কবিতার ভাষা
কবিতার জন্য ভাষা একটা বিরাট ব্যাপার। যে-কোনো লিখিত কথাই তো ভাষার অংশ। তাহলে কবিতার ভাষা নিয়ে আলাদাভাবে বলার কারণ কি থাকতে পারে? যেহেতু কবিতা সাহিত্যের একটা স্বতন্ত্র মাধ্যম, তা কি-রূপে সংঘটিত হয় সেই অলিগলিতে আমরা ঘুরে আসতে পারি।
তবে একটা কথা বলে রাখি ভাষা ব্যবহার ছাড়া যেহেতু কোনো যোগাযোগ গড়ে উঠতে পারে না, যদি আমরা কবিতার ক্ষেত্রে একটা স্পেশাল ভাষা আয়ত্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকি, তবে এখানে একটা টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।
কবিতা তো আসলে অনেকগুলি বৈশিষ্টের সমষ্টি। একটা বৈশিষ্ট যদি ইমেজ হয়, মানে ইমেজ নির্ভর কবিতা হয়, কবিতার ইতিহাসে এই ইমেজের ব্যবহার অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। আমি রবীন্দ্রনাথের বলাকা কবিতাটা’র কথা যদি বলি, একটা ইমেজের ছায়া সারাজীবনের জন্য মাথায় গেঁথে আছে :
“সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা
আঁধারে মলিন হল–যেন খাপে-ঢাকা বাঁকা তলোয়ার”
এরকম অসংখ্য ইমেজের কথা বলা যায়, যেখানে কবিরা তাদের কবিতায় বিভিন্ন সময় বেশ মুন্সিয়ানার সাথে ব্যবহার করেছেন।
এখন যে কথাটা বলতে চাই, এই যে ইমেজ এটা তো ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমেই বলা হয়েছে। কিন্তু একটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে ভাষার অতিরিক্ত ভার উপরোল্লিখিত ইমেজটার উপর চেপে বসতে পারে নাই। তাই ভাষা যে সবসময় কবিতাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এটা সঠিক নয়। অনেক সময় কবিতার কন্টেন্ট-ই ভাষাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। হ্যাঁ, আপনার কাছে যদি ভাষার কর্তৃত্ব না থাকে, তবে ইমেজ বলেন, ভাব বলেন কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত কবিতাকে বিশিষ্টতা দান করবে না।
তাই ভাষার মারপ্যাঁচ দিয়ে শুধু কবিতাকে বিচার করলে হবে না। কবি তার কবিতার ভিতর দিয়ে কি ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছেন, সেটা মূখ্য ব্যাপার। তবে এই ম্যাসেজ, কিংবা কখনো পরোক্ষে বলা, ইংগিতে বলা, ইমেজারির খেলা, দর্শনের আশ্রয় নেয়া, কবিতায় আখ্যানের প্রয়োগ, গল্পের মতো চরিত্র বা স্থানের নামের ব্যবহার সব মিলিয়ে কবিতা তখনি উত্তীর্ণ হয়ে ওঠে যখন এই সমস্ত বৈশিষ্টগুলি একটা হারমোনি তৈরি করে।
তবে দীর্ঘদিনের কবিতা চর্চার কারণে যেটা আমার কাছে মনে হয়েছে, কবিতা একটা কমিউনিকেশন তৈরির আধার। যে যত বেশি কবিতা কমিউনিকেটিভ করে তুলতে পারবে তার কবিতা ততবেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তবে আবার অতিরিক্ত কমিউনিকেশন তৈরি করতে গিয়ে কবিতাকে একেবারে জলবৎ-তরল করে ফেললেও চলবে না।
কবিতায় একটা স্বতন্ত্র ভাষা দেয়া যেরকম বড় কাজের মধ্যে পড়ে, কিন্তু তাকে শুধুমাত্র ভাষার বেড়াজালে ফেলে দিলে একধরনের ফান্ডাম্যান্টাল অবস্থা তৈরি হয়ে উঠতে পারে। তখন আপনি অনেকভাবে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে কবিতায় ভাষাকে ত্যারাব্যাকা করে উপস্থাপন করলেন কিন্তু কবিতার মূল রসটা কেউ শেষপর্যন্ত চেখে দেখতে পারলো না।
তাই কবিতায় ভাষা ও ভাবের মধ্যে এমনভাবে একটা তাল বজায় রাখতে হবে যেনো ভাষা ও ভাব একটি আরেকটির স্বাভাবিকতাকে বিনষ্ট করতে না পারে।
২৫/০৩/২০২১
![]()
হৈমন্তীকা
চমৎকার দিকনির্দেশনা।শুভেচ্ছা রইলো।
শাহানারা ঝরনা
চমৎকার লেখা। ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
খুব ভাল গাইডলাইন ভাল কিছু করার জন্য-ধন্যবাদ
পরিমল রায়
হুম
Fazilatun Nesa
অভিনন্দন
Vip Runa
Bah”
Moniruzzaman Sarjil
অসংখ্য ধন্যবাদ, চমৎকার ধারণা দেয়ার জন্য কবি গুরুকে।
Azmain Nizam
চমৎকার লেখা।
Shohel Nawaz
অসাধারণ
Mahabubul Bulbul
সুন্দর