Profile Photo

Ismail MozumdarOffline

  • Ismail-Hossain-Mozumdar
  • Profile picture of Ismail Mozumdar

    Ismail Mozumdar

    2 years ago

    তোমার মাকে তুমি কোথাও রেখে আসো। আমি আর পারবো না তার এতো সেবা করতে। রোজ রোজ তাকে ধরে ধরে ওষুধ, খাবার খাওয়াতে হয়।

    ২ বছরের রিলেশনের পরে ৬ মাসের সংসার জীবন চলছে উর্মির সাথে। বাসর রাতে বউকে বলেছিলাম। দুনিয়াতে মা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। নিজের মায়ের মতো আগলে রাখবে।

    প্রথম ৪ মাস ভালোই কেটেছে সব কিছুই। কিন্তু দুই মাস ঘরে রাতে ঠিক মতো ঘুমানোও দায়। দুই মাস আগে মায়ের ডায়বেটিস ধরা পড়েছে। মায়ের এখন একটু বেশি সময় দেখাশোনা করতে হয়। ওষুধ গুলো সময় সময় ধরে খাওয়াতে হয়।

    আমি চেষ্টা করি যতটা সময় বাসায় থাকি মায়ের কাজগুলো আমি করতে। কিন্তু যতক্ষণ অফিসে থাকি ততটা সময় তাকে দেখতে হয়। যার কারণে এখন উর্মি মায়ের প্রতি খুব বিরক্ত।

    আমাকে প্রায় প্রায় এখন মায়ের নামে নালিশ দেওয়া শুরু করেছে। তাকে ভালোবাসি তাই কিছু না বলে বোঝাতাম। কিন্তু সে কিছুতেই বোঝতে চাইতো না।

    গতকাল হটাৎ রাতে আম্মু বিচানায় বাথরুম করে দিয়েছে। যা আমরা দুজনেই পরিস্কার করেছি। যা নিয়ে সারারাত উর্মি আমার মাথা খেয়েছে। রাতে ঘুমাতে না পারার দরুন প্রচুর মাথা যন্ত্রণা নিয়ে নাস্তার টেবিলে বসে আছি। তখন উর্মি বললো,

    তোমার মাকে তুমি কোথাও রেখে আসো। আমি আর পারবো না তার এতো সেবা করতে। রোজ রোজ তাকে ধরে ধরে ওষুধ খাবার খাওয়াতে হয়।

    আম্মুর রুমের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আম্মু চোখে পানি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
    আমি আম্মুকে আমার কাছে ডাক দিয়ে পাসের চেয়ারে বসতে বললাম।

    আম্মু আমার কাছে এসে না বসে আমার সামনে দাড়িয়ে কান্না করছে। তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেনো কাধছে? তখন আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কান্না করতে করতে বলছিলো।

    বাবারে আমার তো আর কোনো সন্তান নেই। তোরা আমাকে বের করে দিলে আমি কোথায় যাবো এই বৃদ্ধ বয়সে। আমি এখন ওষুধ গুলো খেতেও তোদের সাহায্য নিতে হয়। তাহলে আমি কিভাবে খাবার জোগাড় করে খাবো?

    তখন মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম দাড়াও আমাকে ভাবতে দাও। আমি কি এখনো বলেছি যে তোমাকে বাসা থেকে বের করে দিবো? এসব বলে আম্মুকে শান্ত করে পাসের চেয়ারে বসালাম।

    তারপর পকেটে থেকে আমার মোবাইল ফোনটা বের করে উর্মিকে বললাম তার ভাইয়ার নাম্বারটা বলতে। উর্মি জিজ্ঞেস করেছিলো তার ভাইয়ের নাম্বার দিয়ে কি হবে? বললাম ভাইয়ের পরিচিত একটা বৃদ্ধাশ্রম আছে। ওটাতে আম্মুকে রেখে আসবো।

    ওটা শুনেই আম্মু মুখে হাত দিয়ে কান্না করা শুরু করলো আবার। তবে এবার শব্দ করে না।

    মায়ের কান্না দেখে বুক পেটে যাচ্ছে।উর্মি খুশি হয়ে ওর ভাইয়ের নাম্বারটা দিলো। তারপর আমি তার ভাইয়ের নাম্বারে ফোন দিলাম।

    কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পরে ওর ভাই ফোনটা রিসিভ করলো। কুসল বিনিময় করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। ভাইয়া আপনার পরিচিত ভালো কোনো বৃদ্ধাশ্রম আছে নাকি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেনো? আমি বললাম আছে কিনা বলুন। পরে বলছি বাকিটা।

    পাস থেকে আমার বউ বলছে বেশি ভালো খারাপ লাগবে না। একটা হলেই হবে আছে কিনা জিজ্ঞেস করো। আমিও তাই করলা। মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি অঝোরে কাদছে। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম সহ্য হচ্ছে না বলে।

    ওই পাশ থেকে উর্মির ভাই বললো হ্যা আছে তো একটা। কিন্তু কাকে রাখবে ওখানে। উর্মির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও খুব খুশি।

    তখন আমি বললাম আসলে ভাইয়া সকালে উর্মির ভাবি মানে আপনার স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছিলো। তখন বললো শাশুড়ী আম্মাকে নাকি সে আর বাসায় রাখতে পারবে না।

    শাশুড়ী মাকে নাকি ঔষধ খাওয়ায় দিতে হয় হাতে ধরে। তারপর পায়খানা পেশাব পরিস্কার করা লাগে যেগুলো সে আর করতে পারবে না। তাই আমাকে বলেছে আমি যেনো আপনাকে বুঝিয়ে বলি আপনি যেনো আপনার মাকে বৃদ্ধাশ্রম রেখে আসেন। নাহলে সে আপনার সংসার করবে না।

    (এসব বলার সময় উর্মি যেনো শকড খেলো, কিছু বলতে যাবে। তখন হাত দিয়ে ইশারা দিয়েছিলাম বাচতে চাইলে যেনো একদম চুপ থাকে। আমার চেহারা দেখে ভয়ে আর কিছু বললো না। পাশে দাড়িয়ে আমার কর্মকাণ্ড দেখছিলো)

    ওই পাস থেকে উর্মির ভাই, কিহহ আমার স্ত্রী তোমাকে এসব বলেছে? ওর এতো বড় সাহস আমার মাকে নিয়ে এসব বলে। আজকেই ওকে ডিভোর্স দিবো আমি। আর শাস্তি তো আছেই।

    এসব বলেই ফোন কেটে দিলো। আমি ফোন রেখে উর্মির দিকে তাকালাম। তারপর আমার দিকে আসতেই ঠাস ঠাস করে ওর দু গালে দুটো দিলাম।

    তারপর বললাম যা বের হয়ে যা। সময় মতো ডিভোর্স পেপার পেয়ে যাবি। উর্মি আমার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলো। কিন্তু তার আগেই তাকে বের করে দিলাম বাসা থেকে।

    আম্মু এতো সময় বসে সব দেখছিলো। উর্মিকে বের করে দেওয়ার সময় বাধা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি কোনো কথায় শুনিনি। এখন মা ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে কান্না করছিলাম। আর বললাম মা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। অনেক কষ্ট দিয়েছি।

    ওই দিকে উর্মির ভাই অফিস থেকে বাসায় ফিরেই উর্মির ভাবিকে ডাকতে লাগলো। যখন উর্মির ভাবি সামনে আসলো৷ তখনি তাকে মারা শুরু করলো। মেরে যখন বাসা থেকে বের করে দিবে। তখনিই উর্মি তাদের বাসায় ডুকে তার ভাইকে থামায়।

    তারপর ভাইকে জড়িয়ে ধরে সব খুলে বলে। উর্মির ভাই তার স্ত্রীর থেকে ক্ষমা ছেয়ে নেয়।

    তারপর উর্মিকে অনেক কথা শোনায় শাশুড়ীর সাথে এমন করায়।

    সমাপ্ত

    অনুগল্প: মা/শাশুড়ী
    ✍️ইসমাঈল মজুমদার

    বিঃদ্রঃ প্রিয় পাঠক ভাইয়েরা, আসসালামু আলাইকুম। গল্পটা সম্পুর্ন কাল্পনিক। শুধু বোঝাতে চাইলাম বউয়ের জন্য কখনো মাকে বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে আসবেন না। যে আপনাকে দুনিয়ার আলো দেখাতে প্রসবের ব্যাথা সহ্য করেছে। আপনার চেহারা দেখেই সমস্ত ব্যাথা ভুলে গেছে।

    পাঠিকা বোনেরা: একজন মাকে ছেড়ে শোশুর বাড়িতে আসলেন। স্বামীর মাকেও নিজের মায়ের মতো আপন করে নিন। তাতে সংসার সুখের হবে। শোশুর শাশুড়ী গাড়ের উপর বোঝা নয়। ছায়া দাতা বৃক্ষ। বিপদে আপনি পাবেন অভিজ্ঞতা সম্পুর্ন পরামর্শ দাতা। আর আপনার সন্তান পাবে বিশস্ত খেলার সাথী।

    #ম#mother #Ma #amma #bow #বউ

    5
    4 Comments
    • বাহ! আপনি তো বেশ ভালো গল্প লিখেন! এমন আরো গল্পের অপেক্ষায় রইলাম!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 25 May 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

  1. ইসমাঈল হোসেন মজুমদারের সম্পূর্ণ পরিচয়

পুরো নাম: ইসমাঈল হোসেন মজুমদার
ডাক নাম: ইসমাঈল
কলম নাম: ইসমাঈল মজুমদার
জন্ম: ২০০২ সাল, বাগচতল গ্রাম, মনোহরগঞ্জ থানা, কুমিল্লা, বাংলাদেশ
জাতীয়তা: বাংলাদেশি
ধর্ম: ইসলাম


শিক্ষা জীবন:

  • প্রাথমিক শিক্ষা: শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
  • পরবর্তী শিক্ষা: বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং ২০১৪ সালে চিতাষি সুলতানিয়া ফাজিল মাদরাসায় ইবতেদায়ী চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
  • পরীক্ষার ফলাফল:
    • PSC: ২০১৬
    • JSC: ২০১৯
    • দাখিল: ২০২২
    • আলিম: ২০২৫

বর্তমান পড়াশোনা:

  • ফাজিল: চিতোষি সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
  • অনার্স: গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা।

পারিবারিক পরিচয়:

  • পিতা: মরহুম বাহারুল ইসলাম মজুমদার (২০০৪ সালে ইন্তেকাল করেন) – তিনি ছিলেন একজন ইউনিয়ন সদস্য ও স্ক্রিম ব্যবসায়ী।
  • মাতা: রোকেয়া বেগম
  • ভাই-বোন: তিনি আট ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট।
    1. মরিয়ম বেগম লাভলী
    2. ওমর ফারুক সোহেল মজুমদার
    3. জান্নাতুল ফেরদৌস
    4. শিউলি
    5. শেফালী
    6. মাইমুনা আক্তার বকুল
    7. ইউসুফ হোসেন মজুমদার
    8. ইসমাঈল মজুমদার

পেশাগত জীবন:

  • তিনি একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং ফ্রিল্যান্সার
  • পাশাপাশি, সাহিত্য রচনায়ও তিনি সক্রিয়।

সাহিত্য ও লেখালেখি:

  • তিনি মূলত কবিতা, ছোটগল্প ও হাস্যরসাত্মক গল্প লিখে থাকেন।
  • তার লেখা কিছু জনপ্রিয় কবিতা ও ছন্দ:
    1. "আমারে দেখায়া লাভ নেই"
    2. "প্রিয়"
    3. "বড্ড ইচ্ছে করে"
    4. "কোথাও কখনো দেখা হয়নি তোমার ছবিটা"
    5. "বৃষ্টি বিলাস"
    6. দুই লাইনের প্রেমের ছন্দসমূহ
    7. বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরে তার লেখা আহ্বান

তার কবিতাগুলো প্রেম, বিরহ, বাস্তবতা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে লেখা হয় এবং পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।


বিশেষ পরিচিতি ও জীবন দর্শন:

  • তিনি বিশ্বাস করেন, "যেকোনো কিছু সম্ভব, যদি কেউ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে"
  • সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার এবং লেখনীর মাধ্যমে মানুষের বিবেক জাগ্রত করার চেষ্টা করেন।
  • তিনি ইসলামী মোটিভেশনাল ভিডিও তৈরিতেও আগ্রহী।

সংক্ষেপে ইসমাঈল মজুমদার:

✅ কবি ও লেখক
✅ ফ্রিল্যান্সার ও গ্রাফিক ডিজাইনার
✅ সামাজিকভাবে সচেতন ব্যক্তিত্ব
✅ ইসলামী মোটিভেশনাল ভিডিও নির্মাণে আগ্রহী

Skip to toolbar