Profile Photo

Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]Offline

  • Md-Zaker-Hayat-Khan
  • । তোমাকে বন্দী করা হয়েছে?
    – কেন? কী আমার অপরাধ?
    । তুমি স্বপ্ন দেখতে শিখেছো। তুমি তোমার চতুর বাক্যবাণে মানুষকে করেছো বিহ্বল। তুমি এক জাদুকর। তুমি মানুষকে করেছো মন্ত্র মুগ্ধ। তোমার জন্য এই শৃঙ্খলিত কারাগার।
    – প্রহরী তুমি অন্ধ এবং বধির।
    । আমার চোখ, কান সব ঠিকই আছে।
    – হা হা! হাসালে আমায়। যার হৃদয় অন্ধ তার ইন্দ্রিয়ের প্রয়োজনীয়তা নেই।
    । তোমার জাদু আমায় প্রভাবিত করে না জাদুকর!
    – আমি জাদুকর নই। আমি মানুষকে খুঁজে দিয়েছি তার মুক্তির আকাঙ্খা, স্বাধীনতার স্বাদ। আমি তাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছি। আমি বলেছি তোমাদের বানানো শ্রেণি বিন্যাসের অনেক ওপরে মানুষের স্থান। জন্মের পর সে শৃঙ্খলিত হয় সামাজিক কাঠামোতে এবং তাকেই সত্য মেনে নেয়। সে ভাবতে থাকে এটিই পরম সত্য। কিন্তু সে জানে না এ তোমার পুরোহিতদের ছলাকলা। রাজার রাজত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের তোমরা শোষণ করো পশুর মতো। তারপর তাদের করো হীনবল আর রাজার মতো এক দস্যুকে করো দেবতা।
    । তুমি রাষ্ট্রদ্রোহী। মৃত্যু হোক তোমার নিয়তি।
    – প্রহরী হাসালে আমায়। মৃত্যুর পরে রাজার অস্থির সাথে মিশে থাকে ভিখিরির হাড়।
    । চুপ করো বেয়াদব।
    – নাহ্। আমি থামবো না। মানুষের প্রয়োজনে, সময়ের প্রয়োজনে আমাকে বলতে হবে মানুষের কথা। মানুষই সত্য। একদিন সে এই মিথ্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হবেই। সে অনুভব করবে সমস্ত জগৎ সংসার তার ভেতরেই বিরাজমান। সে বিধির বিধানকে জয় করবে। সে প্রকৃতির সাথে এক হয়ে গড়বে নতুন বিধান। থাকবে না কোন দারিদ্র্য, রোগ, শোক, দুঃখ, হানাহানি, যুদ্ধ, বিরোধ, বৈষম্য, শোষণ,নিপীড়ন। একদিন মানুষ নিজেকে চিনবে আর সেদিন সমস্ত পৃথিবী পরিণত হবে একটি একক পরিবার। সকল সুখের স্বাদ প্লাবিত করবে জীবনের শষ্যভূমি।
    । তুমি এক বদ্ধ উন্মাদ।
    – প্রহরী চেয়ে দেখো, পশ্চিমের বরফ প্রান্তর থেকে সুদূর সূর্যোদয়ের পৃথিবী এখন কতটা কাছাকাছি। বৃষ্টির অরণ্য আর তপ্ত মরুভূমি থেকে শষ্যভূমি এখন কতোটা নিকটে। আমরা জেগে উঠেছি। আরো মানুষ জেগে উঠবে চৈতন্যের আলোক যাত্রায়।
    । তোমার এ স্বপ্ন সারা জীবন পেরিয়ে গেলেও বাস্তব হবে না।
    – না, না, না, হবে। নিশ্চয়ই হবে। একদিন আমরা একই আকাশের সমতলে এক বিশাল পরিবারে পরিণত হবে। আলো গ্রাস করবে অজ্ঞতার অন্ধকার। আমাদের সকল ক্ষুদ্রতা বিলীন হবে চৈতন্যের আলোতে। সে দিন আসছে। আমি সেই মানুষের পদধ্বনি শুনতে পাই। আমরা এই সব চাষাভুষো, ক্ষেতে খামারি, কামার, মুচি, কারিগর, জেলে আর সব উলন্গ নারী, পুরুষ শ্রমিকের দল সেই নতুন যুগের আহবান শুনতে পাই। নিশ্চয়ই সুদিন আসবে। এই বিধির বিধান কেউ রুধিতে পারবে না।
    । আমি দেখতে চাই তোমার হৃদয়। কে তুমি জাদুকর?
    তারপর সে আমার ব্ক্ষবিদারণ করলো।
    সেখানে শুধু দুঃখ।
    দুঃখকে সরিয়ে সে দেখলো প্রিয় মুখ।
    তার আড়ালে ভালোবাসা।
    ভলোবাসা সরিয়ে সে দেখলো একজন শৃন্খলিত বন্দী। বন্দীর মুখের কাপড় সরিয়ে সে নিজেকে দেখলো আর দেখলো স্বাধীনতার স্বপ্ন।

    3
    4 Comments
    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 20 July 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • আমি বরাবরই আপনার লেখার মুগ্ধ পাঠক। এই লেখা পড়ে অনেকক্ষন কীবোর্ডে হাত রেখে বসে ছিলাম, মন্ত্রমুগ্ধের মতো।

Skip to toolbar