-
নাটিকা -স্বপ্ন মহল
রচনা – : আবুল হাসান তুহিনচরিত্র
১। করিম – রাতুলের পিতা
২। রাতুল – করিম সাহেবের ছেলে
৩। মিজান – সরকারি কর্মকর্তা
৪। তমা – মিজান সাহেবের মেয়েদৃশ্য।।০১।। বাড়ি।। দিন
চরিত্র: করিম সাহেব, রাতুল
(রাতুল কলিং বেল বাজাবে করিম সাহেব দরজা খুলে , কলিং বেল বাজানোর শব্দ দরজা খোলার শব্দ)
করিম : রাতুল সারাদিন কোথায় ছিলি বাবা ?
রাতুল : আজ চাকরির ভাইভা ছিল।
করিম : ও আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। তা কবে জয়েন্ট করতে হবে ?
রাতুল : লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পরও চাকরিটা হবে না বাবা। কারণ কর্তৃপক্ষের উপর নাকি অনেক চাপ, সেই চাপ ঠেকাতে তিন লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি না করে দিয়েছি।করিম : তিন লক্ষ টাকার জন্য তোর ভবিষ্যত নষ্ট হলো ।এক কাজ করি আমাদের এই স্বপ্নমহল বাড়িটা বিক্রি করে দেই। এতে দুটো কাজ হবে, তোর চাকরির জন্য তিন লক্ষ টাকাও দেওয়া হবে সেই সাথে তোর মায়ের অপারেশন করা হবে।
রাতুল : কি বলছো আব্বা, তুমি সারা জীবন যে নীতি আদর্শের কথা বলেছো,সেই আদর্শ থেকে সরে আসবে ! সারা জীবন একটি টাকাও অন্যায় পথে ঘরে আনোনি । সেই তুমি —–!
করিম : নীতি আর আদর্শের কাছে আমি বড্ড অসহায়। যার স্ত্রী বিছানায় মৃত্যুর প্রহার গুনছে টাকার অভাবে অপারেশন হচ্ছে না, যার সন্তান ঘুষের টাকা না দেওয়ার অপরাধে চাকরি পায়নি।
পেনশনের টাকা না পেয়ে দেনায় জর্জরিত হয়ে, না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে , সে কি করতে পারে বল বাবা কি করতে পারে । (কান্না জড়িত কন্ঠে)রাতুল : আমার সরকারি চাকরি না হোক সেটা মানতে পারবো কিন্তু ঘুষ দিয়ে আমি চাকরি করতে পারবো না। তাছাড়া বাড়িটা বিক্রি করলে মাথার উপরে ছাউনী টা থাকবে নাা। খাই না খাই অন্তত মাথার উপর ছাউনীটা আছে। মা চান না যে বাড়ি বিক্রির টাকায় তার চিকিৎসা হোক।মা চান তার স্বপ্নের বাড়িতে শুয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে ।
করিম : যা হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নে , কালকে আমার পেনশনের ফাইলটার জন্য মিজান সাহেবের কাছে যাস। টাকাটা পেলে তোর মায়ের চিকিৎসাটা করাতে পারবো , ডাক্তার ৩ সপ্তাহ সময় দিয়েছিল সেটাও শেষ হয়ে গেছে।
রাতুল : আব্বা আসার সময় মুদি দোকানদার বকেয়া টাকা দেওয়ার জন্য বলেছে, বকেয়া টাকা না দিলে ——– ।
করিম : বাকি দিতে পারবে না এই তো।কাল বাজার না করলে খাওয়া হবে না । তোর মায়েরে ওষুধ আনতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।রাতুল : আর কত দিনে এই ভাবে চলবে আব্বা!
করিম : পেনশনের টাকা পাওয়ার আশায় হাতের পাঁচ যা ছিল সব শেষ, সামনে কিভাবে চলবো জানিনা। এক কাজ কর এই আংটিটা নে (আংটি খুলে দেবে) এটা বিক্রি করে মুদি দোকানের বকেয়া শোধ করবি বাকি টাকা দিয়ে বাজার করবি।
রাতুল : শুনেছি এটা তোমার বিয়ের আংটি শেষ পর্যন্ত এটাও বিক্রি করতে হবে।
করিম : কি আর করা , বাস্তবতার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ফেরার উপায় নেই।
দৃশ্য।।০২।। বাড়ি।। দিন
চরিত্র: করিম সাহেব, রাতুল
রাতুল : স্যার আমার ফাদারের ফাইলটা আজ সই করার কথা ছিল, আপনাকে অফিসে পাইনি তাই—–।
মিজান : বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছো। এই ছেলে তোমাকে অফিসের তো সাফ জানিয়ে দিয়েছি। তোমার তোমার পিতা একজন সৎ মানুষ ছিলেন, তাঁর সততাকে সম্মান করি। তাঁর সম্মানের খাতিরে অংকটা অনেক কম বলেছি। যাও ওটার ব্যবস্থা করো ফাইল দৌড়াতে শুরু করবে। আমি না হয় ছেড়ে দেবো কিন্তু বাদ বাকি আরো টেবিল আছে।রাতুল : কিন্তু স্যার আপনি তো সবই জানেন আপনার চাহিদার অংকটা আমার ফাদারের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। আর আমাকে টিউশনির টাকায় চলতে হয়।
মিজান :এ্যা টিউশনি টাকায় চলতে হয় যতসব। যাও অংকটা মিলিয়ে আনো, না হলে ফাইলের উপর ধুলোর স্তর জমবে। ধুলো ঝাড়তে টাকার অংকটা আরো বাড়বে।
রাতুল : স্যার একটু বুঝতে চেষ্টা করুন আমার মা বিছানা শয্যায় অপারেশন করাতে হবে অর্থভাবে আমাদের——।
মিজান : না খেয়ে থাকতে হয়। থাকবেই তো তোমার পিতাকে বহুবার বুঝিয়েছি, আমার কথা শুনলে পেনশনের টাকার বা নির্ভর করতে হতো না। উনি ওনার আদর্শ থেকে এক চুল পরিমাণ নড়েনি। এখন সততা আর আদর্শের বুলি কোথায় গেল?
রাতুল : স্যার ফাইল সই না করা পর্যন্ত আমার ঘরে ফেরা হবে না। প্রয়োজনে আমি আপনার বাড়ির সামনে অনশন করব।
মিজান : কি করবে তুমি অনশন করবে পথ আগলে রাখবে। শোন ছোকড়া তোমার আচরণে আমি কিন্তু পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবো। অভিযোগ করবো তুমি সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছো।
রাতুল : আমিও চাই আপনি পুলিশ ডাকুন । আমার কাছে আপনার সমস্ত কথা রেকর্ড আছে এই যে এই মোবাইল ফোনে আমি সব গোপনে রেকর্ড করেছি। প্রয়োজনে দুদকের কাছে জমা দেবো।
মিজান : তুমি আমাকে হুমকি দিচ্ছো, ব্ল্যাকমেইলিং করছো, তুমি জানো না আমার হাত কতদূর লম্বা। যাও অংকটা মিলিয়ে আনো ফাইলটা দৌড়োবে। যাও না হলে দারোয়ান দিয়ে –না থাক। যাও । (প্রস্তান)
রাতুল : স্যার স্যারমিজান: রহিম ছোকরাটাকে বের করে গেটে তালা লাগিয়ে দাও।
দারোয়ান : (নেপথ্যে) জি স্যার, এই যান আপনি আসেন তো। যতসব (গেট লাগানোর শব্দ)
।।পট পরিবর্তন।।
দৃশ্য।।০৩।। বাড়ির সামনে।। দিন
চরিত্র: তমা, রাতুল
(মিজান সাহেবের বাড়ির সামনে রাতুল অনশনে বসে আছে, তমা এসে কথা বলবে)তমা : (স্বগত) কে এই যুবক বেশ কয়েকদিন ধরে আমাদের বাড়ির সামনে কেনই বা বসে থাকে । যাই কারণটা জিজ্ঞাসা করি। হ্যালো কে আপনি কেনইবা বসে আছেন এখানে?
রাতুল : বসে আছি দেখতেই তো পাচ্ছেন। কিন্তু আপনি প্রশ্ন করার কে?
তমা : দেখতে পাচ্ছি কিন্তু বসে থাকার হেতু কি? এই বাড়িটা আমাদের তাই কারণটা জানতে চাইছি?
রাতুল : ওআইসি আপনি মিজান সাহেবের মেয়ে? কারণটা আপনার পিতার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন? (রেগে গিয়ে) বিনা কারণে কেন আপনাদের বাড়ীর সামনে বসে থাকবো, অনশন করছি অনশন।
তমা : আহা রাগ করবেন না। কেন আপনি অনশন করছেন? এভাবে বসে থাকলে আপনার শরীর খারাপ করবে তো।
রাতুল : চিন্তার কোন কারণ নেই অনশনটা কোন সুন্দরী মেয়ের জন্য নয় আপনার বাবার জন্য।
তমা : কি এমন দোষ করেছেন আমার বাবা , তাঁর বিরুদ্ধে অনশন করছেন?রাতুল : দোষতো আছে ! আসলে মিজান সাহেব মুখোশের আড়ালে একজন দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা। তার টেবিলে ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকে অসংখ্য পরিবারের বাঁচা মরার স্বপ্ন।
তমা : আমার বাবা এমন নয়। আপনি কতটুকু চেনেন আমার বাবাকে।
রাতুল : আপনার পিতাকে আপনি চেনেন স্রেফ একজন পিতা হিসেবে। কিন্তু আমি ওনাকে চিনি একজন মুখোশধারী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে। আমার মা মৃত্যু শয্যায় অপারেশন না করাতে পারলে মারা যাবেন। টাকার অভাবে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। আমার পিতার পেনশনের ফাইলটা উনি সই করছেন না চাহিদা মতো টাকা না দেওয়ার জন্য।
তমা : কি বলছেন এসব? অনশন করতে গিয়ে আপনি ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করেননি? আপনার খাওয়ার ব্যবস্থা করছি।
রাতুল : আহা এতো ব্যস্ত হবে না, একেবারে করিনি তা নয় করেছি দশ টাকার বিস্কুট ৫ টাকার চা। আপনি বললেন খাবারের ব্যবস্থা করবেন, আপনার বাবার পাপের টাকার খাবার আমি খেতে পারব না। এই দেখুন টিউশনের টাকায় চা খাচ্ছি। সৎ ইনকামের টাকা আহ্ কি শান্তি।
তমা : আপনি যাবেনা আমি আসছি । (দ্রুত প্রস্থান)।।সামান্য পচ।।
দৃশ্য।।০৪।। ড্রংই রুম।। দিন
চরিত্র: তমা, মিজান সাহেব
(মিজান সাহেব বসে বসে পেপার পড়ছে তমা প্রবেশ করবে।)
তমা : ড্যাডি ড্যাডি ,
মিজান : কি হলো রে মা কি হয়েছে?
তমা : আমাদের বাড়ির সামনে একজন হ্যান্ডসাম যুবক অনশন করছে, তুমি কী জানো! তোমার বিরুদ্ধে সে যা যা বলছে সবই কি সত্যি।
মিজান : সবই জানি, ফাইল সই করার জন্য ও রকম কত জনে কত কথাই বলে ওসবে কান দিতে নেই।
তমা : আমার মাথায় হাত দিয়ে সত্যি কথা বলবে। তুমি টাকার জন্য ছেলেটির পিতার পেনশনের ফাইল আটকে রেখেছো?
মিজান : না মানে হ্যাঁ রেখেছি।তোর সুখের জন্যই এত কিছু করছি।
তমা : সুখ, হ্যাঁ সুখ। (বিদ্রুপ ) ঠিক আছে বাবা আমি বুঝে গেছি সব। (দ্রুত প্রস্থান)
মিজান : তমা তমা কোথায় যাচ্ছিস মা ? ছোকড়াটা আমার মেয়ের মাথাটা খেয়েছে। দেখাচ্ছি মজা।
।। পটপরিবর্তন।।
দৃশ্য।।০৫।। রাস্তা।। দিন
চরিত্র: রাতুল, তমা, মিজান সাহেবমিজান : ছোকরাটার ফোঁস মন্ত্রে নিজের বাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলি। না খেলে যে শরীর অসুস্থ হবে,
তমা : অপরাধী কারো পিতা-মাতা হয় না ড্যাডি। অপরাধী অপরাধী। তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত ফাইলে সই করবে না তো তখন পর্যন্ত আমার এই অনশন চলবে আমি হ্যান্ডসাম যুবকের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি।
মিজান : আচ্ছা ঠিক আছে। খাবার খা । তোর তো কষ্ট করার অভ্যাস নেই ঐ ছোকড়াটার আছে। আমি আগামীকাল অফিসে গিয়ে ফাইলটা সই করবো।
তমা : খাবার আমি খাবো কিন্তু তোমার ওই পাপের টাকায় নয়। আমার মায়ের রেখে যাওয়া টাকা থেকে আমি খাবার কিনেছি সেই খাবার খাব। টাকাটা যখন মাকে দিয়েছিলে তখন তুমি দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলে না।মিজান : তোর যা ভালো হয় সেটা কর , কিন্তু কথা হচ্ছে তুই যার জন্য অনশন করছিস সেই ছোকড়া আজ আসেনি।
তমা : কি বলছ ড্যাডি? আমাকে এখনই বেরোতে হবে। নিশ্চয়ই কোন বিপদ হয়েছে।
মিজান : তমা মা, কোথায় যাবি।
তমা : আমাকে আটকিয়ো না বাবা তোমার পাপের কিছুটা প্রাশ্চিত্ত করতে যাচ্ছি।
।।সামান্য পচ।।
চরিত্র: তমা, রাতুল, করিম সাহেব
(কলিং বেল বাজবে, করিম সাহেব এসে দরজা খুলবেন)করিম : (দরজা খুলে) কে গো মা তুমি?
তমা : আমি তমা আপনি নিশ্চয়ই করিম আঙ্কেল। (সালাম করবে)
করিম : বেঁচে থাকো মা,কিন্তু মা আমি তো তোমাকে চিনতে পারলাম না।
তমা : আমি মিজান সাহেবের মেয়ে।
করিম : ও তাই বল। তুমি এসেছ ভালো কথা। তা এত ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে এসেছে কেন?
তমা : একবারে চলে এসেছি।
করিম : আমি তো ঠিক বুঝতে পারলাম না মা। রাতুল ,রাতুল এদিকে আয় তো বাবা।
রাতুল : কি ব্যাপার আব্বা কে এসেছে? ও আপনি? কিন্তু এভাবে কেন?
তমা : আপনি যাচ্ছেন না তাই আমি চলে আসলাম।
রাতুল : ভালোই করছেন অভাবের বোঝা বাড়াতে। আচ্ছা সে সব পরে শুনেছি। দু’দিন আগে মা আমাদের ছেড়ে গেছেন। তাই যাওয়া হয়নি। তাছাড়া টাকাটা আমাদের এখন আর প্রয়োজন নেই। মিজান সাহেব কে আর বিরক্ত করব না।তমা : আমার পিতার আচরণে আমি সত্যি অনুতপ্ত । সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতির ব্যাপারটা এতটাই স্বাভাবিক হিসেবে আমরা মেনে নিয়েছি যে এখন বুঝতেই পারছি না কোনটা দুর্নীতি আর কোনটা দুর্নীতি না। এটা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ মনে হচ্ছে। আপনার আমার মত প্রতিটি পরিবার থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যদি সোচ্চার হওয়া যায় আইনের বাইরে থেকেও অবশ্যই দুর্নীতি দমন করা সম্ভব।
রাতুল : দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগিয়ে চলছে সরকারের কার্যক্রম। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনায় দেশজুড়ে চলছে দুর্নীতিবিরোধী সর্বাতক অভিযান। যত প্রভাবশালী , ক্ষমতাসীন অপরাধী হোক না কেন। তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নিতে সরকার নারাজ সরকারের এই কঠোর অবস্থান সুধী সমাজসহ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
মিজান : করিম সাহেব করিম সাহেব আমার অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে এসেছি। আমি জানতাম তমা এখানে এসেছে। আমাদের ছেলে মেয়েদের মতো সবাই যদি তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত পিতা মাতাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তাহলে সমাজ থেকে দুর্নীতির মত মহাব্যাধি চিরতরে বিদায় নেবে। কাল থেকে আমার অফিস হবে দুর্নীতি মুক্ত, আটকে রাখা ফাইল শুধু দৌড়াবে আর দৌড়াবে।
করিম : তাইতো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন” দুর্নীতি আমার বাংলার কৃষক করে না। দুর্নীতি আমার বাংলার শ্রমিক করে না। দুর্নীতি করে শিক্ষিত সমাজ।’সমাপ্ত
০১/০১/২০২৩3 Comments

Abul Hasan Tuhen
Friends
abrar
@abrar
জামান বারভী
@zamanbarovi
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen
Kokeshas King
@kokeshasking
মোরশেদ সাকিব
@morshedsakib
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
ইভান
@ivan
মো: ফারহান হাবীব
@farhan-habib
Masfi K
@masfi-mohammad


সততার পুরস্কার নিশ্চয়ই রয়েছে! ভালোবাসা নেবেন লেখকপ্রিয়!