Profile Photo

Drako ShajibOffline

  • drako
  • Profile picture of Drako Shajib

    Drako Shajib

    4 months, 1 week ago

    ** গল্প – অবন্তিকা খুন…!!

    ভালোবাসলে মানুষ কি না করতে পারে?? প্রয়োজন মনে করলে খুন-টুন করতেও বাঁধে না। কিন্তু, কেউ কি ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষটিকেই খুন করে?? তো গল্পের টুইস্ট প্রথমেই রিভিল করে দিলাম এই বিশ্বাস থেকে যে গল্পটা পড়তে পাঠক আরো বেশী আগ্রহ অনুভব করবে।

    সতর্কবার্তাঃ
    তো, আমার বাবা, Mr. “Father of Wisdom” একদা বলেছিলেন,
    “বাছা… প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছুই ক্ষতিকর, হউক সে ভালোবাসা।”

    অবন্তিকার মত সুন্দরীর জন্য এ শহরে রোজ হাজারটা ছেলে খুন করতেও পারে, আবার খুন হতেও দ্বিধা করে না। তবে, সত্যি কি না জানিনা অনেকেই বলে, যে তাকে খুন করতে পারে তার প্রেমেই পড়েছিল অবন্তিকা।

    তো চলেন আজকে, লাভ স্টোরিটা শুনাই…

    অবন্তিকা সবে ঘুম থেকে উঠে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েছে। ব্যালকনির সামনে যে গলিটা চলে গিয়েছে বড়রাস্তার দিকে, সে রাস্তা ধরে একটা হ্যাংলা পাতলা ছেলে এগিয়ে আসছে একগাদা শিমুল ফুল হাতে।

    অবন্তিকা জানে এই ফুলগুলো তার জন্যে, যদিও এখন পর্যন্ত ছেলেটি সরাসরি ফুলগুলো অবন্তিকার হাতে দেয়নি। তবে, বেশকিছুদিন ধরে ছেলেটি নিয়মিত হরেক রকম ফুল নিয়ে আসছে। গলির মোড়ে ঠিক অবন্তিকার বারন্দার বিপরীতে, শতবর্ষ পুরোনো লোহার মরচে ধরে যাওয়া কারেন্টের খাম্বার কাছে হাম্বার মত দাড়িয়ে থাকে সে, বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে অবন্তিকার বারান্দার দিকে, তারপর অবন্তিকার সাথে দেখা হওয়া মাত্র’ই বিশ্রী দেখতে, হলদে হয়ে যাওয়া ৩২ দাঁত বের করে এক বিস্তীর্ণ হাসি দেবে। যে হাসি দেখে, শহরের সবথেকে কুৎসিত মেয়েটিও এই ছেলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। সেখানে, অবন্তিকার এই ছেলের প্রেমে পড়ার তো কোন প্রশ্ন’ই আসে না।

    তবে, ছেলেটার সাহস থাকুক বা না থাকুক, বুক ভরা আশা আছে। সেই আশা থেকে, ফুলগুলো প্রতিদিন রেখে যায় গেটের সামনে থাকা অব্যবহৃত চিঠির বাক্সের উপর।

    আজ ছেলেটা গলির মোড়ে আসতেই একটা ছোট খাট জটলা দেখা গেল তাকে ঘিরে, এলাকার ছেলেপেলে হয়ত আজ দায়িত্ব নিয়ে ছেলেটার মাথা থেকে প্রেম-ভালোবাসার ভূত ছাড়াবে। তবে, ছেলেটি হয় বোকা নয় বেপরোয়া, তাই হয়ত, আসন্ন বিপদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকেও রোদ্রের মত প্রখর ঝলমলে চোখে চেয়ে আছে অবন্তিকার দিকে। কেমন যেন এক শুন্য চাহনি ছেলেটির দৃষ্টিতে, যে চাহনিতে দৃষ্টিপাত হলেই মনে এক শুন্যতা তৈরী করে।

    অবন্তিকা এই শহরের মেয়ে, ইট পাথরের মত শক্ত তার হৃদয়। তাই নিজেকে খুব দ্রুত সামলে নিয়ে, এক অবজ্ঞাভরা কটমটে টাইপ চাহুনি ফিরিয়ে দিয়ে পর্দার আড়ালে চলে গেল।

    সেই উপেক্ষার উদাসীন দৃষ্টি কার কাছে কেমন ঠেকলো জানিনা তবে গল্পকার হিসেবে সেদিন আমি খুন হয়েছিলাম, হয়ত আজো আমার লাশ খুজে পাওয়া যাবে মনসুরাবাদের সেই গলিতে।

    ২.
    অবন্তিকা ভার্সিটি যাওয়ার জন্য বাসার নিচে, রিক্সার জন্য দাঁড়াতেই ছেলেটি এগিয়ে আসছে ফুলের গোছা হাতে নিয়ে।

    ছেলেটার ভীরু পায়ে এগিয়ে আসা দেখতে দেখতে অবন্তিকার মন তার ব্রেইনকে বলছে, ছেলেটার আসলেই ভয় ডর বলতে কিছু নাই। এতগুলা ছেলেপেলের বাঁধা দেয়ার পরেও এভাবে একটা মেয়ের বাসার নিচে ফুল হাতে আসতে পারে ক’জন?

    অবন্তিকা মনে করার চেষ্টা করছে, এই ছোট্ট জীবনে সে কতগুলো দীর্ঘ চিঠি পেয়েছে, যে চিঠির প্রতিটি অক্ষর কোন না কোন প্রেমিকের প্রেম নিবেদন করেছে। অবন্তিকা ঠিক জানেনা, তার বাসার সামনে এই নির্বোধ ছেলের আগে আরো কতজন ঐ একি খাম্বার নিচে হাম্বার মত দাঁড়িয়ে থেকেছে, এলাকার ছেলে-পেলের সাথে মারামারি করে, হাল ছেড়ে দিয়েছে।

    এতসব ভাবতে ভাবতে অবন্তিকা দেখলো ছেলেটা তার পাশ কাটিয়, তার’ই বাসার গেইট দিয়ে ভেতর চলে গেছে।

    অবন্তিকা বেশ অবাক হল প্রথমে, তারপর নিজের ভাবনাকে বেশী গুরত্ব দিচ্ছে ভেবে আবার আপন মনেই বলে উঠল, এইসব ফালতু বিষয় পাত্তা দেয়ার টাইম নাই… এমনিতেই দেরী হয়ে যাচ্ছে।

    অবন্তিকা রিক্সা পেতেই উঠে পড়ল। একবারো পিছনে না তাকিয়ে সোজা চলে গেল জাহাঙ্গীরনগর। আজ তার ফিজিক্সের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ের উপর ক্লাস নেবে আসাদ স্যার। যদিও তার প্রতিটি ক্লাস’ই কেন জানি খুব গুরুত্বপূর্ণ, ভীষণ দরকারি।

    ৩.
    বাসায় বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিলেন রেণু। একটা বিবর্ণ, ফকির টাইপ ছেলে এক গোছা টকটকে লাল ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে দেখে, বেশ অবাক হলেন। ফুলগুলো তার ভীষণ চেনা, কিন্তু শিমুল না পলাশ ঠিক মনে করতে না পারলেও, বিশেষত্বহীন এই ছেলের ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে তার সবথেকে প্রিয় মানুষটার কথা মনে পড়ে গেছে। রেণু মোলায়েম স্বরে জিজ্ঞেস করল, কি চাই?

    – ছেলেটি বলল, কিছু ফুল এনেছিলাম আপনি কি রাখবেন?
    – রেণু অবাক হয়ে আবার জিজ্ঞেস করল, তুমি কি ফুল বিক্রি কর?
    – ছেলেটি এক চিলতে হেসে বলল, হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। এই শহরের ফুলের ব্যবসা খুব লাভজনক, কোন ট্যাক্স দিতে হয়না তাই খুব অল্প দামে দিচ্ছি।
    রেণুর অবাক ভাব এখনো কাটেনি। সে ফুলগুলো একবার দেখল। চোখে আগুন ধরে যায় ফুলগুলোর রূপে। কত দাম দিতে হবে?
    অদ্ভুত ছেলেটি এবার মুখের হাসি চট করে লুকিয়ে বলল এক গ্লাস ঠান্ডা পানি হলেই সব দিয়ে দেব।

    রেণু এবার সত্যি বিভ্রান্ত হল, অজানা এক ভয় তার বুকের ভেতর জমতে শুরু করেছে। আবার ছেলেটিকে একবার ভালো করে দেখল রেণু, তারপর শীতল স্বরে বলল, ভেতরে এসো।

    সুন্দর ওয়াল আর্ট দিয়ে চমৎকার সাজানো ড্রয়িং রুমে ছেলেটিকে বসিয়ে রেখে ফুল গুলো নিয়ে চলে গেল রেণু।

    কিছুক্ষণ পরেই একগ্লাস ঠান্ডা পানির সাথে দুই টুকরো পনির একটা পিরিচে সজিয়ে ছেলেটির সামনে দিল এক পিচ্চি টাইপ গৃহ-পরিচারিকা। মেয়েটি খাবার দিয়ে চলে না গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিরক্ত চোখে ছেলেটিকে দেখছে। ছেলেটি কাজের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে একবার হাসতেই মেয়েটি বলল হাসেন কেন? পানি-পুনি খাইয়া তারাতাড়ি বিদায় হোন। আর খালাম্মায় কইছে এই বাড়ির ত্রিসীমানায় আর কোনদিন আসতে না। এই নেন আপনার ফুলের দাম। বলে মেয়েটি অনিচ্ছা স্বত্তেও একটা ৫০০ টাকার ভাজ করা নোট টেবিলে রাখল।

    ছেলেটি টাকাটা নিয়ে উল্টে – পাল্টে দেখে মেয়েটিকে বলল, আসল তো!
    মেয়েটির চেহারায় এবার বিরক্তি ভাবটা আরো প্রবল, উত্তরে বলল, নকল টেকা পামু কই?
    অদ্ভুত ছেলেটি টাকাটা খুশি মনে পকেটে রেখে দিয়ে বেশ আরাম করে পনির খেতে খেতে চিন্তা করছে পানির সাথে পুনির যে সম্পর্ক অবন্তিকার সাথে তার সেই সম্পর্ক গড়ার জন্য আর কি কি করা যেতে পারে?

    (গল্প সবে শুরু…)

    15
    12 Comments
    • গল্পের শুরুতেই ‘খুন’-এর কথা বলে যেভাবে রহস্যের জাল বুনলেন, তাতে পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। শিমুল ফুল হাতে সেই অদ্ভুত ছেলেটির চাহনি আর তার ‘৫০০ টাকার নোট’ দেখার ধরণ—সব মিলিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। দুর্দান্ত শুরু!

    • গল্পটা পড়তে পড়তে হঠাৎ পুরনো বাসার চাঁদের কথা মনে পড়ে গেল

    • তারপর কি হলো @drako ? তাড়াতাড়ি দিও কিন্তু

    • উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছি আপনার গল্পের পরবর্তী পর্বের জন্য! শুভেচ্ছা।

    • বাহ্! শুরুটা দারুণ তো!!

    • পরের অংশ তাড়াতাড়ি লিখুন এরপর কী হলো জানতে ইচ্ছে করছে।

    • বেশ ভালো…

    • আসলেই অসাধারণ লিখেছেন,

    • পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা ।

    • গল্পটির ভাষা সহজ, বর্ণনা প্রাণবন্ত এবং চরিত্র নির্মাণে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছেলেটির ফুল নিয়ে আসা, রেণুর সঙ্গে কথোপকথন এবং শেষে ‘পানি-পুনির সম্পর্ক’-এর রসিকতাটি গল্পে আলাদা স্বাদ দিয়েছে। তবে কিছু জায়গায় বর্ণনা একটু দীর্ঘ হওয়ায় গতি কমেছে; সেগুলো সামান্য সংক্ষিপ্ত করলে গল্পের টান আরও বাড়বে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, শুরুতেই খুনের ইঙ্গিত দিয়ে রহস্য তৈরি করা; এখন অপেক্ষা, এই অদ্ভুত ফুলওয়ালা ছেলেটির সঙ্গে অবন্তিকার সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়। পরের পর্বের জন্য আগ্রহ রইলাম…

    • গল্পের শুরুতেই রহস্য আর ট্র্যাজেডির আবহ তৈরি করে পাঠকের কৌতুহলকে চমৎকারভাবে বাঁধতে পেরেছেন। অবন্তিকার কঠিন বাস্তবতা ও আত্মমর্যাদা এবং ছেলেটির ভীরু অথচ বেপরোয়া একমুখী ভালোবাসার বৈপরীত্য দারুণ মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তৈরি করে। লেখক হিসেবে নিজেকে গল্পের ভেতরে বিলীন করে দেওয়ার যে শৈল্পিক প্রয়াস—তা বর্ণনাটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সাহিত্যমূল্য সমৃদ্ধ করেছে।

    • দারুণ, পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা।

Friends

Profile Photo
Timi Bokshi
@timibokshi
Profile Photo
Rahat Islam
@rahatislam
Profile Photo
Shah Fakhrul Islam
@shahfakhrulislam
Profile Photo
Sirajul Manik
@sirajulmanik
Profile Photo
Salful Alam
@alamict9
Profile Photo
1 Sen
@1sen
Profile Photo
Shruti Radhe
@shrutiradhe
Skip to toolbar