Profile Photo

সাবিত রিজওয়ানOffline

  • Rejon
  • Profile picture of সাবিত রিজওয়ান

    সাবিত রিজওয়ান

    3 weeks, 2 days ago

    অধরা উপবৃত্তি
    মোঃ রেজন মিয়া

    একটি আর্টিকেলে আমি লিখেছিলাম, “এবারও যদি উপবৃত্তি না পাই, তাহলে সরকারকে আমাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ। এসে দেখে যাক, আমরা কত বড় নবাবের বংশধর, আমাদের প্রাসাদ কত উন্নত, কত শিল্পসমৃদ্ধ।”

    ব্যঙ্গ করে লিখেছিলাম, কারণ বাস্তবতা অনেক কঠিন।

    আমি জানি না বোর্ড আমার সঙ্গে কী ধরনের খেলা খেলছে। তবে আমি কাউকে অন্ধ বলতে চাই না, কাউকে অশোভন ভাষায় আক্রমণও করতে চাই না। শুধু চাই, যাঁরা এই দায়িত্বে আছেন, তাঁরা একবার নিজেদের কাছে প্রশ্ন করুন, তাঁদের সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচার হয়েছে কি না।

    কলেজের অবহেলার কারণেই উপবৃত্তি পাইনি, নাকি অন্য কোনো কারণে, সেটাও আজ পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। আমাদের সবাই উপবৃত্তির ফরম জমা দিয়েছিল। আমিও দিয়েছিলাম। কিন্তু উপবৃত্তি পেলাম না। উল্টো ফরম পূরণের জন্য বাবা-মায়ের কষ্টের টাকাটুকুও খরচ হলো। সেই খরচের কোনো মূল্যও রইল না।

    এটাই প্রথম নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি শ্রেণিতে উপবৃত্তি পাইনি। উচ্চবিদ্যালয়েও পাইনি। এখন কলেজেও একই অভিজ্ঞতা।

    বাবা-মা যে টাকা উপার্জন করেন, সেই টাকার পেছনে কত ঘাম ঝরে, কত পরিশ্রম, কত শারীরিক শক্তি ক্ষয় হয়, তা আল্লাহই ভালো জানেন। সেই কষ্টের টাকার মূল্য যাঁরা কাগজে-কলমে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা হয়তো কখনো অনুভব করার সুযোগ পান না।

    আমি জানি না উপবৃত্তির দায়িত্বে থাকা মানুষগুলোর কী পরিচয়।

    মন খারাপ তো হবেই। তবু নিজেকে সান্ত্বনা দিই, হাসার চেষ্টা করি। কারণ দুঃখ প্রকাশ করলেও অনেক সময় তার কোনো শ্রোতা থাকে না।

    আপনি হয়তো আপনার অবস্থান থেকে আমার অবস্থান পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবেন না। যেমন আমি জানি না, আজ সকালে আপনি লবণ ভাত খেয়েছেন কি না। অনেক বাস্তবতা দূর থেকে দেখা যায় না।

    এই পাণ্ডিত্যপূর্ণ পৃথিবীতে কে কতটা অবহেলিত, কে কতটা নীরবে কষ্ট বয়ে বেড়ায়, তারও কোনো দৃশ্যমান হিসাব নেই।

    হয়তো এই লেখাটিও অনেকের চোখ এড়িয়ে যাবে। তবু লিখলাম। কারণ কখনো কখনো নীরবতার চেয়েও একটি সত্য কথা বেশি মূল্যবান।

    5
    8 Comments
Skip to toolbar