-
শৈশব থেকে অনন্তকাল
ভাবনাগুলো – ঠিকানাহীন অরন্য
শাসনে ভারসাম্যও থাকা চাই। আমাদের সময়ে তা ছিলোনা। কেউ কেউ তো অতি আবেগে দুপুরে বের হতে পারবেনা, গেটের বাইরে যেতে পারবেনা, এটা মানতে হবে, সেটা মানতে হবে তা চাপিয়ে দিতে চেয়েছে। মানুষ মাত্রই বিদ্রোহী তা বড় হোক আর ছোটই হোক। আপনি ভয় দিয়ে কখনও মানুষকে জয় করতে পারবেন না, হয়তো সামান্যক্ষন কোন ভূমী ও সম্প্রদায়কে শাসন করতে পারবেন। হয়তো ভয়ের জন্য আপনার তোষামোদি করে যাবে লোকে। কিন্তু সুযোগ পেলেই আপনার ধূতি টেনে খুলে ফেলতে এক মুহুর্তও সময় নেবেনা। কিন্তু মন জয় করে সবকিছু করা যায়, অন্তত মানুষগুলো কিছু না করতে পারলেও পরম ভালবাসে, অনুপস্থিতি টের পায়, অবস্থানকে সমীহ করে, আদর্শকে সম্মান করে, ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা করে।
আমি মানব ধর্মে দুইখানা কথা শিখেছি, ভক্তি আর প্রেম থাকলে খোদা মিলে। যদি ভক্তি খোদার পথ হয় তবে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করা আর নিরপেক্ষতা হচ্ছে সিদ্ধি লাভের বাহন।
জাতীয়তাবাদ, সাদা-কালো, ছোট-বড়, উঁচু-নীচু, ও ধনী-গরীবের শেকল ভেংগে দেখো সবার মনেই প্রেম আছে, স্বপ্ন আছে, আবেগ-ভালবাসা-কষ্ট-অশ্রু সবটাই আছে, সবাই চায় একটু ভালবাসা, একটু মনের কথা শোনার লোক, একটু সম্মানজনক অবস্থান, একটু খাদ্য, বিশ্বাস, আর বাসস্থানের নিরাপত্তা, একটু ইনসাফ।
সবার রক্তই লাল, কেউ স্বর্ণ বা কেউ তামার মানুষ নয়- সবাই মাটির মানুষ। এ মাটিতেই বাস, এ মাটিতেই চাষ, এ মাটিতেই আশ।তুমি যখন সব শেকল ছিড়ে দিতে পারবে, তখনই তুমি স্বাধীন। জীবনের খুউব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ‘কে আমরা? কোথা থেকে এলাম? কোথায় যেতে হবে?৷ ‘এতো কিছুর উদ্দেশ্য কি? প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবো। তখন মানুষের পেছনে আংগুল দেয়ার সময় পাওয়া যাবেনা। মনে হবে ক্ষণিকের জীবনে সবার দুঃখ -কষ্ট- ভালবাসা একে অপরে ভাগ করে নেয়াটাই সফলতা।
এটাই ধর্ম, এটাই সিদ্ধি।
এই স্বভাব লাভের পথই সাধনা। এ পথের পথিক অবশ্যই সন্ধান পাবে পথের যদি সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে সবাইকে আপন করে সত্য খুজে নিতে পারে।এক ঢোকে বলে ফেললাম অনেক কিছু। এটাও জীবন থেকে শেখা। আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া নিয়ম আমরা মানিনি। কিন্তু যখন মনে বিবেকে সংযোগ হয়েছে তখন সব উপকরন কাছে পেয়েও আমরা তুলনামূলক ভালোটাই গ্রহন করেছি, কারো চাপিয়ে দিতে হয়নি।
তোমাকে কারো নাক-মুখ ভাংগার দরকার নেই ভালো করতে, ভালো পথে আনতে। তুমি তার ভালো চাও? ভাবছো সে ভুল করছে? তাকে ভালবেসে ফেলো, মন জয় করে নাও, তাকে ভাবতে দাও তুমি তার আপন, তার চিন্তাধারা থেকে সংকীর্ণতা দূর করে দাও। তাকে যাচাই করতে দাও কোনটা ভালো। প্রতিপক্ষ করে ফেলোনা। আজকাল এই যে ‘কে সত্য, কে ঠিক’ এ নিয়ে তুমুল লড়াই, ধর্ম নিয়ে লড়াই, রাজ্য নিয়ে লড়াই- সবটাই অপরকে প্রতিপক্ষ বানানোর কারনে?
কে সেরা? তবে কে সে? যে সবাইকে একইভাবে রক্ত-মাংসে বানালেন? কে সে? কেন তিনি সেরা দাবী করা লোকদের সোনা দিয়ে বানাননি? কেন তার মাঝে কোন প্রতিযোগীতা নেই?
কেন প্রাকৃতিক দূর্যোগ জাত পাত দেখে আসেনা?
প্রশ্নগুলোর উত্তর পেত্ব হবে। কিন্তু জড়বাদি সমাজ সে উত্তর খোজার সময় কোথায় দিলো আর! দিনে অর্থ কামাতে বের হও, একটু ফুরসাত পেলেই উপড়ি কামাইয়ের পরামর্শ, তারপর সংসার, ফের খাওয়ার চিন্তা, বাতকর্ম, বংশ বিস্তার, ফের তাদেরকেও খাওয়ার জন্যই বড় করা।
ভাবতে হবে, এই কুটিল জীবনের উপর মেকী জোছনার পর্দা টেনে আর কতদিন নিজেরাই নিজেদের সান্ত্বনা দেয়া?অতি মাত্রার শাসন বাচ্চাদের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে, নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকেনা, নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেয়, এবং উৎপাদনশীলতা বিলুপ্ত করে। আবার একদম ঢিল দিয়ে দেয়া জীবনকে যান্ত্রিক ও ন্যকা করে তোলে।
তাই সবকিছুতে অবশ্যই ভারসাম্য রাখা চাই।আজকাল অতি পরিমান ভাবুক হয়ে গেছি। এটা ভাবার কোন কারন নেই যে বুড়ো হয়ে গেছি। দিব্যি বলছি বিয়ে থাও সারা হয়নি। তবে, আশি শতকের শেষ হতে একবিংশ শতাব্দী তক যারা এসেছে তারা যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছে তা হয়তো আগে যারা চলে গেছেন আর পরে যারা আগত তাদের কেউ কোনদিন পাবেনা।
বলছিলাম আগে সারাদিন যেন উৎসবমুখর থাকতো সবকিছু। বাসা থেকে একটা ভাংগা টিউবলাইট চুরি করে নিয়ে গিয়ে কটকটি, শন পাপড়ী বা হাওয়াই মিঠাই খেতাম। আশ্চর্য কিন্তু সত্যি বাড়ির যে জিনিষটা একদম অকেজো ধরুন পুরনো বয়োম, অব্যবহৃত একটা প্লাস্টিকের বক্স বা যাই কিছু আপনি যখনই নানি-দাদি বা মায়ের কাছেই চাইবেন না কেন তারা হাত থেকে ছো মেরে নিয়ে বলবেন এটাই তারা খুজছিলেন তারপর আবার কোন এক জায়গায় গুজিয়ে রেখে দিবেন ভবিষ্যতে নাকি কাজে লাগবে।
এখনও অনেক কিছু যা আমরা অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে রাখি বাইরে তা কিছুদিন পর দেখি কোন একটা জায়গায় যত্ন করে লুকিয়ে রাখা।
শান্তনা পাই- যাক মা তো এখনও বেচে আছে।
শুকরিয়া হে খোদা!
কত রাত তুমুল বৃষ্টিতে জল উঠে এসেছে বাড়ির ভেতর। আসবাব পত্র মা বাবা যেখানে ঘুমাতেন তার উপর উঠিয়ে তারা সারারাত খাটের উপর বসে। আমাদের মশারী টানিয়ে দিতেন। ঘুমাতাম আমাদের খাটটায়।
জল কমলে তারা অবশিষ্ট জল সিচে তারপর ঘুমাতেন।
সকালে উঠে মাকে দেখতাম ভাতের থাল হাতে আর বাবা কাজে গেছেন।
এটাই আমাদের অনেকের অতীত।(চলবে)
3 Comments

ঠিকানাহীন অরণ্য -
লেখক
আমি স্বত্মা সম্বলিত আত্মাবাহক মানুষ
কষ্ট চাষ করে শব্দ ভেদ করে সাহিত্য রস বের করা আমার কাজ
প্রেম আমার ধর্ম, ন্যায়বিচারের কথা আমার যুদ্ধ
আমি চোখের ভেতর সাগর চষি উম্মাদ উম্মত্য হয়ে
জাগতিকতার যান্ত্রিকতা কি করবে আমায় নিয়ে?
আমি ভবঘুরে, আনমনে, বণ্য এক অরণ্য---
Friends
Md.Khaladur Rahman (অনল)
@wanol
পরিমল রায়
@parimal-roy
Rejwana Khan
@rejwana-khan
Shovan Khan Sabuz
@methopath
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
Reazul Kabir
@reazul-kabir



সমাজ বহুধারায় বহমান। সয়ে নিতে হয়। অভিনন্দন।