Profile Photo

naznin shamimOffline

  • nazninshamim
  • Profile picture of naznin shamim

    naznin shamim

    • 1 month, 1 week ago

    “অপরাজিতার লাল রক্ত”
    নাজনীন শামীম
    চট্টগ্রাম থেকে
    ৫ ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং

    ​ আঁধার নেমে আসা মঞ্চে শুধু একটা নীল স্পটলাইট এসে পড়ে নারীর ওপর। সাদা ধবধবে সুতির শাড়ি, কোনো অলংকার নেই। হাতে একটা শূন্য তামার প্রদীপ।
    ​সিঁদুর নাকি কোনো নারীর কপাল উজ্জ্বল করে? ঢং! লাল রঙ তো রক্তের রঙ, বাবু! যেদিন আমার শশী মরে গেল, সেদিন তার তাজা রক্ত দিয়ে সবাই আমার কপালটা মুছিয়ে দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল শশীর রক্ত মুছে দিয়ে আমাকে তারা বিধবা বানালো… তারা বোঝেনি, আমার কপালটা মুছতে গিয়ে শশীকে তারা আমার রক্তের ভেতরে সারাজীবনের জন্য মিশিয়ে দিয়ে গেছে!
    ​লোকেরা বলে, বিধবার কোনো রঙ থাকতে নেই, রস থাকতে নেই। শশী যখন ছিল, ও বলত—”অপরাজিতা, তোর চোখে আকাশের নীল জমে থাকে।” আর আজ? আজ এই পুরো সমাজ আমার চোখে শুধু বিষ দেখতে পায়! শশী, তুমি কোথায়? তুমি তো আমাকে বলেছিলে, মৃত্যুর পরেও তুমি চাঁদের আলো হয়ে আমার ঘরে নেমে আসবে। কই? আমার ঘরের চাল তো এখন ভাঙা, কিন্তু রাতে সেখান দিয়ে চাঁদের আলো আসে না, শুধু হাড়কাঁপানো কালবোশেখী ঢুকে পড়ে!
    ​সমাজ আমাকে সাদা শাড়ি পরালো, মুখে তুলল সেদ্ধ ভাত। কিন্তু এই সাদা কাপড়ের আড়ালে কত বড় অগ্নেয়গিরি চেপে রেখেছি, তা কি কেউ দেখেছে? লাল রঙ কেড়ে নিলেই কি বুকের ভেতরে প্রজ্জ্বলিত আগুন নিভে যায়?
    ​তোমরা আমায় অপরাজিতা নাম দিয়েছ, তাই না? ভেবেছ অপরাজিতা কখনো হারে না? হেরে গেছে রে, এই অপরাজিতা হেরে গেছে! শশীর শূন্যতা প্রতিদিন রাতে আমার বুকের হাড়গুলো ভেঙে গুঁড়ো করে দেয়। বিরহ যে কী জিনিস, তা এই সুতি শাড়ির প্রতিটা ভাঁজে লেখা আছে। আমি প্রতিদিন বাঁচি না, প্রতিদিন শশীর মরা লাশের পাশে শুয়ে এক একটা রাত পার করি!
    ​আর না। এই অন্ধকার আমাকে আর গ্রাস করতে পারবে না। শশী আমাকে ডেকেছে… ওই শোনো! নদীর পাড়ে শশী দাঁড়িয়ে আছে, হাত বাড়িয়ে বলছে—”অপরাজিতা, চলে আয়, এবার আমরা একসাথে লাল রঙে ডুব দেব!”
    ​আজ রাতে এই সাদা শাড়ি আর সাদা থাকবে না। সমাজের ছুড়ে দেওয়া ওই ধবধবে সাদা কাপড়ে আজ আমি নিজের তাজা লাল রক্ত ঢেলে দেব! আমার সিঁদুর কেড়ে নিয়েছিস তোরা? দেখ, আজ আমার পুরো শরীরটাকেই আমি শশীর নামে পরম সুখে সিঁদুরে রাঙিয়ে দিয়ে যাচ্ছি!

    3
    9 Comments
    • ”অপরাজিতা, তোর চোখে আকাশের নীল জমে থাকে।”

    • naznin shamim, লেখাটা পড়ে শরীরের ভেতর এক অদ্ভুত হাহাকার তৈরি হলো। আপনার বর্ণনাভঙ্গি এতই জীবন্ত যে অপরাজিতার ভেতরের দহনটা স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিলাম। এত কঠিন এক বিষাদকে ফুটিয়ে তোলার পর আপনার পরবর্তী লেখা নিয়ে কি খুব শীঘ্রই কিছু পাব?

      • প্রিয় রুপাই অনেক ধন্যবাদ এজন্য যে তোমার সুন্দর মন্তব্য আমাকে বিহবল করেছে আরো খুশী হলাম যে তোমাকে হ্নদয় কে উচ্ছ্বসিত করতে পেরেছে আমার লিখা, এভাবে উৎসাহ টা আমার সফলতা বন্ধু ❤️❤️

    • আপনার লেখায় ফুটে ওঠা ক্ষোভ আর তীব্র আবেগের প্রকাশটি পাঠকদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে, বিশেষ করে অপরাজিতার যন্ত্রণাময় একাকীত্বের চিত্রকল্পটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। এই গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের লেখায় আপনার সুন্দর প্রতিক্রিয়া ও মতামত শেয়ার করলে আমাদের এই আড্ডাঘরটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে, তাই সাগ্রহে আপনার পদচারণা কামনা করছি।

      • প্রিয় সোনাই বন্ধু আমার তোমাদের বিচার বিশ্লেষণ আর সমালোচনায় আমি দারুণভাবে আশান্বিত, আমার বিশ্বাস তোমাদের এই মতবাদ, তোমাদের মন্তব্য আমার লিখাকে অনেকদূর এগিয়ে নিবে,এভাবে পাশে থেকো আমার লিখার সাথে ♥️🌺♥️

    • চমৎকার লিখেছেন!

Friends

Skip to toolbar