-
কাজরি
হাসনাত সৌরভ
======================বৃষ্টি এলো হঠাৎ। বেমানান লাগল না। যেন আসারই ছিল। ছোটো স্টেশান। ঘাস উঠেছে নেড়া হয়ে সদ্য চুল গজানো মাথার মত এখানে সেখানে অল্পস্বল্প। মুখোমুখি দুটো প্ল্যাটফর্ম ভিজছে। দিগন্ত ছোঁয়া সবুজ মাঠ উৎফুল্ল হয়ে আকাশকে ডাকছে বুকের উপর, এসো।
ট্রেনের জানলার উপর হাত রেখে জাহিয়াও বলেছে, এসো তবে, ভালো থেকো, সাবধানে যেও।
ট্রেন চলে গেছে। জাহিয়ার হাতে লেগে জানলার লোহার গন্ধ। জাহিয়া ভিজছে। আটত্রিশ বছরের শরীরটাকে চেনার নতুন করে কিছু নেই। কিন্তু মনটা? উনুনের মাটির মত পোড়ে, আবার নতুন করে লেপতে হয়, যাতে আবার পুড়তে পারে। জাহিয়া বাজারি। যে চলে গেল, তার পরিবার আছে। সে গেলো, ছট কাটাবে তাদের সঙ্গে। এখানে থাকা তো কামাইয়ের জন্য। বউবাচ্চা তো সেখানে, শহরে, যেখানে জাহিয়ার যেতে নেই।
জাহিয়া ভিজতে ভিজতে বেঞ্চে বসে পা দুলাচ্ছে। কাজরি গাইতে ইচ্ছা করছে। জাহিয়া কাজরি গাইছে। বিরহের গান। বর্ষা আগুন। জাহিয়া আগুন নিয়ে খেলেছে আজীবন। পুড়েছে, পুড়িয়েছে। পাঁচিল তুলে ঘর গড়েনি। ভালোবেসে ভেসেছে। ভাসিয়েওছে।
বাজ পড়ল। কানে তালা লেগে গেল জাহিয়া। গান থামালো। বৃষ্টির আওয়াজে কান ফেটে যাচ্ছে। শরীরটা মাটির মত গলে শুয়ে পড়ল বেঞ্চির উপর। হাতের লাল কাঁচের চুড়ির গোছা একবার নেচে থেমে গেল। জাহিয়ার খোলা চোখের সামনে বর্ষা ভাসাচ্ছে প্ল্যাটফর্ম, রেললাইন, মাটি, ঘাস, বন। জাহিয়ার খোলা চোখ দেখছে না। সে উড়ে আছে অনেক দূরে। ওই আকাশে। দূরে চলে যাচ্ছে তার হৃদয়, তার ভালোবাসা। ওই দেখা যাচ্ছে খানিক আগে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়া সেই ট্রেন। মেঘ বলল, যাবি? সজল হাওয়া বলল, চল। জাহিয়া বলল, না, সে আসুক। আমি যাব না। আমি যাই না কোথাও। সে আসে। তার শহরে বর্ষা হোক। তার পাকা ছাদের উপর শুকনো কাপড় ভিজুক বারবার। সে বর্ষা কাটিয়ে আমার কাছে ফিরুক। আমি কাজরি গাইব। আমার গান এখনও শেষ হয়নি।
জাহিয়া মিলিয়ে গেল। সূর্য উঠল। কিন্তু সে পশ্চিমাকাশে পড়ন্ত। গ্রামের লোকে ঘেন্না মেশা দরদে নিতে এলো যাকে, সে জাহিয়ার দেহ নয়। সে ভেলা। জাহিয়া রেখে গেছে মাটিতে মিশেয়ে দেওয়ার জন্য। সে পার হয়ে গেছে। ভালোবাসার অপেক্ষা থেকে ভালোবাসার মজলিসে। যেখানে কাজরি শেষ হয়েও শেষ হয় না। মাটির জল আবার আকাশে উঠে কাজল মেঘ হয়, জাহিয়াকে খুঁজবে বলে। প্ল্যাটফর্ম একা একা ভেজে কোনো জাহিয়াকে নিয়ে, কদমের সৌরভের মত, যে বাতাসে ভেসেও বাতাসের হয় না।
@হাসনাতের হস্তাক্ষর
6 Comments-
@drako আচ্ছা মন ভালো করার চেষ্টা করবো।
‘রক্তশালুক’ পড়েছেন। ভালো-মন্দ জানতে চাই -
হ্যাঁ, পুরোটা পড়েছি। আপনার লেখা বরাবরি আমার খুব ভাল লাগে। রক্তশালুকের প্রতিটি গল্পই আমার মনে বিশেষ একটা জায়গা করে নিয়েছে। গল্পের প্রতিটি চরিত্রকে জীবন্ত মনে হয়েছে, এবং প্রত্যেকের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন গল্প অভিন্ন হয়ে ফুটে উঠেছে পুরো বইটিতে। একটি গল্পে একজন চরিত্রের নামের হের ফের হয়েছে। এছাড়া পুরো বইটিতে আর কোন ভুল খুজে পাইনি।
আপনার জীবনমুখী লেখা সর্বদা জীবনের গল্পগুলো তুলে ধরুক এই কামনা করি। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নেবেন লেখকপ্রিয়। -
@drako চমৎকার। এমন অনুভূতি পেলে লেখার সাহস পাই। পরে চরিত্রের নাম পালটানো হয়েছিল, ওটা আর ঠিক করতে পারিনি।
Friends
ফরহাদ আহমেদ
@forhad2004
সাব্বির হোসেন।
@shadowhunter3d
তাজুল ইসলাম তন্ময়
@tazulumgmail-com
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
জিকরুল ইসলাম
@zikrul
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
Manik Kumar Sanjowal
@manikkumarsanjowal
অসীম রহমান
@ashim_rahman
Prithula Zaman
@prithula



বৃষ্টি আসে দস্যুর মতো; দেখি ইস্টিশনে দাঁড়িয়ে। সুন্দর লেখার জন্য অভিবাদন।