-
ওই কাউয়া যা ।।
আমি আর রণো একবার সিদ্ধান্ত নিলাম—আর ঘরে ফিরবো না। ভূপেনের গান গাইতে গাইতে পথে পথে ঘুরছিলাম আর ভাবছিলাম, পথকেই ঘর বানিয়ে নেবো। পকেট খালি হয়ে গেছিলো, ধুলো-মলিন হয়ে যাত্রিছাউনির নিচে ঘুমোচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম, পথের মানুষ আপন হবে; কিন্তু কেউ ভিক্ষা দিচ্ছিলো না; উল্টো দূরদূর করছিলো সবাই। রণো বলছিলো—চলো বন্ধু, আত্মহত্যা করি।
ক্যামনে?
তখন রাত। হাইওয়ে দিয়ে ট্রাক ছুটছিলো শাঁই শাঁই করে। সিদ্ধান্ত নিয়েও ট্রাকের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। উল্টো হতাশা আর ক্ষুধ-পিপাসায় ঘুম এসে গেছিলো। আধোঘুমে চোখমেলে দেখি—একটা মেয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসতেছে!
আমরা বলি—কি! কি চাও?
মেয়েটা হি হি করতে করতে বলে—খাবি?
কি! কি খাবো? তোর মাথা?
মেয়েটা বলে—কাচ্চি বিরানি।
মুহুর্তে পেট চোঁচোঁ করে ওঠে। তাকিয়ে দেখি আকাশ ফর্শা হয়ে এসেছে। রাস্তার ওপাড়ের ডাস্টবিনে গাড়ি থেকে ময়লা ফেলছে দুইটা লোক। ওরা চলে যাওয়ার পর মেয়েটা বলে—চল যাই।
মেয়েটার পিছে পিছে গিয়ে দেখি, অনেক রকম সুস্বাদু খাবার ডাম্প করে গেছে লোকদুটো। মেয়েটা কয়েকপ্যাকেট খাবার আমাদের হাতে তুলে দিয়ে বলে—চল, অইপারে গিয়ে আরাম কইরা খাই। এগুলা ফাইভস্টার হোটেলের খানা…।
যখন খেতে বসি, তখন কয়েকটা কাক উড়ে এসে আমাদের উপর হামলে পড়ে। মেয়েটা কিছু রাইস ছুড়ে দিয়ে বলে—ডিস্টার্ব করিস না; খা। আমাদেরকে বলে—এগো না দিয়া খাওন যায় না। তারপর চোখ নাচিয়ে বলে—ক্যমন? বাপের জনমে খাইছস কোনোদিন? খা; পেট ভইরা খিয়া ল; আল্লার দুনিয়ায় খাওনের অভাব নাই। হৈচৈ করে খেয়ে নিয়ে কাকগুলো উড়ে যায়। মেয়েটা বলে—পেটে মোচড় দিছে। চল হাগতে বসি।
মেয়েটার প্রতি রণো মোহগ্রাস্ত হয়ে পড়ে। ফুটপাতের পাশে জঙ্গলা জায়গায় তিনজন পাশাপাশি হাগতে বসি। রনো জানতে চায়—এই, তোমার নাম কি?
ববিতা।
কোথায় থাকো?
কোথায় থাকুম! এইখানে। বলতে বলতে মাটি দিয়ে পুটকু মুছে স্যলয়ারের ফিতা বেধে ববিতা বলে—চল; মেডিকেলের সামনে চা-দোকান খুলছে।
মেয়েটার সাথে ভোরের রাজপথ ধরে চায়ের দোকানের দিকে যেতে যেতে প্রবল আনন্দে গান ধরি—পথের মানুষ আপন হয়েছে/ আপন হয়েছে পর/ আমি এক যাযাবর…।
মেয়েটা হেসে উঠে জানতে চায়—তোর নাম বুঝি যাযাবর?
আমি জানতে চাই—নামটা ক্যামন?
মেয়েটা পাছা দিয়ে ঠেলা মেরে বলে—পোলাডাও তুই সেইরম।
রণো জানতে চায়—আমি?
আরে লাল্লুবুলু…বলে মেয়েটা রণোর গালে কিস মেরে দেয়। রণো ধরতে গেলে মেয়েটা ছুট লাগায়। আমরা তিনজন ছুটতে ছুটতে চা-দোকানে পৌঁছে যাই। কখন যে কাকগুলো এসে গেছে, বুঝতে পারি নি। আমরা চা খাই, আর কাকগুলো আমাদের চারপাশে লাফঝাঁপ দিয়ে ওড়াউড়ি করে; পাখি আর মানুষে তফাৎ বুঝি না।3 Comments
Friends
মো. আবু মোহাদ্দেস
@mohaddesh1967
Kishor Kanok
@kishorkanok-2
Shahajahan Tapu
@shahajahantapu
জুলহাজ আলী জীবন
@julhaj
গোলাম রাব্বানী
@rabbi-2
Reazul Kabir
@reazul-kabir
পিপীলিকা
@abujubair
আজহারুল ইসলাম তালহা
@ajharul
Rashed Rahman Abir
@rashed-rahman-abir



৯ মাস পরে ফিরে দেখা