Profile Photo

তিতা ফুলOffline

  • nadia1
  • Profile picture of তিতা ফুল

    তিতা ফুল

    • 2 hours, 22 minutes ago

    “ প্রয়োজন বোধ করিনি।”

    আবরারের এমন কথা যেন ছোটখাটো একটা বিস্ফোরণ ঘটায় ড্রয়িংরুমে। ততক্ষনে সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন রাবেয়া বেগমও। হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে থাকেন তিনিও। যেই আবরার কিনা জীবনে কোনোদিন বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা প্রতিবাদ করেনি, সে কিনা আজ এভাবে কথা বলছে তার সাথে! আশ্চর্যের বিষয় বৈকি!

    “ তুই আমার সাথে এভাবে কথা বলছিস?”

    “ কেন? আপনার সাথে কি কথা বলা অন্যায়?”

    অবাকের চরমে পৌঁছান আফজাল সাহেব। আজ যেন উনার অবাক হওয়ারই দিন। সম্পত্তি নিয়ে হাবীব সাহেব ঝামেলা করবেন বলে তার ভাগে মোটামুটি ভালোই দিয়েছিলেন তিনি। তবে আবরারকে কিছু না দিলেও সে কোন প্রতিবাদ করবে না বলে ১০০% নিশ্চিত ছিলেন। এমন কিছু হবে ভাবতেও পারেন নি যেন।

    “ কি ভেবেছিলেন? আমার স্ত্রীকে এই বাড়ির কাজের বুয়া বানিয়ে রাখবেন, আর আমিও আপনার কথা মেনে চলবো সারাজীবন? কখনো কোন প্রতিবাদ করবো না?”

    “ তুই ঠিক আছিস? পাগল হয়ে গেছিস নাকি? কার সাথে কিভাবে কথা বলছিস, ভেবে বলছিস তো?”

    “ আমি ভেবেই বলছি কথা ,তবে কাজগুলো হয়তো আপনি ভেবে করেননি!”

    উত্তর খুজে পান না তিনি। কথা গুলিয়ে ফেলেন সব। স্ত্রীর ইশারায় পুনরায় কিছু বলতে নিয়েও থেমে যায় আবরারের নির্লিপ্ততায়। কথা বাড়ায় না সে। এক হাতে লাগেজ আরেক হাতে ইন্তিহার হাত ধরে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। শৈশব কৈশোরের দিনগুলো পেরিয়েছে যেখানে, বাবা মায়ের হাজারো স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ির উঠোন, চিলেকোঠা আর আনাচ কানাচ, হৃদয় ভার হয়ে রইলেও কান্না আসে না তার। তবে গেইটের কাছটায় মায়ের কবরের সামনে এসে থমকে যায় কদম। মায়ের সাথে তো কোন অভিমান নেই, তবু তাকেও ছেড়ে যেতে হচ্ছে নির্দয়ের মতো!

    ——————————————————————–

    সাদামাটা একটা ফ্ল্যাট। ঢাকা শহরে এতো কম ভাড়ায় দুই রুমের এই বাসাটা পাওয়াই তো বরং ভাগ্যের ব্যাপার।আবরারের চাকরিটাও তেমন না। বাসা ভাড়া দিয়ে, খেয়ে পড়ে কোনরকমে চলার মতো এই যা।
    ও বাড়ি থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আগেই আনিয়ে রেখেছিলো আবরার। সব গুছিয়েও রাখা। বারান্দার একটা পাশে বাতাস আসার মতো জায়গা আছে, বাকিটা আশেপাশের বিল্ডিং এর জন্য অন্ধকার হয়েই থাকে। বারান্দায় এসে দাঁড়ানোর একটু বাদেই নিজের পাশে আবরারের উপস্থিতি পেয়ে পেছনে ফেরে ইন্তিহা। হাত মুখ ধুয়ে এসেছে লোকটা।

    “ পছন্দ হয়নি জানি। তবে আমাকে আরেকটু সময় দাও, একটা ভালো চাকরি হয়ে গেলেই ভালো একটা বাসা নিবো। এই কয়টা দিন একটু মানিয়ে নিতে পারবে না কষ্ট করে?”

    লোকটার এমন আকুতিভরা কণ্ঠে হতচকায় সে। এসব কেমন কথা! লোকটা কিনা ওর কথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছে এখনো!

    “ আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? কি বলছেন এসব? কষ্ট করতে হবে কেন? তাছাড়া আমি তো আগেই বলেছি, আপনার সামর্থ্য যেমন আছে, সেভাবেই থাকতে রাজি আছি আমি। অতিরিক্ত খরচ করা আমি পছন্দ করি না, জানেনই তো আপনি। তবুও এমনভাবে বলছেন?”

    ওর কথায় মলিন হাসে ছেলেটা। আশ্বস্ত করে ওকে। তবে কোথাও একটা খারাপ লাগা থেকেই যায় যেন। আগের কিছু টাকা জমানো ছিল, নতুন বাসায় আসা, কিছু আসবাব কেনাকাটা করতে গিয়ে সেগুলোও শেষ হয়ে গেছে প্রায়। মাস শেষ হতে ৮ দিন বাকি এখনো। পরবর্তী মাসের বেতন পাওয়ার আগ পর্যন্ত ধার দেনা করতে হতে পারে হয়তো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকায় সে। নিজের জন্য না হোক, অন্তত ইন্তিহাকে ভালো রাখতে যতটা কষ্ট করতে হয় করতে রাজি সে।

    ——————————————–

    চোখ বন্ধ রেখেই বিছানা হাতড়ে ইন্তিহাকে না পেয়ে তড়াক করে চোখ খুলে আবরার। দেয়াল ঘড়িতে এখন রাত ৩ টা বেজে ৩৫ মিনিট। এতো রাতে কোথায় যাবে মেয়েটা! শোয়া থেকে উঠে বসতেই নজরে পড়ে রুমের এককোনে জায়নামাজে সিজদাহরত সুভ্র নারীটির দিকে। খানিক বাদে বাদে কেপে উঠছে অবয়ব তার। কান্না করছে কি!
    শব্দহীনভাবে উঠে ওজু করে আসে ছেলেটা। ওর পাশাপাশি আরেকটা জায়নামাজ বিছিয়ে দাড়িয়ে পড়ে সেও। নিস্তব্দ রাত, আর একাকি দুজন মানুষ, রবের দরজায় কড়া নাড়ে। চোখ ভেজায় নোনাপানিতে। দুয়া শেষ হলে ইন্তিহার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই আবরার নিজের মাথাটা এলিয়ে দেয় তার কোলের উপর। না বলতেই চুলে হাত বুলিয়ে দেয় সেও। চোখ দুটো বন্ধ রেখে চুপচাপ শুয়ে থাকে ছেলেটা। মায়ের পর স্নেহশীল কোন নারী যদি থাকে, তবে সেটা ইন্তিহাই যেন। চারপাশের হাজারটা চিন্তা, অস্থিরতা ছাপিয়ে এই একটা যত্নশীল হাতের স্পর্শই যেন শুদ্ধ অক্সিজেন দেয়। শান্তির পরশ বুলায় হৃদয় কোঠায়।

    “ তুমি জানো ইন্তিহা, আমি বিয়ের আগে প্রথমবার তোমাকে কোথায় দেখেছিলাম?”

    চোখ বন্ধ রেখেই প্রশ্ন ছুড়ে আবরার। ইন্তিহার হাত থেমে যায় হঠাৎ। লোকটা যে এই মুহূর্তে মজা করার অবস্থায় নেই, তা তো নিশ্চিত। তবে এমন কথা বলার কারন কি? আবরারের ঠোঁটের কোনে সূক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠে। ইন্তিহার থেমে যাওয়া হাতটা টেনে পুনরায় নিজের চুলে রাখে।

    “ অনার্সে পড়ার সময় একবার কলেজের কোন একটা অনুষ্ঠানে এসেছিলে তুমি। মেইবি তখন তুমি দ্বিতীয় বর্ষে ছিলে। আর রাজিব সারের আত্মীয় হিসেবে গিয়েছিলাম আমি। যদিও অনুষ্ঠানের এদিকে আসো নি, কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের তিন তলায় গিয়েছিলাম আমি কোন কারনে। তোমরা তিন চারজন বসে গল্প করছিলে সেখানে। তারিখটা ঠিক করে মনে নাই যদিও, তবে বছরের শুরুর দিকে হবে সময়টা।”

    কথা বলার ভাষা হারায় মেয়েটা। এতকিছু হয়ে গেলো, আর ও কিনা এখনো জানেই না সেসব !

    “আপনি মজা করতেসেন, তাই না?”

    হেসে ফেলে ছেলেটা। চোখ না খুলেই জবাব দেয় ফের।

    “ দ্বিতীয়বার দেখেছিলাম বইমেলায়, হাসিবের সাথে গিয়েছিলে। হাসিবকে দেখেই আমি চিনতে পারি। আমার বাবার খুব কাছের বন্ধু ছিল তোমার আব্বু। সেই সুবাদে কয়েকবার দেখা হয় হাসিবকে। তবে তুমি যে ওর বোন হবে, এটা একদমই অপ্রত্যাশিত ছিল। যখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, খুব খুশি হয়েছিলাম। পরে আম্মুকে বলি তোমার কথা। আম্মু কিন্তু আগে থেকেই জানতো এসব। তোমাকে জানাতে আমিই নিষেধ করেছিলাম।”

    শিরশির অনুভুতিতে শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায় মেয়েটার। এতোটাও আশা করেনি সে।মানুষটা এতো কিছু নিজের মনের ভেতর চেপে রাখলো কিভাবে এতদিন?

    “ আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি?”

    হাসে ছেলেটা। মারাত্মক হৃদয়কাড়া সে হাসি। তবে সাথে সাথে উত্তর দেয় না কথার। বরং প্রসঙ্গ বদলায় সে। হুট করে করে বসে অনাকাঙ্খিত প্রশ্নখানা।

    “ তুমি সেদিন লাইব্রেরীতে দেখোনি আমাকে?”

    -তোমার আকাশ আমার মেঘ
    পর্ব-১৯
    -তিতা ফুল

Friends

Profile Photo
Md.Mohsin Ali
@fivertrading007gmail-com
Profile Photo
Redowan Hussain
@redowanhussain
Profile Photo
নৈশান
@noishan
Profile Photo
Hashem Molla
@hashemmolla
Profile Photo
Kazi Mahabubur Rahman
@kazimahabuburrahman
Profile Photo
mithila jannat
@mithilajannat
Profile Photo
Sk Sagor
@sksagor
Profile Photo
Md. Ashraful Alam
@md-ashrafulalam
Profile Photo
Fazilatun Nesa
@fazilatun-nesa
Skip to toolbar