Profile Photo

অভিমানী মনOffline

  • ovimanimon
  • Profile picture of অভিমানী মন

    অভিমানী মন

    4 years, 7 months ago

    যেনো নরকের কোনো স্থান

    যুদ্ধের মধ্যে প্রতিটি দিন ছিল হতাশা আর অনিশ্চয়তার।
    তৈয়ব চাচাকে কবর দিয়ে রাতের অন্ধকারে নদী পেরিয়ে শরফভাটার আরো গহীনে ঢুকে আমরা একটা পরিত্যক্ত মাটির ঘরে আশ্রয় নিই।
    মেঝেতে ছন বিছিয়ে তার উপর তৈয়ব-চাচীর দেওয়া চাদর পেতে ঘুমিয়ে পড়ি। রাতে খেয়েছিলাম কিনা আজ তা মনে নেই।
    বৈশাখের রৌদ্রোজ্জ্বল সকলে জেগে উঠে দেখি, অপূর্ব এক টিলার উপর পুরো পরিবার বসে আছি।
    আশপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। বহুদূরে কর্ণফুলি নদীটাকে মনখারাপ করে বয়ে যেতে দেখি।
    অনেকক্ষণ পর আব্বা এলে আমরা প্রাণ ফিরে পাই।
    গ্রামের কোনো এক বাড়ি থেকে ভাত-তরকারি রেঁধে আব্বা আমাদের জন্য নিয়ে আসে।
    টিলার উপর খোলা আকাশের নিচে পিকনিকের মতন আমরা খাওয়া-দাওয়া করি।
    আব্বার একটা সিকোঘড়ি ছিল। টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় গ্রামের কারকাছে যেন চৌদ্দ টাকায় বেচে দেয়। রেওয়ান মিল বানাতে আসা কোনোএক জাপানি ইঞ্জিনিয়ার ঘড়িটা উপহার দিয়েছিল। এ নিয়ে যুদ্ধের পরও বাবাকে আক্ষেপ করতে দেখি।
    শরফভাটার এই টিলার কথা খুব মনেপড়ে একারণে যে, চারিধার ছিল বুনো। কয়েকটা বেজী দেখি। হয়তো সাপও ছিল। ছোট গাছের ডালে বসে ঘুঘু ডাকে। আরো ছিল লেজঝোলা কালো পাখি।
    নদীর পাড়টা ছিল বালুচরী।
    টিলার উপরের মাটির ঘরটায় আমরা কয়েকদিন ছিলাম।রাতে ভূতুম ডাকতো। ভয়ে চোখবুজে থাকতাম।
    এক সকালে আব্বা বলে—আমরা চিটাগং যাবো।
    মাঝি এসে আমাদেরকে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়।
    কালক্ষেপণ না করে ডোঙ্গা নৌকায় উঠে পড়ি।
    নৌকা এগোয় আর আমাদের গা পুড়ে যায়। কতঘন্টা যে লেগেছে জানা নেই; মনে আছে, ভয়ে ভয়ে যাচ্ছিলাম। লোকালয় এলে আক্রমণের ভয়ে মাঝি মাঝনদী দিয়ে বেয়ে যায়।
    অবশেষে যখন চট্টগ্রামের নিশানা পাই; এবং নদীপাড়ি দিয়ে শহরের কাছে পৌছি; দুচোখে লেগে যায় সম্পূর্ণ অঙ্গার হয়ে যাওয়া তীরবর্তী কালুরঘাট বাজার আর দূরের ব্রীজটা।
    সে এক ভয়াবহ দৃশ্য; যেন নরকের কোনো স্থান। টিনের ঘর, দালান গাছপালা পুড়ে কয়লা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
    পোড়া গাছের মাথায় মাথায় বসে আছে শত শত শকুন। একটু পরপর শিশুর কান্নার মতন চিৎকার ছড়িয়ে চরাচরে ভয়ের আবহ এনে দেয়।
    নিচে শিয়াল কুকুর একাকার হয়ে পোড়া স্থানগুলোতে কীযেন খোঁজে; নদীতীরে ভাসমান পঁচাগলা দেহ খায়!
    এই বিভৎসতার ভয়ে আম্মা দোয়া-দরুদ পড়ে।
    আমরা জনহীন পোড়াবাজারের পাশদিয়ে গলিপথে শহরের রাস্তায় চলে আসি। আব্বা আগে গিয়ে স্কুটার ডেকে এনেছিল।
    আমরা মাদারবাড়ী যাবো। সেখানে আমাদের এক মামা থাকে; পারভীন, তাসরীণদের বাসা।
    চট্টগ্রাম-বরিশাল রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হলে সেখান থেকে বাড়ির পথে রওয়ানা দেবো। #
    *চলবে…

    29
    14 Comments

Friends

Profile Photo
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
Profile Photo
Syed Abul Farah
@syedabulfarah
Profile Photo
Abul Hasan Tuhen
@abulhasantuhen
Profile Photo
Mohammad Hasan
@mohammad-hasan
Profile Photo
Musfirat
@musfirat
Profile Photo
Bogdan Fuller
@bogdanfuller
Skip to toolbar