মানচিত্রফুল
সূর্য মরে গেলে
নীহারিকার দিকে
আঙুলের উপত্যকায়
যদি নাঈম ফিরোজ
তার কবিতার হতো সূর্যোত্থান— আঙুলে আঙুলে সুন্দর তাকিয়ে দেখা যেতো ভোরের ছোট ছোট বাচ্চা সূর্য
নামছে নখের নিচে নীচে।
দেবদারু আর নীম গাছ—
ভালোই লাগতেসে— পাশাপাশি— পাতাগুলা একইরকম— তীক্ষ্ণ চিক্কণ— চিরল ও চামেলী।
সূত্র মেনে নিলে
এখন কপালে খারাবি আছে— ভারী আইসোটোপের আচ্ছাদনে
ঢেকে যাবে বৃক্ষবৃন্দ ও সৌরমন্ডলী।
গ্যানিমেড অভ ট্রয়
[Ganymedes] was the loveliest born of the race of mortals, and therefore the gods caught him away to themselves, to be Zeus’ wine-pourer, for the sake of his beauty, so he might be among the immortals
— Homer, Iliad, Book XX, lines 233-235.
—এখন গাধার পিঠ থেকে তরুপাথারের দিক রাত্রির উন্মেষে
—বিশাল সাহস থেকে সূর্যের প্রস্রবণ উড়ছে, ফুরফুরায়
পাথর কুঁদে কুঁদে বের হলো গ্যানিমেড, সিলসিলায়!
—গ্যানিমেড গান গায় জিউসের শান্ত আস্তিনের তলে
রূপের বাটিতে মুখ লুকিয়ে, যেনো চিক্কণ তারুণ্য তার শমীগাছে নড়েচড়ে, এডোরেবল!
—হলুদ হেলমেটের নিচে নীল বিজ্ঞানেরা জমে, দাদা-বিহারে।
—গুরুদের অন্ধ বাল্বের কম্পনে মর্মরানন্দ জাগলে
নলেজহাব থেকে স্ফুলিঙ্গের মতোন শিষ্যের উষাস্নান কত ক্লিশে হয়!
— ছায়ার গ্যারিসন থেকে শিস দিয়ে দিয়ে বেড়িয়ে যায় তারা, শিষ্য, নেতিনাভি ছিঁড়ে সর্বনাশা গুরুকুল
— তার অন্তস্থ: শাল্মলী বন, কিছুটা খেদের অফুরান ঘাম থেকে নেমে টেবিল-পর্বতের দিকে, নিয়মে!
ফুল গাছে এখন জীবনী হ্রাসের উৎসব
এখন আর ফুল ফোটেনা
যে কয়টি প্রাণ ছিল সব নিঃশেষ হয়ে এখন রিক্ত; একটি ফুল গাছ।
শহরের কারুকার্য খচিত টবে
তার জন্ম হয়নি।
কিন্তু ভাগ্যে থাকলে আটকাবে কে?
বিলাসিতার উপকরণ হওয়ার সৌভাগ্য
এখন সব বনফুলের
অক্সিজেন দিয়ে
নিঃশেষ করে পাপড়ি মেলে
সবটুকু মোহিনী গন্ধ বিলিয়ে দিয়ে
শেষ ফুলটি নিয়ে
ওরা এখন
অচিরেই শহরের বাদামী বাড়িটা ছেড়ে
অন্তরীক্ষে— পালাবে।
নীহারিকার দিকে
(২৯-১-২০০১)
আদমশর
একদিন আমিওতো গিয়েছিলাম সেইই ঘুঘু-পাথরের ধারে
সসীম পাইনের বনে, দিকচক্রবাল পুড়ে পুড়ে—
ও পাইন ও অরণ্যবহ্নি!
একদিন লেকের ধারে—
মিথ্যেস্থ পিয়া পিয়া বলে গেলো আকাশ ডেকে ডেকে
পিপাসার বারোয়ারি উন্মুলতায়।
কিছু সবুজ ঘাসের ঢাল ফুঁড়ে ঢুকে গেলো আদমশর, অনিরুপম।
টাকার বিবর্ণ স্বপ্নে যে রেজিন খুঁজে পাওয়া যায়
তার ইশারায়—
আমরা হ্যাঁ বলে দিয়েছিলাম কুকুরের কংকালের ক্ষিপ্রতাকে।
অপভ্রংশের সারাৎসার এসব।
ও পাইন ও অরণ্যবহ্নি!
যতটা ওপরে মেঘ
তারও ওপরে মানুষ, তারহীন—
সবাক সত্যের উদয়নে থরোথরো শুকিয়ে যাচ্ছিলো
পাইড ভেড়াদের বিকেল
একদিন আমিওতো গিয়েছিলাম সেইই ঘুঘুপাথরের ধারে
সসীম পাইনের বনে, দিকচক্রবাল পুড়ে পুড়ে—
ও পাইন ও অরণ্যবহ্নি—!
মানচিত্রফুল
বয়স বেড়ে গেলে
অনাবাসিক পাতারা অধিকাংশ হলুদ-শরিফ হয়
বিদ্যুতবিষয়ক টুংটাং শব্দে তারা লজ্জা পায়
মানুষের ব্রহ্মতালুতে
লাল মানচিত্র-ফুল ভালো ফোটে বয়স বেড়ে গেলে
মার্গমুখিন মানুষের লালায়
রাজপথ অ-নবায়নযোগ্য হয়ে পড়ে
বিস্তর পিচ্ছিল বোতামে বিরক্ত হয় নিজেই অন্তর্বাস
আকাশ ঈশানে নেমে আসে
আর সারকাজম করে ফিরে যায় লুম্পেন সন্ধ্যেয়
বস্তুত যোনিজাত প্রাণ আর উদ্ভিদ এক নয়
বয়স বেড়ে যাবার ভয় উদ্ভূত হয় দু তরফেই তবু
কী অম্লান হলুদ নখ ঢুকে গিয়ে
তাদের আদি ও আসলে, তাদের প্রাসঙ্গিক যৌনতায়
থির-অবিকল এক পাইথন-হা করে
অপেক্ষ থাকে, মৈথুনের
বয়স বেড়ে গেলে
হ্রস্ব-রতিমশগুল প্রাণ যত
পৃথিবীতে তাদের প্রজন্ম-ছাপ
অপ্রকাশ্য অথবা মূঢ় করে রাখে।
পলান টুক টুক
আবছা লীন হেমন্তের কেশরে এখনো অগ্রহায়ণ
হেইজ-ফগ-কুয়াশায় খেলাচ্ছে
অশ্রুন্নত প্যারাবোলা—
ইন্দো-রিং-নেক হলুদ-ধূসর-নীল-বেগুনি টিয়াপাখিদের জমছে মিলনঋতু— তবু
এখন নীড় কিছুটা কি গভীর আঁধারিত তাদেরও?
এসব বলেনা, যাহ্—!
গভীর ভীরুর উরুর দিকে অন্ধকারের নজর তোমার ভুল সেখানে— সেই পলান টুক টুক
দেখো, আত্মা হিয়া তু—
অরুন্তুদ সূর্যের জ্যামিতি
কেঁদে দিচ্ছে উনষাটের দিকে
সালের নামতা হেলে যাচ্ছে জিভে
এইসব মিথ ও তুঘ্রিল সময় জুড়ে
প্রণয়ন, প্রয়োগ ও পরিগণনা—
দরাজ শীৎকারের কোটরে
এই সফেন শহরের ঘুড়ির বসন খুলে নিই
জন্তুর হাড়ের প্রেমে হিমোগ্লোবিন নেচেছিলো যেদিন বেদুয়িন মহকুমায়—
এই আলোহীন আকাশ,
মূলত ভাতের নাকচ করা অবৈধ সন্তান
আমরা— তবুও— তবু ভাতের সাথে খেলি পলান টুক টুক
আমার আম ‘মা’
আমার মা একজন মা।
তিনি আমাকে আল্লার তিরিশা ফোন দেন।
আমিন।
আমি এতে সবসময় খুশি হই তা বলা যাবে কিনা জানিনা। তবে ফোন কেটে গেলে একটা অজানা ব্যথা আসে চোখের তারায়—
আনত হই, আরো আনত হতেন আমার আম্মা
যদি আমি তারে আমার বুকটা ফাইরা—
তার জন্য আমার কান্নার উৎসমুখটা শো করতে পারতাম।
এইগুলাও অতো বড় কিছু না।
আম্মার ফোন আসুক এইটা আমি খুব একটা আশাও করিনা ইদানিং।
আমার মা বিশেষ কিছুই করেন নাই জীবনে
শুধু আমার ফ্লটুলেন্সরে এড্রেস করছেন নানানভাবেই
আমারে গোসল করাইছেন বা জন্মও দিছেন সম্ভবত
আমি তো এসব শপথ করে সাক্ষ্য আকারে দিতে পারবোনা আপনার সমীপে, মা’বুদ!
আমার মা সাদা সিধা সোজা সাপটা
আমার মা স্পেশাল না, সাধারণ, আম
আমার মা একজন আম ‘মা’—
তবুও আমার মা, আম্মা ডাকিনা যারে, সে আমারে
ডেলি ডেলি ফোন দিয়া যান, অচিরেই তার ফোন আমি আর পাবোনা, তিনি পাবেন না আমার ফোন।
গেম ওভার, শোধবোধ।
![]()