-
কবিঃ মুহাম্মাদ আল-মামুন
তারিখঃ ১২.০৮.২২ইং
কবিতা–৩৯৮।
আবেগের কথোপকথন (৩)
————————————–
অবসর প্রাপ্ত বাবা বেশ কিছুদিন কর্মব্যস্তো ছেলের মোবাইল কল না পেয়ে নিজেই কল দিলে ছেলে কল রিসিভ করে সালাম দিলেন।বাবাঃআয়ালাইকুম ওয়াসালাম।কেমন আছো বাবা?
ছেলেঃভালো আছি।তোমার শরীর কেমন,বাবা?
বাবাঃএখন বয়স হয়েছে,আর কত ভালো থাকবে,বাবা?
ছেলেঃ ঔষধগুলো ঠিক মত খাচ্ছে তো?
বাবাঃ আমাকে নিয়ে এতো চিন্তা করো না,বাবা।কদিন হলো কোন কল দিচ্ছো না যে? তোমার শরীর ঠিক আছে তো?
ছেলেঃ আমি ভালো আছি। অফিসের কাজে একটু বশি ব্যস্ত ছিলাম।তাই আর কল দেয়া হয়নি।
বাবাঃ যতোই ব্যস্ত থাকো নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখবে।বউ মা আর নাতিরা কেমন আছে, বাবা?
ছেলেঃ অবশ্যই বাবা। ওরা সবাই ভালো আছে।
বাবাঃ ওদের নিয়ে বেড়াতে আসার কথা ছিলো আর তো এলে না।
ছেলেঃ তোমার নাতিদের পরীক্ষা শুরু হয়েছে শেষ হলেই আসবো ইনশাল্লাহ।
বাবাঃ কি যে লেখাপড়া শুরু হয়েছে সারা বছর শুধু পরীক্ষা লেগেই থাকে। বাচ্চাদের এতো পড়ার চাপ দেসনে।
ছেলেঃ কি করবো বাবা? সব সাবজেক্টে টিচার দিতে হয়।
বাবাঃ তোদের তো এতো টিচার দিয়ে পড়াতে হয়নি তোরা কি মানুষ হোসনি?
ছেলেঃ সেই যোগ কি এখন আছে বাবা! বলছিলাম কি, তুমি তো একবার শহরে বেড়িয়ে গেলেই পারো।
বাবাঃ তোদের শহরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। সারাদিন ঘরের মধ্য শুয়ে- বসে কাটাতে ভালো লাগেনা।
ছেলেঃ আসলে তোমার নাতিরা বেশ খুশি হতো।ওদের সাথে খেলতে পারতে।
বাবাঃ অতটুকু ঘরে খেলা যায়,তোরা ছোটবেলায় কত বড় মাঠে খেলাধুলা করেছিস মনে আছে।এখন কি দিনকাল এলো!
ছেলেঃ একা বাসার বাইরে যেতে দেই না বাবা।
বাবাঃ কেনো, তোরা কি একা ঘরের বাইরে যাস নি?
ছেলেঃ ওদের নিরাপত্তার কথাও তো ভাবতে হয়,বাবা।
বাবাঃ কি দিনকাল যে এলো? আরো কতকিছু যে আল্লাহ তাআলা দেখাবেন।এসব দেখার জন্যই বুঝি বেঁচে আছি।(দীর্ঘশ্বাস ফেলে)
ছেলেঃ বাবা,ডাক্তার যে ভিটামিনগুলো দিয়েছে তা ঠিকমত খাচ্ছো তো।
বাবাঃ খাচ্ছি,বাবা তারপরও শরীরটা দূর্বল লাগে।
ছেলেঃ ডাক্তার বলেছে ওটা নিয়মিত খেলে দূর্বলতা কেটে যাবে।
বাবাঃ বাবারে, এখন বয়স হয়েছে সুস্থ্য থাকতে থাকতে ওপারে যেতে পারলেই হয়।
ছেলেঃ তোমাকে না বলেছি এসব কথা কখনো বলবেনা।তুমি আরো ২০ বছর বাঁচবে।তোমার নাতির বউ দেখে যেতে পারবে।(হাসতে হাসতে)
বাবাঃ (হাসতে হাসতে) ঐ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা রাখলে হয়।এতো সুখ কি কপালে আছে?
ছেলেঃ আছে আছে, আর কয়েক বছর পর তোমার নাতি ডাক্তার হয়ে বের হবে।ও-ই তোমার চিকিৎসা করতে পারবে দেখো।
বাবাঃ (শব্দ করে হাসতে হাসতে) হ্যাঁ, নাতির চিকিৎসা দেইখাই মরোম।
ছেলেঃ এখন তো মনে হচ্ছে শরীরে আর দূর্বলতা নাই।কোন টেনশন করবানা।
বাবাঃ তোদের সাথে কথা বললে একটু ভালো লাগে।পারলে নাতিদের নিয়া আসিস।গাছে অনেক আম- কাঁঠাল ধরছে নাতিগুলা দেইখা মজা পাইবো।
ছেলেঃ পরীক্ষা শেষ হলেই বাবা আসবো মন খারাপ করো না।
বাবাঃ আসিস বাবা, বয়স হইছে কখন কি হয়? নাতিগুলারে দেইখা যাই( কাঁদতে কাঁদতে)
ছেলেঃ কাঁদতেছো কেন? বললাম তো পরীক্ষা শেষ হলেই চলে আসবো। মন খারাপ করো না তো। বেশি মন খারাপ হলে আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি চলে এসো,কয়েক দিন নাতিদের সাথে থেকে যাও।
বাবাঃ না রে বাবা ওদের পরীক্ষা,ডিস্টার্ব হবে।ওদের বলিস,যেনো মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা দেয়।
ছেলেঃ আরে কি যে বলো না? তুমি আসলে আবার ডিস্টার্ব কিসের।ওরা বরং মজাই পাবে।
বাবাঃ না থাক বাবা।তুমি মনে হয় অফিসে।আর কথা না বলি। তোমার সময় নষ্ট হচ্ছে।পরে আবার কথা বলবো নে।
ছেলেঃ সারাটা জীবন শুধু ভালোই চিন্তা করে গেলে সন্তানের সফলতার জন্যে।নিজের কথা কখনো ভাবলে না।অথচ আমরা কতটুকুই বা করতে পারছি তোমার জন্যে।জানি এর কোন ক্ষমা হয় না। তবুও বললো বাবা ক্ষমা করে দিও।( মনে মনে বললো ছেলে)। আচ্ছা বাবা।আসসালামু আলাইকুম।
বাবাঃ ওয়ালাইকুম ওয়াসালাম।ভালো থাকিস বাবা।শরীরের প্রতি খেয়াল রাখিস।এখন কিন্ত করোনা আবার বাড়তেছে।
ছেলেঃ আচ্ছা বাবা।ভালো থেকো।ঔষধগুলো ঠিকমত খেয়ো।(বি.দ্রঃ একটা সময় বাবা’রা খুব একা হয়ে যায়,তাদের কেউ সময় দেয়া আমাদের সকলের কর্তব্য)
2 Comments
Friends
md.iqbal hussain
@loneliness-boy1
Jannatun Nur
@jannatun-nur
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Nahian Hasan
@hasan009
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
মো. মিকাইল অাহমেদ
@mekail2
Borno
@biborno
সৈয়দ মোহাম্মদ জামান
@sayedzaman
তিমিরে আসক্ত
@mp3010


সুন্দর আবেগ জড়ানো লেখা! খুব ভালো লাগলো। সত্যি বাবার কথা ভাবি ঠিকি কিন্তু কেনো জানি মন খুলে কথা বলা হয়না। এই সংকোচ দূর হোক সব সন্তানের অন্তর থেকে।