<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | G M Harun Rashid | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/g-m-harun-or-rashid/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/g-m-harun-or-rashid/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for G M Harun Rashid.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 21 Jun 2026 04:37:59 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">8227e82e80c6fa2845563fe58fa4df70</guid>
				<title>জ্বর
———
আইজও ছাতাডা লগে লইতে মনে নাই!
বৃষ্টি আইলে কাউয়ার মতো ভিজতে হইবো।
কয়েকদিন আগেও এক ফোডা বৃষ্টি মাথায় পড়লে 
আমার শরীর জুইড়া আকাশ পাতাল জ্বর আইতো। 
জ্বরের তাপে সব পুইড়া ছারখার হইয়া যাইতো শরীরের ভিতরে,
মনের ভিতরে।

আমার শরীরের সেই পাগলা জ্বরের সময়
তুমি যখন তোমার শরীরডা মেইল্লা আমারে জড়াইয়া ধরতা 
আমার শরীরের সব তাপ 
তোমার শরীরের ভিতরে ঢুইক্কা যাইতো,
তখন আমার শরীরে জ্বরের কোনো অস্তিত্বই থাকতো না।
ররফের মতো ঠান্ডা হইয়া যাইতো।

তুমি এখন দিনরাইত ব&#x200d;্যাস্ত 
আরেক বেডার শরীরের জ্বর তোমার শরীরে নিতে, 
আর আমি এমনই এক বেকুব ,
কামকাইজ ফালাইয়া বৃষ্টির দিনে
ইচ্ছা কইরা ছাতাডা ঘরে রাইখা বাইর হই 
বৃষ্টিতে ভিজ্জা শরীরে জ্বর আনার লাইগা।

খোদার কি কেরামতি দেখ,
যেদিন থেইক্কা তুমি আরেক বেডার শরীরের জ্বর কমাইতে 
আমারে ছাইড়া গেলা,
হারামজাদা বৃষ্টিতে সারাদিন উদাম হইয়া ভিজলেও আমার শরীরে আর কোনো জ্বর আসেনা।

তোমার শরীরের কসম,
তুমি যা খুশি করো 
তোমার বেডার শরীরের জ্বর কমাও- বাড়াও
আমার কোন সমস্যা নাই ,
দয়া কইরা 
শুধু আমার শরীরের জ্বরটা 
একবার ফেরত দিয়া যাইও।
————-
রশিদ হারুন
০৫/০৪/২০২৫
ক&#x200d;্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227912/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Apr 2025 07:26:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জ্বর<br />
———<br />
আইজও ছাতাডা লগে লইতে মনে নাই!<br />
বৃষ্টি আইলে কাউয়ার মতো ভিজতে হইবো।<br />
কয়েকদিন আগেও এক ফোডা বৃষ্টি মাথায় পড়লে<br />
আমার শরীর জুইড়া আকাশ পাতাল জ্বর আইতো।<br />
জ্বরের তাপে সব পুইড়া ছারখার হইয়া যাইতো শরীরের ভিতরে,<br />
মনের ভিতরে।</p>
<p>আমার শরীরের সেই পাগলা জ্বরের সময়<br />
তুমি যখন তোমার শরীরডা মেইল্লা আমারে জড়াইয়া ধরতা<br />
আমার শরীরের সব তাপ<br />
তোমার শরীরের ভিতরে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227912"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227912/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5b5aea3b784aa402b209fc8745cee3e3</guid>
				<title>আধুলি
————
‘সময়’ একজীবনে আমাকে শুধু ‌তার পিঠই দেখালো,
মুখ দেখালো না কখনো!
তাইতো সারাজীবন ধরে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া 
একটি দুটি আধুলি পকেটে ভরেই
সময়ের মুখ দেখার জুয়া খেলার টেবিলে বসে পড়ি 
এক আনাড়ি জুয়ারীর মতো।
অপরিচিত নির্বোধের মুখোশ পরে 
আমি বারবার হেরে যাই সেই জুয়ায়,
-শুধু একটি আস্ত নোটের অভাবে।
তাইতো সারাদিন 
আমি একা একা 
এই ঢাকা শহরে উড়ে বেড়াই
এক মনমরা চড়ুই পাখি হয়ে।
অবসন্ন হয়ে একসময় গভীর রাতে প্রতিবারই 
তোমার দোতলা ঘরের জানালায় বসে থাকি।
আসলে বিশ্রামের ছলনায়
আমি জুয়ায় হেরে 
প্রতিরাতে বিলাপ করতে বসি 
শেষ আধুলিটির জন্য তোমারই জানালায়।
আমার এই বিলাপের জল 
কাঁচের জানালা পার হয়ে 
কখনোই তোমার ঘরে ঢুকতে পারেনা।
ঢাকা শহরের জোনাকিরা শুধু শুধু আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে 
তোমার কান ভারী করে,
একটি আধুলির জন্য প্রতি রাতে 
আমার এই বিলাপ বিলাপ খেলা
নাকি এক মিথ্যা বাহানা,
এক আদিম পৌরাণিক কাহিনী!
শহরের জোনাকিদের বিশ্বাস 
আমার এই বিলাপের জল
একদিন গভীর ঘুমের মাঝে 
তোমার শরীরের সমস্ত বিপদসীমা অতিক্রম করে 
তোমাকেই দুঃখী করে দিবে তোমার ‌অজান্তে।
সারা জীবন যার রাস্তায় আধুলি কুড়িয়ে অভ্যাস-
সে থোরাই কেয়ার করে 
শহরের মিথ্যুক জোনাকিদের গুজব।
তাইতো সময়ের মুখ দেখার জুয়া খেলায় বারবার হেরেও 
জেদী জুয়ারীর মতো পকেটের শেষ সম্বল আধুলিটি নিয়ে 
ভুল করে বসে পড়ি কোন এক পাকা জুয়ারীর সাথে,
যার পকেটে সব সময় ভর্তি থাকে  আস্ত নোটে।
‌অঘুমের নির্জন কোন রাতের বেলায় জানালা খুললেই 
তুমি জোনাকির আলোতে ঠিক দেখতে পাবে,
সেইখানে বসে আছে
একটি মনমরা চড়ুই পাখি 
আর একটি আধুলি।
চড়ুইটি তার শেষ সম্বল সেই আধুলিটি নিয়ে 
জুয়ার টেবিল থেকে আজও পালিয়ে এসেছে 
তোমারই জানালায়,
শুধু সময়ের মুখ একবার দেখবে বলে!
———————————
র শি দ  হা রু ন</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227821/</link>
				<pubDate>Mon, 31 Mar 2025 00:13:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আধুলি<br />
————<br />
‘সময়’ একজীবনে আমাকে শুধু ‌তার পিঠই দেখালো,<br />
মুখ দেখালো না কখনো!<br />
তাইতো সারাজীবন ধরে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া<br />
একটি দুটি আধুলি পকেটে ভরেই<br />
সময়ের মুখ দেখার জুয়া খেলার টেবিলে বসে পড়ি<br />
এক আনাড়ি জুয়ারীর মতো।<br />
অপরিচিত নির্বোধের মুখোশ পরে<br />
আমি বারবার হেরে যাই সেই জুয়ায়,<br />
-শুধু একটি আস্ত নোটের অভাবে।<br />
তাইতো সারাদিন<br />
আমি একা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227821"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227821/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c0d932671b4188ce022f051e25732356</guid>
				<title>দোষ লেগেছে গোছালো জীবনে
- ————————-
মধ্যরাতে ঢলঢলে ভাসা চাঁদের আলোতে-
সংসারী ছায়াপড়া জীবন খুঁজতে গিয়ে,
যেদিন থেকে ঢাকা
শহরের সব অলি-গলির 
রাতের সব ল্যাম্পপোষ্টের সব বাতি 
আমি খুন  করিয়েছি গোপন আততায়ী দিয়ে।
সেদিন থেকেই দোষ লেগেছে আমার সংসারী গোছালো জীবনে।

গোছালো জীবন এখন আর আমার বুকে ধরে না।
দোষ লেগেছে,
দোষ লেগেছে-
রেশনের লাইনে দাড়িয়ে চাল ডালের কথা ভুলে-আমি বৃষ্টির ফোঁটা ব্যাগে ভরি।
চলন্ত রিকশা থেকে লাফ দিয়ে নেমে যাই মতিঝিলের শাপলা চত্বরে-
একটু জলে ভিজবো বলে।
দোয়েল চত্বরে হা করে বসে থাকি
সারাদিন -
দোয়েল উড়বে কখন সেই আশাতে।

দোষ লেগেছে, 
দোষ লেগেছে-
আমি ব্যস্ত রাস্তায় যখন তখন শুয়ে পড়ে আকাশ দেখি।
আমি ট্রাফিক সিগন্যালে ভিখারীর সাথে দাড়িয়ে পাল্লা দিয়ে ভিক্ষা করি।
আমি বাড়ির ঠিকানা ভুলে গোরস্থানে রাত কাটাই।
আমি সাম্যবাদীদের মিছিলের শ্লোগান শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ি-
তারপর প্রচন্ড মার খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকি।

আমি রাস্তা পার হতে গিয়ে হঠাৎ
কোনো চলন্ত নারীর চোখে হাহাকার  দেখে মাঝ রাস্তায় দাড়িয়ে থাকি অনন্তকাল-
পুরো শহর ‌অচল করে দেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য।

দোষ লেগেছে,
দোষ লেগেছে-
গভীর রাতে ছেলেধরা চাঁদের মন ভুলানো ফকফকা আলোতে- 
গোছালো আর অগোছালো জীবনের মীমাংসায় 
দৌড়াতে দৌড়াতে যখন শহরের দরজা খুলে যখন বের হয়ে আসি-
হেসে উঠি চিৎকার করে ঢাকা শহরকে ভয় দেখিয়ে।

বলে উঠি আমার বুকের ভিতরে-
“ যার বুকে জন্ম থেকে সন্ন্যাস ঘর বেঁধেছে-
সে কেমনে ছিলো এতোদিন এই গোছালো সংসারী জীবনে,
এতোদিন সে কেমনে ছিলো!!
আমি আর কখনোই ফিরবোনা এই শহরে”।
————————————
রশিদ হারুন</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227748/</link>
				<pubDate>Thu, 27 Mar 2025 02:16:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দোষ লেগেছে গোছালো জীবনে<br />
&#8211; ————————-<br />
মধ্যরাতে ঢলঢলে ভাসা চাঁদের আলোতে-<br />
সংসারী ছায়াপড়া জীবন খুঁজতে গিয়ে,<br />
যেদিন থেকে ঢাকা<br />
শহরের সব অলি-গলির<br />
রাতের সব ল্যাম্পপোষ্টের সব বাতি<br />
আমি খুন  করিয়েছি গোপন আততায়ী দিয়ে।<br />
সেদিন থেকেই দোষ লেগেছে আমার সংসারী গোছালো জীবনে।</p>
<p>গোছালো জীবন এখন আর আমার বুকে ধরে না।<br />
দোষ লেগেছে,<br />
দোষ লেগেছে-<br />
রেশনের লাইন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227748"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227748/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2e18d4a8e4f55408a1145b284d67902d</guid>
				<title>হারিয়ে যাওয়া বন্ধু
————————-
হারিয়ে যাওয়া এক বন্ধুর খোঁজে  
দূর শহরে গিয়েছিলাম  
শুধু নামটুকুই ছিলো ভরসা।  

একটা তীব্র ডাক ছিলো বুকের মাঝে 
হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খুঁজে পাবার আশায়  
সেই শহরের তেইশজন একই নামের মানুষের মাঝে  
আমার বন্ধুর মুখোশ পরা একজনও ছিলোনা।  

সেই তেইশজন মানুষকে দেখার পর  
শহরটির কোথায়ও লেবু পাতার ঘ্রান আমি টের পাইনি, 
শহরটির আকাশে মনখারাপ করা কোন চাঁদ ওঠেনি,  
একটাও চড়ুই পাখি আমার বুকে উড়াল দেয়নি,  
পালতোলা কোন নৌকা আমার শরীরের রক্তে অস্থির করে ভেসে বেড়ায়নি।  

হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর খোঁজে নতুন নতুন শহরের
প্রতিটি ধুলোবালিতে
আমি হাহাকার রেখে আসি
আর ফিরে আসি শূন্য হাতে। 
 
হয়তো সে বন্ধুটি আমার কথা একেবারেই ভুলে গেছে! 
অযথাই এক মায়ায়  
আমি এখনও ঘুরে বেড়াই 
প্রতিটি শহরে, প্রতিটি পথে,  
হারিয়ে যাওয়া এক বন্ধুর খোঁজে।
——————————
রশিদ হারুন
১৯/০৩/২০২৫
ক্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227662/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Mar 2025 08:30:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হারিয়ে যাওয়া বন্ধু<br />
————————-<br />
হারিয়ে যাওয়া এক বন্ধুর খোঁজে<br />
দূর শহরে গিয়েছিলাম<br />
শুধু নামটুকুই ছিলো ভরসা।  </p>
<p>একটা তীব্র ডাক ছিলো বুকের মাঝে<br />
হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খুঁজে পাবার আশায়<br />
সেই শহরের তেইশজন একই নামের মানুষের মাঝে<br />
আমার বন্ধুর মুখোশ পরা একজনও ছিলোনা।  </p>
<p>সেই তেইশজন মানুষকে দেখার পর<br />
শহরটির কোথায়ও লেবু পাতার ঘ্রান আমি ট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227662"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227662/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">40750af60fca7c861e051bab343cdd8c</guid>
				<title>তোমার প্রেমে বৈষম্য ছিলো
——————————
মনোলীনা, 
আজ তোমার বিয়ে
অদ্ভুত সুন্দর সাঁজে সেঁজেছে আজ তোমাদের বাড়ি,
তুমি কি পার্লারে গিয়ে সেঁজেছ?
তোমার না সাঁজলেও চলবে,
আমার কাছে তোমাকে বিশ্বসুন্দরীই মনে হয়,
শুধু শুধু বিউটি পার্লারে টাকা নষ্টের কোন মানে হয় না।

আমি ভাবতাম তোমার সাথে আমার একটা প্রেম হয়েছে,
প্রেমটা তোমার দিক থেকে কখনো 
হয়েছিলো কিনা 
তা এখনো বুঝেই উঠতে পারি নাই!
তুমি আমার কাছে যখন যা চাইতে 
একজন ক্রীতদাসের মতো আমি তাই করতাম,
আমি বোধহয় ছিলাম একজন দাস প্রেমিক।

তোমার ফুট ফরমাস খাটার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতাম,
তোমাদের বাসার বাজার করে দেওয়া থেকে শুরু করে 
বিদূত্যের বিল দেওয়া সবই করেছি এই তিনটি বছর!
অথচ নিজের বাড়ির বিদূত্যের বিল আমি কখনো দেইনি।
তুমি কি জানো?
ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাংকের লাইন দাঁড়িয়ে বিদুৎ বিল দেওয়া 
আমার জন্য একটা বিরাট প্রেস্টিজের ব্যাপার।

শুধু তোমার চাওয়ার কাছে 
আমার একজীবনের সব প্রেষ্টিজ ডাষ্টবিনে ফেলে দিতাম অনায়াশে,
বিনিময়ে তুমি মাঝে মাঝে 
আমাকে দান করতে করুনার হাসি,
শুধু একবার দয়া করে তোমার হাতটুকু ধরতে দিয়েছিলে কিছুক্ষনের জন্য!
একটি চুম্বনের জন্য 
আমি ভিখারীর মতো কতোবার যে তোমার দরবারে হাত পেতেছি।
পরের বার দিবে বলে আমাকে সান্ত্বনা দিতে
আর নতুন নতুন ফুট ফরমাস ধরিয়ে দিতে!
আমি কোন প্রশ্ন ছাড়া‌ই গত তিন বছর 
একজন দাস প্রেমিকের মত তোমার সেবায় শ্রম দিয়েছি।

মনোলীনা,
আজ তোমার বিয়ে!
বিয়ে করছো মহল্লার সবচেয়ে বড়লোকের একমাত্র ছেলেকে,
বরের যোগ্যতা শুধু বাবা বড়লোক,
তিনি কয়েকটি বাড়ির মালিক,
আমার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা এখানেই
আমরা ভাড়া বাড়িতে থাকি আজীবন,
বাবা একজন সরকারী কেরানী।
আয়নায় নিজের দিকে তাকালে 
আমাকে মোটামুটি মানানসই লাগে,
লম্বায় পাঁচ ফিট এগারো
আমি সিউর
তোমার হবু বরের চেয়েও অনেকখানি উচ্চতা বেশি আমার.
অথচ সারাজীবন তোমার ফুট ফরমাস খাটাতে খাটতে আর ভাড়াটিয়া হওয়ার কারনে 
আমি আজ উচ্চতায় তোমার বরের চেয়ে অনেক ছোট।

তোমার বিয়ের দিনেও
আমি তোমাদের বাড়ির উল্টোদিকেই দাঁড়িয়ে আছি 
একজন দাস প্রেমিকের মতো,
যদি আজও তোমার কোন কাজে ডাক পড়ে।

ধরো,
বিয়ের সাঁজের লাল টিপগুলো  হারিয়ে ফেললে,
বর যাত্রীদের জন্য মিষ্টি আনতে ভুলে গেছে তোমার বাবা,
আমাকে বললেই আমি এক দৌঁড়ে নিয়ে আসবো,
যা করতে বলবে তাই করবো।

একজন বড়লোক বাবার এই বাড়িগুলো আমার প্রেমের সাথে চরম বৈষম্য করেছে।
এই বাড়িগুলো তোমাকেও মায়া মমতাহীন একজন স্বৈরাচারী প্রেমিকা বানিয়েছে।

মনোলীনা, 
আমার একজীবনের সব প্রেষ্টিজ ডাষ্টবিনে ফেলতে ফেলতে এখন বুঝেছি,
“তুমি একজন বৈষম্যকারী
তোমার প্রেমে বৈষম্য ছিলো”।
—————
রশিদ হারুন
১০/০২/২০২৫
ক্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226276/</link>
				<pubDate>Tue, 11 Feb 2025 07:10:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তোমার প্রেমে বৈষম্য ছিলো<br />
——————————<br />
মনোলীনা,<br />
আজ তোমার বিয়ে<br />
অদ্ভুত সুন্দর সাঁজে সেঁজেছে আজ তোমাদের বাড়ি,<br />
তুমি কি পার্লারে গিয়ে সেঁজেছ?<br />
তোমার না সাঁজলেও চলবে,<br />
আমার কাছে তোমাকে বিশ্বসুন্দরীই মনে হয়,<br />
শুধু শুধু বিউটি পার্লারে টাকা নষ্টের কোন মানে হয় না।</p>
<p>আমি ভাবতাম তোমার সাথে আমার একটা প্রেম হয়েছে,<br />
প্রেমটা তোমার দিক থেকে কখনো<br />
হয়েছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-226276"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/226276/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">099b7b6bbf45993b2cca4a5f3704d3b5</guid>
				<title>প্রোফাইল পিকচার
————-
ফেসবুকে তোমার বিয়ের ছবিগুলো দেখার পর থেকেই রাগে প্রচণ্ড ছটফট করছি-
কী রকম বাজে ছবি তুলেছে ক্যামেরাম্যান!
তোমার বিয়ের  ছবি দেখার পর থেকেই মাথায় রক্ত উঠে আছে আমার।
যদি এক্ষুনি সামনে পেতাম এই ক্যামেরাম্যানকে 
নির্ঘাত খুন করে ফেলতাম।
তোমাকে কেমন মায়াহীন লাগছে ছবিগুলোতে।
তোমার চোখের মায়াগুলো একটুও ভেসে ওঠেনি একটা ছবিতেও।
তোমার মায়াটুকু এডিট করে মায়াহীন এক নারীর মতো করে ফেলেছে।

তোমার চোখের এই মায়াটুকু দেখার জন্য 
আমি একটা দোতালা বাড়ির উল্টোদিকে ল্যাম্পপোস্টের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বছরের পর বছর
একটার পর একটা সিগারেটের পুড়িয়েছি,
এই ক্যামেরাম্যান যদি জানতো আমার এই গল্পটুকু
সে অন্তত এডিট করে তোমার এই মায়াটুকু মুছে দেবার স্পর্ধা দেখাত না।
 
তোমার ঠোঁটের ডানদিকের খুনি কালো তিলটাকেও এডিট করে মুছে দিয়েছে এই বোকা ক্যামেরাম্যান,
কেউ জানে না
কেউ জানবেও না, 
শুধু এই ঠোঁটের কালো তিলে 
একটিবার নির্লজ্জের মতো খুন হবার জন্য 
আমি দিনরাত ভিক্ষুকের মতো তোমার কাছে হাত পেতেছি,
বারবার তোমার বন্ধ দরজায় নক করেছি।

তুমি রাগ না করলে একটি সত্যি কথা বলি,
তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্রি কদাকার চেহারার বরের ছবিটি 
প্রচন্ড এডিট করা,
বুঝলে প্রচন্ড এডিট করা!
এডিট করতে করতে বরের চেহারা সুন্দর করে তোমার যোগ্য করে তুলেছে ক্যামেরাম্যান।
আমি শিউর, 
এই ক্যামেরাম্যানকে বর পক্ষ ভাড়া করেছে,
তাই সে এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে।

যতই এডিট করুক
দেখলেই বুঝা যায়
তোমার বরের চেহারায় মায়া মমতা আর ভালোবাসার তিলমাত্র কোনো চিহ্ন নেই,
এমন বাজে চেহারার মানুষকে কি তুমি মায়া করবে;
তোমার ঠোঁটের কালো তিলে খুন হতে দিবে তাকে ?

তুমি কি এখনও আমার ফেইসবুকের প্রোফাইলে ঘুরে বেড়াও?
যদি ঘুরতে 
তবে দেখতে পেতে
আমার সব ছবিই এখন হাসিখুশি
ক্লিন সেভ করা
ঝকঝকে চকচকে ছবি
খুব যত্ন করে এডিট করে তারপর 
ফেসবুকে দেই
সবাই যেন ভাবে
খুব সুখে আছি আমি আজকাল।

ইদানিং ফেইসবুকে এডিট করা আমার ঝকঝকে চকচকে ছবিতে
অসংখ্য লাইক আর লাভ পাই,
সবাই কমেন্টে লিখে,
‘সুন্দর ছবি,
সুখী চেহারা,
স্মার্ট লাগছে
আরো কতো কী!

তুমি কি আমার নতুন প্রোফাইল পিকচার দেখো আজকাল?
তোমার চোখের মায়া আর ঠোঁটের কালো তিলটার কসম খেয়ে বলছি,
আমার আগের এডিটহীন, 
অনেকদিন না-কাটা দাড়ি 
আর অগোছালো চেহারার প্রোফাইল পিকচারে,
আমি অনেক সুখে ছিলাম,
বেঁচে ছিলাম।
———-
রশিদ হারুন
২৯/০১/২০২৫
ক্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/225772/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Jan 2025 09:33:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রোফাইল পিকচার<br />
————-<br />
ফেসবুকে তোমার বিয়ের ছবিগুলো দেখার পর থেকেই রাগে প্রচণ্ড ছটফট করছি-<br />
কী রকম বাজে ছবি তুলেছে ক্যামেরাম্যান!<br />
তোমার বিয়ের  ছবি দেখার পর থেকেই মাথায় রক্ত উঠে আছে আমার।<br />
যদি এক্ষুনি সামনে পেতাম এই ক্যামেরাম্যানকে<br />
নির্ঘাত খুন করে ফেলতাম।<br />
তোমাকে কেমন মায়াহীন লাগছে ছবিগুলোতে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-225772"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/225772/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7d61e70fad04e27cea3b0140ae800fb2</guid>
				<title>তোমারে ধন্যবাদ
————-
কয়দিন ধইরা ভাবছি,
তোমারে ধন্যবাদ দিয়া ফেইসবুকে একটা স্ট্যেটাস দিবো।

এই যে পরিচিত মানুষজন আজকাল 
আমারে ‘কবি’ বইল্লা ডাকে
শুনতে ভালোই লাগে।
তোমারে যদি পাইতাম 
বেশি হইলে আমি ভদ্রলোক হইতে পারতাম,
এখন কবি হইছি তোমারে না পাওয়ায়।

যেদিন তোমারে খুব বেশি দেখতে ইচ্ছা জাগে,
সেদিন বুকের মধ্যে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার মতো কষ্ট ধরি।
সেই কষ্ট আমি সাদা কাগজে আদর কইরা শোয়াইয়া রাখি।
শোয়া কষ্টগুলোরে মানুষে কবিতা বলে ।

প্রায়ই রাইত বিরাইতে অঘুমে থাইক্যা
ছাদে বইস্যা আকাশের দিকে তাকাইয়া 
একটার পর একটা সিগারেট পোড়াই
আর মাঝে মইধ্যে তোমাগো পুরোনো ভাড়া বাড়ির জানালার দিকে চোখ পাইতা রাখি।
আমি জানি এই বাড়িতে এখন তুমি থাকনা,
তবুও তাকাই,
তাকাইয়াই থাকি 
তাকাইয়াই থাকি 
একসময়  চোখের মইধ্যে পানি চইল্লা আসে।
সেই পানি বুক বাইয়া যখন ছাদে পরে
সেই বুকে কবিতা শুরু হয়
কান্নার কবিতা
হাহাকারের কবিতা,
একটা মানুষ না পাওয়ার কবিতা।

তোমারে যদি পাইতাম 
ঘর সংসার কইরাই জীবন যাইতো।
আটকা পরতাম তোমার শাড়ির আঁচলে
আটকা পরতাম তোমার চোখে, ঠোঁটে,
বুকে , 
কালো তিল পরা চিকন কোমরে
আর ঘুংগুর পরা শ্যামলা পায়ে।
তোমার না পাওয়ায় কেউই আমারে আটকাইতে পারে নাই,
যখন তখন উড়াল দিতে পারি
মন যে দিকে চায় ।

তোমারে না পাওয়া
আমার একজীবনে পাওয়ার চেয়েও বেশি কিছু 
এইতো কিছু কবিতা বের হয় 
খরা ফাঁটা ভাঙা বুক থেইকা
মানুষ আজকাল পিছনে থেকে ডেকে বলে
’কবি
এ যে কবি শুনছেন’।

তোমারে ধন্যবাদ,
আমারে ভদ্রলোক না বানাইয়া
কবি বানাইছো।
————-
রশিদ হারুন
১৯/০১/২০২৫
ক্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/225298/</link>
				<pubDate>Sun, 19 Jan 2025 16:38:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তোমারে ধন্যবাদ<br />
————-<br />
কয়দিন ধইরা ভাবছি,<br />
তোমারে ধন্যবাদ দিয়া ফেইসবুকে একটা স্ট্যেটাস দিবো।</p>
<p>এই যে পরিচিত মানুষজন আজকাল<br />
আমারে ‘কবি’ বইল্লা ডাকে<br />
শুনতে ভালোই লাগে।<br />
তোমারে যদি পাইতাম<br />
বেশি হইলে আমি ভদ্রলোক হইতে পারতাম,<br />
এখন কবি হইছি তোমারে না পাওয়ায়।</p>
<p>যেদিন তোমারে খুব বেশি দেখতে ইচ্ছা জাগে,<br />
সেদিন বুকের মধ্যে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার মতো কষ্ট ধ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-225298"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/225298/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9250d0c8b45e541c4a22eeb747a7abb6</guid>
				<title>প্রিয় বন্ধু 
——————-
রাস্তায় বাহারি গাড়ি,
গাছে গাছে পাতা মরে 
তুষার হয়ে ঝুলছে,
ফুটপাতে একটা দু’টো মানুষ, 
প্রতিদিনই আমার ডাকবাক্স ভরে দেয় কানাডা পোষ্ট,
যতোটুকু চোখ যায়
চোখ ফিরে আসে সাদা তুষার নিয়ে।

আহারে রিকশা,
আহারে মানুষের মেলা,
অনেক দিন দেখিনা বিদ্যুতের তারে কোন কালো কাক,
অথবা রাস্তায় বসে ঝিমানো অলস কুকুর,
বুকের ডাকবাক্সে নেই কোন চিঠি, 
আর হাহাকার ভরা কারো ডাক
আহারে আমার ঢাকা শহর।

বন্ধু চিঠি লিখিস
না হয় একবার ফোন করে জানাস-
‘আমাকে ছাড়া
কেমন আছিস তুই
আর আমার ঢাকা শহর?’

প্রিয় বন্ধু 
আমার বুকের ডাকবাক্স এখন সাদা তুষারে ভরা।
———
রশিদ হারুন
১০/০১/২০২৫
ক্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224839/</link>
				<pubDate>Sat, 11 Jan 2025 06:00:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় বন্ধু<br />
——————-<br />
রাস্তায় বাহারি গাড়ি,<br />
গাছে গাছে পাতা মরে<br />
তুষার হয়ে ঝুলছে,<br />
ফুটপাতে একটা দু’টো মানুষ,<br />
প্রতিদিনই আমার ডাকবাক্স ভরে দেয় কানাডা পোষ্ট,<br />
যতোটুকু চোখ যায়<br />
চোখ ফিরে আসে সাদা তুষার নিয়ে।</p>
<p>আহারে রিকশা,<br />
আহারে মানুষের মেলা,<br />
অনেক দিন দেখিনা বিদ্যুতের তারে কোন কালো কাক,<br />
অথবা রাস্তায় বসে ঝিমানো অলস কুকুর,<br />
বুকের ডাকবাক্সে ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-224839"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/224839/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3d7b4a3b8c4e71c37d399fc9d59cdd63</guid>
				<title>G M Harun Rashid changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224583/</link>
				<pubDate>Sat, 04 Jan 2025 04:37:29 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a713d2c1449917fc5c3c624450b63ad0</guid>
				<title>অদ্ভুত মিল
————-
বারান্দার কার্নিশে খড়কুটো দিয়ে ঘর করে কোনোমতে বেঁচে থাকা চড়ুই পাখিটা 
-আমার ছুঁয়ে দেখা হয়নি কখনো।
অথচ এক অদ্ভুত মিল আমাদের দুজনের মধ্যে, দুজনই বিষন্ন।

বিষন্নতায় দুজনে‌ই প্রায়ই আকাশে উড়ি, 
ঘরে ফিরি অনেকদিন পর পর।
আরও এক অদ্ভুত মিল আমাদের দু’জনের,
-আমরা দুজনে‌ই জানি একদিন উড়তে উড়তে আর কোনোদিন ফিরবো না ঘরে।
——————————
রশিদ হারুন
২৩/০৭/২০২০</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224564/</link>
				<pubDate>Fri, 03 Jan 2025 22:03:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অদ্ভুত মিল<br />
————-<br />
বারান্দার কার্নিশে খড়কুটো দিয়ে ঘর করে কোনোমতে বেঁচে থাকা চড়ুই পাখিটা<br />
-আমার ছুঁয়ে দেখা হয়নি কখনো।<br />
অথচ এক অদ্ভুত মিল আমাদের দুজনের মধ্যে, দুজনই বিষন্ন।</p>
<p>বিষন্নতায় দুজনে‌ই প্রায়ই আকাশে উড়ি,<br />
ঘরে ফিরি অনেকদিন পর পর।<br />
আরও এক অদ্ভুত মিল আমাদের দু’জনের,<br />
-আমরা দুজনে‌ই জানি একদিন উড়তে উড়তে আর কোনোদিন ফিরবো ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-224564"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/224564/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9ea9337bfe884058d71a773975aa9172</guid>
				<title>অমিমাংসিত আর্তনাদ
————————-
মাননীয় ‘মহামান্য’  ছয়জন বিশেষ নাগরিককে লটারী করে সুযোগ দিলেন তাদের ইচ্ছে পুরনের আবেদনের জন্য।

একজন ডাক্তার লিখলেন-
তিনি বাগানের একজন মালী হতে চান!!
মানুষের চেয়ে উনি বৃক্ষ বেশি পছন্দ করেন।
আজকাল অপারেশনের সময় কিছু মানুষের শরীর থেকে আলকাতরা বের হয়ে উনার হাতে লেগে যায়।
সেই আলকাতরা শতবার ডেটল দিয়ে ধুলেও উঠে না।
অথচ বৃক্ষের শরীরের ভিতর সব সময় বৃক্ষই ঘুমায়।
উনি বাল্যকালে ‘My aim in life’ রচনায় লিখেছিলেন-
আমি বড় হয়ে একটি গাছ হবো।

একজন আর্কিটেক্ট আবদনে বললেন-
তিনি সাদা ঘুড়ি বানানোর একজন কারিগর হতে চান!!
উনি আকাশে উড়তে ভালোবাসেন।
বড় বড় দালানকোঠা দেখলেই মনে হয় বড় বড় কফিন।
অথচ সাদা ঘুড়ি যখন আকাশে উড়ে তখন মনে হয় একটি জীবন্ত সাদা বক উড়ছে।
সুযোগ থাকলে উনি একবার সাদা বক হয়ে জন্মাতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন শাস্ত্রের  একজন অধ্যাপক উনার ইচ্ছের কথায় লিখলেন-
তিনি একজন বাউল গায়ক হতে চান!!
ক্লাশে পড়াতে গেলেই ইদানিং মনে হয়,
উনি যা বিশ্বাস করেন না তাই তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের  পড়াচ্ছেন।
অথচ বুকে বিশ্বাস না থাকলে কখনো কোনো মানুষ বাউল হতে পারেনা।
সম্প্রতি একজন বাউল উনাকে শিষ্য হিসেবে নিতে অস্বীকার করেছেন-
শুধু মাত্র উনি ‘মানুষ’ ও ‘বিশ্বাস’ শব্দ দুটি
সঠিক ভাবে উচ্চারন করতে পারেননি, তাই!!

একজন পুলিশের কর্মকর্তা দরখাস্তে বললেন-
তিনি একজন নাবিক হতে চান!!
এই শহরে উনি এখন আর কোনো মানুষ খুঁজেও পান না!!
এই ভয়ে উনি আয়না দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন।
তাই আগেছালো চুল নিয়ে ডিউটি করতে উনি হীনমন্যতায় ভুগছেন। 
নাবিক হলে সমুদ্রের জলে অন্তত মাছই পাবেন।
আর সেই জলে নিজেকে দেখে অনেকদিনের না আঁচড়ানো চুল আঁচড়ে নিবেন।

একজন রাজনীতিবিদ জানালেন-
তিনি রেললাইন বানানোর একজন কারিগর হতে চান!!
বক্তৃতা দিতে গেলেই উনি এখন সত্য-মিথ্যা এক করে ফেলেন।
রাতের বেলায় উনার ঘুমের ঔষুধেও আর ঘুম হয়না।
খুবই কষ্টে আছেন!!
অথচ রেললাইন কখনো এক হবেনা- সমান্তরালই থাকবে।
অন্তত তিনি শান্তিতে ঘুমোতেতো পারবেন।

একজন কবি অভিমান করে বললেন-
তিনি জেলখানার একজন জল্লাদ হতে চান!!
ইদানিং কবিতা লেখার জন্য তিনি কোথাও শুদ্ধ হাহাকার খুঁজে পান না।
কবিতার অভাবে অনেকদিন যাবত তিনি
অর্থকষ্টে ভুগছেন।
জল্লাদের চাকুরীটা হলে অন্তত অর্থকষ্ট দূর হতো।
আর কবিতা লেখার জন্য 
ফাঁসির আসামীর চোখে বেঁচে থাকার শুদ্ধ হাহাকার দেখতে পেতেন।
কবি বিশেষ নোটে লিখেছেন-
মহান সংবিধানে এমন কোনো ধারা আছে কি- জল্লাদ হলে  কেউ কবিতা লিখতে পারবেনা?

মাননীয় ‘মহামান্য’ নিজেই এক অপরিচিত অথচ গোপন হাহাকারে পড়ে গেলেন
সব ইচ্ছের আবেদন পড়ে।
উনি সুসজ্জিত বারান্দায় একজন

অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষীর হাতে দামী শিকলে আটকানো একটি প্রশিক্ষিত কুকুরের দিকে তখনই একবার তাকালেন 
তারপর বিশাল  আয়নায় নিজেকে দেখলেন আরেকবার।

সেই সময়েই মাননীয় ‘মহামান্য’ আর দামী শিকলে আটকানো কুকুরটাও  একটি করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো ।
শুধু কোন দীর্ঘশ্বাসটি কার,
বুঝা গেলোনা সেই সুরম্য নিরাপত্তা
বেষ্টিত প্রসাদে!!
——————————-
র শি দ  হা রু ন
১৩/০১/২০২০</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224514/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Jan 2025 07:05:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অমিমাংসিত আর্তনাদ<br />
————————-<br />
মাননীয় ‘মহামান্য’  ছয়জন বিশেষ নাগরিককে লটারী করে সুযোগ দিলেন তাদের ইচ্ছে পুরনের আবেদনের জন্য।</p>
<p>একজন ডাক্তার লিখলেন-<br />
তিনি বাগানের একজন মালী হতে চান!!<br />
মানুষের চেয়ে উনি বৃক্ষ বেশি পছন্দ করেন।<br />
আজকাল অপারেশনের সময় কিছু মানুষের শরীর থেকে আলকাতরা বের হয়ে উনার হাতে লেগে যায়।<br />
সেই আলকাতরা শতবার ডেটল দিয়ে ধুলেও উঠে না।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-224514"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/224514/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">68f8b4b8703c439f38ac6ee30e25264a</guid>
				<title>আমার মায়ের বিজয় দিবস
———————————-
আমাদের দক্ষিনের জানালা খুলতেই 
একটা শীতল হাওয়া চোখে মুখে ছুঁয়ে যায়,
জানালার পাশঘেঁষা আম গাছটায় একটা কাক বসে ঝিমোচ্ছিল তখন,
আমার চোখে চোখ পড়তেই কাকটা আকাশে উড়ে গেল।
কাকের ডানার ঝাঁপটায় দুটি শুকনো আম পাতা 
উড়তে উড়তে এসে পড়ল ঘরের উল্টোদিকেই
রাস্তায় চায়ের দোকানের সামনের মাটিতে।

শুকনো আম পাতা দুটি স্পষ্ট দেখার আশায় জানলা দিয়ে রাস্তায় তাকাতেই দেখি-
খাপছাড়া আলোচনার চরম তর্কে 
বেঞ্চে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছে কয়েকজন  মানুষ,
উত্তেজিত হয়ে মাঝে মাঝে কান খাড়া করে ডেকে উঠছে 
বেঞ্চের তলায় শুয়ে থাকা  দুটি নেড়ি কুকুর ।

জানলা দিয়ে আনমনে দূরের শীতল মেঘলা নীল আকাশে তাকিয়ে থাকতে থাকতে 
একটা কালো বিন্দু বড় হতে দেখি
তারপর সেই বিন্দুটাই বড় হয়ে একসময় কাক হয়ে যায়!
সেই একই কাকটা কিনা আমি জানি না?
তবে  কোন দ্বিধা ছাড়াই সেটি আম গাছের ঠিক আগের ডালেই বসল!
হয়তো যে কাকটা ফিরে আসার কথা না সেটি ঠিকই ফিরল,
অথচ যাদের ফেরার কথা থাকে তাদের কেউ কেউ  কখনোই ফেরেনা।

আমার বাবা যুদ্ধে যাবার আগে মাকে ছুঁয়ে  বলেছিলো,
“যুদ্ধ শেষে তোমার কাছে আর আমাদের অনাগত সন্তানের কাছে ফিরবোই” 
‌অথচ বাবা কথা রাখেনি!
তাইতো প্রত্যেক বিজয় দিবসে আমার মা হাত-পা ছড়িয়ে
ঘরের মেঝেতে বসে বাবার জন্য চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন ।

সেদিন যারা ফিরেছেন আর এখনও বেঁচে আছেন-
তারা এই বিজয়ের দিন আসলেই হারিয়ে যাওয়া সহযোদ্ধাদের কথা মনে করে 
মন খারাপ করে আমাদের বাসার সামনে চায়ের দোকানে বসে থাকেন সারাদিন।

চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে হাবিব চাচা জোড় গলায় বলতে থাকেন,
-সব কথা কি ভুলা যায়, রহিম ভাই?
আপনিই বলুন, আবার সব কথা কি মনে রাখা যায়?

আমি জানি, কিছু কথা থেকে যায় কিছু মানুষের বুকে,
আর কিছু কথা সব সময়ই হারিয়ে যায় বাতাসে।

বিজয়ের দিন এলেই আমার মা কাঁদতে বসেন,
দেশের স্বাধীনতার জন্য চিরদিনের মতো হারিয়ে যাওয়া আমার বাবার জন্য,
আর সারাদিন বাসার পাশের চায়ের দোকানে মন খারাপ করে সহযোদ্ধার জন্য বসে থাকেন হাবিব চাচা, রহিম চাচা।

আমি সেদিন মাঝে মাঝে দক্ষিনের জানালা খুলে একবার নীল আকাশ দেখি,
একবার মন খারাপ করে বসে থাকা হাবিব চাচা আর রহিম চাচাকে দেখি,
আর এক সময় মায়ের কান্না সহ্য করতে না পেরে ‌অসহ্য হয়ে  কাঁদতে বসি-
এই জনমে না দেখা আমার হারিয়ে যাওয়া বাবার জন্য।
————————
র শি দ  হা রু ন
১০/১২/২০২২</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223893/</link>
				<pubDate>Mon, 16 Dec 2024 17:13:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার মায়ের বিজয় দিবস<br />
———————————-<br />
আমাদের দক্ষিনের জানালা খুলতেই<br />
একটা শীতল হাওয়া চোখে মুখে ছুঁয়ে যায়,<br />
জানালার পাশঘেঁষা আম গাছটায় একটা কাক বসে ঝিমোচ্ছিল তখন,<br />
আমার চোখে চোখ পড়তেই কাকটা আকাশে উড়ে গেল।<br />
কাকের ডানার ঝাঁপটায় দুটি শুকনো আম পাতা<br />
উড়তে উড়তে এসে পড়ল ঘরের উল্টোদিকেই<br />
রাস্তায় চায়ের দোকানের সামনের মাটিতে।</p>
<p>শুকনো আম পাতা দুটি স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223893"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223893/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a97d7d3758be358ce72d75feaad8d5ea</guid>
				<title>একবার তুমি
————-
জীবনের শেষ চক্রে এসে
‘মানুষ’ হতে না পারার তীব্র মনোবেদনা আর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে 
যেদিনই ঘুমিয়ে পড়ি,
সকালে উঠলেই দেখি
আমার দাদা বাড়ির হারিয়ে যাওয়া পুকুরটা
আমার পুরো ঘর জুড়ে শুয়ে আছে,
সেখানে কিছু কচুরীপানা আর শাপলা ফুলবতী হয়ে ভাসছে;
মাঝে মাঝে একটা বিরহী কোকিল আকুল হয়ে আমাকে ডাকে,
একটা মাছরাঙা পাখি মন খারাপ করে চুপচাপ বসে থাকে শাপলা পাতার উপর,
একটা লাল খইলশা মাছ দূর থেকে সেই মাছরাঙাকে দেখে হেসে উঠে,
সেই হাসি দেখে মাছরাঙাও হেসে ফেলে আচমকা!
তখনই বিছানাটা দাদার নিজ হাতে ফুল আঁকা নৌকা হয়ে আমাকে নিয়ে পুকুরে ভেসে বেড়ায় 
তাই দেখে আমিও মন খুলে হাসি আর হাসি।

জীবনের শেষ ‌অংকে এসে টের পেলাম
‘মানুষ’ হওয়ার সাধ বুকে থাকলে 
বুকটা অন্তত শীতল থাকে শান্ত পুকুরের জলে।
সেই জলে মাছরাঙা আর মাছ পরস্পরকে দেখে 
হেসে উঠতে পারে অনায়াসে।
মুহূর্তেই ওয়ারিশ হয়ে উঠতে পারি দাদার প্রিয় নৌকাটির,
শাপলা আর কচুরীপানার ফুলকে মনে হয় পৃথিবীর সুন্দরতম ফুল
আমিও সেদিন হাসতে পারি বুক ভরে।

‘মানুষ’ হওয়ার জন্য জীবন কি ভাবে খরচ করতে হয় 
এই ‌অংক আমি শিখতে গিয়ে ফাঁকি দিয়েছি সারাজীবন
একজীবন পার করে দিয়েছি ধার্মিক সাঁজার অংকে
বড় ব্যাবসী, চাকর আর নেতা হওয়ার অংকে
পুরো শরীরে পাহাড়সম ক্ষমতা পাওয়ার ‌অংকে।
তাইতো আমার ‘ঘুম ঘরে’ দাদার বাড়ির পুকুর কখনো ভাসেনি
আমি একবারও হাসতে পারিনি ’সত্য মানুষ’ এর  মতো করে।

জীবনে 
একবার তুমি মানুষ হবার সাধ করে দেখো
সেদিন অন্তত ‘সত্য মানুষ’ এর মত হাসতে পারবে।
——————
রশিদ হারুন
০৭/১২/২০২৪
ক্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223643/</link>
				<pubDate>Sun, 08 Dec 2024 02:58:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একবার তুমি<br />
————-<br />
জীবনের শেষ চক্রে এসে<br />
‘মানুষ’ হতে না পারার তীব্র মনোবেদনা আর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে<br />
যেদিনই ঘুমিয়ে পড়ি,<br />
সকালে উঠলেই দেখি<br />
আমার দাদা বাড়ির হারিয়ে যাওয়া পুকুরটা<br />
আমার পুরো ঘর জুড়ে শুয়ে আছে,<br />
সেখানে কিছু কচুরীপানা আর শাপলা ফুলবতী হয়ে ভাসছে;<br />
মাঝে মাঝে একটা বিরহী কোকিল আকুল হয়ে আমাকে ডাকে,<br />
একটা মাছরাঙা পাখি মন খারাপ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223643"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223643/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d5a1be723ecf0ca8344cb015c8dc4895</guid>
				<title>ফুল আঁকা  আমার টিনের বাক্স
———————————

আমার বয়স যখন পাঁচ-
তখন  আমার এক খেলার মেয়ে সাথী
আমাকে দিয়েছিলো
একটি পা ভাঙা মাটির পুতুল।
পা ভাঙা পুতুল দেখলেই তখন তার প্রচন্ড রাগ হতো ।

আমার দশ বছর বয়সে এক বালিকা দিয়েছিলো একটি হলুদ ঘুড়ি।
যেটি তাদের উঠোনে উড়ে এসে পড়েছিলে সুতো কেটে।
ঘুড়িটা উঠোনের ভিজা মাটিতে পড়ে একটু ছিঁড়ে গিয়েছিলো 
তাই সে ঘুড়িটা আমাকে দিয়েছিলো।

বয়স যখন আঠারো 
তখন এক কিশোরী ভুল করে একটি নীল খাম দিয়েছিলো।
চিঠি লিখতে গিয়ে সে তখন কাগজ
খুঁজে পায়নি।
তাই শুধু খামের উপর আমার নাম লিখে দিয়েছিলো।

আমার আটাশে একজন নারী
- আমাকে তার চুলের নষ্ট ক্লিপ দিয়েছিলো ঠিক করে দিতে।
আমি অনেক চেষ্টা করেও ঠিক করে দিতে পারিনি সেটা,
তাই সেই ক্লিপ সে ফিরিয়ে নেয়নি।

তারপর আমার চল্লিশে একজন নারী দিলো
তার বারান্দায় পড়ে থাকা কিছু স্যাঁতসেঁতে দীর্ঘশ্বাস-
কড়কড়ে রোদে শুকোতে।
তখন থেকে অনেকদিন আর সূর্য উঠেনি,
তাই সেই স্যাঁতসেঁতে দীর্ঘশ্বাস কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

হঠাৎ পাঁচচল্লিশে একজন নারী দিলো তার কিশোরী বয়সের কিছু
সাদা কালো ছবি- 
তাকে রঙিন করে দিতে।
ভালো কারিগরের অভাবে ছবিগুলো আর রঙিন করা হয়নি কখনোই।

এই সবকিছুই আমি সারাজীবন জমিয়েছিলাম 
একটি লাল আর হলুদ ফুল আঁকা টিনের বাক্সে।

ইদানিং হয়েছে এক যন্ত্রনা-
রাত হলেই টিনের বাক্স থেকে জল গড়িয়ে পড়ে আমার শোবার ঘরে।
পুরো ঘর কোমর জলে ডুবে যায়।
সারারাতই এই জলে সাঁতরাতে সাঁতরাতে আমি এক সময় অবসাদগ্রস্থ হয়ে যাই।

তাই একদিন সাতচল্লিশে এসে খুব ভোর বেলায় সেই টিনের বাক্স নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি। 
সবার ঠিকানা খুঁজে ফিরিয়ে দিতে হবে তাদের সব কিছু।
আমার একটি করে কবিতা সারাজীবন ধরে তাদের কাছে বন্ধক ছিলো,
সেই কবিতাগুলো আমাকে ফিরিয়ে নিতেই হবে।
তা না হলে আমি আর কখনোই কবি হতে পারবোনা।
——————————
কাব্যগ্রন্থ- একটি আউলা-ঝাউলা জীবনের প্রার্থনা

রশিদ হারুন
২৭/১২/২০১৯</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223483/</link>
				<pubDate>Mon, 02 Dec 2024 09:06:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফুল আঁকা  আমার টিনের বাক্স<br />
———————————</p>
<p>আমার বয়স যখন পাঁচ-<br />
তখন  আমার এক খেলার মেয়ে সাথী<br />
আমাকে দিয়েছিলো<br />
একটি পা ভাঙা মাটির পুতুল।<br />
পা ভাঙা পুতুল দেখলেই তখন তার প্রচন্ড রাগ হতো ।</p>
<p>আমার দশ বছর বয়সে এক বালিকা দিয়েছিলো একটি হলুদ ঘুড়ি।<br />
যেটি তাদের উঠোনে উড়ে এসে পড়েছিলে সুতো কেটে।<br />
ঘুড়িটা উঠোনের ভিজা মাটিতে পড়ে একটু ছিঁড়ে গিয়েছিলো<br />
তাই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223483"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223483/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">28ee0d6eefd54e56dae47ebea7772a5d</guid>
				<title>ধর্মের কল
————-
ধর্মের কল যতই বাতাসে নড়ছে 
ততই স্পষ্ট হচ্ছে 
দেয়ালে দেয়ালে যে সব ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে কোনটা কার-
কোনটা কাক, কোকিল অথবা কাকাতুয়ার
কোনটা কুকুর, শিয়াল অথবা সিংহের 
আর কোনটা মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ানো এক ডাইনোসরের ছায়া ?
সকাল বেলায় কে বাঘ সেজে থাকে
বিকেলে সাজে মিউ মিউ বিড়াল 
আর রাতের অন্ধকারে সাজে এক ক্ষুধার্ত অজগর।

ধর্মের কল বাতাসে নড়তে নড়তে 
বৃক্ষগুলো একদিন ঠিকই বলে দিবে
বৃষ্টির জলে সেদিন বিষ কে মিশিয়েছিলো?
————————
রশিদ হারুন
২৩/১১/২০২৪
ক্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223366/</link>
				<pubDate>Wed, 27 Nov 2024 06:11:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ধর্মের কল<br />
————-<br />
ধর্মের কল যতই বাতাসে নড়ছে<br />
ততই স্পষ্ট হচ্ছে<br />
দেয়ালে দেয়ালে যে সব ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে কোনটা কার-<br />
কোনটা কাক, কোকিল অথবা কাকাতুয়ার<br />
কোনটা কুকুর, শিয়াল অথবা সিংহের<br />
আর কোনটা মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ানো এক ডাইনোসরের ছায়া ?<br />
সকাল বেলায় কে বাঘ সেজে থাকে<br />
বিকেলে সাজে মিউ মিউ বিড়াল<br />
আর রাতের অন্ধকারে সাজে এক ক্ষুধার্ত অজগর।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223366"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223366/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f6c67e48933a55169c84a07bae89c410</guid>
				<title>ঈশ্বর আপনি সুখেই আছেন
—————————-
সকালবেলায় পত্রিকা পড়তে বসলেই আমার মনে অসুখ শুরু হয়।
তখন এককাপ গরম চায়ের সাথেই অসুখ আমার মনে ঢুকে যায় তালগাছের মতো লম্বা হয়ে।
তারপর সারাদিনই আমি অসুখী থাকি।
আমাকে অসুখী দেখলেই আমার নিরক্ষর বৃদ্ধা মা  গোঙিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বিরক্তিকর শব্দে বলেন
“ও বাজান,
প্রত্যেক দিন সক্কাল সক্কাল এই কাগজের নষ্ট খবর ক্যান যে পড়স!”
ঈশ্বর, 
আপনি সুখেই আছেন
-আপনাকে সকাল সকাল পত্রিকার খবর পড়তে হয়না।
———————————
রশিদ হারুন
০২/০৭/২০২০</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223365/</link>
				<pubDate>Wed, 27 Nov 2024 06:11:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঈশ্বর আপনি সুখেই আছেন<br />
—————————-<br />
সকালবেলায় পত্রিকা পড়তে বসলেই আমার মনে অসুখ শুরু হয়।<br />
তখন এককাপ গরম চায়ের সাথেই অসুখ আমার মনে ঢুকে যায় তালগাছের মতো লম্বা হয়ে।<br />
তারপর সারাদিনই আমি অসুখী থাকি।<br />
আমাকে অসুখী দেখলেই আমার নিরক্ষর বৃদ্ধা মা  গোঙিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বিরক্তিকর শব্দে বলেন<br />
“ও বাজান,<br />
প্রত্যেক দিন সক্কাল সক্কাল এই কাগজের নষ্ট খ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223365"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223365/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">166fb37efb87e28ed36929a701e62e45</guid>
				<title>অপরিচিত মানুষ
——————-
আয়নার পাশে নিজেকে দাঁড় করিয়ে রেখেছি
অনেক্ষণ ধরে।
চেহারায় হাসি হাসি ভাব ধরে আয়নার মানুষটা আমার দিকে তাকিয়ে,
একেবারেই অপরিচিত মনে হলো মানুষটাকে,
কখনো দেখেছি বলে মনে হলো না।

আয়নার মানুষটাকে চিনতে না পারায় 
উনার প্রচন্ড আত্মসম্মানে লাগলো মনে হলো,
চেহারায় অভিমানের ভাব ধরে
চোখ মুখ করুন করার বৃথা চেষ্টা করে
আয়নার মানুষটা তাকিয়ে থাকলো আমার দিকে মায়া নিয়ে
তবুও অপরিচিত মনে হলো মানুষটাকে।

পরিচিত মানুষের সাথে কি আচরন করতে হয় 
তিনি হাসতে হাসতে সেই উপদেশ দিলেন আমাকে,
আমি যেনো পরিচিত মানুষের মতো আচরন করি।
দুটো কষ্টের কথাও বললেন 
তাকে চিনতে না পারার জন্য।

এবার আশেপাশের সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললেন,
আমি যেনো লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চাই উনাকে চিনতে না পারার জন্য।
 
দীর্ঘক্ষণ আয়নার মানুষটার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে 
আমার দুই ঠোঁটের কোনে একটা নির্লিপ্ত হাসি ভেসে উঠলো ।

আয়নার মানুষটাও হতাশ হয়ে একসময় টের পেলেন,
তিনিও একজন অপরিচিত মানুষের দিকেই  তাকিয়ে আছেন দীর্ঘক্ষণ ধরে,
তিনিও লজ্জিত হলো আমাকে চিনতে না পারার জন্য,
এমন কি দুঃখ প্রকাশ করলো আমাকে বিব্রত করার জন্য।

আমিও লজ্জা পেয়ে বললাম,
‘ sorry,আপানাকে কখনো দেখেছি বলে মনে করতে পারছি,
বুকে কষ্ট নিবেন না।’

এই পড়তি বেলায় 
এখন প্রতিদিনই জোর করে আয়নার সামনে নিজেকে দাঁড় করিয়ে রাখি,
-যদি কোনদিন আয়নার মানুষটাকে  পরিচিত মনে হয়।
—————-
১৩/১১/২০২৪
রশিদ হারুন
ক্যালগেরি, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/222842/</link>
				<pubDate>Thu, 14 Nov 2024 03:58:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অপরিচিত মানুষ<br />
——————-<br />
আয়নার পাশে নিজেকে দাঁড় করিয়ে রেখেছি<br />
অনেক্ষণ ধরে।<br />
চেহারায় হাসি হাসি ভাব ধরে আয়নার মানুষটা আমার দিকে তাকিয়ে,<br />
একেবারেই অপরিচিত মনে হলো মানুষটাকে,<br />
কখনো দেখেছি বলে মনে হলো না।</p>
<p>আয়নার মানুষটাকে চিনতে না পারায়<br />
উনার প্রচন্ড আত্মসম্মানে লাগলো মনে হলো,<br />
চেহারায় অভিমানের ভাব ধরে<br />
চোখ মুখ করুন করার বৃথা চ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-222842"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/222842/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">35e79b6a30c0e5c9651f463a928f5da4</guid>
				<title>আমি তিন শূন্য 
—————
বিকেলে বেলা বিশাল মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের ছায়া বড় হতে হতে 
হঠাৎ অন্ধকারে হারিয়ে যাবার পর মনে হলো,
আমার কোন বন্ধু নেই
স্বজন নেই
প্রেম নেই
তুমিও নেই
এমনকি আজকাল আমিও নেই আমার নিজের  সাথে!

তুমি কোথায় হারালে প্রেম রেখে?
প্রেম কোথায় হারালো আমাকে রেখে?
আমি কোথায় হারাই আমাকে রেখে?
নিজেকে একা রেখে মানুষ কোথায় হারায়?

মাগরিবের আজানের সময় 
লাল আলেতে তুমি মাথায় ওড়না তুলেতে তুলতে 
এই বিশাল মাঠের এইখানে দাঁড়িয়ে বলেছিলে,
-আজ যাই, 
অন্যদিন।

সেই যে তুমি হারালে
আমাকেও হারালাম।

একা মানুষ 
আমি শূন্য হয়ে ঘুরি 
কেউ বুঝেনা
কেউ জানেনা
তুমি ছাড়া 
আমি - আমি না
আমি এক শূন্য 
আমি দুই শূন্য 
আমি তিন শূন্য।
—————-
রশিদ হারুন
১৭/০৩/২০২৪
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210305/</link>
				<pubDate>Mon, 18 Mar 2024 16:10:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমি তিন শূন্য<br />
—————<br />
বিকেলে বেলা বিশাল মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের ছায়া বড় হতে হতে<br />
হঠাৎ অন্ধকারে হারিয়ে যাবার পর মনে হলো,<br />
আমার কোন বন্ধু নেই<br />
স্বজন নেই<br />
প্রেম নেই<br />
তুমিও নেই<br />
এমনকি আজকাল আমিও নেই আমার নিজের  সাথে!</p>
<p>তুমি কোথায় হারালে প্রেম রেখে?<br />
প্রেম কোথায় হারালো আমাকে রেখে?<br />
আমি কোথায় হারাই আমাকে রেখে?<br />
নিজেকে একা রেখে মানুষ কোথায় হারায়?&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-210305"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/210305/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b478eb05e10f3d6c1df4210843631409</guid>
				<title>কিছুদিন পর থেকেই
———————
পঞ্চাশের পর থেকেই আর একা থাকা হয় না আমার।

নির্জনে অথবা বন্ধ ঘরে নিঃসঙ্গ হয়ে যখন কিছু ভাবতে শুরু করি
তখনই ফিসফিসানি শুরু হয় সেখানে।
আমার ছায়াটাও শরীর থেকে বের হয়ে এদিক- ওদিক ছুটোছুটি করে-
স্থির হয়ে বসে না।
সেই ফিসফিসানিতে পরিচিত মানুষের কন্ঠ ভেসে ওঠে-
মৃত বাবা- মা, দাদা-দাদি, চাচা আর আত্মীয় স্বজনের কত যে গল্প! 
ভাতের গল্প, 
গাছের গল্প, 
মাছের গল্প,
টাকার গল্প, 
সুখ দুঃখ আর কষ্টের গল্প।

কড়ই গাছের ছায়া-পড়া দাদার বাড়ির মরা পুকুরটার বুক চাপড়ানো কান্নার শব্দ,
অকালে চলে যাওয়া দু &#039;একজন বন্ধুর
ভরসার কথা,
 মান অভিমানের কথা, 
অর্থহীন কথা, 
অপেক্ষার কথা।

ছোটবেলায় গলির মোড়ে শুয়ে থাকা কালো কুঁড়ে কুকুরটার মিছে ভয়ের ডাক,
বালকবেলার মাথায় লাল পাগড়ী পরা এক ফেরিঅলার হঠাৎ 
“এই মিষ্টি কামরাঙ্গা, এই মিষ্টি কামরাঙ্গা” বলে আলসে দুপুরের ঘুম নষ্ট করা ডাক
আর চারিদিক ঘুরে বেড়ায় কিছু অপরিচিত হাহাকারের শব্দ।

আমার ছায়াটাও থেমে থেমে সবার সাথে গল্প করে,
ছায়াটাকে ফিরাতে বহু কষ্ট হয়
চলে যেতে চায় সবারই সাথে।
আমি জোর কর বুকের সাথে ধরে রাখি তাকে তখন,
আর সান্ত্বনা দিতে দিতে বলি,
“আর মাত্র কয়দিন,
আমরাও তাদের সাথেই থাকবো কিছুদিন পর থেকেই” ।
————
র সি দ  হা রু ন
১৫/০৩/২০২৪
মন্ট্রিয়াল
কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210226/</link>
				<pubDate>Fri, 15 Mar 2024 19:23:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিছুদিন পর থেকেই<br />
———————<br />
পঞ্চাশের পর থেকেই আর একা থাকা হয় না আমার।</p>
<p>নির্জনে অথবা বন্ধ ঘরে নিঃসঙ্গ হয়ে যখন কিছু ভাবতে শুরু করি<br />
তখনই ফিসফিসানি শুরু হয় সেখানে।<br />
আমার ছায়াটাও শরীর থেকে বের হয়ে এদিক- ওদিক ছুটোছুটি করে-<br />
স্থির হয়ে বসে না।<br />
সেই ফিসফিসানিতে পরিচিত মানুষের কন্ঠ ভেসে ওঠে-<br />
মৃত বাবা- মা, দাদা-দাদি, চাচা আর আত্মীয় স্বজনের কত যে গল্প!&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-210226"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/210226/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1079d11be306c362a13251f94299ec4c</guid>
				<title>মাতৃঋণ-১
—————-
মনে হচ্ছিল অনন্তকাল ধরে চাঁদ আর হারিকেনের আলোতে 
মাটি খুঁড়ে চলছে কয়েকটা কোদাল।
অথচ মাটি আজ সারাদিনের বৃষ্টির জলে ভেজা!
মাঝে মাঝে আমার শরীরেও আছড়ে পড়ছে সেই ভেজা মাটির ফোঁটা।

নাকে মুখেও লাগছে ভেজা মাটির গন্ধ,স্বাদ।
সাড়ে তিন হাত মাটি কোমর সমান গর্ত প্রায় তৈরি,
আমি একবার হারিকেনের আলোতে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলাম 
সেই কবরের গভীরে
আর আরেকবার তাকালাম কফিনে রাখা সাদা কাফনে জড়ানো মা&#039;র দিকে।

নিচ থেকে জল ওঠার ভয়ে 
দ্রুত সবাই  মিলে ধরাধরি করে 
মা’কে নামিয়ে দিলাম সেই জলে ভেজা মাটিতেই।
‌অযথাই দু’ফোঁটা চোখের জলে 
মায়ের কবরের মাটি আরেকটু নরম করে দিলাম।

চাঁদ আর হারিকেনের আলোতে 
কেউই দেখেনি 
আমার সেই চোখের জল
আর দেখেনি আমার ডানহাতের মুঠো ভর্তি মা’র কবরের মাটি।

চোরের মতো লুকিয়ে হাত ভর্তি করে 
মা’র কবরের মাটি নিয়ে কেন বাড়ি ফিরেছি? 
আমি জানি না,
বিশ্বাস করুন আমি সত্যিই জানিনা।
মনের সব কথা কি জানা যায় সব সময়?
———————
র শি দ  হা রু ন
১৯/১১/২০২২</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/208120/</link>
				<pubDate>Mon, 18 Dec 2023 07:23:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মাতৃঋণ-১<br />
—————-<br />
মনে হচ্ছিল অনন্তকাল ধরে চাঁদ আর হারিকেনের আলোতে<br />
মাটি খুঁড়ে চলছে কয়েকটা কোদাল।<br />
অথচ মাটি আজ সারাদিনের বৃষ্টির জলে ভেজা!<br />
মাঝে মাঝে আমার শরীরেও আছড়ে পড়ছে সেই ভেজা মাটির ফোঁটা।</p>
<p>নাকে মুখেও লাগছে ভেজা মাটির গন্ধ,স্বাদ।<br />
সাড়ে তিন হাত মাটি কোমর সমান গর্ত প্রায় তৈরি,<br />
আমি একবার হারিকেনের আলোতে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলাম<br />
সে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-208120"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/208120/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a35dc0efa8d5f661aedcd5a583f49d9d</guid>
				<title>ভোটের অর্থনীতি
—————-
মাননীয়গণ,
এখন তো ভোটের বাজার,
আপনাদের সিজন,
দরদাম ঠিকমতো করবেন কিন্তু 
তা না হলে ঠকে যাবেন!

মাননীয়গণ, 
ভোটের বাজারে যারা মাল বিক্রি করতে এসেছেন
তাদের বলছি-
আবার কবে সিজন আসবে,
কে বাঁচবে কে মরবে বলাতো যায় না,
সুযোগ যখন পেয়েছেন
নিজের দামটা ঠিকমতো চাইবেন
তা না হলে পরে পস্তাবেন।
দাম নেবার সময় নোট- আসল না নকল দেখে নিবেন।
ভোটের সিজনে অনেক ক্রেতা নকল নোট ধরিয়ে দেয়,
যেমন দেয় কোরবানীর গরুর হাটে।
যার-তার দেওয়া জিনিস খাবেন না,
খেলে অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকার সম্ভবনা কমপক্ষে পাঁচ বছর,
হয়তোবা এই জীবনে আর আপনার জ্ঞান নাও ফিরতে পারে।
আজকাল ভোটের বাজার আর গরুর হাট  অনেকটা একইরকম।

মাননীয়গণ,
ভোটের বাজারে যারা মাল কিনতে এসেছেন তাদের বলছি-
মাল দেখেশুনে যাচাই করে কিনবেন,
অনেককাল আগে ভালো মাল পাওয়া যেত ভোটের বাজারে,
তাদের কেনার মতো সম্পদ কারোই ছিলো না,
তাই এই বাজারে নিজেকে ফ্রী বিলিয়ে দিতেন তারা,
রাস্তাঘাটে ক্ষেতখামারে আমজনতার সাথে তারা নিজেকে বড় করতেন
তাই তাদের সারা শরীরেই ধুলাবালি লেগে থাকতো সবসময়।
অথচ খাঁটি ছিল তাদের শরীর মন-
যে কোনো কষ্ট অবলীলায় সহ্য করতে পারতেন তারা।

আজকাল ভোটের বাজারে সব মেকাপ দেওয়া সাঁজগোজ করা সিজনাল মাল!
চকচক করলেই যেমন সোনা হয়না,
তেমনি ভোটের বাজারে রাতারাতি চমকানো সিজনাল মাল খারাপ হবার সম্ভবনা খুবই বেশি।
ভাগ্যগুণে অনেকসময় ভালো মাল পড়ে,
তবে ভাগ্যের উপর বিশ্বাস না করে যাচাই করে নিবেন।
এই সময়ে গরু মোটাতাজাকরণ বড়ির মতো অনেকে ইলেকশন বড়ি খেয়ে  আকর্ষণীয় মাল সেঁজে মেকাপ নিয়ে 
নিজেকে বিক্রি করতে আসে।
এরা হাইব্রিড,
একটুও কষ্ট সহ্য করতে পারে না তারা।
আমজনতার কষ্ট কী তারা জানেই না!
একটু কষ্ট দেখলে‌ই কাকের মতো কা কা করে উড়াল দেয়,
এদেরকে বাংলা অভিধানে কাউয়া বলে,
কাউয়া ,সুযোগ পেলেই উড়াল দিবেই, দিবে
এটাই কাউয়ার ধর্ম-
এই ‌‌অধমের কথাটা মনে রাখবেন।
তাই আবারও বলছি
মাল কিনার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করে কিনবেন,
তা না হলে পুরো পয়সাই পানিতে যাবে,
মানসম্মানের কথা না হয় বাদই দিলাম ।

মাননীয়গণ,
ভোটের বাজারে বিদেশি পয়সা ধার করে মাল কিনবেনও না- বেচবেনও না।
এই ভুল করলে কিন্তু পুরো মজা নিবে বিদেশিরা,
আপনি থাকবেন শুধু মাল টানা কুলি।
জ্বী হুজুর, 
জ্বী হুজুর
বলতে বলতে পাঁচ বছর চলে যাবে
তবুও ধার শোধ হবে না,
আর সারাজীবন ‘জ্বী  হুজুর’ এর শিকলের দাগ গলায় কালো হয়ে ফাঁসির মতো থাকবে।

মাননীয়গণ,
ভোটের বাজারে আপনারা যা খুশি বেচেন, কিনেন-
আমজনতার এখন আর কিচ্ছু যায় আসে না!
তারা এই ব্যবসার লাভ লোকসানের কিচ্ছু ভাগও চায় না।

আমজনতা শুধু আপনাদের কাছ থেকে গ্যারান্টি চায়,
তাদের পাতিল ভর্তি গরম ভাত যেন কেউ চুরি করে না নেয়।
——————
র শি দ  হা রু ন
মন্ট্রিয়াল, কানাডা
১৫/১২/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/208033/</link>
				<pubDate>Fri, 15 Dec 2023 07:40:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভোটের অর্থনীতি<br />
—————-<br />
মাননীয়গণ,<br />
এখন তো ভোটের বাজার,<br />
আপনাদের সিজন,<br />
দরদাম ঠিকমতো করবেন কিন্তু<br />
তা না হলে ঠকে যাবেন!</p>
<p>মাননীয়গণ,<br />
ভোটের বাজারে যারা মাল বিক্রি করতে এসেছেন<br />
তাদের বলছি-<br />
আবার কবে সিজন আসবে,<br />
কে বাঁচবে কে মরবে বলাতো যায় না,<br />
সুযোগ যখন পেয়েছেন<br />
নিজের দামটা ঠিকমতো চাইবেন<br />
তা না হলে পরে পস্তাবেন।<br />
দাম নেবার সময় নোট- আসল না নক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-208033"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/208033/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a3677ac6fc91215e134990e3e9f0c821</guid>
				<title>ছয় বন্ধু প্রেমের ডাইরী (গল্প)
——————————-
বেলী রোডের বিখ্যাত একটি কফি হাউজে ছয়জন পড়তি বেলার যৌবনের পুরুষ বসে কফি খাচ্ছে আর গল্প করছে। বয়স সবারই পঞ্চাশের কিছুটা কম বেশি। বাহির থেকে যে কেউ দেখলেই ভাববে মানুষগুলো বোধহয় প্রায়ই এভাবে আড্ডা মারে, গল্প করে। বাস্তবতা হচ্ছে আজ প্রায় পঁচিশ বছর পর ছয় বন্ধু একসাথে হয়েছে। একজন বাদে বাকি সবাই বিভিন্ন দেশে প্রবাসী।
সবাই বাল্যকালের বন্ধু। আর সেই আশির দশকের শেষ থেকে নব্বই এর প্রায় শেষ পর্যন্ত সবাই উত্তর যাত্রাবাড়ির ওয়াসা রোডের আশেপাশের গলিতে ভাড়া থাকতো।
এখন কামরুল থাকে আমেরিকায় ,মিল্টন কানাডায়, জুয়েল অস্ট্রেলিয়াতে , জামান ব্রিটেনে আর শাকিল ফ্রান্সে, শুধু হারুন বাংলাদেশে। 
হারুন উদ্দ্যোগ নিয়ে সব বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে ,আজকের এই আড্ডার জন্য প্রায় ছয়মাস সময় লেগেছে। সবারই একই সময় ছুটি ম্যানেজ করা একটু কষ্টের ছিলো। যাক তবুও হয়েছে।
সবাই খুবই আশ্চর্য এবং আনন্দিত হয়ে নিজেদের দিকে তাকিয়ে বুঝতেই পারছে না কি ভাবে পঁচিশ বছর চলে গেলো,
মনে হয় এইতো সেদিন শেষবার সবার দেখা হয়েছিলো, আর সবাই যেনো আগের মতোই আছে শুধু শরীর বয়সটা বেড়েছে, চুল দাঁড়িতে কিছুটা সাদা রং লেগেছে, কিছুনা কিছু অসুখ সবার শরীরে কড়া নাড়ছে মাঝে মাঝে। কিন্তু মনটা সেই আগের মতোই যেনো রয়েছে।
তাদের কথাবার্তার শব্দে আশেপাশের মানুষজন কিছুটা বিরক্ত হয়ে তাকাচ্ছে,
আবার অবাক হচ্ছে এই ভেবে এই বয়সের মানুষগুলো গল্প করছে কিশোরদের মতো।
গল্প করতে করতে আর রাতের খাবার খেতে খেতে রাত প্রায় দশটা বেজে গেছে কেউ বুঝতে‌ই পারেনি। 
তাদের বন্ধুদের মাঝে সবচেয়ে কমন হলো সবাই সিগারেট একই বয়সে ধরেছে আর ছাড়তে পারেনি ।
কফির দোকানের স্মোকিং জোন এলাকায় বসে ছয়টি সিগারেট যখন একসাথে জ্বলে উঠলো 
হঠাৎ করে‌ই শাকিল বলে উঠলো
-শিউলির খবর কেউ কি জানিস?
পাঁচ বন্ধু আশ্চর্য হয়ে শাকিলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ,
শাকিল খুব বিব্রত বোধ করছিলো সবার দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে
আরো অবাক হলো পাঁচজনই যখন একসাথে হেসে উঠলো,
মিল্টন বললো- শাকিল দেখি শিউলির প্রেমের জালে এখনো আটকে আছে,
বলেই সবার দিকে তাকালো।
সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো, রাতে নিরব হতে থাকা বেলীরোডের রাস্তা যেনো সেই হাসিতে নড়েচড়ে উঠলো,
শাকিল বললো - সব শালা ভাব ধরেছে, 
মনে মনে সবাই শিউলির খবর জানতে চায় আর দোষ দিচ্ছে একা আমার।
সবাই চুপ হয়ে গেলো কিছুক্ষণের জন্য।
হারুন বললো চল ওয়াসা গলি থেকে ঘুরে আসি। আবার কবে সময় হবে কেউ জানিনা।আজ আকাশ ভরা আগুন চাঁদ।
একজনও হারুনের কথার বিরোধিতা করলো না, যেনো সবাই মনে মনে প্রস্তুত ছিলো,
কেউ একজন বললেই ছুটে যাবে উত্তর যাত্রাবাড়ির ওয়াসা রোডের সেই গলিতে,
যেখানে তাদের বাল্যকাল ,কিশোর কাল আর যৌবনের শুরু হয়েছিলো আর ছয় বন্ধুর মনে মনে একজনই প্রেমিকা ছিলো শিউলি।

রাত এগারোটার দিকে হারুনের জিপ গাড়িতে ঠেলাঠেলি করে ছয়জন রওনা দিলো যাত্রাবাড়ির ওয়াসা রোডের সেই গলির উদ্দেশ্যে। সবাই কেমন যেনো চুপ মেরে ভাবছে, কেনো ফিরছে সেই মহল্লায়,
শিউলির খবরের জন্য না নিজেকে খুঁজতে?

তাদের সবারই মনে হলো এইতো সেদিনের ঘটনা,
কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ে সবাই , বিকেলে ওয়াসার বাউন্ডারি এরিয়ায় বসে বন্ধুরা আড্ডা মারছে। শুধু জামান এখনো এসে পৌছেনি। হঠাৎ জামান অনেকটা দৌঁড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে আড্ডায় হাজির। সবাই জামানের দিকে কৌতুহলে তাকিয়ে,
নতুন কিছু ঘটনা হয়তো জামান জানে যা বাকি সবাই এখনো জানে না
-শালারা তোরা এখনও আসল খবরই জানিস না, ১০৭ নং গলির শেষ নতুন দোতালা বাড়িতে বাড়িওয়ালা উঠেছে,
বাড়িওয়ালার এক মেয়ে , দেখতে জোস মাল,
ক্লাস টেনে পড়ে হয়তো। নাম শিউলি।
সবাই খুবই আশ্চর্য হলো জামান একদিনে এতো খবর কি ভাবে জোগার করলো!
শাকিল জামানকে একটু ধমক দিয়ে বললে 
-জামান মেয়েটাকে মাল বলছিস কেনো?
জামানের উত্তরের আগেই বাকি চারজন চিৎকার করে বলে উঠলো
-চলে এক্ষুনি মালটাকে দেখে আসি।
 কে কার কথা শুনে, সবাই ১০৭ নং গলির শেষ বাড়ির দিকে রওনা দিলে। 

পাঁচ মিনিটের মধ্যে‌ই সবাই দোতালা নতুন বাড়িটার উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে। নতুন সাদা রঙ করা বাড়ি, বাড়ির বাহির থেকেই বুঝা যায়না ভিতরে কি হচ্ছে। প্রথম দিনই জানালায় পর্দা লাগানো হয়ে গেছে।
সব বন্ধুরা খুব আগ্রহ নিয়ে দোতালার বারান্দার দিকে তাকিয়ে। বারান্দার দরজা আটকানো, সেখানে কিছু কাপড় ঝুলছে , তার মাঝে একটা লাল রঙের ওড়নাও আছে। 
অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে থেকেও যখন কাউকেই দেখা গেলোনা
মিল্টন জামানের দিকে তাকিয়ে বললো 
-শালা সবাইকে বোকা বানাইছে,
ওর জরিমানা হবে, আজ সবার সিগারেটের টাকা ও দিবে।
বাকি সবাই একসাথে সম্মতি দিয়ে দিলো।
জামানের মনে হচ্ছিলো জীবনে বড়ই বোকামি করে ফেলেছে। শুধু শুধু বন্ধুদের বলতে গেছে। ও যেহেতু প্রথমে দেখেছে- ওর ‌অধিকার বেশি। মেয়েটাকে আগে প্রেমে রাজি করিয়ে তারপরই বলা উচিত ছিলো বন্ধুদের ।
সূর্য ডুবে ডুবে এই সময় , ঘরে ফিরতে হবে সবারই। জামানকে বকতে বকতে সবাই যখন আশা ছেড়ে ফিরে যাবে ঠিক সেই সময় আকাশের মায়াবী মন খারাপ করা লাল আলোতে নীল ফ্রগ পরা এক কিশোরী বারান্দার দরজা খুলে ঝুলানো কাপড়গুলো ঘরে ফিরিয়ে নিতে বারান্দায় আসলো।
সবাই কেমন যেনো থমকে দাঁড়ালো, তাদের বুকের স্পন্দন বোধহয় ‌অনন্তকালের জন্য থেমে গেলো। রাস্তায় দাঁড়ানো ছয় কিশোরের দিকে এক ঝলক তকিয়ে কিশোরিটি ঘরে  চলে  গেলো ।মেয়েটি চলে যাবার পরও সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।
তারপর এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো তাদের বন্ধুত্বের জীবনে। কেউ কারো কাছ থেকে বিদায় না নিয়েই চুপচাপ যে যার মতে বাড়ি ফিরে গেলো।
সারারাত করো চোখেই বোধহয় ঘুম ছিলোনা  সেদিন। নীল ফ্রগ পরা  সেই কিশোরীর এক ঝলক চাহনি সারারাত ধরে তাদের বিরক্ত করেছে, একবারের জন্য ঘুমোতে দেয়নি কাউকে। 

খুব সকালে মাত্র চারিদিকে তখন মাত্র আলো ফুটছে, শাকিল সেই বাসার উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে আছে, এমন ভাব করছে সে সকালে ব্যায়াম করছে। কিছুক্ষণ পর পর আঁড় চোখে দোতালার জানালা আর বারান্দার দিকে তাকাচ্ছে চাতক পাখির মতো.
কিছুক্ষণ পরই কামরুল এসে হাজির, শাকিলকে দেখে সে খুবই আশ্চর্য আর হতাশ হয়ে গেলো, 
বললো- সকালে হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো , আমি প্রায়ই হাঁটি, তোদের বলা হয়নি কখনো, তোদের তো আবার সকালে ঘুমই ভাঙে না। কামরুলের নির্দ্ধিধায় বলা মিথ্যে কথা শাকিল বুঝতে পেরেও কিছুই বললো না
উল্টো বললো- ঠিকই বলেছিস, আমি প্রায় সকালেই হাঁটি, ওদের বলিনি, এখন থেকে তুই আর আমি হাঁটবো নিয়মিত। 
কিছুক্ষণের মাঝেই মিল্টন , হারুন, জামান, জুয়েল সেই একই ভংগিতে হাঁটতে হাঁটতে হাজির।সবাই এমন একটা ভাব ধরলো যেনো প্রতিদিনই খুব ভোরে তারা হাঁটতে বের হয়। তারা সবাই সবার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো সারারাত কেউই ঘুমায়নি, 
সবার চোখের নিচে একদিনেই অঘুমের কালো দাগ ।
জামান বন্ধুত্বের কথা ভুলে লজ্জাহীন ভাবে বলেই ফেললো
-তোরা সবাই সকাল সকাল এখানে কেনো এসেছিস আমি বুঝতে পেরেছি। দেখ শিউলির খবর আমি প্রথম এনেছি তাই শিউলির দিকে তোরা আর নজর দিস না, আমি প্রথম বুকড করলাম।ওর সাথে আমার প্রেমটা হয়ে যাবে দেখিস।
তারা বাকি সবাই হতাশা, বিরক্ত আর কষ্ট নিয়ে প্রায় একসাথেই বলে উঠলো,
শিউলি তোর প্রেমে পড়তে ঠেকেছে।
জামানের গলার জোড় কমে গেলো হঠাৎ করেই। সে মিনমিন কন্ঠে বললো -  না পড়লে তোদের কি?
জুয়েল বললো- শোন একটা কথা আছে না, মিলে মিশে করি কাজ - হারি জিতি নাই লজ্জা,
কামরুল সাথে সাথে বলে উঠল- নাই লজ্জা না হবে নাহি লাজ।
মিল্টন বললো ঐ একই কথা, আসল কথা হলো আমরা বন্ধু, যা করার এক সাথেই করবো। 
হারুন সাথে সাথে বলে উঠলো - তোরা সবাই দেখছি বেকুবের মতো আচরন করছিস এক মেয়ের জন্য। একজন মেয়ে কি ছয়জনের সাথে প্রেম করবে? 
জামান আবারো বললো - শুধু আমিই প্রেম করবো। 
সবাই হতাশ ও অভিমান নিয়ে জামানের দিকে তাকালো,
জামান কিছুটা বিব্রত হয়ে গেলো সবার দৃষ্টিতে,
তারপর খুব গম্ভীর কন্ঠে বললো - যা বন্ধুদের জন্য আমার প্রেম সেক্রিফাইস করে দিলাম,
মনে রাখিস সারাজীবন।
সবাই যেনো একটু হাঁপ ছাড়লো।
সবাই মিলে সেই সকালে ওয়াসা মাঠে চলে গেলো
খালি পেটে সিগারেট টানতে টানতে 
তারা সবাই নির্ধিদ্বায় স্বীকারাক্তি দিলো পরস্পরের প্রতি,
&#039;আমরা সবাই শিউলির প্রেমে পড়েছি,
একেবারে সত্যিকারের প্রেম&#039;।
মিল্টন বললো -চল আমরা আঙুল কেটে রক্তের শপথ নেই শিউলির ব্যাপারে।

তারপরই ছয় কিশোর বন্ধু নিজেদের আঙুল কেটে রক্ত ছুঁয়ে শপথ নিলো,
 শপথের কথা ঠিক করলো কামরুল।
শপথ পড়ালো জামান
-আমাদের  রক্তের শপথ, আমাদের বন্ধুত্বের শপথ
আমাদের বন্ধুদের মধ্যে একজনকে অন্তত শিউলির প্রেমে সফল হতেই হবে।
আমাদের মধ্যে যদি একজন সফল হয়
বাকী পাঁচজন শিউলিকে ভাবী বলে মেনে নিবো&#039;।

তারপর সেদিনই কলেজ ফাঁকি দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা  আলোচনা করে ছয়জনে মিলে সিদ্ধান্ত নিলো - 
‘শিউলিদের বাসার বারান্দার উল্টোদিকের রাস্তায় ছয়জন ছয়দিন আলাদা ভাবে একা একা দাঁড়াবো,
আর বাকী একদিন শুক্রবার সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দিতে দাঁড়াবো&#039;।

সেদিন থেকেই তাদের বন্ধুদের  
ছয়জনের একসাথে দেখা সাক্ষাত আর আড্ডা কমে গেলো,
সপ্তাহে মাত্র একদিন শুক্রবার সবার সাথে সবার দেখা হতো।

বন্ধুরা  ছয়জন শুক্রবার যেদিন   একসাথে হতো - 
সেদিন বানিয়ে বানিয়ে সবাই ‌অনেক কথা বলতো,
কেউ বলতো
-জানিস শিউলি আজ আমার দিকে হাসি মুখে তাকিয়েছিলো,
কেউ বলতো - আজ শিউলির সাথে আমার কথা হয়েছে, আমার নাম জানতে চেয়েছে,
আরেকজন বলতো- আমার সিগারেট খাওয়ার স্টাইল শিউলির খুব পছন্দ, এই জন্য ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে দু’টো সিগারেট টেনেছি।
আরো কতো কি আবোল তাবোল গল্প বলতো তারা,অথচ তারা সবাই বুঝতো সবার সবই মিথ্যে, সবার সবই কল্পনা,
শিউলি তাদের কারো দিকে কখনো তাকিয়েও দেখতো না।

তবুও তারা বন্ধুরা পরস্পরের মিথ্যা কথাগুলো বিশ্বাস করে আনন্দ পেতো,
এমনকি মনে মনে হিংসেও করতো একজন আরেকজনকে যদি কোন ঘটনা একটুও সত্যি হয়ে থাকে।বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয় এভাবে তারা প্রায় চার বছর ধরে ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছে একজন কিশোরি থেকে নারী হয়ে উঠা শিউলি নামের একজনের প্রেমিক হওয়ার জন্য তাদের ছয় বন্ধুর কিশোর কাল আর যৌবনের শুরুটা ব্যায় করে দিচ্ছে অনায়াসে, কোন ক্লান্তি নেই। প্রচন্ড একাগ্রতা সহ লেগে আছে ছয়জনই।

হঠাৎ এক বুধবার সেই বাড়ি আলোক সজ্জায় সাঁজলো, ১০৭ নং এর পুরো গলিই যেনো আলোয় আলোকিত,
তারপর শুক্রবার সেই দেতালা বাড়ির দরজা জানালা পার হয়ে ভেসে আসা সানাইয়ের নির্মম সুরে ছয় বন্ধুর বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে ছয় বন্ধু দোতালা বাড়ির উল্টোদিকের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে একটার পর একটা সিগারেট পুড়াতে পুড়াতে দাঁড়িয়ে শিউলিকে  চলে যেতে দেখলো বিয়ের শাড়িতে, অসংখ্য রক্তাত ফুলে সাঁজানো একটি গাড়িতে চড়ে ।শিউলি ১০৭ নং গলির ছেড়ে চলে গেলো তার বরের বাড়িতে তাদের ছয় বন্ধুর জীবনের প্রায় চার বছর নিয়ে।

সেদিন তাদের ছয় বন্ধুরই নিজস্ব একটা আকাশ হারানোর মতো মন খারাপ হয়েছিলো । তারা সারা রাত ওয়াসার মাঠে বসেই তাদের হারানো আকাশ খুঁজেছে মাটিতে শুয়ে মেঘে আর চাঁদের দিকে তাকিয়ে।
সেই রাতে তারা একজনও বাড়ি ফিরেনি।
একটার পর একটা সিগারেট টেনেছে,
দুঃখে গাঁজাও টেনেছে জীবনে প্রথমবারের মতো। অদ্ভুতভাবে সেই বিবশ সারারাত তারা একজনও একটি কথাও বলিনি , এমন কি শিউলির নামটুকুও না! অচেনা এক কষ্ট, 
কাউকে বলতে না পারা এক অ‌পরিচিত লজ্জা, আর দমবন্ধ হয়ে যাওয়া এক জংলী হাহাকারে তারা ছয় বন্ধু আর বাকি জীবন কখনোই গলির দোতালা বাড়িটির দিকে একবারও তাকাইনি।

সবারই ঘোর ভাঙলো গাড়ি যখন 
আটাশ বছর পর ওয়াসা গলিতে এসে থামলো।রাত প্রায় বারোটা বেজে গেছে।
রাতের আকাশে আজ পুরো চাঁদ জ্বলছে, সারা মহল্লাই যেনো আলোতে ভেসে যাচ্ছে যেভাবে সেদিন ভেসে  গিয়েছিলো শিউলির বিয়ের আলোর স্বজ্জায়।
ঢাকা শহরের যাত্রাবাড়ীর ওয়াসার ১০৭ নং গলিতে প্রায় পঞ্চাশ বছরের যৌবনের পড়তি বেলার ছয় পুরুষ একটি পুরোনো দোতলা বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে একসাথে সিগারেট টানছে,
আর সেই বাড়ির বারান্দার দিকে তাকিয়ে তারা কি যেনো ভাবছে সবাই!

দূর থেকে দেখলে মনে হবে ছয়টি সিগারেটর আগুন যেনো বাতাসে জোনাকির মত জ্বলছে আর নিভছে।ছয় বন্ধুর সবাই মিথ্যে চেষ্টা করছে সেদিনকার সেই কষ্ট, লজ্জা আর হাহাকার যেভাবেই হোক আজ এখানেই পুড়িয়ে রেখে যাবে, আর বুকের ভিতর টানবেনা তারা এই ‌অদৃশ্য দহনের আগুন,
বুকের সব আগুন যে ভাবেই হোক পুড়িয়ে ছাই করে ফেলবে আজই।

হারুনের গাড়িতেই ফিরছে সবাই যার যার ঠিকানায়,
সবাই এমন ভাব ধরেছে আটাশ বছর ধরে তাদের বুকের ভিতরের গোপনে জমা এক অক্ষমতা আর মরা মনের ছাই রেখে আসতে পেরেছে তাদের কল্পনার প্রেমিকা শিউলির বাড়ির উল্টোদিকে।

ছয় বন্ধু ‌অনেকদিন পর আজ আবার ‌অঘুমে পার করছে দীর্ঘ এক রাত আলাদা আলাদা বাড়িতে আর ভাবছে - যদি কোন একদিন তার সিগারেটের পোড়া এই ছাইটুকুও অন্তত শিউলির চোখে পড়তো। যদি একবার শিউলির চোখে পড়তো।
——
রশিদ হারুন-
মন্ট্রিয়াল, কানাডা
১১/১২/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207969/</link>
				<pubDate>Mon, 11 Dec 2023 19:06:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছয় বন্ধু প্রেমের ডাইরী (গল্প)<br />
——————————-<br />
বেলী রোডের বিখ্যাত একটি কফি হাউজে ছয়জন পড়তি বেলার যৌবনের পুরুষ বসে কফি খাচ্ছে আর গল্প করছে। বয়স সবারই পঞ্চাশের কিছুটা কম বেশি। বাহির থেকে যে কেউ দেখলেই ভাববে মানুষগুলো বোধহয় প্রায়ই এভাবে আড্ডা মারে, গল্প করে। বাস্তবতা হচ্ছে আজ প্রায় পঁচিশ বছর পর ছয় বন্ধু একসাথে হয়েছে। একজন বাদে বাকি সবাই বিভি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207969"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207969/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a84eb5c92189ed4c069278bd61f58771</guid>
				<title>নীলা’পা
———
বিশ বছর পর বিদেশ থেকে এসে
আমরা যেখানে ভাড়া বাড়িতে থাকতাম
সেই মহল্লায় ফিরলাম পুরনো বন্ধুদের খোঁজে।
সেই বাড়িরই লাগোয়া রাস্তায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে মারতে
তোমাকে দেখলাম নীলা’পা।

তোমাদের দোতলা বাড়ির আস্তর খসে পড়া দেয়ালের রং ঝলসে যাওয়া গ্রীল দেওয়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে তুমি রাস্তার ফেরিওয়ালার সাথে দরদাম করছ।
পাচঁ টাকা কমাতে বারবার অনুরোধ করছ,
কিন্তু নাছোড় ফেরিওয়ালা কমাবেই না।

সত্যি  কী তোমাকে দেখলাম!
একটা সময় টানটান ফর্সা শরীর ছিল তোমার,
মহল্লার সবচেয়ে বেশি লম্বা মেয়েটাও ছিলে তুমি;
অথচ এখন অনেকটা কুঁজো হয়ে গেছ মনে হলো বয়সের তুলনায়,
শরীরও অনেক ভারী হয়ে গেছে তোমার ।
মুখে মেসতার কালো দাগ আর কুচকানো কপাল দেখে
তোমাকে আর তোমাদের আস্তর খসে পড়া,
রঙ ঝলসে যাওয়া বাড়িটা একই রকম দেখতে লাগছে,
বাড়িটার মতো তোমাকেও যত্নহীন মনে হলো অনেকদিন ধরে।
আমাকে দেখে তুমি কি সত্যি চিনতে পারনি,
নাকি চিনেও না চেনার ভান করলে?

মহল্লার বন্ধুদের কাছে শুনলাম, এখনো বিয়েই করোনি তুমি,
একা একা থাক দোতালায়,
তোমার বাবা-মা মারা গেছেন কয় বছর হলো?
বিয়ে করলে না কেনো!

একসময় তোমার এমন দিন ছিল,
আশেপাশে সব পাড়ার ছেলেরা কতো যে তোমার জন্য পাগলামী করতো,
অথচ  তুমি পাত্তাই দিতে না কখনো তাদের।
শুনতাম ‌অনেক ভালো ভালো বিয়ের প্রস্তাবও আসতো,
তুমি, কোন একটা খুঁত বের করে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিতে ‌অনায়াসে।

নীলা’পা,
কী চেয়েছিলে তুমি?
কোনো এক রাজপুত্র তোমাকে নিতে আসবে?
কী পেলে সারাজীবন একা থেকে,
অথচ তোমার প্রত্যাখ্যানে মহল্লার বাদল ভাই গলায় ফাঁস দিলো!
আহা সে কী ভয়ংকর দেখতে লেগেছিলো সেদিনের ঝুলন্ত বাদল ভাইকে,
জিহ্বা বের হয়ে লালা ঝরছিলো।
সেই দৃশ্য দেখে আমি অনেকদিন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি।

নীলা’পা,
তোমাদের নীচতলায় ভাড়া থাকতাম বলে,
কাউকে পাত্তা না দিলেও
আমাকে দিয়ে অনেক ফুটফরমাস খাটাতে,
দোকান থেকে এটা সেটা কিনতে বারবার পাঠাতে।

কতো বড় ছিলে তুমি আমার থেকে? 
চার পাঁচ বছরের বেশি হবে না।
কিসের মোহে যেন
তোমার কাজ করে দেবার জন্য 
সুযোগ পেলেই তোমার আশপাশে ঘুরঘুর করতাম।

একদিন না বুঝেই জানতে চেয়েছিলাম,
তোমার নাকি বিয়ে?
আমার আজও মনে আছে তোমার সেই উত্তর,
কী রকম ভয়ংকর উত্তর ছিল সেটা আমার জন্য,
তুমি বুঝতেই পারনি!
“ তুই আরেকটু বড়ো হ, 
তোকেই একদিন বিয়ে করবো।&quot;

নীলা’পা,
আমি ভয় পেয়েছিলাম সেই কথায়,
সেই বারও আমি অঘুমে ছিলাম অনেকদিন।
তারপর থেকে তোমাকে দেখলেই আমার অস্থিরতা বেড়ে যেত।
কমিয়ে দিয়েছিলাম তোমাদের দোতলায় ওঠা,
অথচ সারাদিন তোমার কথাই ভাবতাম।
বন্ধুদের কাউকেই বলতে পারিনি এই গোপন অসুখের খবর।

তারপর যখন কলেজ পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দিনরাত পড়ছি,
তুমি একদিন ঠিক সন্ধ্যে বেলা আমাকে ডেকে নিলে ছাদে, 
সিঁড়ির ঘরে,
আচমকা আমাকে জড়িয়ে ধরে বললে,
“ চল পালিয়ে যাই, বিয়ে করবো তোকে।&quot;
আমার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছিলো তখন,
ভয়ে, নাকি জীবনে প্রথম কোন নারীর স্পর্শে 
আজও বুঝতে পারিনি।
আমি শুধু বলেছিলাম,
“নীলা’পা, 
আমার অনেক পড়া বাকি
বাবা আমাকে এখনই খুঁজবে।&quot;

কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে এসেছিলাম সেদিন।
আর দেখা হয়নি তোমার সাথে কোনোদিন,
কিছুদিন পরই বাসা বদল করে অন্য শহরে চলে গিয়েছিলাম।
বিদায় নেবার সময় তোমাকে বলে যাবার জন্য কতো চেষ্টাই না   করেছিলাম,
তবুও দেখা দিলে না একবারের  জন্য।
কষ্ট পেয়েছিলে
না অপমান বোধ করেছিলে
আমি আজও বুঝিনি?
নাকি শুধু আমাকে নিয়ে একটু দুষ্টুমি করেছিলে?
“নীলা’পা বলে একবার ডাকতে গিয়েও ডাকলাম না,
যদি আসলেই না চিনে থাকো।

“নীলা’পা
সেই দিন থেকে আমার নিজের উপর প্রচণ্ড রাগ আর অভিমান হতো,
আমার বুকের আস্তরও প্রতিনিয়ত খসে পড়ে তোমার কথা ভাবতেই;
কেন আমি তোমার চেয়ে বয়সে বড়ো হলাম না।
সেদিন সেই সিঁড়ির ঘরে সাহস করে বললেই পারতাম,
“ঠিক আছে চল পালিয়ে যাই,
তোমাকেই বিয়ে করবো”।

দেশের কতো কিছু বদলে গেলো সেদিন থেকে,
রাষ্ট্র ক্ষমতা বদল হলো কয়েকবার,
মুদ্রাস্ফীতি ‌অনেক বেড়েছে,
ঢাকা শহর চারদিকে বাড়ছে,
আমার শরীর আগের চেয়ে তিন ইঞ্চি লম্বা হয়েছে,
শুধু আমার বয়স তোমার চেয়ে একটুও বাড়েনি বলে-
আমার আজও বিয়ে করা হয়ে উঠেনি।

“নীলা’পা
কেনো আমি তোমার চেয়ে বয়সে বড় হলাম না।
——————
র শি দ  হা রু ন
কাব্যগ্রন্থ- বিছানায় পুড়ে আমার মধ্যবিত্ত মুখোঁশ 
২৩/০৭/২০২২</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207940/</link>
				<pubDate>Sun, 10 Dec 2023 21:40:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নীলা’পা<br />
———<br />
বিশ বছর পর বিদেশ থেকে এসে<br />
আমরা যেখানে ভাড়া বাড়িতে থাকতাম<br />
সেই মহল্লায় ফিরলাম পুরনো বন্ধুদের খোঁজে।<br />
সেই বাড়িরই লাগোয়া রাস্তায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে মারতে<br />
তোমাকে দেখলাম নীলা’পা।</p>
<p>তোমাদের দোতলা বাড়ির আস্তর খসে পড়া দেয়ালের রং ঝলসে যাওয়া গ্রীল দেওয়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে তুমি রাস্তার ফেরিওয়ালার সাথে দরদাম করছ।<br />
পাচঁ টাকা কমাতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207940"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207940/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">df735d866fd2b64d1a9352d117d7bcd9</guid>
				<title>মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে
——————-
মধ্যবিত্ত বেঁচে আছে
মধ্যবিত্ত সুখে আছে
মধ্যবিত্তের ঘুম ভাঙে
মধ্যবিত্ত আতংকে থাকে 
মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে
স্বপ্ন মধ্যবিত্তকে দেখে না!

মধ্যবিত্তের বিত্ত নেই
মধ্যবিত্তের মুখোশ আছে
বিত্তের মুখোশের ওজন বাড়ে
মধ্যবিত্তের শরীরের ওজন কমে
মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে
স্বপ্ন মধ্যবিত্তকে দেখে না।

মধ্যবিত্ত অভিনয় জানে
মধ্যবিত্ত ভাব জানে
মধ্যবিত্ত চুপ থাকে
মধ্যবিত্ত বুকে কথা বলে 
মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে
স্বপ্ন মধ্যবিত্তকে দেখে না। 

মধ্যবিত্তের অহং বেশি
মধ্যবিত্ত চাকরি করে
মধ্যবিত্তের সেভিংস কম
মধ্যবিত্ত হাসপাতাল ভয় পায়
মধ্যবিত্ত ঘরকে  হাসপাতাল বানায়
মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে
স্বপ্ন মধ্যবিত্তকে দেখে না! 

মধ্যবিত্ত কম খায়
মধ্যবিত্ত ভয় পায়
মধ্যবিত্ত বেঁচে থাকে
মধ্যবিত্ত প্রতিদিন মরে
মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে
স্বপ্ন মধ্যবিত্তকে দেখে না।
————
র শি দ  হা রু ন
মন্ট্রিয়াল, কানাডা
০৮/১২/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207891/</link>
				<pubDate>Sat, 09 Dec 2023 06:27:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে<br />
——————-<br />
মধ্যবিত্ত বেঁচে আছে<br />
মধ্যবিত্ত সুখে আছে<br />
মধ্যবিত্তের ঘুম ভাঙে<br />
মধ্যবিত্ত আতংকে থাকে<br />
মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে<br />
স্বপ্ন মধ্যবিত্তকে দেখে না!</p>
<p>মধ্যবিত্তের বিত্ত নেই<br />
মধ্যবিত্তের মুখোশ আছে<br />
বিত্তের মুখোশের ওজন বাড়ে<br />
মধ্যবিত্তের শরীরের ওজন কমে<br />
মধ্যবিত্ত স্বপ্ন দেখে<br />
স্বপ্ন মধ্যবিত্তকে দেখে না।</p>
<p>মধ্যবি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207891"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207891/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fdfc5c8a265b214fa92084eb8e602a56</guid>
				<title>একান্নটি মোমবাতি
———————
এবার জন্মদিনে কেকের উপর আমার জন্য একান্নটি মোমবাতি জ্বালিয়েছিল পরিবার আর বন্ধুরা,
ফুঁ দিয়ে সেগুলো নিভাতে নিভাতে আমার তো মুখে ব্যথা হয়ে গিয়েছিল । 
সবাই সেকি হাসাহাসি করল,
খুবই মজা পাচ্ছিলো সবাই 
যখন এক ফুঁতে কোন কোন মোমবাতি নিভতো না।

এক বন্ধু একতোড়া গোলাপ ফুল এনেছিল,
বউ খুব যত্ন করে রাখল  ফুলদানিতে।
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম
কয়েকটা গোলাপ কালো হয়ে গেছে,
আর ছোট ছোট মোমবাতিগুলোর অনেকগুলোই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে টেবিলে,
কয়েকটা ভেঙে কয়েকটুকরো হয়ে আছে।

কেউ দেখার আগেই আমি ভেঙে যাওয়া মোমবাতিগুলো পরিষ্কার করে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে গ্যারেজে নামলাম,
হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেলো!

ভেঙে যাওয়া মোমবাতিগুলো ফেলে দিতে গিয়ে আমি হঠাৎ কেন বিষণ্ণ হলাম,
আমার হাত কেন কাঁপলো,
আমার বুক থেকে তীব্র গরম বাতাস কেন বের হলো!

আমি হয়তো জানি
অথবা জেনেও নাজানার ভান করে আছি নিজের সাথেই,
একদিন না একদিন সবগুলো মোমবাতি পুড়বেই
না হয় ভেঙে যাবে ফেলে দেবার জন্য।

গ্যারেজে শুয়ে থাকা বুড়ো কুকুরটি উঠে এসে আমার গা ঘেসে আমার কিছু বিষণ্ণতা ভাগ করে নিতে চাইল।

আমার একান্নতম জন্মদিনে একান্নটি মোমবাতি জ্বলেছিল,
আজ সেগুলোর অনেকগুলো ডাস্টবিনে।
———————-
র শি দ  হা রু ন
২৯/১১/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207618/</link>
				<pubDate>Thu, 30 Nov 2023 03:59:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একান্নটি মোমবাতি<br />
———————<br />
এবার জন্মদিনে কেকের উপর আমার জন্য একান্নটি মোমবাতি জ্বালিয়েছিল পরিবার আর বন্ধুরা,<br />
ফুঁ দিয়ে সেগুলো নিভাতে নিভাতে আমার তো মুখে ব্যথা হয়ে গিয়েছিল ।<br />
সবাই সেকি হাসাহাসি করল,<br />
খুবই মজা পাচ্ছিলো সবাই<br />
যখন এক ফুঁতে কোন কোন মোমবাতি নিভতো না।</p>
<p>এক বন্ধু একতোড়া গোলাপ ফুল এনেছিল,<br />
বউ খুব যত্ন করে রাখল  ফুলদানিত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207618"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207618/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f8357c7e1a57e382db1c96923b54606d</guid>
				<title>সমাজ বিজ্ঞান 
—————
“স্যার, একটা চাকুরী চাই”

এই বিরক্তিকর কথাটা আপনাদের বলতে বলতে আমি খুবই লজ্জিত।
চরম ভাবে লজ্জিত।

স্যার, 
আমি সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স- মাস্টারস,
দেখুন অরজিন্যালের সাথে আমার কাছে প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড স্যারদের সত্যায়িত কপিও আছে,
একটা চারিত্রক প্রশংসা পত্রও আছে,
আমার চরিত্র ভালো 
আর আমি কখনোই কোন রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ড করিনি।

স্যার,
একটা চাকুরী দেন 
পাঁচ-ছ বছর হলো লেখা পড়া শেষ করে শুধুই আবেদনের পর আবেদন করছি,
চাকুরী হচ্ছে না!
চাকুরীর বাজারে নিজেকে প্রতিদিন টানতে টানতে
আমারও শক্তি ফুরিয়ে এসেছে,
তাই আজ সোজা আপনার কাছেই চলে এসেছি।

স্যার,
সমাজ বিজ্ঞানের সব ভুলে গেছি 
‘সমাজ’ বানানও ভুলতে বসেছি
সমাজ থাকলে আমি কি আর বেকার থাকতাম?

স্যার, 
সমাজ কাকে বলে?

————————
র শি দ  হা রু ন
২৬/১১/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207559/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Nov 2023 04:41:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমাজ বিজ্ঞান<br />
—————<br />
“স্যার, একটা চাকুরী চাই”</p>
<p>এই বিরক্তিকর কথাটা আপনাদের বলতে বলতে আমি খুবই লজ্জিত।<br />
চরম ভাবে লজ্জিত।</p>
<p>স্যার,<br />
আমি সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স- মাস্টারস,<br />
দেখুন অরজিন্যালের সাথে আমার কাছে প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড স্যারদের সত্যায়িত কপিও আছে,<br />
একটা চারিত্রক প্রশংসা পত্রও আছে,<br />
আমার চরিত্র ভালো<br />
আর আমি কখনোই কোন রাষ্ট্র বিরোধী কর্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207559"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207559/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7d224b7820f4c47af6974f79166f55eb</guid>
				<title>নেতা’ আপনাকেই বলছি
——————————

প্রিয় নেতা,
আমার বিপ্লবী অভিবাদন নিবেন।
আপনাকে আমি এখন প্রায়ই টেলিভিশন আর পত্রিকায় দেখি।
আপনার স্বাস্হ্য আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।
মুখের কালো দাগগুলো বোধ হয় এখন নাই।
আপনাকে যেহেতু আর রোঁদে পুড়তে হয়না, 
তাই আপনি দেখতে আরো সুন্দর হয়েছেন।

আপনার সাথে দেখা করার জন্য অনেক চেষ্টা করছি।
আপনার সরকারী বাসায় গিয়েছিলাম।
পুলিশ ঢুকতে দিলোনা।
ফোন করেছিলাম অনেকবার, 
আপনার পুরোনো নাম্বারে।
আপনার ব্যাক্তিগত সহকারী প্রতিবারই ফোন ধরে বলে-
“ আপনি পরে ফোন করুন, স্যার এখন মিটিং এ”।

আমি প্রতিবারই বলি-
“আমার নামটা বলবেন,
আমাকে যেন উনি এই নাম্বারে একটা ফোন দেন।
আমার খুব জরুরী দরকার।”

আপনার ফোন আর কখনোই আসলো না।
আপনাকে বোধহয় আমার নামটা বলেনি আপনার ব্যাক্তিগত সহকারী!!
বললে ,আপনি আমাকে নিশ্চয়ই ফোন করতেন।

আমি খুবই সমস্যায় পড়েছি।
‘বিপ্লব’ শব্দ’টি আমি প্রথমে আপনার মুখ থেকে শুনি।
তখন আমি কলেজে ১ম বর্ষে।
আপনি আমাদের ছাত্র সংসদের নেতা ছিলেন।
সবার নায়ক ছিলেন শুধু আপনার প্রতিবাদী কথার জন্য।
খুব সুন্দর ভাবে কথা বলতে পারতেন আপনি।
শুধু শুনতেই ইচ্ছে করতো।
আপনার চলাফেরা, কথাবার্তা, সবই ছিলো আমাদের আদর্শ।
আপনার আপোষহীন চরিত্র আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

আপনি আমাকে যে ‘বিপ্লব’ শিখিয়েছিলেন-
সেখানে ছিলো শুধু সমাজ পরিবর্তনের কথা।
সম অধিকারের কথা,
ধর্মনিরপক্ষ রাষ্ট্রর কথা,
ক্ষধার্ত মানুষের জন্য খাবারের গল্প,
‘মানুষ’ এর জন্য মানুষের ত্যাগের কথা।
আহা শুধু শুনতেই ইচ্ছে করতো।
নিজেকে তখন মনে হতো চরম ‘বিপ্লবী’।

আপনার হয়তো মন নেই-
আমি আমার অসুস্হ বিধবা ‘মা’এর চিকিৎসার টাকা আপনার ‘বিপ্লবী ফান্ডে’ দিয়েছিলাম।
আপনি তখন আমাকে দেখিয়ে সবাইকে বলেছিলেন,
“ ওর দিকে তাকাও, 
ও আজ আমাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকলো।
দেশ হলো আসল মা।
একজন ‘মা’ মরে গেলে কিছু হবে না,
কিন্ত্তু দেশ মরে গেলে সবার ‘মা’ মরে যাবে”।
তখন আমার গর্বে বুক ফুলে উঠেছিলো।

আমার ‘মা’ বিনা চিকিৎসায় ঠিকই মরে গিয়েছিলো।
কারোই কিছু হয়নি, 
শুধু কষ্ট পেয়ে চিৎকার কেঁদেছিলো আমার ছোট ভাই-বোন গুলো।
ওরাতো আর ‘বিপ্লব’ বুঝতো না।
আমারও কেমন যেনো কান্না পেয়েছিলো।
তবুও কাঁদিনি, যদি কেউ দেখে ফেলে,
আমি যে তখন চরম বিপ্লবী।

এই বিপ্লব বুকে নিয়ে সারাদিন আপনার সাথেই ছিলাম,
আপনার দেখানো রাস্তায় চলতে গিয়ে,
পুলিশ কেইস আর জেল জুলুমে লেখা পড়াটাও শেষ করতে পারলাম না।
জেলে বসেই শুনেছি আপনি সরকারী দলে যোগ দিয়েছেন,
আপনি এখন সরকারের বড় মন্ত্রী।

অনেক’দিন পর জেল থেকে বেড়িয়ে দেখি 
একজন ও অভ্যর্থনা জানতে জেল গেটে নেই।
কেউ চিনলো না আমাকে।
শুধু দরিদ্র ভাই-বোন গুলো বুকে জড়িয়ে ধরেছিলো।

আপনাকে আমার জরুরী দরকার শুধু 
একটি কথা জানার জন্য-
আপনি আমাকে যে বলেছিলেন,
“একজন ‘মা’ মরে গেলে কিছু হবে না,
কিন্ত্তু দেশ মরে গেলে সবার ‘মা’ মরে যাবে”।
আমার যে এখন সারাদিন মা’র কথাই মনে পড়ে।
যে’দিন পত্রিকায় আপনার মা’য়ের সাথে সুন্দর হাসিখুসি একটা ছবি দেখলাম-
সে’দিন আমার মা’র কথা বেশি মনে পড়লো।
আচ্ছা বলুনতো,-
‘বিপ্লব’ কথার অর্থ কি বদলে গেছে
আমি যখন জেলে ছিলাম?”
আমার খুব সন্দেহ হয় আমি বিপ্লবী হতে পারিনি।
আপনি যে ভাবে বলেছিলেন।

নেতা,
আমার না সারাদিন শুধু মা’র কথাই মনে পড়ে।
“বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক”
——————————————
কাব্যগ্রন্থ- সময় ভেসে যায় বৃষ্টির জলে
কবি-রশিদ হারুন
২১/০৯/২০১৮</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207496/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Nov 2023 18:50:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নেতা’ আপনাকেই বলছি<br />
——————————</p>
<p>প্রিয় নেতা,<br />
আমার বিপ্লবী অভিবাদন নিবেন।<br />
আপনাকে আমি এখন প্রায়ই টেলিভিশন আর পত্রিকায় দেখি।<br />
আপনার স্বাস্হ্য আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।<br />
মুখের কালো দাগগুলো বোধ হয় এখন নাই।<br />
আপনাকে যেহেতু আর রোঁদে পুড়তে হয়না,<br />
তাই আপনি দেখতে আরো সুন্দর হয়েছেন।</p>
<p>আপনার সাথে দেখা করার জন্য অনেক চে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207496"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207496/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">300634e954eeea375ee288f8510535d9</guid>
				<title>পিতৃঋণ -৯
—————
অনেকদিন ধরেই সকালে পত্রিকা পড়তে গেলে হঠাৎ হঠাৎ চশমাটা খুঁজে পাইনা!
সেদিন মা যেন নিশ্চিতভাবেই জানেন আজ আমি চশমা খুঁজে পাবোনা।
সাথে সাথে আলমারি খুলে অতি যত্ন করে মখমল কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা একটা চশমা বের করে দেন।
অনেক পুরোনো কালো ফ্রেমের একটি চশমা,
আমার বাবার চশমা।

আমি সেই চশমা দিয়ে চোখে প্রায় কিছুই দেখিনা, 
সব কেমন যেন অস্পষ্ট ছায়ার মতো মনে হয়।
তবুও প্রায় আধাঘন্টা যাবত খুব মনোযোগ দিয়ে পত্রিকা পড়ি 
-সব পাতা উল্টে পাল্টে।
আসলে পড়ি না, 
পড়ার অভিনয় করি।
মা পাশে বসে থেকে আমার পত্রিকা পড়া দেখেন খুব মনোযোগ দিয়ে,
আর পাহারা দেন যাতে আমার ভুলে বাবার চশমার কোনো ক্ষতি না হয়।

আমি জানি সেই সময় মায়ের চোখ ছলছল থাকে।
পত্রিকা পড়ার পর চশমাটা ফিরিয়ে দিলে 
-তখনই তা খুব যত্নে সেই মখমলের কাপড়ে জড়িয়ে আগের জায়গায় রেখে দেন।

বাবা মারা যাবার পর গত পনেরো বছর যাবত প্রায়ই মা আমার পড়ার চশমাটা সকালে কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে রাখেন,
মাঝে মাঝে আমিও ইচ্ছে করে মাকে ডেকে বলি,
-“মা, আমার চশমাটা খুঁজে পাচ্ছি না,
বাবার চশমটা একটু বের করে দাও।”

তখনই ছলছল চোখে এক অদ্ভুত উৎসাহে আমার মা তার মৃত স্বামীর চশমাটা বের করে দেন।
হয়তো, দেখতে চান সন্তানের চোখে সেই চশমাটা কেমন দেখায়!
বোধহয় বাবার ছায়া খোঁজে সেই চশমায়।

প্রতিবারই চশমাটা চোখ থেকে খুললে
আমার চোখ থেকে কেনো যে কয়েক ফোঁটা জল ঝরে পড়ে, বুঝিনা!
বুকটাও খালি খালি লাগে সে‌ই সময়!
আমি সেই জল মায়ের চোখ থেকে লুকিয়ে রাখি খুব স্মার্টভাবে,
শুধু বুকের ভিতরে চিৎকার করে নিঃশব্দে বলি,
-“বাবা আপনার চশমা আমাকে অভিনয় শিখিয়েছে!”
——————————
রশিদ হারুন
২৩/০৫/২০২০</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207423/</link>
				<pubDate>Thu, 23 Nov 2023 06:08:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পিতৃঋণ -৯<br />
—————<br />
অনেকদিন ধরেই সকালে পত্রিকা পড়তে গেলে হঠাৎ হঠাৎ চশমাটা খুঁজে পাইনা!<br />
সেদিন মা যেন নিশ্চিতভাবেই জানেন আজ আমি চশমা খুঁজে পাবোনা।<br />
সাথে সাথে আলমারি খুলে অতি যত্ন করে মখমল কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা একটা চশমা বের করে দেন।<br />
অনেক পুরোনো কালো ফ্রেমের একটি চশমা,<br />
আমার বাবার চশমা।</p>
<p>আমি সেই চশমা দিয়ে চোখে প্রায় কিছুই দেখিনা,<br />
সব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207423"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207423/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4335fb22849f3ed8cb3596c3407e7b98</guid>
				<title>পিতৃঋণ -৪
————-
ঘর থেকে বের হবার মুখে দরজার পাশেই একটা জুতার সেল্ফ।
সেখানে পনেরো বছরের পুরোনো বাটার একজোড়া কালো জুতা এখনো চকচক করে।
মা প্রতিদিন সকালে বাবার অফিসের জুতা ধুলো পরিষ্কার করে এখনো কালো রঙের পালিশে ঝকঝকে রাখেন-
যেন বাবা একটু পরই অফিসে যাবেন!!

মা বোধহয় ভুলে গেছেন,
-মৃত মানুষ কখনো অফিসে যায়না,
তাদের অফিসে বসার কোনো জায়গাও নেই,
তারা শুধু থাকে আপনজনেরই বুকে।

জুতার পালিশের রঙ ফুরিয়ে গেলেই 
আমি বাটার দোকান থেকে আবারও কিনে এনে রেখে দেই মার জন্য।

আমার অফিসে যাবার সময় মা প্রায়ই বাবার জুতা জোড়া এগিয়ে দিয়ে বলেন-
“দেখতো তোর পায়ে এখন হয় কিনা?”
আমি মাকে বুঝাতেই পারিনা আমার পা আর বড় হবেনা,
আমি যতই বড় হইনা কেনো 
-আমার পা বাবার পায়ের সমান কখনোই হবেনা!
———————————————
রশিদ হারুন
২৮/০৪/২০২০</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207366/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Nov 2023 04:07:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পিতৃঋণ -৪<br />
————-<br />
ঘর থেকে বের হবার মুখে দরজার পাশেই একটা জুতার সেল্ফ।<br />
সেখানে পনেরো বছরের পুরোনো বাটার একজোড়া কালো জুতা এখনো চকচক করে।<br />
মা প্রতিদিন সকালে বাবার অফিসের জুতা ধুলো পরিষ্কার করে এখনো কালো রঙের পালিশে ঝকঝকে রাখেন-<br />
যেন বাবা একটু পরই অফিসে যাবেন!!</p>
<p>মা বোধহয় ভুলে গেছেন,<br />
-মৃত মানুষ কখনো অফিসে যায়না,<br />
তাদের অফিসে বসার কোন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207366"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207366/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">980fcb1e189b7b2b5194c5419bd36dc2</guid>
				<title>ধার করা এক জীবন
——————-
সারাজীবন অন্য মানুষের জীবন ধার করে বেঁচে আছি!
আমার হাতের রেখায় ভিন্ন ভিন্ন মানুষের  রেখার ছাপ ভেসে বেড়ায়,
আমার পায়ে অচেনা কারো বেমানান জুতো. 
আমার চোখে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া অপরিচিত মানুষের চশমা,
আমার সারা শরীরে অন্য কারো পছন্দের কাপড়,
আমার মতো করে আমি কখনো কথা বলা শিখিনি।
আমার মুখে দিব্যি ফিট হয়ে যায় হরেক রকম মানুষের মুখ,
তাইতো আমার চালচলন,
কথাবার্তা,
ক্ষুধা,
স্বপ্ন,
মাথার চুলের স্টাইল
এমন কি আমার এই জীবন কখনোই আমার ছিলোনা।

এই ধার করা জীবনে শুধু একটা কাজই
নিজের জন্য করি,
মাঝে মাঝে নিজেকে খুঁজে বেড়াই।

ঢাকা শহরের অলিগলিতে নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে 
ইট পাথরের উঁচু বাড়ির ছাদ থেকে কখনো এক টুকরো ভেজা আকাশ,
একটা হলুদ ঘুড়ি,
একটা নিঃসঙ্গ ডাকবাক্স, 
একটা গরম রুটি,
একটা বিষণ্ণ চড়ুই পাখি,
প্রিয় মানুষ, 
কিছু বন্ধু, 
রাজপথ দাবড়ানো কোন স্লোগান, 
অথবা রাতের আকাশের চাঁদের ফকফকা আলো বুক পকেটে লুকিয়েছি।

খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ হঠাৎ দেখা হয়ে যায় নিজের সাথে একঝলক। 
কোন চৌরাস্তার মোরে,
মিছিলে,
মানুষের ভীরে,
বিষণ্ণ বিকেল বেলায় নির্জন কোন মাঠে
অথবা রাস্তায় ভেসে যাওয়া বৃষ্টির জলে ।

কখনোই নিজেকে আটকাতে পারিনা!
কোথায় থাকে?
কি করে?
সুখে আছে না দুঃখে?
জানা হলো না 
কাঁধে হাত রেখে একবারও গল্পও করা হয়নি আজও নিজের সাথে।

নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে প্রতিদিনই অন্য কারো মতোই আমারও বয়স বাড়ছে।
——————
র শি দ  হা রু ন
১৭/১১/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207275/</link>
				<pubDate>Sun, 19 Nov 2023 01:14:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ধার করা এক জীবন<br />
——————-<br />
সারাজীবন অন্য মানুষের জীবন ধার করে বেঁচে আছি!<br />
আমার হাতের রেখায় ভিন্ন ভিন্ন মানুষের  রেখার ছাপ ভেসে বেড়ায়,<br />
আমার পায়ে অচেনা কারো বেমানান জুতো.<br />
আমার চোখে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া অপরিচিত মানুষের চশমা,<br />
আমার সারা শরীরে অন্য কারো পছন্দের কাপড়,<br />
আমার মতো করে আমি কখনো কথা বলা শিখিনি।<br />
আমার মুখে দিব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207275"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207275/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">febee50a472a539099d385b2e5da487b</guid>
				<title>দোষ লেগেছে গোছালো জীবনে
- ————————-
মধ্যরাতে ঢলঢলে ভাসা চাঁদের আলোতে-
সংসারী ছায়াপড়া জীবন খুঁজতে গিয়ে,
যেদিন থেকে ঢাকা
শহরের সব অলি-গলির 
রাতের সব ল্যাম্পপোষ্টের সব বাতি 
আমি খুন  করিয়েছি গোপন আততায়ী দিয়ে।
সেদিন থেকেই দোষ লেগেছে আমার সংসারী গোছালো জীবনে।

গোছালো জীবন এখন আর আমার বুকে ধরে না।
দোষ লেগেছে,
দোষ লেগেছে-
রেশনের লাইনে দাড়িয়ে চাল ডালের কথা ভুলে-আমি বৃষ্টির ফোঁটা ব্যাগে ভরি।
চলন্ত রিকশা থেকে লাফ দিয়ে নেমে যাই মতিঝিলের শাপলা চত্বরে-
একটু জলে ভিজবো বলে।
দোয়েল চত্বরে হা করে বসে থাকি
সারাদিন -
দোয়েল উড়বে কখন সেই আশাতে।

দোষ লেগেছে, 
দোষ লেগেছে-
আমি ব্যস্ত রাস্তায় যখন তখন শুয়ে পড়ে আকাশ দেখি।
আমি ট্রাফিক সিগন্যালে ভিখারীর সাথে দাড়িয়ে পাল্লা দিয়ে ভিক্ষা করি।
আমি বাড়ির ঠিকানা ভুলে গোরস্থানে রাত কাটাই।
আমি সাম্যবাদীদের মিছিলের শ্লোগান শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ি-
তারপর প্রচন্ড মার খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকি।

আমি রাস্তা পার হতে গিয়ে হঠাৎ
কোনো চলন্ত নারীর চোখে হাহাকার  দেখে মাঝ রাস্তায় দাড়িয়ে থাকি অনন্তকাল-
পুরো শহর ‌অচল করে দেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য।

দোষ লেগেছে,
দোষ লেগেছে-
গভীর রাতে ছেলেধরা চাঁদের মন ভুলানো ফকফকা আলোতে- 
গোছালো আর অগোছালো জীবনের মীমাংসায় 
দৌড়াতে দৌড়াতে যখন শহরের দরজা খুলে যখন বের হয়ে আসি-
হেসে উঠি চিৎকার করে ঢাকা শহরকে ভয় দেখিয়ে।

বলে উঠি আমার বুকের ভিতরে-
“ যার বুকে জন্ম থেকে সন্ন্যাস ঘর বেঁধেছে-
সে কেমনে ছিলো এতোদিন এই গোছালো সংসারী জীবনে,
এতোদিন সে কেমনে ছিলো!!
আমি আর কখনোই ফিরবোনা এই শহরে”।
————————————
রশিদ হারুন
০৭/১২/২০১৯</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207160/</link>
				<pubDate>Thu, 16 Nov 2023 05:39:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দোষ লেগেছে গোছালো জীবনে<br />
&#8211; ————————-<br />
মধ্যরাতে ঢলঢলে ভাসা চাঁদের আলোতে-<br />
সংসারী ছায়াপড়া জীবন খুঁজতে গিয়ে,<br />
যেদিন থেকে ঢাকা<br />
শহরের সব অলি-গলির<br />
রাতের সব ল্যাম্পপোষ্টের সব বাতি<br />
আমি খুন  করিয়েছি গোপন আততায়ী দিয়ে।<br />
সেদিন থেকেই দোষ লেগেছে আমার সংসারী গোছালো জীবনে।</p>
<p>গোছালো জীবন এখন আর আমার বুকে ধরে না।<br />
দোষ লেগেছে,<br />
দোষ লেগেছে-<br />
রেশনের লাইন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207160"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207160/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">54400aec53311764efaaf30ea3f467e5</guid>
				<title>শরীরবিদ্যা
—————
শরীরবিদ্যা বইয়ের নবম অধ্যায়ে লেখা আছে,
“পঞ্চাশের পর থেকেই মানুষের বার্ধক্য শুরু,
পঞ্চাশ পার করে টের পেলাম
বুকের আকাশে এখনো সাদা বক উড়ে, 
 আজও জোয়ারের জলে ডুবে যায় বুকের জমিন,
তাইতো নিজের কাছেই জানতে চাই-
‘পঞ্চাশতো পার হলো!দিনকাল কেমন চলছে?
শরীরের পাতা ঝরে পড়ার আওয়াজ বাড়ছে
টের পাও?
মায়াভরা হাসিতে আমার মাথার ভিতরে নিজেকেই বললাম,
কী এমন বয়স হলো তোর! 
একটা টাটকা প্রেমের কবিতা লেখা এখনো বাকি,
চোখ কান খোলা রাখ,
বসন্ত আসছে, ছুঁয়ে দিতে হবে কিন্তু এবার;
ছুঁয়ে দেবার পর? 
দিন চলে যাবে
দিন চলে যাবে
দিন চলে যাবে
শরীরে ডুবন্ত সূর্যের ছায়া খেলবে।

যতই পাতা ঝরুক শরীরে,
একটা টাটকা প্রেমের কবিতা না লিখে 
আমি শরীরবিদ্যা বইয়ের নবম অধ্যায় আর পড়বো না।

————-
র শি দ  হা রু ন
১০/১১/২০২৩
মন্ট্রিয়াল , কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/207002/</link>
				<pubDate>Sun, 12 Nov 2023 04:09:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শরীরবিদ্যা<br />
—————<br />
শরীরবিদ্যা বইয়ের নবম অধ্যায়ে লেখা আছে,<br />
“পঞ্চাশের পর থেকেই মানুষের বার্ধক্য শুরু,<br />
পঞ্চাশ পার করে টের পেলাম<br />
বুকের আকাশে এখনো সাদা বক উড়ে,<br />
 আজও জোয়ারের জলে ডুবে যায় বুকের জমিন,<br />
তাইতো নিজের কাছেই জানতে চাই-<br />
‘পঞ্চাশতো পার হলো!দিনকাল কেমন চলছে?<br />
শরীরের পাতা ঝরে পড়ার আওয়াজ বাড়ছে<br />
টের পাও?<br />
মায়াভরা হাসিতে আমার মাথার ভিতরে নি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-207002"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/207002/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6499c509743d8a051c3607772878e999</guid>
				<title>উত্তরাধিকার
—————-
বাংলাবাজারের পুরোনো বইয়ের দোকান  থেকে কেনা সমরেশ মজুমদারের ‘উত্তরাধিকার’ বইয়ের  সাইত্রিশ নাম্বার পৃষ্ঠায় ছাপানো কালো অক্ষরের উপর  লালকালিতে গোটা গোটা করে হাতে লেখা ছিল-
&quot;আজকাল কার অভিশাপে তোমাকে লেখা আমার চিঠিগুলো আত্মহত্যা করে?

দশ বছর পর বুঝতে পেরেছি
বন্ধ ড্রয়ারে অবহেলায় ফেলে রেখে
চিঠিগুলোকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো!
যদি তুমি চিঠির উত্তর দিতে হয়তো চিঠিগুলো বেঁচে যেত।

এখনো সাদা কাগজে কালো কালিতে প্রচুর লিখতে হয়;
সেখানে শুধু সাদাকালো জীবনের হিসাব নিকাশ লিখি
চিঠি আর লিখা হয়নি কখনো।
তোমাকে লেখা আমার সবকয়টা চিঠির কসম খেয়ে বলছি,
আমি কখনোই মৃত চিঠির কবর জিয়ারতে তোমার দরজায় দাঁড়াবো না,
আমাকে কথা দাও
তোমাকে একটু আদর যত্নে রাখবে-
যে ভাবে আমি রাখতে চেয়েছিলাম দশ বছর আগে।&quot;

এই লাল কালির লেখকের কথা ভেবে আমার মন তীব্র খারাপ হয়ে গেল,
মানুষটি নারী না পুরুষ ভাবতে লাগলাম,
তারপর লাল কালিতে সেই লেখার নিচে লিখলাম,
&quot;আপনিও নিজের যত্ন নিবেন,
ভালো থাকবেন&quot;
————-
র শি দ  হা রু ন
০৮/১১/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/206898/</link>
				<pubDate>Thu, 09 Nov 2023 03:18:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উত্তরাধিকার<br />
—————-<br />
বাংলাবাজারের পুরোনো বইয়ের দোকান  থেকে কেনা সমরেশ মজুমদারের ‘উত্তরাধিকার’ বইয়ের  সাইত্রিশ নাম্বার পৃষ্ঠায় ছাপানো কালো অক্ষরের উপর  লালকালিতে গোটা গোটা করে হাতে লেখা ছিল-<br />
&#8220;আজকাল কার অভিশাপে তোমাকে লেখা আমার চিঠিগুলো আত্মহত্যা করে?</p>
<p>দশ বছর পর বুঝতে পেরেছি<br />
বন্ধ ড্রয়ারে অবহেলায় ফেলে রেখে<br />
চিঠিগুলোকে নির্মম ভাবে হত্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-206898"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/206898/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cf8779585ce59bed253180b11ef0fb41</guid>
				<title>একটা মানুষের জীবন চাই
————————-
ভুলে যাচ্ছি
সব ভুলে যাচ্ছি-
কবে মানুষ ছিলাম ভুলে যাচ্ছি,
কথা বলা ভুলে যাচ্ছি,
সোজা হয়ে দাঁড়াতে ভুলে যাচ্ছি,
অন্ধ সেজে থাকতে থাকতে জীবন দেখা ভুলে যাচ্ছি,
আয়নায় নিজের চোখে চোখ রাখা ভুলে যাচ্ছি,
‘ভালো আছি’ চেহারার মুখোঁশের ভারে আকাশ দেখা ভুলে যাচ্ছি।

তবুও আশা নিয়ে ঘুম ভাঙে,
অলিগলির দেয়াল কথা বলে উঠবে একদিন।
একদিন কোন এক যৌবন শহর জুড়ে দেয়ালকে কথা বলা শিখিয়ে যাবে,
সেদিন আমিও আয়নায় তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বলবো,
আমি মানুষ 
আমি মানুষ,
আমার একটা মানুষের জীবন চাই।

একদিন,
একদিন আমার ডান হাত তলোয়ারের মতো ধারালো হয়ে আকাশে উঠে যাবে
সেদিন,
সেদিন শহরের সমস্ত দেয়ালের সাথে 
বুকের সমস্ত বাতাস ছেড়ে আমিও গর্জন করে উঠবো,
বিপ্লব
বিপ্লব
বিপ্লব।
———-
র শি দ  হা রু ন
১৮/১০/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/206208/</link>
				<pubDate>Wed, 18 Oct 2023 06:24:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটা মানুষের জীবন চাই<br />
————————-<br />
ভুলে যাচ্ছি<br />
সব ভুলে যাচ্ছি-<br />
কবে মানুষ ছিলাম ভুলে যাচ্ছি,<br />
কথা বলা ভুলে যাচ্ছি,<br />
সোজা হয়ে দাঁড়াতে ভুলে যাচ্ছি,<br />
অন্ধ সেজে থাকতে থাকতে জীবন দেখা ভুলে যাচ্ছি,<br />
আয়নায় নিজের চোখে চোখ রাখা ভুলে যাচ্ছি,<br />
‘ভালো আছি’ চেহারার মুখোঁশের ভারে আকাশ দেখা ভুলে যাচ্ছি।</p>
<p>তবুও আশা নিয়ে ঘুম ভাঙে,<br />
অলিগলির দেয়াল কথা বলে উঠবে একদিন।<br />
একদি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-206208"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/206208/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d54efd0fba7848cb4f232d7c1c2bee7f</guid>
				<title>আমি একটা বহুরুপী
-----------------------
আমার ভিতরে একটা ‘হারামজাদা’ আছে
-এই দেশে মানুষ থাকে, 
সব শালা ইতর।

আমার ভিতরে একটা ‘কবি’ আছে
- আমি আকাশের গায়ে 
এক বিঘা জমিন কিনেছি, 
একদিন মেঘের ঘর বানাবো ।

আমার ভিতরে একটা ‘শিশু’ আছে
-‘বাবা’ আমাকে কোলে নিতে হবে কিন্ত্তু,
আমার হাটতে কষ্ট হয়।

আমার ভিতরে একটা ‘বাবা’ আছে
-মা’মনি, রাতে না খেয়ে ঘুমাতে নেই
এক চড়ুই সমান ওজন কমে যাবে।

আমার ভিতরে একটা ‘প্রেমিক’ আছে.
-মনোলীনা,
আমার অভিমানের অস্ত্রে একদিন তুমি খুন হবে,
সাবধানে বাড়ী যেও , 
ভালো থেকো। 

আমার ভিতরে একটা ‘মানুষ’ আছে
-বুঝে না বুঝে ছেলেটি একটা কথাই না হয় বলেছিলো,
তাই বলে একেবারে গুলি করে মেরে ফেলবেন,
আমি আর কখনোই কোনো মা’র চোখে  চোখ রাখতে পারবো না।

আমার ভিতরে একটা ‘বন্দী পাখি’ আছে
-পাখি তুই সুযোগ পেলেই কিন্ত্তু উড়াল দিস,
দোহাই তোর, পালিয়ে বাঁচিস।

আমার ভিতরে একটা ‘হাহাকার’ আছে,
-আমার গল্পটি ফুরালো,
তারপর সবাই সুখে শান্তিতে মিলেমিশে 
এই দেশে বসবাস করতে লাগলো
-------------------------------
রশিদ হারুন
০৩/১০/২০১৮</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205708/</link>
				<pubDate>Tue, 03 Oct 2023 22:19:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমি একটা বহুরুপী<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
আমার ভিতরে একটা ‘হারামজাদা’ আছে<br />
-এই দেশে মানুষ থাকে,<br />
সব শালা ইতর।</p>
<p>আমার ভিতরে একটা ‘কবি’ আছে<br />
&#8211; আমি আকাশের গায়ে<br />
এক বিঘা জমিন কিনেছি,<br />
একদিন মেঘের ঘর বানাবো ।</p>
<p>আমার ভিতরে একটা ‘শিশু’ আছে<br />
-‘বাবা’ আমাকে কোলে নিতে হবে কিন্ত্তু,<br />
আমার হাটতে কষ্ট হয়।</p>
<p>আমার ভিতরে একটা ‘বাবা’ আছে<br />
-মা’মনি, রাতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205708"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205708/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">744ce439d38f9a177660d7ccec917a8f</guid>
				<title>ভালোবাসা নিও সবার
—————————
বাবা,
যেদিন তোমার চাকরিটা চলে গিয়েছিল
দরিদ্রতাকে সেদিন আমি প্রথম দেখলাম আমাদের বাড়িতে অতিথি হিসাবে,
তখন আমার বয়স সাত কি আটের মাঝে,
দরিদ্রতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম মা আর তোমার ঠিক পিছনে ,
তখন সূর্য ডুবার সময়।
তোমাদের চোখে ভাসছিল জানালা দিয়ে আসা ডুবন্ত সূর্যের আলো,
আর দরিদ্রতার চোখে লজ্জার জল।

দরিদ্রতাকে তিন 
বছরে মাথায় দেখলাম
বিছানা বালিশ নিয়ে আমাদের বাড়িতে নিজের বাড়ি মনে করে থাকতে এসেছে। 
আমাকে আড়ালে ডেকে বললে,
‘কারো বাবাই চিরদিন থাকে না,
এখন থেকে আমি তোমাদের সংসারেই থাকবো।
বাবা,
তুমি একদিন শ্রেফ হারিয়ে গেলে,
আস্ত একটা মানুষ কিভাবে যে বাতাসে মিশে গেল!
পুলিশও কোনো কুল কিনারা করতে পারল না।
তুমি হারিয়ে যাওয়াতে দরিদ্রতার সাহস বেড়ে গেলো একদিনেই
সেদিন দারিদ্রতার কন্ঠে কোনো দরদই টের পেলেম না,
আর চোখে দেখলাম ভয়ংকর পরিহাসের হাসি।

বাবা,
তারপর থেকে দরিদ্রতা ‘নাই’ নামক এক ভয়ের গল্প চিৎকার করে শুনিয়েছে আমাদের  দিনরাত,
একদিন বাসায় খাবার নাই 
প্রায়ই মায়ের ঔষুধের টাকা নাই
মাসের শুরুতে বাড়ি ভাড়া জোগাড় করতে গিয়ে মায়ের রাতের ঘুম নাই
তোমার সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর ক্ষমতা তাদের মা’র নাই
ঈদে আমাদের ভাই বোনদের নতুন কাপড় পরার ক্ষমতা নাই।
আর দরিদ্রতার ভয়ংকর চেহারায় সারাদিন চুপ করে বসে থাকতো আমাদেরই অসহায়ত্বের ছায়া,
আর চোখে থাকতো মায়ের কান্নার জল।

বাবা,
মা আমাদের সব সময় বলে,
‘তোদের বাবা একদিন ফিরে আসবে,
আমাদের জন্য ফিরে আসবে।&#039;
মাঝে মাঝে আমরা দরিদ্রতার অস্তিত্ব ভুলে যেতাম মায়ের হাসি মুখ দেখলে 
শুধু মায়ের হাসি মুখ দেখলে।

বাবা,
একদিন তোমার পুরোনো একটা ডায়রী পেলাম আলমারিতে,
সেখানে শুধু প্রতিদিনের খরচের হিসাব,
মাসের বিশ তারিখ থেকেই খরচ ডায়রীর পাতা শূন্য হতে থাকে 
মাসের শেষের দিকে শুধু কলমের অস্থির কাটাকুটি,
ডায়রীর শেষ কয়েক পাতায় বিক্ষিপ্ত ভাবে লেখা ছিল,
‘চাকরিটা চলে গেলো,-আমার কি দোষ!
আমার আরো সাহস দরকার ছিল
-মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াবার সাহস,
অর্থের কষ্ট আর সহ্য হয় না,
একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে- ঠিক হয়ে যাবে‌ই।&#039;

বাবা,
তোমার ডায়রী পড়েই আমরা বুঝতে পারলাম,
আমাদের মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতেই হবে
তারপর থেকেই আমরা বদলে গেছি,
আমাদের সাহস বেড়ে গেছে
আমরা দরিদ্রতাকে আর একটুও ভয় পাই না
আমরাই দরিদ্রতাকে দেখলে এখন পরিহাসের হাসি দেই,
তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি দরিদ্রতাকে নিয়ে
ইদানিং আমাদের দেখলে‌ই দরিদ্রতা বিষণ্ণতায় ভুগে।

বাবা,
লজ্জা শরমে দরিদ্রতা একদিন আমাদের ঘর থেকে বের হয়ে যাবেই,
দরজা খোলা আছে,
তুমি বাড়ি ফিরে আসো,
ভালোবাসা নিয়ো সবার।
———————
র শি দ হা রু ন
০৩/১০/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205680/</link>
				<pubDate>Tue, 03 Oct 2023 06:43:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালোবাসা নিও সবার<br />
—————————<br />
বাবা,<br />
যেদিন তোমার চাকরিটা চলে গিয়েছিল<br />
দরিদ্রতাকে সেদিন আমি প্রথম দেখলাম আমাদের বাড়িতে অতিথি হিসাবে,<br />
তখন আমার বয়স সাত কি আটের মাঝে,<br />
দরিদ্রতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম মা আর তোমার ঠিক পিছনে ,<br />
তখন সূর্য ডুবার সময়।<br />
তোমাদের চোখে ভাসছিল জানালা দিয়ে আসা ডুবন্ত সূর্যের আলো,<br />
আর দরিদ্রতার চোখে লজ্জা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205680"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205680/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">59331e3bfa28a6a32eb97f8d2a58263a</guid>
				<title>আমার স্মরণসভা
——————-
প্রিয় ঢাকা শহর
মাত্র এই কয়েকদিনে আমাকে ভুলে গেলে!
সারাজীবনই তো তোমাকে দিয়েছিলাম,
আমার অভাবে অন্তত একটা স্মরণসভার আয়োজন করা উচিত তোমার,
আমাকে নিয়ে দু&#039;একটা স্মৃতিময় কথা বলুক দু&#039;একজন।

স্মরণসভার প্রধান অতিথি নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।
সকালের চায়ে চুমুক দিতে দিতে বারান্দার গ্রীলে বসে থাকা যে কাকটার সাথে প্রতিদিনই সুখ-দুখের গল্প করতাম 
আমাদের দু’জনের মাঝে খুব মিল ছিল-
আমরা দু’জনই ছিলাম একা,
সেই কাকটির চেয়ে বেশি আমাকে আর কে জানে?
কাকটাকে ডাকলেই আমার স্মরণসভার প্রধান অতিথি হয়ে আসবে।

আমি ভুলেই গিয়েছিলাম
একজন সভাপতি ছাড়া তো সভা চলবে না।
আমার ঘরের ভেন্টিলেটারে নির্জনে বাস করা বয়স্ক টিকটিকিটা রাতের পর রাত আমার খোঁজ রেখেছে,
প্রায়ই মাঝরাতে ভেন্টিলেটার থেকে মাথা বের উঁকি দিয়ে আমাকে দেখত- বেঁচে আছি কিনা,
আমি বেঁচে আছি সেটা আমাকেই জানান দিত- টিক্ টিক্ শব্দে,
রাতের বেলায় নিঃসঙ্গ মানুষের টিকটিকির চেয়ে বড় বন্ধু পৃথিবীতে নেই ।

চাঁদপুরে দাদার বাড়ির পাশ ঘেঁষে রেললাইনের উপর অলস বসে থাকা যে সাদাবকটা দেখে আমি সারাজীবন সাদাবক হতে চেয়েছি
সেই সাদাবকটাকে বিশেষ অতিথি হলে আমার ভালো লাগবে।
আমার একটা অনুরোধ রাখবে প্রিয় শহর- 
সাদাবকটাকে যেন স্মরণসভার ঠিক উপরের আকাশে পুরো সময়টুকু উড়ে বেড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়।
আমি নিশ্চিত
তুমি দেখবে বকটা বিদায়ের সময় আমার জন্য  অন্তত কিছু সাদা পালক তোমার শহরের আকাশে উড়িয়ে যাবেই, যাবে।

বৃষ্টির জলে আমি সারাজীবন ‌অসংখ্যবার খুন হয়েছি
শুধু বৃষ্টিই জানে আমার এই খুন হবার খবর।
আমার স্মরণসভায় যেন বৃষ্টির জলকে খবর দেওয়া হয়,
প্রিয় শহর সেটা বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে তোমাকে,
আমি বাজি ধরে বলতে পারি
আমার স্মরণে তোমার শহরের প্রতিটি অলিগলি সেদিন ঝুম বৃষ্টিতে খুন হবে।

প্রিয় ঢাকা শহর,
সেই স্মরণসভায় আমার আপনজন আর বন্ধুদেরও ডাকবে।
তাদের সবার হাতে আমার পক্ষ থেকে একটা লিফলেট দিবে,
সেখানে যেন লেখা থাকে,
“তোমাদের ছেড়ে আমি ভালো নেই!&quot;
সেই লিফলেটের লেখা পড়ে কেউ যদি গরম দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
প্রিয় শহর দয়া করে তুমি তাদের প্রত্যেককে আলাদা করে জানিয়ে দিও-
আমি যেখানেই থাকি
যতো দূরেই থাকি
তাদের এই দীর্ঘশ্বাসের গরম আঁচে আমারও বুক পুড়ে যায়।

প্রিয় ঢাকা শহর, 
তোমার কাছে আমার শেষ অনুরোধ,
এই স্মরণসভার আকাশে সেদিন যত কষ্ট আর হাহাকার জমবে,
সবটুকু কষ্ট আর হাহাকার তুমি চিঠির খামে ভরে
মনোলীনার কাছে পৌঁছে দিও।
আমি চাই
মনে প্রানে চাই
তারও মন খারাপ হোক সেই রাতে।

প্রিয় শহর,
কমসেকম একটি রাতে যেন আমার স্মরণে  মনোলীনার ঘরের বাতাসে ভেসে বেড়ায়
এক বুক কষ্ট আর হাহাকার।
—————-
র শি দ  হা রু ন
২৫/০৯/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205460/</link>
				<pubDate>Tue, 26 Sep 2023 05:17:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার স্মরণসভা<br />
——————-<br />
প্রিয় ঢাকা শহর<br />
মাত্র এই কয়েকদিনে আমাকে ভুলে গেলে!<br />
সারাজীবনই তো তোমাকে দিয়েছিলাম,<br />
আমার অভাবে অন্তত একটা স্মরণসভার আয়োজন করা উচিত তোমার,<br />
আমাকে নিয়ে দু&#8217;একটা স্মৃতিময় কথা বলুক দু&#8217;একজন।</p>
<p>স্মরণসভার প্রধান অতিথি নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।<br />
সকালের চায়ে চুমুক দিতে দিতে বারান্দার গ্রীলে বসে থাকা যে কাকটার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205460"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205460/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a58b5f9cd778bdb33c3a3090bcd91fc</guid>
				<title>কেন এমন হয়?
—————
জ্বল জ্বল বিকেলে বলা কওয়া নেই
হঠাৎ করেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো!
তুমি ভিজে একাকার,
চারিদিক হঠাৎ করেই মলিন হয়ে গেলো।
অথচ তুমি একই ভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে আছো একতলার রেলিংবিহীন ছাঁদের মাঝখানে,
যেনো জানতে এখনই বৃষ্টি ঝরবে তোমার জন্য
অথবা বৃষ্টি জানতো তুমি  তার জন্যই অপেক্ষায় আছো!

মনোলীনা,
তোমার ছাদ ঘেষা বিদুৎ এর তারে বসে একটা কাক একনজরে তোমার দিকে তাকিয়ে ভিজছে।
কাক বিষয়ে আমার জ্ঞান খুবই কম,
কাকটি আনন্দিত হয়ে ভিজছে না কষ্টে ভিজছে?
সেটি বুঝতে পারছি না।

একটা ছাই রঙের বিড়াল মাঝে মাঝে পাশের বাড়ির জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তোমাকে দেখছে
আর বৃষ্টির ঝাপটায় বারবার মুখ লুকাচ্ছে!
বিড়াল বিষয়েও আমার জ্ঞান খুবই সীমিত,
বিড়ালটি এতো উৎসাহ নিয়ে বারবার তোমার ভিজে শরীরের দিকে কেন তাকাচ্ছে?
সেটিও বুঝতে পারছি না।

মনোলীনা,
তোমার বাড়ির উল্টো দিকে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আমি  ভিজতে ভিজতে তোমাকেই দেখছিলাম,
ঠিক কাক আর বিড়ালটির মতো।
একমনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টির জলে ভিজতে ভিজতে আমি  কেন তোমার দিকে তাকিয়ে, তাও বুঝতে পারছিনা!
আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম
নিজের বিষয়ে‌ই আমার জ্ঞান সবচেয়ে কম।

একটা মোটর গাড়ি রাস্তার ময়লা জল আমার শরীরে ছিটিয়ে চলে গেলো
অথচ আমার মনে কোন রকম রাগ হলো না.
মোটর গাড়ির ড্রাইভারের দিকে একবারের জন্যও রাগী চোখে তাকিয়ে দেখিনি,
আমি শুধুই তোমার দিকে তাকিয়ে।
ঝুম বৃষ্টিতে দুজনেই ভিজছি
জ্বলজ্বল থেকে হঠাৎ বৃষ্টি ভেজা মলিন এই  বিকালে একবারের জন্যেও তুমি আমার দিকে তাকাওনি ।

মনোলীনা,
একটা বিষয়ে আমার জ্ঞান বাড়ছে ইদানিং,
রোদ, ঝড়-বৃষ্টি, আর শীত যাই হোক  না কেনো?
তুমি আমাকে দেখ বা না দেখ
তোমাকে দেখতেই আমার ভালো লাগে
এই ব্যাপারে আমার কোন লাজ লজ্জা আর অপরাধবোধ নেই।

আমার আরেকটু জ্ঞান বাড়াতে হবে নিজের সম্পর্কে,
নিজেকে আরো জানতে হবে;
এই যে তোমাকে দেখলেই বলা কওয়া নেই
সব সময়ই ঝুম বৃষ্টি শুরু 
আর আমার শরীর বৃষ্টির অদৃশ্য জলে ভিজে একাকার হয়ে যায়

মনোলীনা,
তুমি কি জান, আমার কেন এমন হয়?

————-
র শি দ হা রু ন
১৫/০৯/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/204993/</link>
				<pubDate>Fri, 15 Sep 2023 20:19:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কেন এমন হয়?<br />
—————<br />
জ্বল জ্বল বিকেলে বলা কওয়া নেই<br />
হঠাৎ করেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো!<br />
তুমি ভিজে একাকার,<br />
চারিদিক হঠাৎ করেই মলিন হয়ে গেলো।<br />
অথচ তুমি একই ভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে আছো একতলার রেলিংবিহীন ছাঁদের মাঝখানে,<br />
যেনো জানতে এখনই বৃষ্টি ঝরবে তোমার জন্য<br />
অথবা বৃষ্টি জানতো তুমি  তার জন্যই অপেক্ষায় আছো!</p>
<p>মনোলীনা,<br />
তোমার ছাদ ঘেষা বিদুৎ এর তারে বসে একটা কাক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-204993"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/204993/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3db7906a67faf0e58829480852fd543f</guid>
				<title>প্যাঁচাল
———-
হারুন, 
চশমার ফাঁক দিয়ে আকাশে তাকিয়ে একমনে কী ভাবছিস?
রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের গায়ে এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা হেলান দিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে 
তোকে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না!

বিদূৎ তারে বসা কাকটিও অনেকক্ষণ ধরে তোকে দেখছে,
একটা লাল কুকুরও তোর পাশে নিরবে বসে আকাশ দেখছে!
কত রিকশা আর গাড়ি এই সময় তোর শরীরে প্রায় উঠে যেতে বসেছিলো,
টেরও পেলিনা!
আর সেইসব রিকশা আর গাড়ির ড্রাইভারদের অকথ্য গালিও শুনতে পেলি না!
কি হলো তোর?

হারুন,
চশমার ফাঁক দিয়ে এবার মাটিতে তাকিয়ে দেখ,
সবাই স্বর্গের সিঁড়ির পেছনে দৌড়াচ্ছে।
তুই বেঁচে থাকলেই কী আর মরে গেলেই কী,
কারো কিচ্ছু যায় আসে না।
সাধারণ মানুষ নিজের পেট আর মাথা ব্যাথার কথাই বলে যাচ্ছে,
দু&#039; একজন অসাধারণ মানুষ অবশ্য ঘামাচির কথাও বলে।
আর তুই কিনা রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের গায়ে হেলান দিয়ে কবির মতো ভান করে আকাশে তাকিয়ে আকাশকুসুম ভাবছিস,
‘ভালোবাসার স্কয়ার ফিট আজকাল কী দরে বিকাচ্ছে?’

আরে পাগল সাথে বলতে হবে কী ধরনের ভালোবাসা চাস,
নিম্মবিত্ত,মধ্যবিত্ত নাকি উচ্চবিত্ত?
তারচেয়ে বরং তুই ঘামাচির কথা ভাব,
অন্তত অসাধারণ মানুষ হয়ে উঠবি।

হারুন,
এবার একটা স্বর্গের সিঁড়ির খোঁজ কর,
বাড়িতে গিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখ।
এত বয়স হয়েছে তোর,
তবুও ভালোবাসার স্কয়ার ফিটের দাম অন্যের কাছে জানতে চাস!
তুই কি জানিস, ভালোবাসা একটা শিল্প?
জেনে রাখ,
এতো কম শিল্প জ্ঞান নিয়ে তুই এক জীবনে কখনোই কবি হতে পারবি না।
তারচেয়ে সবার মতো কৌশল করে বেঁচে থাক আর কিছুদিন,
আজকাল বেঁচে থাকাই বড় শিল্প
বেঁচে থাকলে একদিন না একদিন কবি হয়েও যেতে পারিস। 
———————
র শি দ   হা রু ন
০৮/০৯/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/204734/</link>
				<pubDate>Fri, 08 Sep 2023 21:14:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্যাঁচাল<br />
———-<br />
হারুন,<br />
চশমার ফাঁক দিয়ে আকাশে তাকিয়ে একমনে কী ভাবছিস?<br />
রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের গায়ে এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা হেলান দিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে<br />
তোকে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না!</p>
<p>বিদূৎ তারে বসা কাকটিও অনেকক্ষণ ধরে তোকে দেখছে,<br />
একটা লাল কুকুরও তোর পাশে নিরবে বসে আকাশ দেখছে!<br />
কত রিকশা আর গাড়ি এই সময় তোর শরীরে প্রায় উঠে যেতে বস&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-204734"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/204734/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d8aceb2d9688d770380a4256c3757712</guid>
				<title>মনোলীনা দরজাটা খোলো
—————————-
চিৎকার করে ডেকে যাই শুধুশুধু 
কেউই সাড়া দেয় না,
এত  রাত করে একজনও বসে নেই আমার জন্য।
পুরো শহর এখন ঘুমিয়ে
অথবা ঘুমের মুখোশ পরে শুয়ে আছে।

তবুও আমি ডেকে যাই
‘মনোলীনা, 
দরজাটা খোলো,
প্লীজ দরজাটা খোলো।&#039;

হঠাৎ আকাশে বিষাদের আলোর ঝলকানি দিয়েই আত্মাহুতি দেয় এক অভিমানী উল্কা।
আর ঘুমের মুখোশ খুলে ঠিক তখনই ভেসে আসে মানুষের ভালোবাসার হাসাহাসি,
আর দরজা খোলার অপেক্ষায় অপেক্ষায়
মেয়াদোত্তীর্ণ হতে থাকে 
তোমার আমার ভালোবাসাবাসি।

‘মনোলীনা, 
দরজাটা খোলো,
প্লিজ দরজাটা খোলো।&#039;
আমাদের বুকে ভালোবাসা আছে কি এখনো?
নাকি বুকে বয়ে চলছে শুধু শরীরের অভ্যেসের দাবিদাওয়ার জোর আবদার।

বহুদিন ধরে অপমান আর অভিমানের আগুনে পুড়ে 
তোমার আমার পাওয়া না পাওয়ার হিসাবের খাতা,
প্রতিদিনই  চাল ডাল আর নুনের দামের বড় হওয়ার স্পর্ধায় 
আমার সক্ষমতা ছোটো হতে হতে প্রতিদিনই  মরে বারবার
আমারই প্যান্টের পকেটে মানিব্যাগের গভীর অন্ধকারে।
তবুও প্রায়ই রাত গভীর হলে 
দাবিদাওয়া, অপমান আর অভিমানের দেওয়াল টপকে
চাল ডাল আর নুনের দামের  হুঙ্কারকে  বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে 
আমি তোমার দরজায় এসে দাঁড়াই-
ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি সারারাত
অপেক্ষায় অপেক্ষায় দুঃখ শিকড় গেড়ে বসে বুকে,
তবুও দরজা খোল না তুমি!
‘মনোলীনা, 
দরজাটা খোলো,
প্লীজ দরজাটা খোলো।&#039;

অভিমানী উল্কার আত্মহুতিতে হঠাৎ হঠাৎ চোখ চলে যায় রাতের আকাশে,
নিঃসঙ্গ চাঁদের আলোতে আমার সব দুঃখই একসময় মিথ্যা মনে হয়।
তখন বাতাসে কান পাতলেই শুনতে পাই
রাতের মানুষের ভালোবাসার ফিসফিসানি আর হাসাহাসি,
সাথে কিছু শব্দ
‘লাইফ ইজ ভেরী বিউটিফুল”।

আমিও সেইসময় আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে খাঁটি ভালোবাসায় বুকের সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বলি-
‘মনোলীনা, 
লাইফ ইজ ভেরী বিউটিফুল,
দরজাটা খোলো
প্লীজ, দরজাটা একবার খোলো’।

——————
র শি দ হা রু ন
০৪/০৯/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/204512/</link>
				<pubDate>Mon, 04 Sep 2023 06:40:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মনোলীনা দরজাটা খোলো<br />
—————————-<br />
চিৎকার করে ডেকে যাই শুধুশুধু<br />
কেউই সাড়া দেয় না,<br />
এত  রাত করে একজনও বসে নেই আমার জন্য।<br />
পুরো শহর এখন ঘুমিয়ে<br />
অথবা ঘুমের মুখোশ পরে শুয়ে আছে।</p>
<p>তবুও আমি ডেকে যাই<br />
‘মনোলীনা,<br />
দরজাটা খোলো,<br />
প্লীজ দরজাটা খোলো।&#8217;</p>
<p>হঠাৎ আকাশে বিষাদের আলোর ঝলকানি দিয়েই আত্মাহুতি দেয় এক অভিমানী উল্কা।<br />
আর ঘুমের মুখোশ খুলে ঠিক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-204512"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/204512/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6e57a4495f6f9803ab61a190c4e4b7af</guid>
				<title>একটি মন খারাপের গল্প
————————
অভিমানে ভরা ছিল মন
কেউ বুঝেনি,
শুধু বুঝেছিল ঘরের  আয়না।
নিজের গাল নিজেই টিপে 
লুকিয়ে আদর করেছিলাম একবার,
কেউ টেরও পায়নি
হঠাৎ বৃষ্টিতে সব ভিজে একাকার।

বৃষ্টির জলে ভেজা সব অভিমান 
গোপনে ফেলে দেই ডাকবাক্সে,
সেই অভিমান চিঠিতে ভরে 
ডাকপিয়ন দিয়ে আসে তার বাড়ি।
কেউ জানতেও পারেনি 
চিঠির সেই খবর,
বুকে শুধু দাবড়ায় 
এক বৃষ্টি ভেজা হাহাকার।
——————
র শি দ হা রু ন
২৪/০৮/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/204227/</link>
				<pubDate>Thu, 24 Aug 2023 19:52:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি মন খারাপের গল্প<br />
————————<br />
অভিমানে ভরা ছিল মন<br />
কেউ বুঝেনি,<br />
শুধু বুঝেছিল ঘরের  আয়না।<br />
নিজের গাল নিজেই টিপে<br />
লুকিয়ে আদর করেছিলাম একবার,<br />
কেউ টেরও পায়নি<br />
হঠাৎ বৃষ্টিতে সব ভিজে একাকার।</p>
<p>বৃষ্টির জলে ভেজা সব অভিমান<br />
গোপনে ফেলে দেই ডাকবাক্সে,<br />
সেই অভিমান চিঠিতে ভরে<br />
ডাকপিয়ন দিয়ে আসে তার বাড়ি।<br />
কেউ জানতেও পারেনি<br />
চিঠির সেই খবর,<br />
বুক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-204227"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/204227/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">43b240eddd2638ef396d9f65e4296d1a</guid>
				<title>এ কেমন স্বপ্ন!
—————-
ইদানীং প্রায়  প্রতিদিন রাতের ঘুমে একই স্বপ্ন দেখি-
এক অসীম ধুধু মাঠে মন খারাপ করে 
আমি একলা দাঁড়িয়ে আছি অনন্ত সময় ধরে।
তারপর,
তারপর একসময় কে যেন আমার কাঁধে হাত রেখে বলে, 
‘চল পালাই’।
আমি চমকে তাকিয়ে দেখি 
আমার কাঁধে বন্ধু শাহেদের হাত।

শাহেদ আমার হাত শক্ত করে ধরে 
আমাকে একরকম উড়িয়ে বাতাসে শিষ তুলে দৌড় শুরু করে।
দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় অসীম ধুধু মাঠ পেড়িয়ে 
হলুদ সরিষা ফুলের গন্ধে আমরা একটু থমকে দাঁড়াই,
তারপর অসংখ্য বিল আর নদীর জলে সাঁতারে সাঁতরে মানুষের জংঙ্গলে এসে থামি।

শাহেদ এবার বলে,
‘ মন খারাপ হলে মানুষের ভীরে দাঁড়াবি।
জানিস,
অসীম ধুধু মাঠে মানুষের মনও ধুধু হয়ে যায়!
মন ধুধু হলে সময়ও থমকে যায় বুকে পাথরের মতো।
তারচেয়ে বরং মানুষ দেখি’।

আমি তখন এক এক করে মানুষের চেহারা দেখতে থাকি,
আমার তীব্র মন খারাপ হয়ে যায় আবারো, 
মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে মানুষের সব চেহারা ।
আমি শাহেদকে বলি,
‘মানুষের জঙ্গলে কোনো মানুষ নেই বন্ধু,
সবই মুখোশ।
শাহেদ বাতাস থেকে এক আয়না বের করে আমার চোখ বরাবর ধরে বলে,
‘দেখতো,
এই আয়নায় কোন মানুষ দেখা যায় কিনা?
আমি চিৎকার করে বলে উঠি,
‘এই আয়নায় আমি খুন হয়ে যাবো বন্ধু,
এখানেও কোন মানুষের চেহারা নেই!,
শুধু একটি মুখোশ বিদ্রুপের হাসি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে’। 

আমি শাহেদের হাত এক ঝাপটায় আলগা করে দৌড়ে পালাই সেই মানুষের জঙ্গলে,
শাহেদ আমাকে খুঁজতেই থাকে,
আমি ঘেমে ক্লান্ত হয়ে মুখে জল দিয়ে মুখোশ মুছে ফেলি,
মুছে যায় আমার নাম পরিচয় আর চেহারা।
শাহেদও আমাকে দেখে আর চিনতেই পারে না!
পরিচিত কেউই এখন আমাকে চিনতে পারেনা,
এমনকি স্থির স্বচ্ছ জলে নিজের চেহারাও অপরিচিত মনে হয়।

সেই স্বচ্ছ জলে তাকালেই দেখি  
একজন মানুষ শুধু  একজোড়া ক্লান্ত চোখে 
তীব্র মায়া নিয়ে পলকহীন তাকিয়ে থাকে আমার চোখে।

প্রতিদিন স্বপ্নের একই জায়গায় ঘুম ভেঙে যায় আমার!
আমার পুরো শরীর ঘরের শীতল বাতাসেও ঘেমে থাকে সেই সময়।

ঘুম ভাঙলেই 
সব হাওয়ায় মিলে যায় মুহূতে‌ই
এমন কি বন্ধু শাহেদের চেহারাও।

স্বপ্নের সব মিথ্যা মনে হয়!
শুধু ,
শুধু ক্লান্ত চোখে তীব্র মায়া নিয়ে 
আমার দিকে তাকিয়ে থাকা 
আয়নার সেই মানুষটিকে একমাত্র সত্যি মনে হয়।
————-
র শি দ  হা রু ন
১৭/০৮/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/204025/</link>
				<pubDate>Thu, 17 Aug 2023 15:14:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এ কেমন স্বপ্ন!<br />
—————-<br />
ইদানীং প্রায়  প্রতিদিন রাতের ঘুমে একই স্বপ্ন দেখি-<br />
এক অসীম ধুধু মাঠে মন খারাপ করে<br />
আমি একলা দাঁড়িয়ে আছি অনন্ত সময় ধরে।<br />
তারপর,<br />
তারপর একসময় কে যেন আমার কাঁধে হাত রেখে বলে,<br />
‘চল পালাই’।<br />
আমি চমকে তাকিয়ে দেখি<br />
আমার কাঁধে বন্ধু শাহেদের হাত।</p>
<p>শাহেদ আমার হাত শক্ত করে ধরে<br />
আমাকে একরকম উড়িয়ে বাতাসে শিষ তুলে দৌড় শুরু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-204025"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/204025/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">41629489ec2f184114eb42304de2227a</guid>
				<title>হ্যালো মনোলীনা
————-

হ্যালো মনোলীনা,
সকাল হয়েছে সেই কখন!!
ঘুম ভাঙ্গলো তোমার!!
রাতে ‘কথা বলবে’ বলে বসিয়ে রাখলে!!
কখন যে ঘুমিয়ে পড়লে!!
কতোবার যে তোমার ম্যাসেন্জারে কড়া নাড়লাম ।

ম্যাসেন্জারের সবুজ বাতিটা কিন্তু ‘জলে ডুবা জোনাকি পোকা’র মতো জ্বলজ্বল করছিলো অনেক রাত পর্যন্ত।
একবারের জন্যও তুমি তাকে জল থেকে টেনে তুললে না!!

হ্যালো মনোলীনা,
শুনছোতো আমাকে?
আমি সারারাত বসে থাকতে থাকতে 
একসময় একটা নীল প্রজাপতি পাঠালাম তোমাকে জাগাতে।
প্রজাপতিটা তোমার বিছানায় বসে ছিলো অনেকক্ষণ।
ডাকলো তোমায় কতোবার যে তার নীল পাখার ঝাপটায়।
তারপর তোমার ঘুমন্ত ঠোঁটে বসেছিলে অসভ্য সূর্য জেগে উঠার আগ পর্যন্ত।
তবুও তোমার ঘুম ভাঙ্গলো না।
এক সময় তোমার ঘুমের বিছানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য ছিড়ে যাওয়া চুম্বন কুড়াতে কুড়াতে বেচারা মরে গেলো।

প্রজাপতিটা যখন ফিরলোনা,
তখন আমার একটি পংক্ষীরাজ ঘোড়া পাঠিয়েছিলাম প্রজাপতির খবরের জন্য।
তোমার বারান্দায় নেমে রাতের জানালায় একটু উকি দিতেই যখন দেখলো,
নীল প্রজাপতিটা ভুল চুম্বনের বিষে মরে কালছে নীল হয়ে আছে।
সেই কষ্টে আমার পংক্ষীরাজ ঘোড়া ডানা ভেঙ্গে এক ‘ঘোরগ্রস্ত বিলাপে’ আহত হয়ে তোমার বারান্দায় ছটফট করছে।

হ্যালো মনোলীনা,
ঘুম ভাঙ্গলে  ঘুমের বিছানা ঝাড়ার সময় দেখবে-
একটি কালচে নীল প্রজাপতি মরে আছে।
আর তোমার বারান্দায় ডানা ভেংগে পড়ে আছে -
‘আমার নির্ঘুম একটি পংক্ষীরাজ ঘোড়া’।
——————————————
রশিদ হারুন
২২/১১।২০১৯</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/203983/</link>
				<pubDate>Tue, 15 Aug 2023 18:21:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হ্যালো মনোলীনা<br />
————-</p>
<p>হ্যালো মনোলীনা,<br />
সকাল হয়েছে সেই কখন!!<br />
ঘুম ভাঙ্গলো তোমার!!<br />
রাতে ‘কথা বলবে’ বলে বসিয়ে রাখলে!!<br />
কখন যে ঘুমিয়ে পড়লে!!<br />
কতোবার যে তোমার ম্যাসেন্জারে কড়া নাড়লাম ।</p>
<p>ম্যাসেন্জারের সবুজ বাতিটা কিন্তু ‘জলে ডুবা জোনাকি পোকা’র মতো জ্বলজ্বল করছিলো অনেক রাত পর্যন্ত।<br />
একবারের জন্যও তুমি তাকে জল থেকে টেনে তুললে না!!&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-203983"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/203983/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8e77c9d35f7cf8a000df50607eb8dfd2</guid>
				<title>বৃষ্টির জল
————-
আমার মাথার উপর অদৃশ্য সূর্য দিনরাত জ্বলছে তো জ্বলছে,
তীব্র রোদে আমার 
মুখ পুড়ে,
বুক পুড়ে;
অথচ চারিদিকে সব হাসিখুশি মুখ ঘুরে বেড়ায়
আর আমার জীবন পুড়ে না দেখা এক তাপে।

দিনরাত আমার মনে পড়ে থাকে তীব্র বৃষ্টির জলে!
কে যেনো বৃষ্টির সেই জলে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরে হাসি মুখে?
এক কাপ ধোঁয়া ভেসে বেড়ানো গরম চা খাবার টেবিলে ঢাকা থাকে মানুষটির জন্য,
বৃষ্টি ভেজা এই মানুষটি কে?
কে ঢেকে রাখে এই গরম চা?

সারাদিন আমি শুধু শহরের পথে পথে ঘুরি
আর সুখি মানুষ দেখি,
অদৃশ্য তাপে আমার শরীর মন শুধু পুড়ে আর পুড়ে।   

বৃষ্টির জলের আশায় শহরময় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে 
গভীর রাতে নিসঃঙ্গ এক ঘরে ফিরে দেখি
-আমার জীবন কে যেনো ঢেকে রেখেছে  খাবার টেবিলে এক কাঁচের চায়ের কাপে!
সেই কাপ থেকে গরম চায়ের মতো বাতাসে ভেসে বেড়ায় 
-ধোঁয়া উঠা আমার পোড়া বুক।
—————————
র শি দ  হা রু ন
১২/০৮/২০২৩
মন্ট্রিয়াল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/203982/</link>
				<pubDate>Tue, 15 Aug 2023 18:20:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টির জল<br />
————-<br />
আমার মাথার উপর অদৃশ্য সূর্য দিনরাত জ্বলছে তো জ্বলছে,<br />
তীব্র রোদে আমার<br />
মুখ পুড়ে,<br />
বুক পুড়ে;<br />
অথচ চারিদিকে সব হাসিখুশি মুখ ঘুরে বেড়ায়<br />
আর আমার জীবন পুড়ে না দেখা এক তাপে।</p>
<p>দিনরাত আমার মনে পড়ে থাকে তীব্র বৃষ্টির জলে!<br />
কে যেনো বৃষ্টির সেই জলে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরে হাসি মুখে?<br />
এক কাপ ধোঁয়া ভেসে বেড়ান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-203982"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/203982/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fc17e21a0c54dd72ee9723a64e79997c</guid>
				<title>হ্যালো ঢাকা
—————-
হ্যালো ঢাকা,
কেমন আছো?
আমি ভালো নেই তোমাকে ছাড়া,
তোমার শহরের সব কিছু বদলে গেছে 
আমার বুকের ভিতর হঠাৎ করেই এই মন্ট্রিয়াল শহরে!

হ্যালো ঢাকা,
পিছন থেকে আচমকা আমার নাম ধরে চিৎকার করে ডাক দেবার মানুষজন মন্ট্রিয়াল শহরে একজনও নেই।
তোমার শহরে শৈশবকাল থেকে প্রচন্ড বৃষ্টিতে  আমার মাথায় গেঁথে থাকা
বিদুৎতের তারে বসে ভিজতে থাকা 
একটা কাক
আর কাকটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রাস্তায় বসে ভিজতে থাকা 
একটা কুকুরের স্থির ছবি,
দু’দিনেই মাথা থেকে স্রেফ বাতাসে মিলিয়ে গেছে!
তোমার শহরে বাড়ির দরজায় আমার অপেক্ষায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা কামিনী ফুল গাছটার কষ্টের কথা কাউকে বলতেও পারছিনা এই মন্ট্রিয়াল শহরে।

হ্যালো ঢাকা,
হ্যালো, হ্যালো ,
শুনছো আমার কথা,
তোমার শহরের মতো 
দিনভর ফোনে কোন না কোন বন্ধুর অযথাই প্যাঁচালের মধুর যন্ত্রণা এই মন্ট্রিয়াল শহরে একটুও নে‌ই,
ধোঁয়া ওড়া চায়ের গন্ধের সাথে বাতাসে ভেসে বেড়ানো সিগারেটের নিকোটিনের গন্ধ নিতে  এখানে কেউ আমাকে একবারের জন্যও ডাকেনা।
এই মন্ট্রিয়ালে আমার ঘরের দেওয়ালে মা বাবার ছবি ঝুলানো নেই
আছে মলিন হয়ে যাওয়া সাদা রঙের পুরোনো দেয়ালের চাহনি।

মন্ট্রিয়াল শহরে  দু’দিনেই আরো কতোকিছু যে বদলে গেছে আমার বুকের ভিতর !
আমার বাকীজীবনও চলে যাবে 
এই বদলে যাবার হিসাব নিকাশে।

হ্যালো ঢাকা,
হ্যালো, হ্যালো,
শুধু তোমার শহরের সেই একই আকাশ,
একই চাঁদ
আর মাটিতে আমার একই ছায়া 
মন্ট্রিয়াল শহরেও এখন আমার পাশে হেঁটে বেড়ায়
পুরোনো বন্ধুর মতোই।

——————————
র শি দ  হা রু ন
০৭/০৮/২০২৩
মন্ট্রিয়াল, কানাডা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/203818/</link>
				<pubDate>Tue, 08 Aug 2023 04:55:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হ্যালো ঢাকা<br />
—————-<br />
হ্যালো ঢাকা,<br />
কেমন আছো?<br />
আমি ভালো নেই তোমাকে ছাড়া,<br />
তোমার শহরের সব কিছু বদলে গেছে<br />
আমার বুকের ভিতর হঠাৎ করেই এই মন্ট্রিয়াল শহরে!</p>
<p>হ্যালো ঢাকা,<br />
পিছন থেকে আচমকা আমার নাম ধরে চিৎকার করে ডাক দেবার মানুষজন মন্ট্রিয়াল শহরে একজনও নেই।<br />
তোমার শহরে শৈশবকাল থেকে প্রচন্ড বৃষ্টিতে  আমার মাথায় গেঁথে থাকা<br />
বিদুৎতের তারে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-203818"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/203818/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1855268643cdfd4995052f5b1640c76b</guid>
				<title>পড়তি বেলার প্রেম
———————-
যৌবনে আমার যে চোখ দুটোতে আগুন জ্বলতো
পড়তি বেলায় আজকাল আমার সেই চোখ দুটোতেই একটা ছলছল নদী পালছি।

সেই কবেকার জন্ম নেওয়া নদী
বুক থেকে চোখে আশ্রয় নিয়েছে
আর জীবনের পাওয়া না পাওয়ার  সব হিসাব নিকাশের যোগফল সেই নদীর জলে ভাসছে।
নদীর পারে একটি রঙচটা ম্লান বোধহীন বাড়ি একাকী দাঁড়িয়ে আছে,
সেই বাড়ির দরজায় সারাদিন অপেক্ষায় বসে থাকে দুটি ছায়া, 
দুজন মানুষের অপেক্ষায়।

অপেক্ষায় অপেক্ষায় মন খারাপ করে
যেদিন ছায়া দুটো কাঁদতে বসে,
সেদিন ছলছল নদীতে জোয়ার আসে।

মনে হয় এ‌ই জীবনের মানে শুধু 
জলে ভাসা অভিমান আর অহং 
যা বুকে আর চোখে নিয়ে আমারা দুজন নদীর দুকূলে দাঁড়িয়ে থাকবো বাকি জীবন
আর অপেক্ষায় থাকবো
সে‌ই নদীর জলেই ডুবে মরার।
——————
র শি দ  হা রু ন
০৩/০৬/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/202727/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Jul 2023 18:27:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পড়তি বেলার প্রেম<br />
———————-<br />
যৌবনে আমার যে চোখ দুটোতে আগুন জ্বলতো<br />
পড়তি বেলায় আজকাল আমার সেই চোখ দুটোতেই একটা ছলছল নদী পালছি।</p>
<p>সেই কবেকার জন্ম নেওয়া নদী<br />
বুক থেকে চোখে আশ্রয় নিয়েছে<br />
আর জীবনের পাওয়া না পাওয়ার  সব হিসাব নিকাশের যোগফল সেই নদীর জলে ভাসছে।<br />
নদীর পারে একটি রঙচটা ম্লান বোধহীন বাড়ি একাকী দাঁড়িয়ে আছে,<br />
সেই বাড়ির দরজায় সারাদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-202727"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/202727/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">12aa246d3bcbd8eb0bd81c23fbf6db70</guid>
				<title>হাজারো জীবন
—————
কেউ যদি জানতে চায় আমার বয়স কত,
আমি কিছুক্ষণ তার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকি।
তারপর একসময় আনমনে হয়ত বলে ফেলি 
বেশি না,
এই ধরুন হাজার হাজার জীবন।

মানুষটি আমাকে পাগল ভাবতে পারে
এই আবোল-তাবোল উত্তরে,
অথচ আমিই জানি একজীবনে আমার খরচ হয়ে গেছে কয়েক জীবন।

বালক বেলায় বৃষ্টির দিনে কাদা মাঠে ফুটবল খেলে পার করেছি কয়েক জীবন,
পুকুরে সাঁতার কাটতে কাটতে ভেসে গেছে কতো যে জীবন,
শীতের দিনে কুয়াশা ভেজা মাটিতে খালি পায়ে আনমনে হেটে হেটে কুয়াশায় হারিয়েছে অজস্র জীবন,
পাশের মহল্লার এক সরকারি আমলার বাড়ির দেয়ালের ওপারে একটা ডালিম গাছের লাল ডালিমের দিকে তাকিয়ে গেছে কমপক্ষে দুই জীবন।

স্টীমার বেঙ্গল ওয়াটের ডেকে দাঁড়িয়ে পদ্মা, মেঘনা আর ডাকাতিয়া নদীর জলের স্রোতের সাথে স্রোত হয়ে পার করেছি সাতাশ জীবন।
স্কুল ফাঁকি দিয়ে অভিসার আর মধুমিতা সিনেমা হলে স্বপ্ন দেখেতে দেখতে চলে গেছে অসংখ্য জীবন,
বাবা মাকে ফাঁকি দিয়ে বাবার বাইসাইকেল চালিয়ে  উত্তেজনায় পার করেছি অনেক জীবন।

একটা মায়াবী চোখের টানে মোটর সাইকেল দাবড়িয়ে বেড়িয়েছি বেহিসাবী হাজার জীবন,
ব্যাকুল প্রতীক্ষারত হাজার হাজার বছর দাঁড়িয়ে ছিলাম কমলাপুর রেলস্টেশনে এক বালিকার ছটফটানি হাতের স্পর্শের জন্য।

অভিমান, অপমান, প্রতারণা আর ঘৃনায় খরচ হয়ে গেছে অগণ্য জীবন।
বেকার জীবনে শূণ্য মানিব্যাগের হাহাকার শুনতে শুনতে রাস্তায় রোদে পুড়েছি বোধহীন কয়েক জীবন;
বাবা-মার লাশ কবরে নামাতে নামাতে বুক পিষে চলে গিয়েছিল হাজারো জীবন।
বন্ধু আর প্রিয় মানুষদের সাথে হাসিখুশিতে পার করেছি মুহূর্তে চলে যাওয়া জীবন আর জীবন।

তাই কেউ যদি জানতে চায় আমার বয়স কত
আমি কখনোই সঠিক উত্তর দিতে পারি না,
আমার একজীবনে কত হাজারো জীবন বুক পিষে চলে গেছে আমি হিসাব রাখিনি।
প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে আমাদের কত জীবন যে চলে যায় কেউ জানে না-
অন্তত আমি জানি না।

হঠাৎ করে বুকের দখিনের জানালায় যদি কোনো হারিয়ে যাওয়া কবিতা টোকা দেয়,
তখনই টের পাই হাজারো জীবন পার করে এখনও ঠিকই বেঁচে আছি।
————
রশিদ হারুন
২৭/০৬/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/202541/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Jun 2023 16:41:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হাজারো জীবন<br />
—————<br />
কেউ যদি জানতে চায় আমার বয়স কত,<br />
আমি কিছুক্ষণ তার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকি।<br />
তারপর একসময় আনমনে হয়ত বলে ফেলি<br />
বেশি না,<br />
এই ধরুন হাজার হাজার জীবন।</p>
<p>মানুষটি আমাকে পাগল ভাবতে পারে<br />
এই আবোল-তাবোল উত্তরে,<br />
অথচ আমিই জানি একজীবনে আমার খরচ হয়ে গেছে কয়েক জীবন।</p>
<p>বালক বেলায় বৃষ্টির দিনে কাদা মাঠে ফুটবল খেলে পার করেছি কয়েক জীব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-202541"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/202541/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1deb2b8d188662eb76d81c035721193d</guid>
				<title>নতুন জীবন
———-
জীবন নতুন করে শুরু করতে হবে,
পুরনো জীবনের সব ফেলে দিতে হবে,
বুক হাতরে দেখতে হবে তন্নতন্ন করে,
বারবার যাচাই করে দেখতে হবে
বুকের সিন্দুকে পুরোনো জীবনের কিছু ভুলে  রয়ে গেলো কিনা।

বাবা-মার বিয়ের লাল বেনারসী শাড়ি আর সাদা পান্জাবির নেপথিলিনের নেশা ধরা মায়াবী এক গন্ধ,
জীবনে প্রথম স্টুডিওতে তোলা আমার নিজের এক বছর বয়সের সাদাকালো একটা ভালোবাসার ছবি,
মান্জা দেওয়া সুতোভরা চুরি হয়ে যাওয়া একটা হাহাকারের নাটাই,
অজস্র ভুল বানানের জীবনে প্রথম পাওয়া ভয়ে ছিড়ে ফেলা একটা প্রেমের চিঠি,
ঠোঁট পুড়ে যাওয়া হঠাৎ পাওয়া প্রথম চুম্বনের উষ্ণতা,
অপমান আর অভিমানে জানালার পাশে বসে ঘুমহীন রাতে পার করা প্রতিটি দীর্ঘ মূহুর্ত,
শূন্য মানিব্যাগের বোবা কষ্টের দিনগুলো,
আরও অজস্র রঙ উঠা মলিন পরিচয়হীন হাহাকার।

জীবন নতুন করে শুরু করতে হবে
পুরোনো জীবনের সব ফেলে দিয়ে বুকের সিন্দুকের দেয়াল নতুন করে রঙ করতে হবে।
আহারে
নতুন রঙে বুকের পুরোনো জীবনের  সব দাগ কিছুতেই যায় না!
কিছুতেই যায় না!

যতই রঙ করি বুকের দেয়ালে আবার ভেসে উঠতে থাকে পুরাতন সব জীবন!
মাঝে মাঝে আমার পুরোনো জীবন নৈশপ্রহরীর মতো বাঁশি বাঁজিয়ে চিৎকার করে ডেকে উঠে বুকের ভিতর,
‘আমি আছি, এখনও জেগে আছি,
——————
র শি দ হা রু ন
১৬/০৬/২০২৩জড</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/202051/</link>
				<pubDate>Fri, 16 Jun 2023 17:46:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নতুন জীবন<br />
———-<br />
জীবন নতুন করে শুরু করতে হবে,<br />
পুরনো জীবনের সব ফেলে দিতে হবে,<br />
বুক হাতরে দেখতে হবে তন্নতন্ন করে,<br />
বারবার যাচাই করে দেখতে হবে<br />
বুকের সিন্দুকে পুরোনো জীবনের কিছু ভুলে  রয়ে গেলো কিনা।</p>
<p>বাবা-মার বিয়ের লাল বেনারসী শাড়ি আর সাদা পান্জাবির নেপথিলিনের নেশা ধরা মায়াবী এক গন্ধ,<br />
জীবনে প্রথম স্টুডিওতে তোলা আমার নিজের এক বছর বয়সের সাদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-202051"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/202051/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fa279e7efc35cf35f82072e7a766976c</guid>
				<title>আবহাওয়া
—————
হারুন সাহেব আপনাকে এমন উসকো-খুসকো দেখাচ্ছে কেন?
আপনার বাড়িতে কেমন গরম পড়েছে?
দিন দুপুরে লাল সূর্যের মতো চোখও লাল হয়ে আছে আপনার?
মানুষতো ভুল বুঝবে আপনাকে,
ভাববে দিনদুপুরে এই গরমে ছাইপাঁশ খেয়ে আছেন বোধ হয়!
বাজারে গিয়েছিলেন আজ?
সেখানকার আবহাওয়া কেমন,
কি বললেন,
আগুনের তাপ বাজারের পুরো বাতাস গরম করে রেখেছে!
এমন অসময়ে কেউ বাজারে যায়!
বৃষ্টির দিন বাজারে যাবেন
যেদিন আপনার বুক পকেট, প্যান্টের পকেট আর মানিব্যাগ বৃষ্টির জলে টইটুম্বুর হয়ে থাকবে
সেদিন।
আপনার মতো জ্ঞানী লোক এই ভুল করে!
দেখুন বাজারের অসহ্য গরমে আপনার মাথা থেকে  কপাল বেয়ে টুপটুপ করে ঘাম ঝরছে,
দেখলেই বুঝা যাচ্ছে বাজারের গরমে আপনার মাথাও গরম হয়ে আছে,
আঁচড়ানো চুল এলোমেলো হয়ে পাগলের মতো লাগছে আজ আপনাকে।

হারুন সাহেব, 
বাজারের এই অসহ্য ভাপস্যা গরমে বোকার মতো এতো বড় ব্যাগ নিয়ে বাজারে গেলেন!
কী লাভ হলো আপনার?
ব্যাগতো প্রায় শূন্যই মনে হচ্ছে!
তারপর থেকে অযথাই আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পাগলের সবার নিকুচি করছেন,
মাথা গরমে আজ হার্ট অ্যাটাকও হয়ে যেতে পারে কিন্তু আপনার,
বউ বাচ্চার কথা একবারও ভাবলেন না?

হারুন সাহেব,
আপনি না শিক্ষিত ভদ্রলোক?
এরপর থেকে শুধু বৃষ্টি দেখেই বাজারে যাবেন,
মনে থাকবে তো?
—————
রশিদ হারুন
০৬/০৬/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/201667/</link>
				<pubDate>Tue, 06 Jun 2023 09:54:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আবহাওয়া<br />
—————<br />
হারুন সাহেব আপনাকে এমন উসকো-খুসকো দেখাচ্ছে কেন?<br />
আপনার বাড়িতে কেমন গরম পড়েছে?<br />
দিন দুপুরে লাল সূর্যের মতো চোখও লাল হয়ে আছে আপনার?<br />
মানুষতো ভুল বুঝবে আপনাকে,<br />
ভাববে দিনদুপুরে এই গরমে ছাইপাঁশ খেয়ে আছেন বোধ হয়!<br />
বাজারে গিয়েছিলেন আজ?<br />
সেখানকার আবহাওয়া কেমন,<br />
কি বললেন,<br />
আগুনের তাপ বাজারের পুরো বাতাস গরম করে রেখেছে!<br />
এমন অসময়ে কেউ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-201667"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/201667/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ec8f72ff2201c07f22b69d17aad27d9b</guid>
				<title>কে যেন আসবে বলেছিল
——————————
বৃষ্টির দিন সকাল সকাল দরজা জানালা খুলে বসে আছি
কে যেন আসবে বলেছিলো?

দরজায় একটা বিড়াল একবার মাত্র উঁকি দিয়েছিল,
এছাড়া কোনো মানুষের ছায়া এখনো পড়েনি দরজার ঠিক আশপাশে।
দখিনের জানালা দিয়ে ফেরিওয়ালাদের হাঁকডাক ভেসে আসছে,
উত্তরের জানালা দিয়ে তাকালেই বিরাট ধুধু মাঠ-
সেখানে একটা অপেক্ষা নিঃশব্দে বসে বৃষ্টির জলে ভিজছে,
সকালের নাস্তা আর এককাপ গরম দুধ-চা টেবিলে রাখা আছে।
কে যেন আসবে বলেছিল?

দূরের কোনো শহর থেকে বৃষ্টিভেজা কোনো একজনের শরীরের ঘ্রান 
হঠাৎ হঠাৎ শীতল বাতাসের সাথে আমার নাকে তীব্র আঘাত করে,
তবুও শহরের এই নিঃসঙ্গ বাড়িটিতে একাকী আমি কার অপেক্ষায় বসে আছি!
কে যেন আসবে বলেছিল?

পুরো শহরের সবই ঠিকঠাক  চলছে,
মানুষজন বৃষ্টির জল মাথায় নিয়েই কাজে বের হয়েছে,
টেবিলের চা ঠান্ডা হয়ে কাপে সর ভাসছে সারাদিন,
বৃষ্টির জল দরজা জানালা দিয়ে ঘর ভাসিয়ে নিচ্ছে,
তবুও আমি দরজা জানালা খোলা রেখেই তাকিয়ে আছি সারাদিন দরজা বরাবর
কেউ যেন এসে ফিরে না যায়;
দরজা খুলতে যেন আমার এতটুকু দেরি না হয়ে যায় ।
কে যেন আসবে বলেছিল?
তবুও সারাদিনই এলো না।
———-
র শি দ  হা রু ন
০২/০৬/২০২৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/201466/</link>
				<pubDate>Fri, 02 Jun 2023 06:45:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কে যেন আসবে বলেছিল<br />
——————————<br />
বৃষ্টির দিন সকাল সকাল দরজা জানালা খুলে বসে আছি<br />
কে যেন আসবে বলেছিলো?</p>
<p>দরজায় একটা বিড়াল একবার মাত্র উঁকি দিয়েছিল,<br />
এছাড়া কোনো মানুষের ছায়া এখনো পড়েনি দরজার ঠিক আশপাশে।<br />
দখিনের জানালা দিয়ে ফেরিওয়ালাদের হাঁকডাক ভেসে আসছে,<br />
উত্তরের জানালা দিয়ে তাকালেই বিরাট ধুধু মাঠ-<br />
সেখানে একটা অপেক্ষা নিঃশব্দে বসে বৃষ্টি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-201466"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/201466/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>