি পৃথিবীটা আৎকা কাইপা উঠল। উলট পালট হইয়া গেল সবকিছু প্রচন্ড এক বিস্ফোরণে।

হাইগা পরিষ্কার করার হাতটাও আর থাকলোনা আমার। বোমের চোটে কই উইড়া গিয়া পড়ছে আর খুইজা পাই নাই।

কপালগুণে হাসপাতালে যতদিন ছিলাম ততদিন পরিষ্কার করার জন্যে লোকের অভাব হয় নাই। ভাবছি বাড়ি গেলে বউ তো আছেই। চিন্তা নাই।

মাস খানিক পর যখন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলাম দেখি ওস্তাদ আমার বউরে নিয়া বেশ আনন্দে আছে। আমারে দেইখা কইলো তোগো থাকোন-খাওয়োন আমার। চিন্তার কিছু নাই। 
আমি কইলাম ওস্তাদ তুমি বিশাল মনের মানুষ এতে কোন সন্দেহ নাই কিন্তু আমাগো লাইগা কতদিন’ই বা করবা?
--আমার মনটা আর দেখলি কই? তর লাইগা আমার পোলারে জেল থিক্কা না ছাড়াইয়া তর হাসপাতলের বিল দিছি। ঐ দিন যেই হেলপাররে পুলিশ ধইরা নিয়া গেছিল ঐ হেলপার আমার আপনা পোলা আছিলো। আমার একমাত্র পোলা। 

আমার হালা কপাল’ই একটা...


----------------------------------আনন্দ আসে দুঃখটাকে সাথে নিয়েই---------------------------------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/173890/</link>
				<pubDate>Thu, 10 Nov 2022 20:24:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> # ডিসেম্বরের শহর </p>
<p>[গল্প লিখছিলাম অন্য একটি কিন্তু গল্পে গল্পে এই গল্পটা কিভাবে যেন চলে আসলো। সকল লেখক-পাঠকবন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কিছু ভুল শব্দ ও বাজে রসিকতার জন্য]</p>
<p>কাকতালীয়ভাবে যেটা দরকার সেটা ঠিক সময়ে পেয়ে গেলে বেশ অবাক লাগে, তাই না?<br />
এই ধরুন আপনার আজকে খিচুরী খেতে মন চাইছে বাসায় ফিরে দেখলেন পাশের বাসার ভাবী আপনার বাসায় খিচুরী দিয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-173890"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/173890/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>21</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d7e18e633d2e3dae42d5b1640beac964</guid>
				<title>কৌতুকঃ
ভুলু তার ছোট ভাই পুলুকে ৫০ টাকা দিয়ে বললো ৪০ টাকা দিয়ে খাতা নিবি,১০ টাকা দিয়ে নাস্তা খাবি।
পুলু পটেটো খেতে খেতে এসে ভুলুকে ৪০ টাকা ফেরত দিয়ে বলে খাতা ৪৫টাকা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/123430/</link>
				<pubDate>Tue, 05 Jul 2022 16:23:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কৌতুকঃ<br />
ভুলু তার ছোট ভাই পুলুকে ৫০ টাকা দিয়ে বললো ৪০ টাকা দিয়ে খাতা নিবি,১০ টাকা দিয়ে নাস্তা খাবি।<br />
পুলু পটেটো খেতে খেতে এসে ভুলুকে ৪০ টাকা ফেরত দিয়ে বলে খাতা ৪৫টাকা। <img loading="lazy" alt="🙂" class="emojioneemoji" src="https://cdn.jsdelivr.net/emojione/assets/3.1/png/32/1f642.png" /></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>24</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d2c03d31d483ecfd9cf49d046f407917</guid>
				<title>কৌতুকঃ
ভুলু সন্ধ্যাকালীন নাস্তা করতে গেল বুলুর দোকানে। ভুলু দুইটা বেগুনী ও দুইটা আলুর চপ ও একটা পেয়াজু খেয়ে বলল, কিরে বুলু কয় টাকা বিল হইসে?
বুলুঃ বেশী না, মাত্র ৫০ ট্যাকা।
ভুলুঃ ৫০ টাকা! ক্যামনে কি?
বুলুঃ সব আইটেম এখন ১০ টাকা কইরা পিস।
ভুলুঃ কি কস! কালকেও তো ৫ টাকা করে ছিল।
বুলুঃ হ! কিন্তু আজকে আটার দাম বাড়তি। প্রতি বস্তায় ১০ টাকা বাড়ছে।
ভুলুঃ ওহ! তাইলে তো ঠিকি আছে। 
ভুলু বিল পরিশোধ করে মাথা চুলকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবছে কি যে হইছে দেশটার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/113321/</link>
				<pubDate>Fri, 20 May 2022 06:17:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কৌতুকঃ<br />
ভুলু সন্ধ্যাকালীন নাস্তা করতে গেল বুলুর দোকানে। ভুলু দুইটা বেগুনী ও দুইটা আলুর চপ ও একটা পেয়াজু খেয়ে বলল, কিরে বুলু কয় টাকা বিল হইসে?<br />
বুলুঃ বেশী না, মাত্র ৫০ ট্যাকা।<br />
ভুলুঃ ৫০ টাকা! ক্যামনে কি?<br />
বুলুঃ সব আইটেম এখন ১০ টাকা কইরা পিস।<br />
ভুলুঃ কি কস! কালকেও তো ৫ টাকা করে ছিল।<br />
বুলুঃ হ! কিন্তু আজকে আটার দাম বাড়তি। প্রতি বস্তায় ১০ টাকা বাড়ছে।<br />
ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-113321"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/113321/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>21</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3f9cf153fceb754d978001bf037347d2</guid>
				<title>ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যান
পর্ব-১ঃ ব্যস্ত নগরীর রোজকার গল্প।
-------------------------------------------------------------------------

ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যান শহরের অন্যতম ব্যস্ততম অঞ্চলের একটি এটিএম বুথের নিচে বসে আছে।
দু’জনের হাতেই সিগারেট। নিজেদের ভেতর আলাপচারিতা চলছে। খুব গুরত্বপূর্ণ কিছু নয় তবুও ওদের কথা খুব মনোযোগ সহকারে শুনছে এটিএম বুথের বুড়ো দারোয়ান শহীদ চাচা। 
শহীদ চাচা প্রায় ৪০ বছর এই বুথে বিনা ছুটিতে নির্বিকার ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তার চোখের সামনেই বড় হয়েছে শহরের এই দুই সুপারহিরো।

ক্যাপ্টেন মাহিনঃ বুঝলি লেল (ছাতা ম্যানের ডাকনাম)! এই শহরে মানুষগুলার কাছে সবি আছে। কিন্তু যেইটা সব থেকে বেশি দরকার ঐটাই নাই।
ছাতা ম্যানঃ  তুমি কি শান্তির কথা বলতাসো?
- নাহ…রে! 
শহীদ চাচাঃ  শান্তি তো সেই কবেই পরিবার সমেত এই দেশ ছাইড়া চইলা গেছে।
- তাইলে? কিসের কথা কইতাসো মাহিন ভাই?
- সময়ের কথা বলতাসি।
- সময়? ঠিক বুঝলাম না।
-আচ্ছা বুঝাইয়া বলতাসি। ধর, এই যে শহীদ চাচা। এই লোকটার বউ আছে, সংসার আছে তবুও এই লোকটা সময় কইরা নিজ বাড়িতে যাইতে পারেনা। আবার ধর তুই শেষ কবে সময় কইরা তোর আত্নীয়র বাড়িতে গিয়া এক বেলা খাইছিস তোর মনে আছে? 
- না ভাই। মনে নাই। 
- হা…হা…হা… মনে নাই। এই বার বুঝছস?
- এখন মনে হয় বিষয়টা একটু একটু ধরতে পারছি।
শহীদ চাচাঃ আমি যে সময়ের অভাবে বাড়ি যাই না তোমারে কে বলল? আমি বাড়ি যাইনা অন্য কারনে।
কি কারন চাচা? প্রশ্ন করল ছাতা ম্যান। ঠিক তখনি বিকট শব্দ ও আর্তচিৎকার ভেসে এলো মাঝ রাস্তা থেকে। সবার দৃষ্টি সেদিকে ফিরতেই দেখল, এক বাইকার তার হুন্ডা সমেত রাস্তায় পড়ে আছে এবং অল্পের জন্য একটি লোকাল বাস বাইকারের মাথা বাচিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। কিছু দূরেই এক মহিলা বসে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে।

ঘটনার আকস্মিকতা কাটতে না কাটতেই চোখের পলকে এক দৌড় দিল ক্যাপ্টেন মাহিন। ব্যস্ত নগরীর অনেকেই তখনো এতটা ব্যস্ত যে কেউ কেউ ক্যাপ্টেন মাহিনকে রাস্তার মাঝে দৌড়ে যেতে দেখে হালকা করে গাড়ির ব্রেক ছুয়ে আবার স্পীড বাড়িয়ে দিল। কোনভাবেই এই এক্সিডেন্টের জ্যামে পড়া যাবেনা এই ভেবে।

ছাতা ম্যান বেশকিছুক্ষন সময় নিল তার কোমর থেকে ছাতা দুটি বের করতে। তার পরেই লাফিয়ে পড়ল রাস্তার উপরে। ছাতা দুটি শূন্যে ঘুরিয়ে তার বেশকিছু অদ্ভুত ভঙ্গী দেখিয়ে ছাতাটি সম্পূর্ণ না খুলে লম্বা করে নিল। ছাতা দুটি ট্রাফিক পুলিশের মত করে দেখিয়ে রাস্তার গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে সক্ষম হল।  

ক্যাপ্টেন মাহিন এরি মধ্যে বাইকারের পায়ের উপর পড়ে থাকা হুন্ডা সরিয়ে তার হেলমেট খুলে ফেলল। বাইকারের চোখ বন্ধ, চেতনাহীন। 
জনতার সমুদ্র ঘিরে ধরেছে আহত দুইজনকে। ক্যাপ্টেন মাহিন সবাইকে উদ্দ্যেশ্য করে বলল, একটু ধরবেন, প্লিস।
সবাই ধরাধরি করে আহত দুইজনকে রাস্তার পাশের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেল। মহিলাটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য রাখা হলো এবং অচেতন বাইকারকে অন্য হসপিটালে নিয়ে যাবার জন্য বলা হল।
এ কথা শোনা মাত্রই জনতার সমুদ্র হঠাৎ করেই যেন এক বিশাল বালুচর তুলে উবে গেল। তখনো ক্যাপ্টেন মাহিন আর শহীদ চাচা কোনরকম চ্যাংদোলা করে ধরে রেখেছে অচেতন বাইকারকে। রিক্সা নিয়ে ছাতা ম্যান আসলে বাইকারকে রিক্সায় তুলে ক্যাপ্টেন মাহিন উপরে উঠে বসে শক্ত করে ধরে তাকে। শহীদ চাচাকে বলল, চাচা এই লোকের হুন্ডার চাবি ও  হুন্ডাটা দেইখ। আমরা আসতাছি।

রিক্সা বিপরীতমুখী রাস্তা ধরে এগিয়ে চলছে। জ্যাম ঠেলে সামনে দিকে চলা কঠিন হয়ে পড়লে ছাতা ম্যান আবার তার ছাতা দুটি নিয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে নেমে গেল। হাসপাতাল অবধি এভাবেই ওরা এগিয়ে গেল। হাসপাতালের ইমার্জেন্সী গেটে পৌছে দ্রুত স্ট্রেচারে করে অচেতন বাইকারকে নিয়ে ভিতরে চলে গেল ক্যাপ্টেন মাহিন। ছাতা ম্যান পিছু পিছু ভিতরে ঢুকতে যাবে তখনি রিক্সাওয়ালা ডাক দিল। 
-এই যে ভাই, আমার ভাড়াটা দেন। 
-ওহ! হ্যাঁ, কত ভাড়া?
-৫০ ট্যাকা দেন।
-ঐ মিয়া! এইখান থিকা এইখানে ৫০ টাকা ভাড়া হয় নাকি? 
-আপনারা ৩ জন।
-৩ জন ৩০ টাকা রাখো। এই নাও।
-আর ১০ টাকা দেন বাবা। আমি গরীব মানুষ।
-আচ্ছা এই নাও। 
ভাড়া দিয়েই ছাতা ম্যানের মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে মানুষের উপকার করছে কই তার কাছ থেকে ১০ টাকা কম রাখবে তা না উল্টা তার কাছ থেকে বেশী ভাড়া কিভাবে দাবী করে তার মাথায় ঢোকে না। সে নিজেও একজন গরীব মানুষ, তার পকেটের অবস্থা খুব একটা ভালো না। এই টাকা হিসেব করে রাখতে হবে। ঐ লোকের হুঁশ ফিরলে তার কাছ থেকে ফেরত নিতে হবে। এই ভাবতে ভাবতে ছাতা ম্যান ইমারজেন্সি রুমে ঢুকল।
ইমারজেন্সি রুমটা সুন্দর ও বেশ বড়। তখনো স্ট্রেচারে অচেতন হয়ে পড়ে আছে অজ্ঞাত বাইকার। কর্মরত ডাক্তার, নার্স, সহায়ক একটু পর পর একে একে এসে জিজ্ঞেস করছে, রোগীর কি হয়েছে? কিভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছে, ওরা রোগীর কি হয়? রোগীর বাসার মানুষ কই? ইত্যাদি। 

ডাক্তার এসে রোগী চেক করতেই আশ্চর্য হয়ে গেল। রোগীর শরীরে কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। ডাক্তার আশাংকা করল মাথার ভেতরে হয়ত আঘাত পেয়েছে। ব্রেইন হ্যামারেজ জাতীয় কিছু। 
ডাক্তার ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যানকে বলল দ্রুত টেস্ট করা প্রয়োজন, রাত বেশি হলে এই শহরের কোথাও আর সিটি স্ক্যান করানো যাবেনা। 
ক্যাপ্টেন মাহিন অচেতন বাইকারের পকেট হাতড়ে একটি ফোন পেয়েছে তবে ফোনটি লক। ছাতা ম্যান গভীর মনোযোগে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস দেখতে দেখতে ক্যাপ্টিন মাহিনকে বলল, 
- আচ্ছা ভাই! আমি ছবিতে দেখছি মানুষ অজ্ঞান থাকলে মুখে পানির ঝাপটা দিলে ঠিক হইয়া যায়। 
- হুম। 
- তাইলে আমরা কি একটু পানি দিয়া ট্রাই কইরা দেখুম?   
- লেল এইটা তোহ কোন মুভি না। 
তখনি হাসপাতালের এক কর্মরত অল্প বয়সী ছেলে ছোট একটা ট্রলি নিয়ে ওদের সামনে এলো। ট্রলিতে বিভিন্ন রকমের হাতুড়ি দেখে ছাতা ম্যান আপন মনে বলল, ভাই রে ভাই এখন কি হাতুড়ি চিকিৎসা হইব নাকি?
ছাতা ম্যানের ধারনা সত্যি হল। ছেলেটি হাতুড়ি দিয়ে রোগীর হাটুতে আস্তে বাড়ি দিতেই অচেতন রোগীর চেহারা ব্যাথায় বিকৃত করে উঠল। কয়েকবার দুই হাটুতে বাড়ি দিতেই রোগী চোখ পিটপিট করা শুরু করল। এর কিছুক্ষন পরেই জ্ঞান ফিরল রোগীর তবে তখনো তার ঘোর কাটেনি। ডাক্তার তাকে বেশ কিছু প্রশ্ন করল কিন্তু রোগী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলনা দেখে ডাক্তার বলল, আপনি ঠিক আছেন, ভয় পাবেন না। আচ্ছা রেস্ট নিন আরো কিছুক্ষন।

এর পরের ঘটনা ঠিক সিনেমার মতই, রোগী স্বাভাবিক হলে প্রথমেই জিজ্ঞেস করল, আমি কোথায়? আমাকে এখানে কারা নিয়ে এসেছে? তারপর ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যানকে একবার দেখে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। ক্যাপ্টেন মাহিন এগিয়ে গিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, আপনি ঠিক আছেন। আপনার কিছুই হয় নাই আর ভয়ের কিছু নেই। আপনার বাইক, ব্যাগ ও ফোন আমাদের কাছে আছে। কোন চিন্তা করবেন না। আপনি ঠিক আছেন। 
 
পায়ের ব্যাথা নিয়ে ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যানের কাধে ভর দিয়ে খুরিয়ে খুরিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হল বাইকার সোহেল। হাসপাতালের পাশেই চায়ের দোকানে বসল তিনজন। চা, সিগারেট, পানি খেতে খেতে এক্সিডেন্টের পূর্বের বর্ননা শুনল দু’জনে। তারপর ক্যাপ্টেন মাহিন বর্ননা করল এক্সিডেন্টের পরবর্তী ঘটনা। বাইকার সোহেল বলল, ভাই বিশ্বাস করবেনা আজকে একবারে নিজের চোক্ষে আজরাইল দেখছি। আজরাইলরে দেইখা খুব মন খারাপ হইল আমার মাইয়াটার জন্য। এই যে দেখেন আমার মেয়ের ছবি বলে ফোন থেকে মেয়ের ছবি বের করে দেখাল। রাজকন্যার মত ছোট্ট মেয়েটির ছবি দেখে ছাতা ম্যান যাবতীয় খরচের টাকা চাইতে ভুলে গেল বাইকার সোহেলের কাছ থেকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/105139/</link>
				<pubDate>Fri, 08 Apr 2022 11:42:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যান<br />
পর্ব-১ঃ ব্যস্ত নগরীর রোজকার গল্প।<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>ক্যাপ্টেন মাহিন ও ছাতা ম্যান শহরের অন্যতম ব্যস্ততম অঞ্চলের একটি এটিএম বুথের নিচে বসে আছে।<br />
দু’জনের হাতেই সিগারেট। নিজেদের ভেতর আলাপচারিতা চলছে। খুব গুরত্বপূর্ণ কিছু নয় তবুও ওদের কথা খুব মনোযোগ সহকা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-105139"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/105139/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>18</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3af96943513a29bc2521cf5552db0c4</guid>
				<title>&quot;বহিছে ভূবনে আনন্দ ধারা&quot;
সবাইকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই আগাত উৎসবের।
বড়দিনের এক সুন্দর স্মৃতি মন পড়ল,  
ছেলেবেলায় ঠিক বড়দিনের আগে আগে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হত আর ছুটতাম গ্রামে। সে সময়ে গ্রামের সবাই একসাথে একদলে স্বাগত জানাত বড়দিনের উৎসবকে। বড়দিনের উৎসব ঈদ-পূজার মতই আগে আগে ছড়িয়ে পড়ত সমস্ত গ্রামে। আমি গ্রামে গেলে গ্রাম আমায় আপন করতে কিছু মুহূর্ত নেয়মাত্র। মিশে যাই সে উৎসবে ভাই-বন্ধুদের সাথে। 
শীতের সন্ধ্যায় গ্রামের সবার সব থেকে প্রিয় মানুষটির উঠোন থেকে শুরু হত একটি গায়েনদলের যাত্রা সাথে থাকত উৎসুক কিছু প্রাণ। অবাক করার মত সবাই একসুরে একতালে অবলীলায় গাইছিল। সমাবেত কন্ঠে সবার গানের এমন সুর হত  সে সুর আপনা থেকেই মনের ভেতর  দোলা দিতে থাকে মধুর লয়ে। সে লয়ে ছন্দ রেখে নেচে ওঠে সবার পা। একতালে একসুরে বেশ কয়েকটি গানের পরে বেরিয়ে পড়ে দলটি গ্রমের পথে। 
গ্রামের রাজকন্যা টুকুপিষির হাতে সবসময় থাকত পেটমোটা সুন্দর চামড়ায় বাধানো একটি ডায়েরী, ও বেশ কয়েকটি ছোট বই। বেশ ভাল গাইতেন তিনি। তার মত অন্যসবাইও হাতে হাতে নিয়ে নিত গানের বই, প্যাড খাতা, ঢোল, করতাল থেকে শুরু করে থালা, বাটি, গ্লাস, বাচ্চাদের খেলনা ঝুনঝুনি। যাদের হাতে বই নেই তাদের হাতে হাতে দিয়ে দিত অতিরিক্ত বই ও বাদ্যগুলো। আর যে হাতগুলো শূন্য থাকত তারা কুড়িয়ে নিত হাতের কাছে পাওয়া সুলভ ফুল, কাচা-শুকোনো ডালপাতা। 
পড়ে জেনেছিলাম, টুকুপিষি ও রাঙ্গাকাকী গ্রামের সকল আগ্রহী তরুনী-বালিকাদের সারা বছর নাচ-গান, আঁকিবুঁকি, হস্তশিল্পের সাথে সাথে লেখা পড়া শেখাত আর প্রস্তুত রাখত গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী সবরকমের উৎসবের জন্যে। নাচ-গান, শিখে পড়ে একবারে পুরোদস্তুর তৈরী দলের সাথে ভিড়ত আনাড়ি দল।

   গ্রামের পরম মোহনীয় সুবাস মাখা পথে মাতাল করা ধূপের গন্ধ ও আলো জ্বেলে উৎসবমুখর প্রাণগুলো আনন্দের ঢেউ নিয়ে একদলে এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি করে ছুটে বেড়াল সমস্ত গ্রাম। যে ঘরের উঠোনে আছড়ে পড়ছিল এ নির্মল আনন্দের উচ্ছ্বাস সে ঘরের সবগুলো আলো জ্বলে ওঠে সাথে সাথে। একগাল হাসীমুখে ঘর থকে বেড়িয়ে ঘরে থাকা সকলে যেন অপার্থিব সুখী তারা। ব্যস্ত বিয়ে বাড়ীর মত, ঘরামি ঘরের থেকে চেয়ার, কাঠের বেঞ্চি বের করে দেয় বসার জন্যে। প্রতি ঘরের উঠোনেই বৃত্তাকার হয়ে সমস্ত দলটি মন মাতানো একের পর এক গানের সাথে সহজ সুন্দর তালে ঘুরে ঘুরে নেচে বেড়ায় সমস্ত উঠান। ঘুমন্ত শিশুগুলো ঘুমভাঙ্গা চোখে অবাক বিস্ময় নিয়ে ফোলা ফোলা চোখে দেখে এ আয়োজন। ঘরের মা, মেয়ে, বউ, ঝিরা ভালোবেসে হাতে করে এগিয়ে দিত মুড়ি, চিড়া, গুঁড়, জল, বাতাসা, শীতের পিঠাসহ আরো নানান পদের শুকনো খাবার। মাটির চুলায় ওঠে বড় চায়ের হাড়ি।  মুড়ি-মুড়কি পকেট পুড়ে, লেবু পাতার চায়ে চুমুক দিয়ে পার্থনা ধরে সকলে। এক স্নিগ্ধ পবিত্রতায় ছেয়ে গেলে চারিপাশে। পার্থনা শেষে চাঁদার টাকা মুঠোভরে বেড়িয়ে পড়ত অন্য বাড়ি।     
 প্রায় প্রতি ঘর থেকেই একদল কচিকাচা যোগ দিয়ে দিয়ে ভারী হতে থাকে এ উৎসবমুখর দল। কুয়াশা ও হীম ধরানো বাতাসে শীতের প্রকোপ থেকে বাচতে শীতের পোষাক থাকলেও  চাদর,  মাফলার, গামছা দিয়ে ভালো করে মুখ-কান জড়িয়ে নিত সকলে। কচিকাচার আবদার মেটাতে অথবা, একরাশ স্বচ্ছ, নির্মল আনন্দ পাওয়ার অসীম উৎসাহে বাপ-চাচার কাধে, মা-মাসীর কোলে, কাকা-পিসীর স্নেহতলে, দাদা-দিদার জামা ধরে, বড় ভাই-বোনের হাত ধরে গ্রামের মেঠে পথে ধরে অনুসরণ করে মূল দলটিকে।  সে পথে চেনা-অচেনা সকল মুখগুলো খুব আপন হয়ে ওঠে গ্রামের নিশুতি রাতে। গীর্জার ধারে ঝাকড়া ধরা বড়ইগাছ থেকে কড়া বড়ই ছিড়ে পকেট ভরে দস্যীদল।

 বাড়ি থেকে বাড়ি শেষে গ্রাম থেকে গ্রামের পথে এগিয়ে চলা শুরু করে বিশাল আনন্দ মিছিলটি। গ্রামে থেকে গ্রামে খুশীর জোয়ারে প্লাবিত হয়। বিরতীহীনভাবে সবাই নেচে-গেয়ে ঘেমে-নেয়ে উঠতে থাকে।  গ্রামে গ্রামে সবার মাঝে এই উৎসবের নির্মল আনন্দ ও পার্থনা  এভাবে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়ে আনন্দ মাতোহারায় উজ্জ্বল সকলের মুখে যখন ক্লান্তির ছাপ দেখা যায় তখন সবাই আবার বাড়ির পথ ধরি। যে পথে এসেছিলে দলটি সে পথেই ফিরতে থাকে সবে। ক্লান্ত  শরীর, ধরে এসেছে গলার সুর, পা চলে না কারো তবুও ক্লান্ত হয়নি মন তাই ছোট-বড় সকলে মিলে হাসি, ঠাট্টায় মেতে ওঠে, কমে আসে বাড়ির পথ। যেভাবে আস্তে আস্তে বড় হয়েছিল দলটি ঠিক সেভাবেই ছোট হয়ে আসে। কেউ কেউ বাড়ি না ফিরে মনের সুখে গুনগুনিয়ে এদিক সেদিক চলে যায়, আবার কেউ কেউ এগিয়ে চলে দলটির সাথে। দলটির সাথে সমাবেত হই ঠিক যেখান থেকে শুরু হয়েছিল এ আনন্দ শোভাযাত্রা সেই প্রভুধান কাকার বাড়ির উঠানে। নতুন করে আবার চা বসানো হয় চুলোয়। 
চেয়ার টেনে প্রবীনরা বসে, পিড়ে টেনে বসে মা-কাকীরা আর বাকিরা ঘরের দাওয়ায়, শুকনো লাকড়ি টেনে যে যেখানে খুশী বসে পথে ঘটে যাওয়া মজার, মজার অভিজ্ঞতা বলতে শুরু করে। চাঁদার টাকা গুনে ঝলমল করে ছোটবড় সকলের মুখ। এ টাকা জমারাখা হয় রাঙ্গাকাকির কাছে বড়দিনের পরে প্রথম পূর্নিমায় বনভোজনের উদ্দশ্যে। শেষবারের চড়ূইভাতির গল্প প্রাণ ফিরে পায় তখন আসরে। 

গল্প ফুরালে, ঘুমোতে যায় একে একে। নানান আলোকসজ্জ্বায় সাজানো উঠোনটিতে জোনাকের মত ঝিলমিলে আলোর সঙ্গী হয় গাড় নিস্তব্ধতা। ভোরের আলো ফোটার আগে আগে বাড়ি ফিরি আমরা। পরের সন্ধ্যায় আবার বেরিয়ে পড়ে দলটি এভাবেই চলতে থাকে বড়দিনের আগ প্রর্যন্ত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/68603/</link>
				<pubDate>Sat, 04 Dec 2021 00:32:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;বহিছে ভূবনে আনন্দ ধারা&#8221;<br />
সবাইকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই আগাত উৎসবের।<br />
বড়দিনের এক সুন্দর স্মৃতি মন পড়ল,<br />
ছেলেবেলায় ঠিক বড়দিনের আগে আগে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হত আর ছুটতাম গ্রামে। সে সময়ে গ্রামের সবাই একসাথে একদলে স্বাগত জানাত বড়দিনের উৎসবকে। বড়দিনের উৎসব ঈদ-পূজার মতই আগে আগে ছড়িয়ে পড়ত সমস্ত গ্রামে। আমি গ্রামে গেলে গ্রাম আমায় আপন করতে ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-68603"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/68603/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>23</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bc4d9b0b4085597e1911c405dbe59f63</guid>
				<title>Drako Shajib and জসিম উদ্দীন মিসবাহ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/55325/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Nov 2021 16:52:50 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">17a5950f4b6f6f7b40380ca114dac2c6</guid>
				<title>Drako Shajib and Nazmul Anam Mollah (নাজমুল আনাম মোল্লা) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/50502/</link>
				<pubDate>Sun, 31 Oct 2021 03:06:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8fc1846e2d2bbaaa711d5e447e3cf72e</guid>
				<title>Drako Shajib and Bappy Khan are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/48876/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Oct 2021 06:11:05 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">100c924eb3fdce0158588873d06d5191</guid>
				<title>Drako Shajib and শরিফ মাহমুদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/47687/</link>
				<pubDate>Sun, 24 Oct 2021 16:26:40 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5c77a58b9854172d1f4d6341744898bc</guid>
				<title>Drako Shajib and XeRo123 are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/47466/</link>
				<pubDate>Sun, 24 Oct 2021 03:06:09 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">07b660c58cf13ab309ca44734afa4f19</guid>
				<title>Drako Shajib and Mir Abu Raian are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/46450/</link>
				<pubDate>Thu, 21 Oct 2021 10:12:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9225ce80438b3100c7be95d60ee9ecd6</guid>
				<title>Drako Shajib and Rana Zaman are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/46177/</link>
				<pubDate>Wed, 20 Oct 2021 14:25:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">275a243dfa5a9cccb550e710a3f4317b</guid>
				<title>Drako Shajib and Dipankar Shuva are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/45702/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Oct 2021 08:12:25 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f62d15177161997b738d8a288fa72fa2</guid>
				<title>-কৌতুক-
টিভিতে ফুটবল ম্যাচঃ সুইডেন ৩ আর কসোভো ০। সময় ৮৫ মিনিট।
পেটুঃ কিরে, এই খেলা দেখে আর কি করবি?
ভুলুঃ দেখুম কারা জিতল।
পেটুঃ কেন? তোর কি মনে হয়, এই ৫ মিনিটে কসোভো ৪টা গোল দিবে।
ভুলুঃ না। কিন্তু খেলা শেষ না হইলে তো বোঝা যাবে না সুইডেন কোন দল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/42070/</link>
				<pubDate>Sat, 09 Oct 2021 18:29:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>-কৌতুক-<br />
টিভিতে ফুটবল ম্যাচঃ সুইডেন ৩ আর কসোভো ০। সময় ৮৫ মিনিট।<br />
পেটুঃ কিরে, এই খেলা দেখে আর কি করবি?<br />
ভুলুঃ দেখুম কারা জিতল।<br />
পেটুঃ কেন? তোর কি মনে হয়, এই ৫ মিনিটে কসোভো ৪টা গোল দিবে।<br />
ভুলুঃ না। কিন্তু খেলা শেষ না হইলে তো বোঝা যাবে না সুইডেন কোন দল।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>26</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">de658611408f823bffae2f7c628f23b0</guid>
				<title>Drako Shajib and Golam Rabbani Sarker are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/33280/</link>
				<pubDate>Thu, 09 Sep 2021 19:14:10 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e119d23c40ba895cfb1beb4b53967799</guid>
				<title>Drako Shajib and Md Nurnabi Sarker are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/32541/</link>
				<pubDate>Tue, 07 Sep 2021 16:41:45 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a96d0e89733541855926a5e81f37e458</guid>
				<title>Drako Shajib and ইমরান হুসাইন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/31682/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Sep 2021 05:58:18 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fcee2e8e2cf00fc07aa4e7ed4aceaba2</guid>
				<title>Drako Shajib and D K MAHANTA are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/30795/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Sep 2021 15:29:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7ca4c017e88d4d4d6db129357215a2a5</guid>
				<title>Drako Shajib and Tariqul Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/29746/</link>
				<pubDate>Tue, 31 Aug 2021 00:43:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">96cee1f40916650e84f96257ba2ed3f3</guid>
				<title>Drako Shajib and সুমাইয়া বিনতে করিম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/29630/</link>
				<pubDate>Mon, 30 Aug 2021 16:01:55 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f91bf35da7c40dc3f1c0eab54c5a08ea</guid>
				<title>Drako Shajib and সঞ্চয়িতা are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/29624/</link>
				<pubDate>Mon, 30 Aug 2021 15:56:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d729c45b20faa06329fa449f0f460d4c</guid>
				<title>Drako Shajib and ফারজানা আক্তার জেমী are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/28926/</link>
				<pubDate>Sun, 29 Aug 2021 06:35:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6daa7b21282725bc5a93e4d79fc9fa83</guid>
				<title>Drako Shajib and Kazi Akter are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/28235/</link>
				<pubDate>Thu, 26 Aug 2021 08:37:19 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2338164ce619a1630f73feb49a3fc0ba</guid>
				<title>Drako Shajib and আহমেদ হানিফ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27898/</link>
				<pubDate>Tue, 24 Aug 2021 07:19:29 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bca71b9473b2c9cc78bbe8f73c766603</guid>
				<title>Drako Shajib and মেহেদী হাসান সুজন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27575/</link>
				<pubDate>Sat, 21 Aug 2021 14:31:18 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">47a04e5abfeb886778c4e3156fb786f2</guid>
				<title>Drako Shajib and ইসমাইল হোসেন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27256/</link>
				<pubDate>Wed, 18 Aug 2021 07:37:28 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>