Profile Photo

মীর রাফিদ হোসেনOffline

  • rafid567@
  • Profile picture of মীর রাফিদ হোসেন

    আমি প্রথম যখন ব্রেস্ট ক্যান্সার এর ব্যাপারে শুনেছিলাম তখন আমার কাছে ব্যাপারটা কেমন যেন প্রাইভেসি ফ্যাক্ট টাইপের লাগছিল। মনে হচ্ছিল এটা খুব অস্বাভাবিক কোন রোগ , হয়ত তখন ছোট ছিলাম তাই এই ক্যান্সারের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। বড় হবার সাথে সাথে যখন এই রোগের ভয়াবহতার ব্যাপারগুলো সম্পর্কে অবগত হচ্ছিলাম তখন বুঝতে পারছিলাম কতটা মারাত্মক ধরনের রোগ এটি।
    এবার একটু ডাটার হিসেবে আসা যাক । বাংলাদেশের প্রতি বছর ১৫ হাজার মানুষ ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।পুরো পৃথিবীর হিসাব মতে প্রতি ১০ মিনিটেই একজন নারী আক্রান্ত হচ্ছে এই ক্যান্সারে। একটু স্বাভাবিকভাবে যদি চিন্তা করা যায় যে সময়টায় আমি আপনি একটি বার্গার খাচ্ছি ঠিক সেই সময় একজন করে নারী এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এই রোগ নিয়ে কথা বলতে আমরা সবাই লজ্জা পাই। সামনের মানুষকে এই রোগের কথা শুনে কি প্রতিক্রিয়া দেবে এটাও ভাবতে হয় আমাদের দেশে। যার কারণে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে রোগের উপর সচেতন না হওয়ার কারণে এই রোগ আরো ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে যাচ্ছে।
    ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো হচ্ছে:
    •স্তনে পিণ্ড বা পুরু হয়ে যাওয়া
    •বোঁটা থেকে রক্ত পড়া
    •চামড়া লালচে হওয়া
    •স্তনের আকার পরিবর্তন হওয়া
    •বোঁটা কুঁচকে যাওয়া
    ক্যান্সারের লক্ষণ গুলোর দিকে নজর দেওয়ার আগে আমাদের সবার উচিত সবার আগে এই রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারগুলোতে সচেতন হওয়া। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে ৮০ শতাংশ এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। গবেষকদের মতে ,৩০ শতাংশ ক্যান্সারের জন্য দায়ী খাদ্যাভ্যাস।
    এই ক্যান্সার প্রতিরোধে:
    •প্রথম সন্তান ৩০ বছরের আগেই নেওয়া ভালো।
    •পরিমিত আহার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন ঠিক রাখুন।
    •তামাক, গুল, মদ্যপান ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।
    •অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাদ্য, ফার্স্ট ফুড কমখেতে হবে।
    •পর্যাপ্ত ফলমুল ও শাকসবজি খেতে হবে।
    •শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
    বর্তমানে দেশে যেভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সারে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে তার জন্য সবার উচিত আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
    কাদের ঝুঁকি বেশি :
    •পঁয়ত্রিশের বেশি বয়সীরা।
    • অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক ব্যায়াম না করা ।
    • মদ্যপান করা।
    • অল্প বয়সে মাসিক শুরুও দেরি করে অবসান।
    •বেশি বয়সে সন্তান ধারণ বা সন্তানহীনতা।
    •বংশগত কারণ (মা-খালাদের ইতিহাস)।
    •মেনোপজের পর হরমোন থেরাপি, রেডিয়েশন।
    দিনের পর দিন যেভাবে আমাদের মা বোনেরা এই ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে সেটাও দেখে শুনে হলেও আমাদের সকলকে উচিত এই ব্যাপারে এই মুহূর্ত থেকেই সচেতন হবার 🖤

    5
    5 Comments
Skip to toolbar