Profile Photo

ঠিকানাহীন অরণ্যOffline

  • Vobertale.aranna
  • অরণ্যের ডায়রী –

    সংজ্ঞা-হীন প্রেম

    ‘ওই তোকে যে আমি এতো গাল দেই তোর মনে কি একটুও লাগেনা?’

    ‘স্বাদ লাগে, মনে হয় চম চম খাচ্ছি। সত্যি বলতে তুই যখন রাগ করিস, গাল দেস, কথার খঞ্জর বসিয়ে দেস তখন যদি মন খারাপও হয় তবু আনন্দ পাই। আমাকে তোর এ আচরণ আশ্বস্ত করে যে আমিই তোর আছি। আমার কাছেই তোর যতো প্রেম, যতো রাগ, যতো অভিমান, যতো ভরসা, যতো বিশ্বাস! ক’জনের ভাগ্যে জোটে বল?’

    ‘হয়েছে, হয়েছে, কাঁদাসনে!’

    আমরা কখনও বন্ধু, কখনও শত্রু। শত্রু শত্রু যেভাবে ঝগড়া লাগে সেভাবে আমাদেরও ঝগড়া হয়। সে নির্ভয়ে বলতে পারে ‘যা! শান্তিতে থাক! আজ থেকে তোর রাস্তা তোর, আমার রাস্তা আমার। তোর মুখটাও যেন না দেখি!’

    পরেরদিন যেন কিছুই হয়নি। মুঠোফোনে নতুন বার্তা ‘শুভ সকাল, কেমন আছো?

    বাইরের যে কেউ ভ্যপাচেকা খেয়ে যাবে। এরা কি দুশমন না বন্ধু? অতি সাধু ফের অতি ছ্যাবলা, অতি ভদ্র ফের অতি দুষ্ট, ভাজা মাছও উলটে খেতে জানেনা, উহু! বেশী হয়ে গেলো, সংযত ফের বণ্য, হ্যা, এটাই ঠিক সংজ্ঞা। তা না হলে অন্তিকা কি অরন্যের কোলে মাথা রেখে সে ছোট্টকালে কাকে ভালবাসতো সে কথা বলে?
    কার চিঠির অপেক্ষা করতো, বা কে তাকে ভালবাসবে বলে প্রতারনা করেছে তা বলে অঝোরে কান্না করে দিতো?

    ও জানে এখন যার কোলে মাথা রেখে কথা বলছে সে এখন তার খুব কাছের বন্ধু। ট্রেন স্টেশনে আপনার সিটে আগে কে বসেছিলো তা ভেবে আপনার কি কাজ। এখন আপনার সিটে আপনি গন্তব্যে কিভাবে যাবেন সেটা আপনার কাজ। সিটটা এখন আপনার।

    জীবন বাহনে মানুষ একা চলতে পারেনা। অনেক লোকের আনাগোনার মাঝে আপনার মনে হতেই পারে যে সে আপনার একান্ত আপন। কিন্তু হয়তো কেবল অভিনয়ের সম্পর্ক, হয়তো কেবল লেনা দেনার সম্পর্ক, আপনি তার কাগজের ভার দেখে বিয়ে বসেছেন আর সেও আপনার রুপ আর অনেক হিসেব নিকেষ কষে আপনাকে বাড়িতে এনেছে।
    এখন আপনি ছাদের নিচে শুয়ে ভাবছেন তাকে খুশী করা আপনার দায়িত্ব। সেও ভাবছে আপনাকে খুশী করা দায়িত্ব। এ খুশী করার চক্বরে নানাজন নানা বানী দিয়ে, ওষুধি আর টোটকা ধরিয়ে দিয়ে গেছে। আপনারা কিছু না পেয়েও অনেক কিছু পেয়েছেন বলে আত্মপ্রতারণা করছেন।

    আপনি কি মন খুলে সমর্পিত হতে পেরেছেন? আপনার চাওয়া পাওয়া কি বলতে পারেন? আপনি চুপ থেকেও কি তার কথা, ব্যথা, ও অনুভুতি বুঝতে পারেন?
    রিক্সায় চড়ে হাতে হাত রেখে হারাতে পারেন ভালোবাসায়?
    না পারেন না, রোমান্স নেই, বন্যতা নেই।
    বাচ্চা জন্ম দেয়াই সফল সংসার নয়।
    বছরের পর বছর একসাথে থাকাই দাম্পত্য জীবন নয়।
    আপনি এখনও আপনার কিছু ঐকান্তিক বিষয় লুকোতে হয়, পকেট কাটতে হয়, অন্যের পরামর্শ নিয়ে প্রভাব খাটাতে হয় অথবা অন্যের প্রভাবে আসতে হয়।

    এগুলো হচ্ছে যান্ত্রিক সংসার। একজন সাথী আপনার খুব ভালো বন্ধু হতে হবে, একজন ভালো পরামর্শক হতে হবে, একটু ঝগড়াও ভালো কিন্তু- তবে কোনভাবেই ঝগড়া মেটানোর দায়িত্ব তৃতীয় কাওকে দেয়া যাবেনা। প্রয়োজনে কফি খেতে যান, বন্ধুর মতো মিটমাট করে ফেলুন।

    ঘুরতে যান, নানা অভিনয়ে রোমান্স করুন।
    বন্যতা নিয়ে আসুন। তবে দেখবেন আপনার সাথী হাজারজনে ভালবাসা না খুঁজে আপনাকেই হাজার ভাবে ভালবাসবে।

    বলে কয়ে এগুলো হয়না। আমি না খেয়ে আছি কি অসুস্থ এটা অন্তিকাকে বলে দিতে হয়না। ও আমাকে একটা দারুন জিনিষ শেখালো
    কেবল পুরুষই নারীর মন বুঝবে, সাহায্য করবে, এগিয়ে এসে বিপদে হাত ধরবে তা নয়।
    আত্মার সাথীর মতো নারীটিও প্রয়োজনে পুরুষের শক্তি হবে, সাহস হবে, ও সহযোগী হবে।
    যে নারী পুরুষের উপর সব চাপায় সে স্বার্থপর, আর যে পুরুষ সামর্থ্য থাকা স্বত্তেও নারীর পাশে দাড়ায়না বরং নারীর উপর চলে সে কাপুরুষ।

    সংসার এক সামঝোতা, মনের, শরীরের, আত্মার
    এখানে অনেক কথাই না কয়ে বলতে হয়
    অনেক ব্যথাই না অভিব্যক্তি প্রকাশ করে সয়ে যেতে হয়।
    প্রেম থাকলে পরে সেখানে কষ্ট থাকেনা।

    একবার ফাল্গুনে ও কমলা শাড়িতে এসেছিলো, রাস্তায় হাত ধরে হাটছি। ও জানে আমি বেকার। জেদ ধরে বসলো ও বেলী ফুলের মালা পড়বে।
    আমার চেহারা দেখে ও বুঝে যায়, কিন্তু বুঝতে দিতে চায়না। হাত ধরে নিয়ে গেলো ফুলের দোকানটায়।

    একটা বড় সাইজের মালা কিনে বললো ও পয়সা দিবে।
    আমি দিলাম, ফের খাওয়ালাম।
    ‘মানিব্যাগ টা দাও’
    আমি দিয়ে দিলাম, মোটেও প্রস্তুত ছিলামনা এর জন্য সে এক হাজার টাকার নোট বের করে রেখে দিলো।

    সে জানে, সে জানে
    সে বুঝে, সে ভালবাসে।

    ন্যকা রোমিওর মতো ওয়ালেট টা সামনে রাখিনা। যদি ও চায় তবে আমি বলবো কেন নিতে চাইছো, ও টাকা দিবে আর আমি পকেটস্থ করে বলবো কি দরকার ছিলো এগুলোর?
    না কোন ন্যকামো নেই আমাদের। পকেট ফাঁকা তো ফাঁকা। এর মাঝেই সুখ খুজে নাওয়া।
    আমার কাছে থাকলে চেষ্টা করি যতোটা পারি ওকে দিতে। যাকে তুমি ভালবাসো তুমি চাও সে তোমার মন জুড়াক, চোখ জুড়াক।
    আমিও চাই সে হাসুক, সে খুশী থাকুক, সে বাচ্চাদের মতো নেচে উঠুক, কথা বলার সময় হাত মুখ নাড়িয়ে এক স্বপ্নীল আভা ছড়িয়ে দিক।
    যদি তুমি ভালোই চাও তবে তোমার থাকাটা বড় বিষয় নয় তার সুখে থাকাটা তোমার কাছে প্রাধান্য পাওয়া উচিৎ । এভাবে দুজন দুজনের ভাল থাকা কামনা করলে সেখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ সম্ভব নয়। তোমার সংগিনীকে তুমি সুন্দরী দেখতে চাও রাতের বেলায় তো তাকে ফিট ও সুন্দর রাখা তোমার দায়িত্ব। আবার একটা দুশো টাকার শাড়ীতে যদি ভালবাসা থাকে তবে তা নিয়ে সংগীকে তোমার খুশী দেখাও। এক্ষেত্রে ভালবাসা আর সামর্থ এর মাঝে এক সামঞ্জস্য থাকা উচিৎ আর তা করে দেয় বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব।

    আর সে যদি তোমাকে ভালো বাসে হাজার অভিযোগ সত্বেও সে আখেরে তোমারই থাকবে তোমাকেই ভালোবাসবে।

    আইন-কানুন, ক্যামেরা, ও লোক লাগিয়ে আপনি হয়তো ধরতে পারবেন কিন্তু ভালবাসাকে তো আপনার নিজের করতে পারবেন না। তাই নিঃস্বার্থ ভালবাসা, যৌক্তিক বিশ্বাস, ও সুবিবেচক সিদ্ধান্ত তাকেও আপনাকেও ভালো রাখতে পারে।

    প্রার্থনায় দিন শেষে একটাই চাওয়া। সুখে থাকুক সে, পুস্পমাল্য শোভিত হোক তার তিলে আকা ললাট।
    জানি সে ও আমার কথাই ভাবছে।
    ঠিক মতো খাচ্ছি কি না, শরীরের ফিটনেস কেমন, বেশী শুকিয়ে যাচ্ছি কি না আরো কত কি!

    এতা ভালবাসা বুকে নিয়ে সে কল করবে আর শুরুতেই কষে একটা গাল দিবে। কত কি বলবে!
    ওমন একজন আত্মার সাথী, বন্ধু, প্রেমিকা, সোহাগিনী, জীবনসঙ্গিনীর গাল মন্দগুলো কেন মিষ্ট হবেনা শুনি!

    কাটা ক্ষতে যেমন একটু পর পর ব্যথায় চিন চিন করে উঠে তেমনি তোর দূরে থাকার বিরহের উত্তপ্ত কড়াইয়ে সেদ্ধ মনটা ছটফট করে উঠে।

    তোর গলার কন্ঠ শুনে ঠান্ডা হয়৷ তোর অনেকক্ষনের নিরবতায় আতংকিত হয়। আর চোখে চোখ পড়লে কি হয় বলতো?
    চুপ করে বলো! শশশ! শশশ!
    তুমি তো আবার একটুতেই……

    9
    6 Comments

ঠিকানাহীন অরণ্য -

লেখক

আমি স্বত্মা সম্বলিত আত্মাবাহক মানুষ

কষ্ট চাষ করে শব্দ ভেদ করে সাহিত্য রস বের করা আমার কাজ

প্রেম আমার ধর্ম,  ন্যায়বিচারের কথা আমার যুদ্ধ

আমি চোখের ভেতর সাগর চষি উম্মাদ উম্মত্য হয়ে

জাগতিকতার যান্ত্রিকতা কি করবে আমায় নিয়ে?

আমি ভবঘুরে, আনমনে, বণ্য এক অরণ্য---

Skip to toolbar