Profile Photo

মোহাম্মদ শাহজামান শুভOffline

  • Mohammad-Shahzaman
  • তোরণের তামাশা
    সেলিম মতি নামের মানুষটি এক সময় ছিলেন সরকারের বড় আমলা। চাকরি জীবনে ছিলেন বেশ কড়া, হাতে ফাইল পড়লে ঝটপট সই করতেন না—যতক্ষণ না দেখে নিচ্ছেন কে পেছনে আছে, কে সামনে আছে। মানুষজন বলত, তিনি নাকি নিয়মের কড়ি। কিন্তু আসলেই কি নিয়ম? আসলে তিনি ছিলেন নিয়মের ভিতরে চামচামির কড়ি। যে সরকারের হাওয়া যেদিকে বইত, সেলিম মতি তার হা…Read More

    4
    4 Comments
  • ভুল মেসেজের আলো
    বৃষ্টি থেমেছে মাত্র। গ্রামের আকাশে তখনো ঝুলে আছে মেঘের ছায়া, বাতাসে ভিজে মাটির গন্ধ। সরলা, বছর পঁইত্রিশের এক বিধবা নারী, বারান্দায় বসে ছিলেন শূন্য চোখে। গতকালই তিনি স্বামী অরুণকে হারিয়েছেন। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নিঃশ্বাস থেমে গেল। সরলার পৃথিবী যেন মুহূর্তেই ভেঙে গেল। চারপাশে অনেক মানুষ, আত্মীয়-স্বজন…Read More

    4
    4 Comments
  • আলোর বীজ
    বর্ষাকালের ভোর। চারদিক ভিজে আছে টিপটিপ বৃষ্টির জলে। গ্রামের মাটির ঘরে বসে আছেন ফজলুল হক মাস্টার। বয়স পঁয়ষট্টি ছুঁইছুঁই, মুখে সাদা দাড়ি, চোখে চশমা। ছোট্ট একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারা জীবন শিক্ষকতা করেছেন। অবসর নেওয়ার পরও তাঁর কাছে প্রতিদিন আসে অনেক ছেলে-মেয়ে, কারও হোমওয়ার্ক বুঝতে সমস্যা, কারও আবার বই কেনার সামর্থ্য নেই—সবাই য…Read More

    4
    6 Comments
  • ডিজিটাল দিগন্তে সূর্যের আলো
    সোনারকান্দি নামের ছোট্ট গ্রামটা সবুজে ঘেরা, নদীর ধারে পাখিদের কোলাহলে ভরপুর। চারদিকে ধানক্ষেত, খোলা মাঠ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে সেজে উঠত বসন্তের সকাল। একসময় এখানে সন্ধ্যা নামলেই শিশুদের দৌড়ঝাঁপে মাঠ মুখর থাকত। এখন আর সেই দৃশ্য নেই। এখন গ্রামের প্রতিটি ঘরেই আলো ঝলমলে স্ক্রিন—কখনো টেলিভিশন, কখনো স্মার্টফোন, আবা…Read More

    3
    5 Comments
  • মনের রঙধনু
    মনের আঙিনায় ঝড় ওঠে হঠাৎ,
    অকারণ ভয়ে রাত জাগে প্রতিঘাত।
    ভাবনার নদী যায় বন্যার মতো,
    আত্মবিশ্বাস ডুবে যায় শতকোটি ক্ষত।
    দুশ্চিন্তা শিকল বাঁধে হাতে-পায়ে,
    স্বপ্নগুলো মলিন হয় আঁধারের ছায়ায়।
    করোনার নিঃসঙ্গতা টেনে আনে রাত,
    অহেতুক ভয়ে ভাঙে হাসির প্রভাত।
    তবু আঁকাবাঁকা পথে রঙতুলি হাতে,
    খুঁজে পাই আলো, দুঃখ ফে…Read More

    3
    4 Comments
  • মুক্তির রঙতুলি
    শীতল ভোরের আলো যখন ধীরে ধীরে শহরের জানালাগুলোয় প্রবেশ করে, তখনও রীমার চোখে ঘুম আসে না। বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় সে ঘড়ির কাঁটার শব্দ শোনে—টিকটিক টিকটিক। প্রতিটি টিক তার মাথার ভেতর প্রতিধ্বনির মতো বাজে, যেন সময় তাকে তাড়া করছে। অথচ করার মতো কোনো কাজ নেই, কোনো দায়িত্ব নেই, কোনো অগ্রীম পরিকল্পনাও নেই। তবু তার মন ছুটে বেড়ায় এক অদৃশ্…Read More

    3
    4 Comments
  • “ভালোবাসার ধৈর্যের পাঠশালা”
    ________________________________________
    রায়হানের বয়স ছাব্বিশ পেরিয়েছে। ডাক্তারি পেশায় তিনি এখনো একেবারে নতুন, তবে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ডিউটির চাপ, বইপত্রের পাহাড়, সার্জারির ক্লাস, গবেষণার নোট—সবকিছু মিলিয়ে তার প্রতিদিনের জীবন একরকম যান্ত্রিক ছন্দে বাঁধা। এই ছন্দের বাইরে সামান্য কিছু ঘটলেই তার মনে অস্থিরতা আসে।…Read More

    4
    4 Comments
  • অটল আশ্রয়
    রাত তখন গভীর। চারপাশে নিস্তব্ধতা। কিন্তু মিমের বুকের ভেতরটা যেন ঝড়ো সমুদ্র। বাচ্চাটাকে বুকে নিয়ে জানালার পাশে বসে আছে সে। এক বছরের ছোট্ট প্রাণটা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে, মায়ের সমস্ত কষ্টের মাঝেও তার ঘুমের মুখটা নির্ভার। অথচ মিমের চোখে ঘুম নেই। মনে পড়ে যায় কত কথা, কত অপমান, কত কষ্টের টুকরো—যেন ভাঙা আয়নার মতো ছড়িয়ে আছে জীবনের পথে পথে।…Read More

    3
    2 Comments
  • সংসারের সেতুবন্ধ
    নানান রঙে ভরা শহর, মানুষে ভরা রাস্তাঘাট, আলো–আঁধারির খেলা। সেই শহরেরই এক কোণে, বন্ধুর মতো আপনজন ফরহাদের সংসার নিয়ে এখন দোটানায় দাঁড়িয়ে আছি আমি। কী বলব তাকে? কোন পথে ঠেলে দেব তাকে—ভাঙনের পথে, নাকি জোড়ার পথে?
    ফরহাদের বিয়ের বয়স হয়েছে এক বছর। তার বউ, শিউলি, শিক্ষিত, ভদ্র এবং সাংসারিক। প্রথম যেদিন শিউলিকে দেখেছিলাম, মনে হয়েছিল, তার…Read More

    3
    2 Comments
  • হারানো চিঠির পুনর্জন্ম

    নানিয়ারচরের বিকেলগুলো এক অদ্ভুত শান্তি মাখা। পাহাড়ের কোলে লাল-সবুজের খেলা, বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে আসা হাওয়ার মৃদু সুর, আর দূরে পাহাড়ি মেয়েদের গলার হাসি—সবকিছু মিলেমিশে যেন অন্য এক জগৎ তৈরি করে। মোহাম্মদ শাহজামান শুভ এবার সরকারি একটি প্রজেক্টের কাজে এখানে এসেছেন। স্থানীয় ডাকবাংলোতে তার থাকার ব্যবস্থা। দিনের ব্যস্ততা শেষে বিকে…Read More

    3
    2 Comments
    • শুভ এবং মিনুর পুনর্মিলন প্রমাণ করে যে, কিছু সম্পর্ক সময়ের বাঁধন ভেঙেও টিকে থাকে। আপনার লেখায় সবসময়ই আশার বানী পাওয়া যায়, এখানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

  • হারিয়ে যাওয়া চিঠির নীরবতা
    সৈকতের ডেস্কে এখনও পড়ে আছে সেই শেষ চিঠি। পাতলা সাদা খামের ভেতরে তিন্নির লেখা, কালি ম্লান হয়ে আসছে। প্রায় দুই মাস কেটে গেছে, নতুন কোনো খাম ডাকঘর থেকে আসেনি। প্রতিদিন বিকেলে ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টার শব্দ শুনে সৈকতের বুক ধড়ফড় করে ওঠে। হোস্টেলের করিডর দিয়ে সে অস্থির পায়ে নিচে নেমে আসে, কখনো দাঁড়িয়ে থাকে গেটের পাশে। কিন্…Read More

    4
    2 Comments
    • চিঠির মাধ্যমে ভালোবাসার এই গল্পটা আমাকে অনেক নস্টালজিক করে তুলল। একটা সময় ছিল যখন মোবাইল বা ইন্টারনেট ছিল না, তখন মানুষ চিঠি লিখেই মনের কথা বলতো। সেই সময়ের আবেগ আর ভালোবাসা এই গল্পে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।

  • মুখোশের মহাকাব্য

    রাজনীতি—
    রক্তে লেখা গ্রন্থ,
    ঘামে ভেজা অক্ষর।
    দল—
    ধর্মের মুখোশ,
    নেতা—
    অর্ধদেবতার প্রতিমা।
    সত্য—
    ভিখারি হয়ে কাঁদে,
    মিথ্যা—
    রথে চড়ে আসে,
    মানুষ—
    ফুল ছুঁড়ে দেয় তার পথে।
    ________________________________________
    প্রাসাদ দুইটি—
    একটিতে আগুন,
    অন্যটিতে ধোঁয়া।
    মানুষ দৌড়ে যায় ধোঁয়ার ঘরে,
    ভাবছে—
    “এখানেই মুক্তি।”…Read More

    3
    2 Comments
  • সৈকতের হৃদস্পন্দন
    সমুদ্রের ঢেউ গর্জে উঠছে, যেন অদৃশ্য কোনো গান গাইছে। গফুর তার নাতনি মায়ার হাত ধরে সৈকতের দিকে হাঁটছিলেন। সন্ধ্যা নামছে, আকাশে নীলচে আঁধার নামতে শুরু করেছে। দূরে হোটেলগুলোর আলো জ্বলে উঠছে, তবে বালুচরের বুক যেন অদ্ভুতভাবে শূন্য। মায়া হঠাৎ থেমে বলল,
    — “নানা, তোমার শৈশবের গল্প বলো না, যখন লাল কাকড়ার ঝাঁক এই বালুতে দৌড়াত?”
    গফুর দ…Read More

    3
    2 Comments
    • গল্পটা পড়ে মনটা কেমন যেন বিষণ্ণ হয়ে গেল, আবার শেষে একটা আশা খুঁজে পেলাম। নানা আর নাতনির কথোপকথনটা এত আন্তরিক যে মনে হলো আমিও যেন তাদের সঙ্গে হেঁটে চলেছি। লাল কাঁকড়ার গল্পটা শুনে শৈশবের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল।

  • জ্ঞানই আসল সমৃদ্ধি
    মফস্বলের ছোট্ট এক শহরে রাহাতের জীবন। বয়স মাত্র বাইশ। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। ওর পরিবারের আর্থিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মা গৃহিণী। সংসারের হিসাব-নিকাশে প্রতিদিনই টানাপোড়েন লেগেই থাকে। রাহাত জানে, বাবার পক্ষে সবসময় অতিরিক্ত খরচ সামলানো সম্ভব নয়। তাই যখনই বই কেনার প্রসঙ্গ আসে, ঘরে একটা…Read More

    3
    2 Comments
  • স্বচ্ছতায় সুপ্রকাশিত একটি জীবন
    দুদক টিম এক ভোরে গিয়েছিল তিনবারের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ-এর বাড়িতে। ঠিকানার সন্ধান পেয়ে তারা পথ চলছিলেন। এলাকার মানুষরা আগেই জানিয়েছেন, এই লোকজন সচেতন, দুর্নীতি কমানোর জন্য জনসেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু যখন তারা পৌঁছলেন, তাদের চোখে অবিশ্বাস জন্মালো। সামনে ছিল মাঝারি সাইজের একটি টিনের ঘর।…Read More

    3
    4 Comments
  • তিলের ফাঁদ
    ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো প্রতিদিনের মতোই গমগম করছে। রিকশার ঘণ্টা, বাসের হর্ন, ভ্যানওয়ালার হাঁক—সব মিলে যেন এক অদৃশ্য জাল বুনে রেখেছে মানুষকে। এই জালের ভেতরেই বাস করে তৃষা। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি, দুই সন্তানের মা। স্বামী রাশেদ একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করে, ভোরে বের হয়, রাতে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে। সংসারের খুঁটিনাটি কাজ…Read More

    6
    2 Comments
  • রাহেলার শিক্ষা
    বাংলার এক ছোট্ট গ্রাম। ধানের শীষে বাতাস দুলছে, পুকুরপাড়ে জোছনার আলো পড়ছে, বাঁশঝাড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। সেই নিস্তব্ধতার মাঝেই বাস করত রাহেলা। বয়সে খুব বেশি নয়, বিয়ের এক দশকও হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই সংসারের ভার যেন তাকে বুড়িয়ে দিয়েছে। দুই সন্তান—একজন স্কুলে পড়ে, আরেকজন সদ্য হাঁটতে শিখেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসার…Read More

    6
    2 Comments
  • গ্রামের পোটলি
    বাংলার অন্তহীন সবুজের ভেতর দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়ে ধানের সোনালি ঢেউ, নদীর তীরে বাঁশবন, কাশফুলের দোলায় ভরা সরল জীবনের গ্রাম। সেই গ্রামেই বাস করত রফিক। রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে সারাদিন জমিতে কাজ করত সে। গরু চরানো, ক্ষেতের আগাছা তোলা, মাছ ধরা—সবকিছু মিলিয়েই তার সংসার চলত। পড়াশোনা বেশিদূর হয়নি, কিন্তু তার মন ছিল নির্মল আর সরল, যেন গ…Read More

    5
    2 Comments
  • দানবের ছায়া
    ঢাকার কলাবাগানের সরু গলিতে এক ঘরে থাকে রাফি। বয়স কেবল বিশ, অথচ চোখের নিচে কালো দাগ, ঠোঁটে অস্থিরতার রেখা। একসময় বই হাতে বসে রাত জেগে পড়াশোনা করত, কলেজে সবার কাছে ভালো ছাত্র হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর যেন ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়ে সে। সেই ভাঙনের ফাঁকেই তার জীবনে আসে লালচে এক ট্যাবলেট—ইয়াবা।…Read More

    6
    3 Comments
  • ঝরে পড়া সূর্যের গল্প
    তিতাসের অজপাড়াগাঁয়ে বসবাস আমার। শান্ত-স্নিগ্ধ গ্রাম, চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত, খালের ধারে তাল-খেজুর গাছের সারি। এই গ্রামেই আমার শিক্ষকতা জীবনের শুরু। সময়টা খুব বেশি দিনের নয়, তবে অল্প সময়েই পেশাটির প্রেমে পড়ে গেছি। শিশুর হাসিমুখ, তাদের টুকটাক প্রশ্ন, মাঝে মাঝে খেয়ালি দুষ্টুমি—এসব যেন আমার প্রতিদিনের প্রাণশক্তি। মনে হয়, এ শুধু…Read More

    4
    6 Comments
  • Load More Posts
Skip to toolbar