-
এখানে রাজা আর প্রজার মাঝে কোনো মিল নেই। রাজা রাজত্ব চায় আর প্রজা চায় শোষিত হতে। নাতো কি?
রাজা বললো, “সবজির দাম বাড়লে, সবজি খাইয়েন না, একটু না খেলে সমস্যা কোথায়? নাহয় খুপরিতে সবজি ফলান!” প্রজারা আসলেই চাষের অভাব অনুভব করলো।
“চাষিদের তো সমাজে অনেক সম্মানের সাথে রাখা হয়; বুক ফুলিয়ে বলা হয়, চাষার বাচ্চা! চাষের জমিরও অভাব নেই, ভূমিদস্যুরা তো সব মানবসেবায় নিয়োজিত।”
প্রজারা রাজার মতো নয় দেখে কেউ বলতে পারলো না, “আপনি সবজির দাম কমাইতে না পারলে নাইম্মা পড়েন গদি থেইক্কা। সমস্যা কোথায়? না হইলে আমরা আপনেরে নামাইয়া দিমু আরকি।”প্রজাকে বুঝায়, প্রজার ঘরে কি খাবার খাবে, তা উৎপাদন আর সঞ্চয় করা কি রাজার কাজ নাকি? রাজা তো রাজা, চাষা না। আমার রাজ্যে ঘর করে দিলাম এটাইতো অনেক। সবজি লাগলে ঘরের ভেতর দুই হাত লম্বা=১বিঘা খুপড়িতে (বারান্দা) চাষবাস করেন আপনারা! এদিকে আবার চাষাদের ভিনরাজ্যে পাঠাইলো ঢলার কামাইতে। এই ঢলারের মজুদ ছাড়া যে রাজ্য চলে না, মানে রাজার মুদ্রা যে আসলে অন্য মুদ্রার প্রজা হয়ে আছে তা প্রজারা এর আগে টের পায় নি। তো আর কি? ভিনরাজ্যে যাও, ঢলার কামাও। প্রজারাও মূলত ভিনদেশ পাড়ি দিলো নিজ স্বার্থে; ঢলার না, টাকার গন্ধে। ঢলার তো রাজার কাছে, রাজ্যের কাজে। সাথে আবার চাষারা অবশেষে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত আশা পূরণ হতে দেখলো। সম্মান পেতে শুরু করলো! নিজের জমিতে চাষাবাদ করে সম্মান না পাওয়া চাষা ভিনদেশ দিয়ে টাকাও দেখলো, সম্মানও পেতে শুরু করলো। ডাবল মুনাফা। আব চাষা বান গেয়া জেন্টালম্যান (চাষাবাদ ছাড়ার ফলে)। এদিকে ভিনদেশ থেকে নিজ প্রজার পাঠানো ঢলার দিয়ে, নিজ প্রজার জন্য সেই ভিনদেশ থেকেই প্রজার ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনার জন্য নাকি এই ঢলার কাজে লাগে। আজব একখান পদ্ধতি! এখন অবস্থা এমন যে, না আছে চাষাবাদের জন্য যথেষ্ট চাষা, না আছে প্রজার চাহিদা মেটাতে ভিনদেশ থেকে শষ্য আনার প্রয়োজনীয় ঢলার। রাজা না পারলো ভিনদেশ যাওয়া কোনো প্রজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করাতে, যেখান থেকে সেই প্রজা ভিনদেশী ঢলার না পাঠিয়ে, ভিনদেশী পণ্য পাঠাতে পারতো; না পাড়লো রাজ্যে চাষাবাদ করে চাহিদা মেটাতে।
হ য ব র ল।
প্রজা শিখলো টাকার গন্ধ আর সম্মান পেতে হলে চাষাবাদ ছাড়তে হবে। পড়ালেখা করে রাজ্যের কাজে আসার মতো কাজকে কেউ বেছে নেবে না এখন, বেছে নেবে টাকা কোথায় বেশি সেটা দেখে। চাষাবাদ তো ছোটলোকেরা করে! বেকার থাকবো তাও চাষাবাদ করা যাবে না। সব ব্যবসায় চাহিদা বাড়লে দাম বাড়িয়ে দেয়া যায়। সবজি বিক্রেতা, সবজির ঘাটতির কথা বলে দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু চাষা বাড়তি টাকা পায় না। চাষা বাড়তি টাকা দাবি করলেও আবার সবজির দাম বাড়িয়ে দিবে বিক্রেতা। শুধু চাষারাই কোনো ন্যায্য দাম বাড়ানোর অধিকার রাখে না। কিভাবে রাখবে? তারা তো চাষা! নিজেদের লাভ ঠিক রাখতে শিখে গিয়েছে প্রজারা, তবে তা শুধু টাকার বেলায় (আফসোস)। কাপড়ের ব্যবসা রমরমা, অন্তত একটা ভ্যানগাড়ি নিয়ে কিংবা রাস্তায় পাটি বিছিয়ে হলেও কাপড় বিক্রি করতে বসবে সবাই। খাবাবের যা মূল্য! না খেয়ে মরবো দরকার পড়লে, কিন্তু তার আগে টাকার গন্ধ শুঁকে যেতে হবে! তো যারা খাবাবের ব্যবসায় আছে, তারা কেন পিছিয়ে থাকবে? খাবারের চাহিদা এতো বেশি! টাকার গন্ধ ডাকছে! সাড়া না দিয়ে কিভাবে থাকে তারা! রাজ্যগতভাবেই তো এই শিক্ষা মেরুদন্ডে ডুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
“টাকার দিকে ছুটে যাও, চাষাবাদ বাদ দাও।
চাষাভুষা ছাড়ো, সম্মানে বাড়ো।”
কিন্তু পরিকল্পনাহীন এই ছোটাছুটি কখনো দীর্ঘমেয়াদী সুফল যে দিবে না, সেটা কারো কল্পনাতেই আসে নি।
কারণটা কি?
রাজ্য কিসে চলে, কিভাবে চলে আর কে বা কারা আসলে রাজ্য চালায়, এ নিয়ে কারো বিন্দুমাত্র কোনো ধারণা নেই। সঠিক অর্থে রাজ্যের ভার না এখন রাজার কাছে আছে, না আছে রাজ্যের সকল প্রজার কাছে। রাজ্য এখন তার, যার হাতে আছে টাকার ভার।লাগ ভেলকি।
✍️নবাব©
1 Comment
Friends
Rashed Rahman Abir
@rashed-rahman-abir
Shailajananda Ray
@shailajananda
রতন
@ratan92
মো. মিকাইল অাহমেদ
@mekail2
কলমে পৃথিবী
@asin432
সৈয়দ মোহাম্মদ জামান
@sayedzaman
Md. Nasim Hossain
@nasim3080
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri

বর্তমান সময়টাকে সুন্দর তুলে ধরেছেন! আমাদের এই কৃষি নির্ভর দেশটাকে সমৃদ্ধ করতে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদ ব্যবস্থা ও চাষীর উপর গুরত্বারোপ করা উচিত বলে আমি মনে করি।