-
বিংশ শতাব্দী মানব জাতির ইতিহাসে এক অসম্ভ সময়। এই বিংশ শতাব্দীতে আমরা জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রভুত উন্নয়ন দেখেছি। ১৯০১ সালে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪০ বছর। আজ ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর। বিংশ শতাব্দীতে মাতৃ মৃত্যু হার এবং শিশু মৃত্যু কমে এসেছে অনেক গুণ। নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে প্রাণঘাতী অনেক সংক্রামক ব্যাধি। শিল্পায়ন পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। নগরায়ন সম্ভব হয়েছে। অতীত নিয়ে আমরা নসটালজিক হতে পারি। কিন্তু অতীতে জীবনের সুরক্ষা ছিল না। এটিই সত্য।
ঊনবিংশ শতাব্দীর দাস প্রথা উচ্ছেদ করে বিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ প্রথম অপরিণত গণতন্ত্রের ধারণার সাথে পরিচিত হয়েছে। নারীর ভোটাধিকার দেয়া হয়েছে। সত্য বলতে নারী যে একজন সম্পূর্ণ মানুষ এই ধারণা বিংশ শতাব্দীতে প্রথম সামনে এসেছে। মানুষ তার মর্ত্যের পৃথিবীকে অতিক্রম করে প্রথম মহাকাশে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে আমার হাজার মাইল দুরের আত্মীয়ের সাথে আমি কথা বলতে পারি, দেখতে পারি। দূরত্বের ধারণা নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। পরিবার গঠনের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। এই শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করেছে।
প্রশ্ন হল যদিও বিংশ শতাব্দী এবং একবিংশ শতাব্দী মানব জাতির জন্য সবচেয়ে উত্তেজক সময়; কিন্তু এর সব কি ভালো ? বিংশ শতাব্দীতে আমরা প্রথম দুটি বিশ্বগ্রাসী যুদ্ধ এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখেছি। অতীতের সকল যুদ্ধের সমষ্টিগত ক্ষয় ক্ষতির থেকে তা ভয়ংকর। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে প্রায় এক কোটি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় সাত কোটি মানুষ মারা গিয়েছে। যুদ্ধের কৌশল হয়েছে আরো ভয়ংকর, আরো অমানবিক, আরো ভয়াবহ। এই দুই বিশ্ব যুদ্ধের মানবিক প্রভাব, অকল্পনীয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে একটি জেনারেশন তৈরি হয়েছে, লস্ট জেনারেশন। শিল্পের ধারা বদলে গেছে। বদলে গেছে সাহিত্যের ধারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব আরো ভয়াবহ। মানুষের দানবীয় ক্ষমতার দর্শক হয়েছে মানব প্রজাতি। ভয়ংকর দানবীয় ক্ষমতা। তাই মানুষ যুদ্ধ থেকে বের হতে চেয়েছে। গঠন করেছে ইউ এন, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেশ কালের ধারণা বদলে দিয়েছে এই যুদ্ধ। আগে যে প্রযুক্তি কুক্ষিগত ছিল ক্ষমতাশালীর হাতে তার এক অংশ চলে এসেছে সাধারণ মানুষের হাতে। প্রথম কমার্শিয়াল এয়ার ফ্লাইট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফল। মানুষ দেখেছে আকাশে পাখির মতো একটা যন্ত্র উড়ে বেরাতে পারে আর বোমা ফেলতে পারে। এই যুদ্ধে ছেলেদের যুদ্ধ করতে হয়েছে বলেই নারীকে সকল দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের ব্যপক প্রবেশ শুরু হয় এই যুদ্ধের পরই। কর্মস্থলে নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা, অধিকার এর ধারণা তখনই তৈরি হয়েছে। এগুলো কোন স্বপ্নের ফানুশ নয়, প্রবল বাস্তবতা। অন্য দিকে মানুষ ভুগতে শুরু করেছে একাকিত্বে কারণ মাইগ্রেশন সব চেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর। মানুষ এর দেশ কালের ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে। যৌথ পরিবার থেকে নিউক্লিয়ার পরিবারের ধারণা তৈরি হয়েছে। মানুষের সত্তায় এসেছে এলিয়েনেসনের ধারণা। সে ক্রমশ হয়েছে একাকী। তৈরি হয়েছে নতুন সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার প্রচেষ্টা। তৈরি হয়েছে নিজস্ব দর্শন এবং বৈচিত্রের ধারণা।
মানব সভ্যতার ইতিহাসে এত বেশি স্কলার আর কখনো ছিল না। এতো প্রতিভাধর ব্যক্তি ছিল না। এতো সংখ্যক গবেষক ছিল না। ছিল না কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী। তথ্য প্রযুক্তি এবং সুযোগ সুবিধার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সময় এখন। কিন্তু অন্য দিকে আমরা পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছি। যা আমাদের অস্তিত্বের সঙ্কট তৈরি করেছে। নতুন ধরণের জীবন যাত্রায় আমরা প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি যা আমাদের পূর্ব পুরুষদের ভাবতে হয় নি। জীবনে এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য আবার এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সংগ্রাম।
আমি মিলেনিয়াল জেনারেশনের। সেদিন দেখলাম মানব জাতির ইতিহাসে মিলেনিয়াল জেনারেশনে স্কলারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আমার ভালোই লাগলো। আমি সব সময় মনে করি আমি এক অভুতপূর্ব সময়ে বাস করছি। আমাদের কেউ কেউ অতীতে ফিরে যেতে চাইবে। কিন্তু অতীত, নতুন দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হবে না। নতুন দিনের নতুন প্রতিকূলতা নতন ভাবেই সমাধান করতে হয়। সংকট থাকলে সমাধান ও থাকবে।6 Comments-
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 05 May 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
-
Friends
Nadia Rifat ritu
@ritu
Taposh Kumer dey
@taposhkumerdey
হুসেন মোহাম্মদ সারোয়ার সাঈদ
@hm-saroar-saied
রাইসা আনজুম (পর্শি)
@raisaanjumporshi
মো: নাজমুল আখতার
@faith
জান্নাতুল ফেরদাউস
@ferdawsejannatul343gmail-com
সাব্বির হোসেন।
@shadowhunter3d
প্রাপ্তি রোজারিও
@praptirozario
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com


অতীতের নির্মলতার সাথে বর্তমানের প্রযুক্তির মিশেলে সুন্দর এক আগামীর প্রত্যাশায়