Profile Photo

সাকিব-উন-নবী দীপ্ত (নির্বাক)Offline

  • Sakib-Un-Nabi-Dipto
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
    বুধবার
    সিরিজ -১

    এ. আই. প্রযুক্তি –১

    সাল ২০৮৩। আমার বয়স প্রায় আশির ঘরে। নিজের বয়সটাই ঠিক মনে পড়ে না। কি আজব ব্যাপার। বয়স হলে আর নিজের বয়সটাই মনে থাকে না। খালি বারবার বলি, বয়স হইছে তো, সহজে কিছু মনে করতে পারি না। আমার বড় মেয়েটার নাম অনুক্ষণিকা। নামটা রাখার পেছনে একটা ঘটনা আছে। ওর জন্মের সময় ডাক্তার বলে ছিলেন, ও নাকি বেশিক্ষণ বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম। ওর হৃদপিন্ড নাকি স্বাভাবিকের বেশি ফুলে ফুলে উঠছে। আমার সেদিন সেকি আঁকুতি। যাকগে, এখন সে ৩৬ বছর বয়সের এক প্রাণবন্ত যুবতি। আমাদের সময় থেকেই বিখ্যাত এক সাইবার কম্পানি গুগোলে চাকুরি করে সে। মাঝে মাঝেই গল্প শোনায়, নতুন নতুন টেকনোলোজি, নতুন নতুন আবিষ্কারের। বেশ কয়েক বছর আগে, ও তখন নতুন নতুন কম্পানি জয়েন করেছে। একদিন বেশ খুশি মনে এসে গল্প শোনালো এ.আই. না কি জানি একটা নাম। রোবটিক কি একটা টেকনোলোজি। এক সময় নাকি রোবট বিশ্ব চালাবে। মানুষের কাজ নাকি রোবট করে দেবে। তখন নাকি মানুষ আড়ামে-আয়েশে, শুধু কমান্ডের মাধ্যমে সব কাজ করিয়ে নেবে এই রোবটগুলার থেকে। আমিও বেশ খুশিই হয়েছিলাম। মেয়ের হাসি মুখ যেন আমার বুড়ো মনে অন্যরকম এক আনন্দ এনে দিয়েছিলো। সে ছুটে গেল ওর মা আর ছোট ২ ভাইয়ের কাছে। এই নতুন প্রযুক্তির গল্প শোনাতে। ছোট ২ ছেলে সিক্ত আর তৃপ্ত। এক বর্ষার সন্ধ্যাবেলা মেজটার জন্ম বলেই হয়তো সিক্ত, আর শেষটার পর আমার আর তিয়াসার হয়তো আর সন্তান নেওয়ার আকাঙ্খা তৃপ্ত হয়েছিলো। তাই হয়তো ওর নাম রেখেছিলাম তৃপ্ত।
    আজ ভোরে বড় মেয়েটা অফিসের উদ্দেশ্যে বেড়িয়েছে। ওর অফিস নাকি সরাসরি আমেরিকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। ও আবার একটা প্রোজেক্টের হেড। তাই ওর আজ বেশ তাড়া। ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে ওরই এক কলিগের সাথে। নিজেই পছন্দ করেছে, স্বাধীনচেতা মেয়ে তো। সেকেলে নিয়মে, বাপ-মার পছন্দে কেনো কোনো অপরিচিত ছেলের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসবে। আমিও ওর সিদ্ধান্তে যথেষ্ট সমর্থন জানিয়েছি। দুজনই স্বাবলম্বী হয়ে এখন বিয়ের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। ক্ষণিকার প্রোজেক্টটা শেষ হলেই ওদের বিয়ে।
    দুপুর ৩ টার দিকে নাকি ওর মাকে কল দিয়ে কান্না করেছিলো মেয়েটা। ওর নাকি অফিসে কোনো একটা বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। ও বাড়ি ফিরে আমাদের সাথে এ নিয়ে কথা বলবে। আমরা ২ জন সেই ৩ টা থেকে সদর দরজার পাশে বসে আছি। প্রায় ৩ ঘন্টা হয়ে গেছে। ওর সন্ধ্যায় ফেরার কথা। তাই ২ জন সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর এক ঘন্টা দেখবো। মেয়েটার কোনো খোঁজ না পেলে পরে পুলিশে যাবো।

    10
    3 Comments
Skip to toolbar