-
#বই মেলা ২০২৪
একুশে বই মেলার একটা অন্যরকম ভালো ব্যাপার আছে। শহরে আর যত মেলা আছে, সেসব মেলায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্তির চূড়ায় উঠে তারপর টিকিট কেটে ঢুকতে হয়।
এদিকে, একুশে বই মেলায় শূন্য পকেটে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে সমস্ত মেলার আনন্দ উপভোগ করে ঘুরে আসা যায়। ঠিক গ্রামের মেলাগুলোর মত।আমি গত শনিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারী শ্যামলদার নিমন্ত্রণ পেয়ে ভর দুপুরে একাই বই মেলার দিকে রওনা দেই। ইচ্ছা হয় মেট্রোরেলে চড়ি। মিরপুর দশের স্টেশনে রেলের মতই লম্বা লাইনে টিকিটের জন্য দাঁড়াই। কয়টা বাজে দেখতে মুঠোফোন বের করে দেখি সময় গড়িয়ে তখন তিনটা আট।
মেট্রো রেলে ওঠার এইটা আমার দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা হলেও অটোমেশন মেশিনের সাহায্যে টিকিট কাঁটার প্রথম অভিজ্ঞতা। তাই মেশিনের ব্যবহারবিধি শিখতে সামনের জন কিভাবে টিকিট নেয় সেটা উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। প্রথমে যে একক যাত্রা না একাধিক যাত্রা অপশন সিলেক্ট করতে হবে এইটা জানতাম না। তারপরে পিছনের একজন সত্যি সত্যি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এরপরে আমার গন্তব্য নির্বাচন করি ঢাকা ইউনিভার্সিটি। টিকিট মূল্য ৫০ টাকা। টিকিটের দাম দেয়ার জন্য মেশিনের নির্ধারিত জায়গায় প্রথমবার ২০ টাকা রাখতেই সাইই… করে টাকা টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়বার টাকা আর নিতে চায়না। এবার পিছন থেকে সাহায্যের বাণী ভেসে আসে। পরে, আমি ঠিক জায়গাতে টাকা ধরতেই আমার টিকিট বুঝে পাই।
টিকিট নিয়ে প্রথমে ভুল দিকে উঠে যাই। কিছু কিছু ভুল করতে ভালো লাগে, এই ভুলটি সেরকম। এই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার পাশাপাশি পুরো স্টেশন ঘুড়ে দেখার একটা সুযোগ পেয়েছি। উত্তরা থেকে এক ঝাঁক যাত্রী নিয়ে ট্রেন আসে। পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে মেট্রো রেলের স্বচ্ছ কাঁচের জানালায় ধূসর শহরটাকে দেখতে দেখতে যখন শাহাবাগ আসি তখন, সামনের সিট খালি হয় দেখে বেশ বিরক্ত হই। তবে, মেট্রোরেলের সব থেকে ভালো দিক হল একদম ধুলাবালি ও দূষণমুক্ত। ঢাকা ভার্সিটির প্লাটফর্মে যখন নামি তখন চারটা বেজে গেছে।
শ্যামলদাকে পাই কলা ভবনের তিনমূর্তির সামনে। শ্যামলদা তাঁর নামের মতই চমৎকার একটা মানুষ। ভীষণ গাছ ভালোবাসে। ‘অভয়ারণ্য’ নামে তাঁর একটি সংগঠন আছে। সে ব্যাপারেই ভার্সিটির কিছু ছাত্র ও তাঁর বন্ধু রথিনদাকে নিয়ে সভা করছিল ঘাসের উপর বসে। সেখানে ‘বই বিহঙ্গ’ সম্পর্কে জানতে পারি।
শ্যামলদার মেলা থেকে বই কিনে দেবার কথা থাকলেও সভা শেষে লোকটা তাঁর বন্ধুকে সাথে নিয়ে পল্টি মারে। তবে, সঙ্গী হিসেবে পেয়ে যাই সদ্য পরিচিত বন্ধু সৌরভকে। ওর মত চৌকষ আর সার্প ছেলে গোয়ান্দা গল্পে পাওয়া যায়। ও একটা বইয়ের নাম বলে, অন্বেষা প্রকাশনীর “হেমলকের নিমন্ত্রণ”। বইটার খোঁজ করতে অন্বেষা প্রকাশনীর স্টলেও যাই। সেখান থেকে জানতে পাই বইটা স্টক আউট। দেখার জন্যেও একটা কপি অবশিষ্ট নাই। তবে, আগামীকাল আবার পাওয়া যাবে এই আশ্বাস নিয়ে আবার দুইজনে হাঁটা শুরু করি। এক স্টলে চোখে পড়ে কবি পাবলো নেরুদার একটা কবিতা বই। মনে পড়ে যায় “তুলট” মঞ্চবন্ধু ‘বিক্রমাদিত্য ১৩’ এর কথা।
তারপর, কি একটা বই খুঁজতে সৌরভ চলে যায় বাংলা একাডেমির স্টলে, আর আমি যাই আমাদের “তুলট” মঞ্চগুরু, প্রিয় কবি ‘আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির’ এর লেখা কবিতার বই ‘জলরঙের স্মরণ তিথি’ খুঁজতে হাওলাদার প্রকাশনীতে। সেখানে কবিকে না পেয়ে কবিতার বইটি সঙ্গে নিয়ে নেই।
আরো কিছু নির্দিষ্ট স্টলে যাওয়ার প্লান থাকলেও সময় ফুরিয়ে আসে। মেলা থেকে বেড়িয়ে নীলক্ষেতের দিকে হাঁটতে শুরু করি। নীলক্ষেতে আসতেই পুরনো বইয়ের গন্ধ নাকে লাগে। ‘Enid Blyton’ এর লেখা গল্পের বই ‘The Secret Seven’ আর ‘The Caravan Family’ কিনি।
অসংখ্য বই কেনার ইচ্ছা থাকলেও মোট তিনটা বই কিনতে পেরে মনে এক অন্যরকম সুখ লাগে। এই সুখের কথা লিখেও সুখ পাচ্ছি।
39 Comments-
-
আমরা নূতনের স্বপ্ন দেখি। প্রেমে এবং দ্রোহে। বুকের চাপা কান্না চোখের কোণে আগুনের স্ফুলিঙ্গ হয়ে বাতাসে ওড়ে। সর্বহারার দল সব হারিয়ে ভাতের বদলে মানচিত্র খায়। তাই গভীর রাতে কবিতা লিখি প্রেমে এবং দ্রোহে।
-
-
বই ! একটি অদ্ভুত ভীন্ন স্বাদের আনন্দকর অভিজ্ঞতার নাম ! আমি আমার জীবনে অল্প কিছু বই পড়েছি ! অন্যতম একটি বই হচ্ছে, লোটাকম্বল ! লেখক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় !
-
বিশ্ব বই দিবসের শুভেচ্ছা মঞ্চবন্ধু!
আমিও খুব বেশি বই পড়ার সুযোগ পাইনি এই ছোট্ট জীবনে। কিন্তু বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে তাই আমার লাইব্রেরিয়ান হওয়ার অনেক ইচ্ছা ছিল ছেলেবেলা থেকেই। আমার কাছে মনে হয় এর থেকে ভালো আর শান্তির চাকরী আর একটিও নাই। ভাগ্য আমার সহায় হয়নি তাতে অবশ্য কোন আক্ষেপ নাই কারন ছোট খাট একটা লাইব্রেরী ঘরের মধ্যে বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।“লোটাকম্বল” নিয়ে অনেকের কাছে অনেক অনেক প্রশংসা শুনেছি তবে, এখানো পড়ার সুযোগ হয়নি মঞ্চবন্ধু। পড়ব নিশ্চয়ই। পরেরবার বই কিনতে গেলে সাথে করে নিয়ে আসবোই।
-
-
-
-
অসাধারণ লিখেছেন। গত বছর বই মেলায় যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো, তখন ঢাকায় ছিলাম। বই পড়াটা আমার নেশা ছিলো। কর্ম ব্যস্ত এই জীবনে হারিয়ে গেছে অনেক শখ ও ইচ্ছা। হারায়নি বই পড়ার নেশা, তবে সীমিত হয়ে গেছে।
-
-
-
-
-
-
-
-
-
-
বইমেলায় দেখা হয়নি, তবুও আমার বইটি আপনি সংগ্রহ করেছেন জেনেছিলাম, কিন্তু আপনার এই লেখাটি কোনোক্রমে নজর এড়িয়ে গিয়েছিল… ২৪ এর পর ২৫ ও ২৬ এর বইমেলায় আমার কাব্যনাট্য, অনুবাদ সংকলন ও গল্পগ্রন্থ আকারে আরো তিনটি বই বের হয়েছে, সেগুলোর কথা তুলটের পাতায় লিখে জানিয়েছিলাম।
আপনার জন্য ভালোবাসা রইল।-
২৪ এর পরে তো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ও অন্যান্য কারনে বইমেলায় আর যাওয়া হয়নি। তবে, সামনের বছর নিশ্চয়ই যাব, এবং সঙ্গে তুলটের সব বন্ধুদের নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। একটা গেট টুগেদার এর মত, সাথে বই বিনিময়, আড্ডা এইরকম অনেককিছু প্লান করে রেখেছি। জানিনা এই স্বপ্নটুকু সত্যি হবে কি না, তবে এই ভেবেই যে আনন্দ সেটুকুও কম নয়। ভালোবাসা নেবেন কবিপ্রিয়, আর আপনার নতুন সব শব্দিতা ও কবিতার অপেক্ষায় আছি কিন্তু ! @anwar-parvez-nur-shishir
-
-
-
Friends
আতিকুর রহমান
@atik25
Ahsanul Martin Mishor
@ahsanulmartinmishor
ফারহান সাদিক (সংগ্রাম)
@fs-hasan-mohammad
শোয়েব হাসান
@shoaibhasan
মামুন আব্দুল্লাহ
@mamun84
Ramjan ali
@ramjanali
MD AMIRUL ISLAM
@mdamirulislam
হোসাইন ফারুক
@hossainfaruq
MINHAZ ABIR
@minhazabir



আমার কথা মনে করেছেন বিশেষ প্রাপ্তি।